ঢাকায় গার্মেন্টস ব্যবসায়ী তাছলীম হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে শ্রীউলায় মানববন্ধন

শ্রীউলা (আশাশুনি) প্রতিনিধি: আশাশুনি উপজেলার শ্রীউলা ইউনিয়নের কলিমাখালী গ্রামের নজরুল ইসলামের পুত্র তাছলিম আলমকে ঢাকায় নির্মমভাবে হত্যার প্রতিবাদে দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে শ্রীউলায় মানববন্ধন করা হয়েছে। রবিবার বিকাল ৫টায় নাকতাড়া কালিবাড়ি বাজার সড়কে এ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়।
শ্রীউলা ইউনিয়নের সর্বস্তরের মানুষের আয়োজনে হাজার হাজার নারী পুরুষের অংশ গ্রহণে নিহতের চাচাত ভগ্নিপতি সমাজসেবক ওসমান গনীর সভাপতিত্বে মানববন্ধনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান সাংবাদিক অসীম বরণ চক্রবর্তী। বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক শ্রীউলা ইউপি চেয়ারম্যান আবু হেনা সাকিল। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন নিহতের ভাই তানজির আহম্মেদ, চাচাত ভাই জাহাঙ্গীর আলম বাবু, পিতা নজরুল ইসলাম, চাচাত ভাই মোস্তফা কামাল প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, গার্মেন্টস ব্যবসায়ী তাছলিম আলমকে ২৯ জুন সকালে অপহরণ করা হয়। এরপর থেকে তার ব্যবহৃত মোবাইল সেটটি বন্ধ করে রাখা হয়। ৩০ জুন রাত ১২টার দিকে আলমের ফোনে রিং হলেও কেউ রিসিভ করেনি। এরপর কিছুক্ষণ পর আলমই ফোন করে তার মায়ের সাথে এক মিনিট এগারো সেকেন্ড কথা বলে। এ সময় সে ভাল আছি এবং বেঁচে থাকলে আবার দেখা হবে বলে মায়ের কাছে দোয়া চায়। এরপর ১ জুলাই দুপুর তিনটার দিকে সে মায়ের ফোনে ম্যাসেজ পাঠিয়ে লিখে ‘মা আমার জন্য দোয়া কর, বিপদে আছি, সময়মত বাড়ি আসব’। এরপর ওইদিন রাত ১১টার দিকে তার ফোন অন্য লোক (রেল পুলিশ) রিসিভ করে জানায় উত্তরা আট নং সেক্টরে রেলগেটের সামনে তার (আলম) মৃতদেহ পড়ে আছে। নিরীহ ছেলে আলমকে অপহরণ করে তিনদিন পর অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে নৃশংসভাবে হত্যা করে রেললাইনের পাশে ফেলে রাখা হয়েছে। এ হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত কলিমাখালী গ্রামের সাদ্দাম। হত্যাকান্ডের কয়েকদিন আগে সাদ্দাম বাড়ি থেকে বিকাশে ১০ হাজার টাকা নিয়েছিল। এ টাকা দিয়ে সে হত্যাকান্ডের নকশা সমন্ন করেছে বলে দাবী করে বক্তাগণ বলেন, নিহত তাছলিমের সাথে যে মেয়ের বিয়ে ঠিক হয়েছিল, তাকে সাদ্দাম বিয়ে করার পরিকল্পনা করে। এনিয়ে তাছলিমের সাথে তার দ্বন্দ্ব হয় এবং গত ঈদের সময় সাদ্দাম তাছলিমকে কিভাবে বিয়ে করিস, কিভাবে বেচে থাকিস দেখে নেওয়ার হুমকী দিয়েছিল। অবিলম্বে সাদ্দামসহ এর সাথে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী জানান বক্তাগন। গ্রেপ্তার না হলে সাতক্ষীরা ও ঢাকা প্রেসক্লাবের সামনে গণঅনশনসহ বৃহত্তর কর্মসূচির কথা ঘোষণা করা হয়।