মাদকের ক্ষেত্রে সাতক্ষীরার বিচার বিভাগের জিরো টলারেন্স গ্রহণ: শেখ মফিজুর রহমান


প্রকাশিত : জুলাই ৬, ২০১৯ ||

বদিউজ্জামান: সীমান্ত জেলা সাতক্ষীরায় মাদকের ক্ষেত্রে সাতক্ষীরার বিচার বিভাগ জিরো টলারেন্স গ্রহণ করেছে। এ ক্ষেত্রে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সহ সংশ্লিষ্ঠ সকলকে একসাথে একই উদ্দেশ্য নিয়ে কাজ করতে হবে। তা না হলে আপনার-আমার সন্তান মাদকে আক্রান্ত হবে, যুব সমাজ ধ্বংস হবে, দেশ ও জাতি ধ্বংস হবে।
শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেসী, সাতক্ষীরার আয়োজনে চীফ জুডিসিয়াল ম্যজিস্ট্রেট আদালতের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেসী কনফারেন্স-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা ও দায়রা জজ শেখ মফিজুর রহমান এসব কথা বলেন। এতে সভাপতিত্ব করেন সাতক্ষীরার চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোস্তফা পাভেল রায়হান।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইলতুৎমিশ, সিভিল সার্জন ডা. মো. রফিকুল ইসলাম, র‌্যাব-৬ এর উপ-অধিনায়ক মো. মাহবুবর রহমান মোল্যা, বিজিবি’র উপ-অধিনায়ক সৈয়দ ফজলু হোসেন, পৌর মেয়র তাসকিন আহমেদ চিশতি, আইনজীবী সমিতির সভাপতি এম শাহ আলম ও সাধারণ সম্পাদক তোজাম্মেল হোসেন তোজাম। এছাড়া মুক্ত আলোচনায় বক্তব্য রাখেন, অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হুমায়ন কবীর, যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ মোখলেছুর রহমান, জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রেজওয়ানুজ্জামান, মেহেদী হাসান মোবারক মুনিম ও রাকিবুল হাসান, অতিরিক্ত পিপি ফাহিমুল হক কিসলু ও অতিরিক্ত পিপি শেখ মিজানুর রহমান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা ও বিএসটিআই’র কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন থানার অফিসার ইনচার্জগণ।
সভায় প্রধান অতিথি শেখ মফিজুর রহমান আরও বলেন, প্রায় ১২ বছর আগে নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ পৃথক হয়েছে। বিচার বিভাগ পৃথক হওয়ার পরে বেশ কিছু জায়গায় পরিবর্তন হয়েছে, বেশি বেশি কাজ করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তিনি উপস্থিত সকলকে উদ্দেশ্য করে আরও বলেন, কেউ কাউকে দোষারোপ না করে যে যার অবস্থানে থেকে যদি সঠিক ভাবে কাজ করতে পারি তবেই বিচার প্রার্থী মানুষের জন্য ভালো কিছু করা সম্ভব।
বিচারের বাণী যেন নিরবে না কাঁদে উল্লেখ করে জেলা ও দায়রা জজ বলেন, আমরা যেন বিচার প্রার্থী মানুষকে সু-বিচার দিতে পারি। তিনি উপস্থিত সকলকে মাদকের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে হবে-এই আহবান জানিয়ে বলেন, মাদকের সঙ্গে জড়িত গডফাদার, মাদক ব্যবসায়ী এবং মাদক সেবীরা কেউ যেন কোন অব¯া’তেই ছাড় না পায়, সঙ্গে তিনি একথাও বলেন, অন্যায়ভাবে যেন কাউকে মাদকের মামলায় জড়ানো না হয়।
সভায় সভাপতি চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোস্তফা পাভেল রায়হান তাঁর সমাপনী বক্তব্যে বলেন, আমরা মাদকের ব্যাপারে সোচ্চার, তবে মামলার গাঁথুনিটা মামলার মতো করে হতে হবে, তা না হলে অপরাধীরা অপরাধ করেও আইনের ফাঁক-ফোকর দিয়ে বেরিয়ে যাবে, ফলে অন্যসব অপরাধীরা উৎসাহিত হবে। তিনি সিভিল সার্জনকে উদ্দেশ্য করে বলেন, মেডিকেল সার্টিফিকেট পেতে বিলম্বের কারণে অনেক মামলা নিয়ে জটিলতায় পড়তে হচ্ছে। এ জন্য তিনি বিশেষ করে পুলিশ কেচের ক্ষেত্রে ভিকটিমকে যে ডাক্তার পরীক্ষা করবেন তাৎক্ষণিকভাবে সেই ডাক্তারকে ওই ভিকটিমের ডাক্তারী সনদ তৈরী করে রাখার পরামর্শ দেন। সভাপতি তাঁর বক্তব্যে চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ভবনে আইনজীবীসহ বিচারপ্রার্থী মানুষের যাতায়াতের সমস্যার কথা উল্লেখ করে বলেন, এই প্রাচীর একদিন উন্মুক্ত হবেই। তিনি উপস্থিত সকলকে উদ্দেশ্য করে আরও বলেন, সাতক্ষীরার বিচার বিভাগের উজ্জল নক্ষত্র জেলা ও দায়রা জজ শেখ মফিজুর রহমানের নেতৃত্বে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করে এ জেলার মানুষের ন্যায় বিচার নিশ্চিত করতে আমরা বদ্ধ পরিকর। সমগ্র সভা পরিচালনা করেন জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ইয়াছমিন নাহার।