কালিগঞ্জ সরকারি কলেজের অধ্যক্ষকে লাঞ্ছিত ও প্রাণনাশের হুমকির প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ


প্রকাশিত : জুলাই ৫, ২০১৯ ||

বিশেষ প্রতিনিধি: কালিগঞ্জ সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ জিএম রফিকুল ইসলামকে হাত পা ভেঙে কাঁকশিয়ালী নদীতে ফেলে দেয়ার হুমকি দিয়েছেন কালিগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাঈদ মেহেদী। এঘটনার ক্ষোভে ফুঁসছে শিক্ষার্থীরা। তারা বৃহস্পতিবার (৪ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টায় কলেজ ক্যাম্পাসে সাঈদ মেহেদীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল শেষে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে। কলেজের উচ্চ মাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী তানজিব আহম্মেদ নাহিদ এর সভাপতিত্বে ও আমিরুল ইসলামের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন কলেজের শিক্ষার্থী ইসমাইল গাইন, সাগর হোসেন, আরিফুল ইসলাম, সেলিম হোসেন প্রমুখ। অধ্যক্ষকে হুমকি প্রদানকারী সাঈদ মেহেদীর বিরুদ্ধে প্রশাসন অবিলম্বে ব্যবস্থা না নিলে কলেজ অচল করে দেয়ার হুমকি দেয় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। এছাড়াও অধ্যক্ষকে প্রকাশ্যে জনসম্মুখে লাঞ্ছিত ও প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করায় উপজেলার সর্বস্তরের মানুষের মাঝে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গেছে।
প্রসঙ্গত, কালিগঞ্জ সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ জিএম রফিকুল ইসলাম বুধবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে অফিসিয়াল কাজে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে গেলে উপজেলা চেয়ারম্যান সাঈদ মেহেদী কলেজের অধ্যক্ষ জিএম রফিকুল ইসলামের সাথে অসৌজন্যমূলক কথাবার্তার সূত্রপাত করেন। এক পর্যায়ে সাঈদ মেহেদী অধ্যক্ষ জিএম রফিকুল ইসলামকে হুমকি প্রদান করে বলেন, আজ আমি ঢাকায় যাচ্ছি। ঢাকা থেকে এসে যেন দেখি তুই চাকুরি থেকে পদত্যাগ করেছিস। তা না হলে তোর হাত-পা ভেঙে কাঁকশিয়ালী নদীতে ফেলে দেব। সাঈদ মেহেদীর হাত অনেক লম্বা যা তোর ধারণা নেই। এসময় অধ্যক্ষকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করতে উদ্যত হওয়ার পাশাপাশি অনেক কুৎসিত ভাষায় গালিগালাজ করা হয়। জীবননাশের হুমকি ও অশ্লীল গালিগালাজের ঘটনা অধ্যক্ষ তার মোবাইল ফোনে রেকর্ডিং করছেন এমন ধারণা থেকে সাঈদ মেহেদী মোবাইল কেড়ে নিয়ে পরীক্ষা করেন। রেকর্ডিং করা হয়নি নিশ্চিত হয়েও সাঈদ মেহেদী মোবাইল ফোনে ব্যবহৃত মেমরি কার্ড সম্পূর্ণ ফরম্যাট করে দেন। এতে মেমরি কার্ডে সঞ্চিত অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ডিলিট হয়ে যায়। কলেজের কয়েকজন শিক্ষক এসময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে অধ্যক্ষ জিএম রফিকুল ইসলাম বলেন, কোন কারণ ছাড়াই উপজেলা চেয়ারম্যান সাঈদ মেহেদী জনসস্মুখে চিৎকার করে আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও লাঞ্ছিত করেছে। আমি চাকরি থেকে পদত্যাগ না করলে তিনি আমার হাত-পা ভেঙে কাঁকশিয়ালী নদীতে ফেলে দেবেন বলে হুমকি প্রদান করেছেন। মোবাইল কেড়ে নিয়ে মেমরি কার্ড ডিলিট করায় সেভ করা অনেক প্রয়োজনীয় নাম্বার ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মুছে গেছে। এর ফলে আমার অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা চেয়ারম্যান সাঈদ মেহেদী বলেন, কলেজে অনেক সমস্যা রয়েছে। সেসব বিষয়ে আমি কথা বলেছি। প্রাণনাশের হুমকি প্রদানের বিষয়টি সঠিক নয় বলে তিনি জানান।