আবারো ফেন্সিডিলে সয়লাব: আসক্তিতে যুবসমাজ


প্রকাশিত : জুলাই ৬, ২০১৯ ||

সংবাদদাতা: আবারোফেন্সিডিলে সয়লাব হয়ে গেছে জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল। জেলার শহর, গ্রামে অতিগোপনে বিক্রি হচ্ছে ভারতীয় ফেন্সিডিল। এতে সবচেয়ে বেশি আসক্ত যুবসমাজ। সাতক্ষীরার ২৩৮ কি. মি. ভারত-বাংলাদেশের সীমান্তের বিভিন্ন চোরা পথ দিয়ে ভারত থেকে আসছে ফেন্সিডিল, মদ গাজাসহ সব ধরনের মাদক। জেলা জুড়ে গড়ে উঠেছে শতশত শক্তিশালী মাদক চোরাচালান চক্র।
নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, শুধুমাত্র বাংলাদেশের জন্য ভারতের সীমান্ত এলাকায় অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে অসংখ্য ফেন্সিডিল কারখানা। আর সীমান্ত পেরিয়ে আসা বিপুল পরিমাণ ফেন্সিডিলসহ অন্যান্য মাদকদ্রব্য কৌশলে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা শহরে সরবরাহ করছে মাদক চোরাচালান চক্রগুলো। সীমান্তে বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড বিজিবির কড়া নজরদারি থাকার পরেও ভারত থেকে মাদকের বড় বড় চালান আসছে চোরাগুপ্তাভাবে।
চোরাচালানির সদরঘাট বলে পরিচিত ভোমরা স্থলবন্দরের অলিতে-গলিতে প্রকাশ্য বিক্রি হচ্ছে ফেন্সিডিল, গাজা, মদসহ সর্ব প্রকার মাদক। প্রতিদিন সকাল থেকে গভির রাত পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে শতশত নেশাগ্রস্তদের সমাগম করতে দেখাযায় ভোমরা পোর্ট সংলগ্ন লক্ষীদাড়ি, ঘোষপাড়া, গাজিপুর এলাকায়। ভোমরায় ফেন্সিডিলের দাম ৬০০ টাকা। আর সীমান্ত পেরিয়ে ভারতের পঞ্চাশ গজ ভেতরে দাম ৪০০ টাকা। ভারতে দাম কম থাকায় বিজিবির বাঁধা উপেক্ষা করে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে মধ্যে যেয়ে মাদক সেবন করে আসছে মাদকাসক্তরা।
নির্ভরযোগ্য একাধিক সূত্র আরো জানিয়েছে, ভোমরা সীমান্তের ওপারে ভারত সীমান্তের ভেতরে বসছে মাদকের বাজার। সেখানে দুই শতাধিক মাদক ব্যবসায়ী প্রতিদিন বস্তা বস্তা ফেন্সিডিল, মদ, গাজা বিক্রি করে আসছে বাঁধাহীনভাবে। ভোমরা বন্দরের আশে-পাশের চোরা পথের পাশাপাশি মাদক আসছে বৈধভাবে আমদানিকৃত পণ্যের আড়ালে। মাঝে মধ্যে বিজিবি ও শুল্ক গোয়েন্দা দু’একটি চালান আটক করলেও বেশিভাগ মাদকের চালান পৌছে যায় নির্দিষ্ট গন্তব্যে।
এছাড়া বস্তাবস্তা ফেন্সিডিলসহ সব ধরণের মাদক আসছে শাঁখরা, পদ্ম শাঁখরা, ঘোনা, বৈকারি, কুশখালি, তলুইগাছা, কেড়াগাছি, ভাদলি, ভবানিপুর, বাঁশদাহ, কাকডাঙ্গা, হিজলদী, বসন্তপুর সীমান্তদিয়ে। এসব এলাকার চিহ্নত মাদক ব্যবসায়ী মাদক চোরাচালান চক্রের সদস্যরা আত্মগোপনে থেকে পুলিশ ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার অনেকের সাথে সম্পর্ক রেখেই চুপিসারে ব্যবসা করে আসছে। তথ্য অনুসন্ধানে দেখা গেছে, সারা জেলা বিস্তৃত মাদক সিন্ডিকেটের মূল লগ্নিকারী মাদক বস্তুকে ধরে না ছোঁয়না। তারা কেবল মধ্যস্থতাকারী লোকের মাধ্যমে মাদক ব্যবসায় কোটি কোটি টাকা পুঁজি বিনিয়োগ করে। তাই তারা বরাবরই ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকে। তারাই পুলিশ, প্রশাসন, রাজনৈতিক ও সাংবাদিক প্রভাবশালীদের ম্যানেজ করে মাদকের কালো টাকার বিনিময়ে।
মাদকের এই অবৈধ কারবার সরকারি প্রশাসন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও গোয়েন্দা সংস্থা সমুহের চোখের সামনে হয়ে আসছে। এছাড়া মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর মাদকদ্রব্যের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে আশানুরূপ সাফল্যই দেখাতে পারেনি। আইন প্রয়োগকারী সংস্থা পুলিশ ও র‌্যাবের ব্যাপক অভিযান পরিচালিত হওয়ার পরেও মাদক নিয়ন্ত্রণ হয়নি সীমান্ত ঘেষা এ জেলায়। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো অব্যাহত অভিযান, আটক, মোবাইল কোর্টে সাজা প্রদান, একের পর এক মামলা করেও রোধ করা যাচ্ছেনা সর্বনাশা মাদকের বিস্তার।