কৈখালীতে সম্পদ আত্মসাৎ করতে পিতাকে নিয়ে উধাও!

রমজাননগর (শ্যামনগর) প্রতিনিধি: শ্যামনগর উপজেলার কৈখালী ইউনিয়নে মায়ের সম্পদ আত্মসাৎ করার জন্য পিতাকে নিয়ে উধাও হওয়ার অভিযোগ উঠেছে পুত্রদের বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে বৃদ্ধা মাতা পুত্রদের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসক বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগে জানা গেছে, কৈখালী ইউনিয়নের জয়াখালী গ্রামের মৃত আহ্ছাউল্ল্যা গাজীর পুত্র মান্দার আলী গাজী (৮৮) স্ট্রোকজনিত কারণে দীর্ঘদিন বিছানায় পড়ে ছিলেন। মান্দার গাজীর স্ত্রী আমেনা বিবি (৭৮)একইভাবে বিনা চিকিৎসায় ধুকে ধুকে জীবন কাটাচ্ছেন। মান্দার গাজীর তিন পুত্র ও তিন কন্যা। পুত্ররা হলেন আব্দুস সাত্তার, আব্দুল হামিদ ও আব্দুল মজিদ। কন্যারা হাসিনা খাতুন, ফতেমা খাতুন ও মরিয়ম খাতুন। মান্দার গাজী ২০১৬ সালে একশত টাকার নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পের মাধ্যমে তার স্ত্রী আমেনা বিবিকে রমজাননগর ইউপির ভেটখালী পেরীফেরীবুক্ত হাট বাজারের কোস্টগার্ড অফিসের পাশে রবাদ্দকৃত একটি দোকান ঘর লিখে দেন। গত ২০ এপ্রিল সকালে মান্দার গাজীর পুত্র আব্দুস সাত্তার ও আব্দুল হামিদ অত্যন্ত সু-কৌশলে মায়ের নামে পিতার দেওয়া দোকান ঘরটি (যার মূল্য আনুমানিক বিশ লক্ষাধিক টাকা) বাকি এক ভাই ও তিনবোনকে ফাঁকি দেওয়ার উদ্দেশ্যে তালা লাগিয়ে দেয়। আব্দুল হামিদ ও আব্দুস সাত্তার অসুস্থ পিতা মান্দার গাজীর নামে চার বিঘা জমির ভূয়া কাগজপত্র তৈরী করে লোকজনের দেখাতে থাকে এবং সন্ত্রাস বাহিনী নিয়ে অপর ভাই বোনদের উপর আক্রমন করে রক্তাক্ত জখম করে। শুধু তাকে ক্ষ্যান্ত না হয়ে পরিকল্পিতভাবে পিতাকে নিয়ে উধাও হয়েছে। বৃদ্ধা আমেনা বলেন, কয়েকদিন আগে আমার স্বামীকে আমার ছেলেরা নিয়ে চলে গেছে। তার সাথে কোন যোগাযোগ করতে পারছি না। বৃদ্ধার অপর পুত্র আব্দুল মজিদ বলেন, আমি গোপনে জানতে পেরেছি দোকান ঘরটি আমার ভাইয়েরা বিক্রয় করে দিয়েছে। দোকান ঘরের পুনরায় কাগজপত্র করার জন্য পিতাকে নিয়ে আমার ভাইয়েরা উধাও হয়েছে। বিষয়টি শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন বৃদ্ধা আমেনাসহ তার বঞ্চিত সন্তানেরা।