পাইকগাছায় পাটের আবাদ ভাল

প্রকাশ ঘোষ বিধান, পাইকগাছা (খুলনা): বিগত কয়েক বছর পাটের দাম ভাল না পাওয়ায় কৃষকরা পাট চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। তবে গত বছর পাটের দাম কিছুটা ভাল হওয়ায় এ বছর পাইকগাছা উপজেলায় পাটের আবাদ কিছুটা বেড়েছে। পাটের বীজ বপন মৌসুমে বৃষ্টি না হওয়া ও বৈরী আবহাওয়া সত্ত্বেও পাইকগাছায় পাটের আবাদ ভাল হয়েছে। চলতি মৌসুমে উপজেলায় ৩৫৫ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে।
উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় চলতি মৌসুমে ৩৫৫ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। যা গত বছর ছিল ৩০৩ হেক্টর। এ বছর তোষা ৩শ ৫০ হেক্টর ও দেশী ৫ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। লবনাক্ত পাইকগাছার ১০টি ইউনিয়নের মধ্যে গদাইপুর, হরিঢালী, কপিলমুনি, রাড়–লী, পৌরসভার জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। উপজেলার গোপালপুর গ্রামের কৃষক সবুর হোসেন, আবুল কাশেম জানান, পাট চাষের শুরুতে অনাবৃষ্টির কারণে পাট চাষের জন্য জমিতে জো না থাকায় সময়মত পাট বীজ বিপন করতে পারেনি। তবে কিছু কৃষক যেখানে পানি সেচ দেওয়ার ব্যবস্থা আছে সেখান থেকে পানি সেচ দিয়ে পাট বপন করেছে। পরবর্তীতে বৃষ্টি হওয়ায় পাটের আবাদ ভাল হয়েছে। কৃষক সবুর জানান, পাট আবাদ করার পরে পাট জাগ দেওয়া নিয়ে বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। কারণ দিন দিন ডোবা ও জলাশয়গুলি ভরাট হয়ে যাওয়ায় পাট জাগ দেওয়া জায়গা পাওয়া যায় না। একই স্থানে একাধিকবার পাট জাগ দিতে হয়। এতে সময়মত পাট জাগ দিতে না পারায় পাটের আশ ভাল পাওয়া যায় না। ফলে আর্থিক বাবে ক্ষতি স্বীকার হতে হয়। কৃষকরা তোষাও ৯৮ ও ৯৭, দেবগ্রী ও বঙ্কিম জাতের বীজ বেশি বপন করেছে। ক্ষেত বিশেষ পাঠ প্রায় ৪ থেকে ৬ ফুট পর্যন্ত পাটের উচ্চতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ এএইচএম জাহাঙ্গীর আলম জানান, চলতি মৌসুমে ধানের আবাদ বৃদ্ধি পাওয়ায় পাটের আবাদ কমে গেছে। পাট বীজ বপনের সময় জমিতে জো না থাকায় কৃষকদেরা পাট চাষ করতে কিছুটা দেরি হয়েছে। পরবর্তীতে বৃষ্টি হওয়ায় পাটের আবাদ ভাল হয়েছে এবং পাটকাঠি ও পাটের আশ থেকে কৃষকরা আশানারুপ মূল্য পাবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।