হাদিপুর-জগন্নাথপুর মাদ্রাসায় অনৈতিক কর্মকান্ডে লিপ্ত শিক্ষকের পুন:বহালের চেষ্টা!


প্রকাশিত : জুলাই ৮, ২০১৯ ||

দেবহাটা সংবাদদাতা: দেবহটার হাদিপুর জগন্নাথপুর আহ্ছানিয়া আলিম মাদ্রাসার আইসিটি বিষয়ক শিক্ষক ফজর আলী মাদ্রাসা ছাত্রীর সাথে অনৈতিক কর্মকা-ে লিপ্ত হওয়ার ঘটনায় বহিস্কৃত লম্পট শিক্ষকের স্ব-পদে পুন:বহালের চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। স্ব-পদে পুন:বহালের জন্য ৮-৫-২০১৯ তারিখে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে একটি আদেশ বলে ৩০-০৬-২০১৯ তারিখ সহকারী শিক্ষক (আইসিটি) পদে পুন:বহালের জন্য জেলা শিক্ষা অফিসার বরাবর লিখিত আবেদন প্রেরণ করেন ফজর আলী। ৫ জুলাই সকাল ১০টার দিকে আকর্ষিকভাবে মাদ্রাসায় প্রবেশ করার চেষ্টা করলে তাৎক্ষণিকভাবে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ও এলাকাবাসির উপস্থিতিতে ফজর আলী মাদ্রাসায় প্রবেশ না করে পালিয়ে যায়। এসময় লম্পট ফজর আলী মাদ্রাসায় প্রবেশ করতে না পেরে বাইরে থেকে মাদ্রাসা সুপারসহ সহকারী শিক্ষক, এমনকি ধর্ষিতার পিতা শিক্ষক জহুরুলকেও বিভিন্ন ধরনের হুমকি ধামকি দেয়। এঘটনায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দেবহাটা থানা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। পরে মাদ্রাসার শিক্ষকবৃন্দ, ম্যানেজিং কমিটির নের্তৃবৃন্দসহ স্থানীয় গণ্যমান্যদের উপস্থিতিতে জরুরী সভার আয়োজন করা হয়। সভার শুরুতে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও নওয়াপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান মুজিবর রহমান সকল শিক্ষকবৃন্দ, ম্যানেজিং কমিটির নের্তৃবৃন্দসহ স্থানীয়দের কাছে এ বিষয়ে বিভিন্ন কথা শোনেন। পরে ম্যানেজিং কমিটির সর্ব সম্মতি ক্রমে এই রাষ্ট্রদ্রোহী ও ধর্ষন মামলার আসামী লম্পট ফজর আলীকে বরখাস্ত রেজুলেশনসহ মাদ্রাসা বোর্ডে পুনরায় প্রেরণ করার সিদ্ধান্তসহ আর কখনো যাতে এই ফজর আলী মাদ্রাসায় প্রবেশ করে মাদ্রাসার পরিবেশ বিঘিœত করতে না পারে সে বিষয়ে বিস্তারিত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
উল্লেখ্য, হাদিপুর জগন্নাথপুর আহ্ছানিয়া আলিম মাদ্রাসার আইসিটি বিষয়ক শিক্ষক ফজর আলী জাতীয় বহুভাষী সাঁটলিপি প্রশিক্ষণ ও গবেষণা একাডেমী (নট্রামস) থেকে নকল সনদপত্র গ্রহণ করে মাদ্রাসায় যোগদান করে। যা অডিট কর্মকর্তার মাধ্যমে জানা যায়। সে মাদ্রাসায় যোগদানের পরে পরীক্ষায় মেয়েদের হলে নকল পাচারকালে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমানের হাতে ধরা পড়ে এবং পরীক্ষার হল থেকে বহিস্কার হয়। এছাড়া সে একটি প্রকাশনার নিকট থেকে মোটা টাকা নিয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের গাইড বই কিনতে বাধ্য করে। গত ৫-০৬-২০১৮ তারিখ দেবহাটা থানা জামে মসজিদের ভিতরে জানালার পাশে হলুদ বর্ণের চিঠির খামে লিফলেট পাওয়া যায়। যে লিফলেটে বর্তমান সরকারকে নিয়ে বিভিন্ন কটুক্তি, পুলিশ ও র‌্যাবকে গালি এবং ১৭জুন ঈদুল ফিতরের দিন সকল স্টেশন-মন্ত্রণালয় বোমা মেরে ধ্বংস করার ঘোষণা দেওয়া হয়। উক্ত বিষয়ে আইন গ্রহণের জন্য স্ব-রাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বরাবর আবেদন করলে বাংলাদেশ সরকার স্ব-রাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জন নিরাপত্তা বিভাগ আইন-২ শাখা স্মারক নং-৪৪.০০.০০০.০৫৬.০৪.০৫৭.১৭.১১১ তারিখ ০৭-০২-২০১৯ মূলে ফৌজদারী কার্যবিধি ১৮৯৮ এর ১৯৬ ধারার বিধান মোতাবেক পেনাল কোড ১৮৬০ এর ১২৮-ক ধারার মামলা রুজু করলে রাষ্ট্রদ্রোহী মামলায় ফজর আলীকে আটক করে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়। যার মামলা নং-০৮ তাং-১৬/০৫/২০১৯ ধারা: ১২৪-ক পেনাল কোড। তাছাড়া সে বিভিন্ন সময়ে ছাত্রীদেরকে বিবাহের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ করে। সর্বশেষ গত ১০-০৬-২০১৮ তারিখ আলিম ১ম বর্ষের এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ করে চলে যাওয়ার সময় তার পিতা-মাতা দেখতে পেলে তাদের চিৎকারে আশে পাশের লোকেরা ছুটে আসলে ফজর আলী সেখান থেকে কৌশলে পালিয়ে যায়। বিষয়টি তার পরিবারের সদস্য ও মাদ্রাসা ম্যানেজিং কমিটিকে জানালে আসামী ফজর আলীর বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০এর ৯(১) ধারায় ফুসলিয়ে ও বিবাহের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ করার অপরাধে মামলা দায়ের করা হয়। যার মামলা নং-১২, তাং-১৯-০৬-২০১৮। এ ঘটনায় দেবহাটা থানা পুলিশ ফজর আলীকে ২০জুন আটক করে জেলহাজতে প্রেরণ করে। ম্যানেজিং কমিটি ২৭-০৬-২০১৯ তারিখ ফজর আলীকে সাময়িক বরখাস্ত করে।