অর্থের বিনিময়ে পদ কেনা বেচার অভিযোগ যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হলেন স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা


প্রকাশিত : জুলাই ১০, ২০১৯ ||

পত্রদূত ডেস্ক: বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এর অঙ্গ সংগঠন জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়ন কমিটির যুগ্ম-সম্পাদক মো. আব্দুর নুর। উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক মাসুদুল আলম দোহা ও সিনিয়র যুগ্ম-আহবায়ক মো. আব্দুস সবুর ২০১৩ সালের ১৪ আগস্ট মোস্তাফিজুর রহমান রিপনকে সভাপতি এবং মেহেদী হাসান টুটুলকে সম্পাদক করে ওই কমিটি অনুমোদন করে।
গাবুরা ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের ২৭ সদস্য বিশিষ্ট কমিটিতে জায়গা পাওয়া দুই জন যুগ্ম-সম্পাদকের মধ্যে দ্বিতীয় মো. আব্দুর নুরকে সম্প্রতি গাবুরা ইউনিয়ন যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।
উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমানের স্বাক্ষরযুক্ত সংগঠনের নির্দিষ্ট ‘প্যাডে’ গত ৯ জুন স্বেচ্ছাসেবক দলের ওই নেতাকে যুবলীগের দায়িত্ব দেয়া হয়। যেখানে উল্লেখ করা হয় ‘১২ নং গাবুরা ইউনিয়ন যুবলীগকে আরো গতিশীল করার লক্ষ্যে আবুল বাসার হেলালকে যুগ্ম-সাধারন সম্পাদক এবং আব্দুর নুরকে সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব দেয়া হলো’।
যুবলীগের সভাপতি ও সাংগঠনিক সম্পাদকের স্বাক্ষর ছাড়াই শুধুমাত্র সাধারন সম্পাদকের স্বাক্ষরে গত ৯ জুন তারিখে আবুল বাসার ও আব্দুর নুরকে গুরুত্বপুর্ন পদ দুটিতে জায়গা দেয়া হয়।
বিএনপিতে বহাল থাকা অবস্থায় যুবলীগে তাদের অন্তর্ভুক্ত হওয়া নিয়ে যেমন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। তেমনী অভিযোগ উঠেছে অর্থের বিনিময়ে পদ কেনা বেচার কারণে বিএনপির ওই দুই নেতা সরাসরি যুবলীগে পদ লাভ করেছেন।
এর আগে গত ১৫ এপ্রিল ২০১৭ তারিখের পর উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদকের স্বাক্ষরে ৬১ সদস্যের গাবুরা ইউনিয়ন যুবলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। গঠনতন্ত্র মোতাবেক তিন বছর মেয়াদী পূর্বোক্ত কমিটিতে যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদক পদে যথাক্রমে ৩ জন করে নিযুক্ত হয়।
তবে পূর্বের ওই কমিটির মেয়াদ পূরণ না হওয়ার পাশাপাশি নির্দিষ্ট পদ থেকে কেউ অব্যাহতি না নেয়া সত্ত্বেও সম্প্রতি অতিরিক্ত এ দুই জনকে যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক এবং সাংগঠনিক সম্পাদকের পদ দেয়া হয়েছে। নুতনভাবে দুই জনকে জায়গা দেয়ায় পদ দুটিতে এখন জায়গা পাওয়া নেতার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রতিটিতে চার জনে।
উল্লেখ্য, প্রায় চার বছর আগে সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদকের সমন্বয়ে শ্যামনগর উপজেলা যুবলীগের আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। তবে সম্প্রতি উপজেলা যুবলীগের সভাপতি গোলাম মোস্তফা উপজেলা আওয়ামী লীগে সংযুক্ত হওয়ায় অপর তিনজন মিলে উপজেলা যুবলীগের সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করছিলেন। কিন্তু আকস্মিকভাবে গত ৯ জুন দুই বিএনপি নেতাকে যুবলীগে পদ দেয়ার পর পদ পেতে অর্থ লেনদেনের বিষয়টি সামনে চলে এসেছে।
নাম প্রকাশ করার শর্তে ইউনিয়ন যুবলীগের কয়েক নেতা অভিযোগ করে বলেন, টাকা দিয়ে পদ কেনা বেচার হওয়ায় সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ হয়েছে। গাবুরা ইউনিয়ন যুবলীগ ছাড়াও উপজেলার আরও কয়েকটি ইউনিয়ন কমিটিতে বিএনপি জামায়াত নেতারা জায়গা পেয়েছে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে এমন অভিযোগ নেতাকর্মীদের।
আদর্শের বাইরে যেয়ে অর্থের বিনিময়ে পদ কেনা বেচা হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে সংগঠনের প্রতি বিরূপ ধারণার সৃষ্টি হচ্ছে-দাবি করে এসব নেতা বলেন, তদন্ত করে ব্যবস্থা না নিলে আগামীতে যুবলীগ আদর্শ বিচ্যূত সংগঠনের পরিচিতি পাবে।
এদিকে অভিযোগ উঠেছে অর্থ লেনদেনের সুযোগ নিয়ে যুবলীগে অন্তর্ভুক্ত হওয়া বিএনপি নেতা আব্দুর নুর সুন্দরবনের বনদস্যু বাহিনীর সহযোগী এবং মাদক কারবারী হিসেবেও ব্যাপক পরিচিত। তার বিরুদ্ধে অবৈধ অস্ত্রের যোগান দেয়াসহ চাঁদাবাজি একাধিক মামলা রয়েছে। এছাড়া মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ছবি ভাংচুরসহ তাতে অগ্নি সংযোগের মামলার আসামী আব্দুর নুর ইয়াবা রাখার অভিযোগে একাধিকবার গ্রেপ্তার হয়ে কারাবাসও করেছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ মূলত নিজের অপকর্ম বহাল রাখতে আব্দুর নুর মোটা অংকের টাকা দিয়ে ইউনিয়ন যুবলীগের পদটি বাগিয়ে নিয়েছেন।
তথ্য সুত্রে জানা গেছে ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে আব্দুর নুরের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলা নং ১৮। এছাড়া কাঠ পাচারের সময় ধরা পড়ায় বনবিভাগ তার বিরুদ্ধে মামলা করে, যার নং ১৬। ইয়াবাসহ আটকের আগে পাউবোর বেড়িবাঁধ কাটাসহ নারী ও শিশু নির্যাতন আইন এবং চাঁদাবাজির মামলার আসামী আব্দুর নুর নিজের অপকর্মকে আড়াল করতে মোটা টাকায় পদ বাগিয়ে নিয়েছেন।
তাছাড়া সুন্দরবনের একাধিক বনদস্যুদের সহযোগী হিসেবে কাজ করার কারনেও তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় পত্র-পত্রিকায় সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশের তথ্যও দেন স্থানীয় যুবলীগ নেতারা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এসব নেতার অভিযোগ টাকার বিনিময়ে যারা বিএনপি জামায়াত নেতাদের পদ দিচ্ছে বা দিয়েছে তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে।
একাধিক মামলার আসামী বিএনপি নেতাদের যুবলীগে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে জানতে চাইলে যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান বলেন, আমি কোন কমিটি দেইনি। আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এটা জেলা কমিটির ব্যাপার। আমার কমিটিতে কোন জামাত-বিএনপি নেই।