এফডিসিতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ২২ জন আটক, প্রত্যেককের এক মাসের কারাদ- লক্ষাধিক টাকা ও ১১সেট তাস উদ্ধার


প্রকাশিত : জুলাই ২, ২০১৯ ||

নিজস্ব প্রতিনিধি: ভ্রাম্যমাণ আদালতের এক বিশেষ অভিযান চালিয়ে ২২ জন জনকে আটক করেছে। সামবার দুপুর আড়াইটার দিকে সাতক্ষীরা শহরের ফ্রেন্ডস ড্রামেটিক ক্লাবের চতুর্থতলা থেকে তাদেরকে আটক করে। এ সময় তাদের কাছ থেকে এক লাখ নয় হাজার ২৬৪ টাকা ও কয়েক সেট তাশ উদ্ধার করা হয়। তাদের প্রত্যেককে এক মাস করে বিনাশ্রম কারাদন্ড দেওয়া হয়েছে।
আটককৃতরা হলেন, যশোর জেলার কেশবপুর উপজেলার সৈন্যাগাছা গ্রামের আনছার ফকিরের ছেলে মোতালেব ফকির, একই জেলার মনিরামপুর উপজেলার ত্রিপুরাপুর গ্রামের আব্দুল হালিম সরদারের ছেলে আল আমিন, একই গ্রামের আইয়ুব হোসেনের ছেলে আলী হায়দার, খুলনা জেলার ডুমুরিয়া উপজেলার চাকুন্দিয়া গ্রামের মনতাজ গাজীর ছেলে বাবলুর রহমান, একই গ্রামের সেলিম গাজীর ছেলে হান্নান গাজী, বেতাগ গ্রামের সাঈদুল গাজীর ছেলে কবীর হোসেন, একই উপজেলার নরালিয়া গ্রামের মোজাহারুল ইসলাম মোড়লের ছেলে রাশিদুল ইসলাম মোড়ল, কাঞ্চনপুর গ্রামের মহাতাবউদ্দিনের ছেলে লিয়াকত হোসেন, সাতক্ষীরা শহরের পলাশপোলের আব্দুল মালেকের ছেলে আব্দুর রহমান, একই গ্রামের হারান গাজীর ছেলে শফিকুল ইসলাম, মহব্বত আলীর ছেলে ইসরাইল খাঁ, জালালউদ্দিনের ছেলে ফরহাদ হোসেন, সিরাজুল ইসলামের ছেলে কামরুল ইসলাম, পুরাতন সাতক্ষীরার আব্দুল মালেকের ছেলে মাসুম হোসেন, শহরের পারকুকরালির আব্দুল ছাদেক সরদারের ছেলে দেলোয়ার সরদার, গড়ের কান্দার সিরাজুল ইসলামের ছেলে রিয়াজুল ইসলাম, সেলিম হোসেন, তালা উপজেলার মহান্দি গ্রামের বাবুর আলীর ছেলে রবিউল ইসলাম, একই গ্রামের দাউদ আলী মোড়লের ছেলে মঈনুল ইসলাম, জেঠুয়া গ্রামের উজির আলীর ছেলে আলিয়ার রহমান, জেলা সদরের শিয়ালডাঙা গ্রামের মোহাম্মদ আলীর ছেলে সালামত আলী ও কালিগঞ্জ উপজেলার রঘুনাথপুর গ্রামের আব্দুল গণি সরকারের ছেলে জালালউদ্দিন সরকার।
সাতক্ষীরার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সজল মোল্লা জানান, শহরের লাবনী মোড় এলাকায় ঐতিহ্যবাহি ফ্রেন্ডস ড্রামেটিকস ক্লাবে (এফডিসি) জুয়ার আসর পরিচালিত হচ্ছে মর্মে খবর পেয়ে সোমবার দুপুর আড়াইটার দিকে র‌্যাব-৬ এর ডিএডি রাজিউজ্জামান, উপ-পরিদর্শক মিরাজ হোসেনসহ র‌্যাব সদস্যদের নিয়ে এফডিসির চতুর্থতলায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় জুয়া (তাস) খেলা চলমান অবস্থায় খুলনা, যশোর ও সাতক্ষীরার ২২ জনকে আটক করা হয়। জুয়ার বোর্ড থেকে জব্দ করা হয় এক লাখ নয় হাজার ২৬৪ টাকা ও ১১ সেট তাস।
দোষ স্বীকার করায় ১৮৬৭ এর সংশোধিত বঙ্গীয় প্রকাশ্য জুয়া আইনের ৪ ধারা মোতাবেক তাদের প্রত্যেককে এক মাস করে বিনাশ্রম কারাদন্ড দেওয়া হয়। সোমবার বিকেলে তাদেরকে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।
ঐতিহ্যবাহি এই ক্লাবের একাধিক সদস্য টেলিফোন করে পত্রদূতকে জানান, বর্তমানে ক্লাবটি জুয়া খেলার জন্য অলিখিতভাবে লীজ দেওয়া হয়েছে। দিনরাত ২৪ ঘন্টা খুলনা যশোর সাতক্ষীরাসহ বিভিন্ন জেলার জুয়াড়ীরা এখানে খেলা করে থাকে।