সখিপুর বাজার মুদি ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদকের বিরুদ্ধে ৬৫ লক্ষ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

দেবহাটা ব্যুরো: দেবহাটার সখিপুর বাজার মুদি ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মতিয়ার রহমান মতির বিরুদ্ধে সমিতির গচ্ছিত প্রায় ৬৫ লক্ষ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বর্তমানে বাজার জুড়ে সমিতির ৫১ সদস্য বিশিষ্ট সাধারণ মুদি ব্যবসায়ীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। অন্যদিকে সাধারণ মুদি ব্যবসায়ীদের গচ্ছিত প্রায় ৬৫ লক্ষ টাকা আত্মসাতের চাঞ্চল্যকর এ ঘটনাটি ধামাচাঁপা দিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে মুদি ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আনসার আলী, কোষাধ্যক্ষ সুধীর কুমার বিশ্বাস ও সদস্য পিয়ার আলী পিরুসহ অন্যান্যরা। তাছাড়া আত্মসাতকৃত ৬৫ লক্ষ টাকা আত্মসাতকারী সাধারণ সম্পাদক মতিয়ার রহমানের কাছ থেকে আদৌ আর ফিরে পাবেন কিনা সে চিন্তুায় এখন মাথায় হাত উঠেছে ভুক্তভোগী অর্ধশত মুদি ব্যবসায়ীর। এ বিষয়ে সখিপুর বাজারের ক্ষতিগ্রস্থ একাধিক মুদি ব্যবসায়ী অভিযোগ করে বলেন, ২০১৪ সালে সখিপুর বাজারের মুদি ব্যবসায়ীদের সুবিধার্থে মুদি ব্যবসায়ী সমিতি গঠন করা হয়। সমিতির যাত্রা শুরুতে আনসার আলীকে সভাপতি ও মতিয়ার রহমান মতিকে সাধারণ সম্পাদক করে কমিটি গঠন করা হয়। সমিতি গঠনের পর থেকে সদস্যদের গচ্ছিত টাকা থেকে অবৈধভাবে অতিলাভের ঋণ দেয়ার কার্যক্রম শুরু করে সভাপতি আনসার ও সাধারণ সম্পাদক মতিয়ার। শুধু তাই নয় প্রাথমিকভাবে কমিটি গঠনের পর নিয়মতান্ত্রিকভাবে কমিটি গঠনের কথা থাকলেও বিগত ৫ বছরের মধ্যে নতুন কোন কমিটি গঠন না করে সুচতুর সভাপতি আনসার ও সাধারণ সম্পাদক মতিয়ার মিলে অবৈধ মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি নিয়ে রামরাজত্ব কায়েমসহ কৌশলে সাধারণ মুদি ব্যবসায়ীদের এ সংগঠনটির গচ্ছিত ১ কোটি ৭৪ লক্ষ টাকা থেকে প্রায় ৬৫ লক্ষ টাকা আত্মসাত করেছে। অর্থ আত্মসাতের বিষয়টি বুঝতে পেরে সমিতির ৫১ সদস্য একাধিকবার তাদের সম্মুখে হিসাব নিকাশ করতে বললেও অজুহাত দেখিয়ে বার বার বিষয়টি এড়িয়ে গেছে অভিযুক্ত মতিয়ার ও তার অপকর্মের সহযোগীরা। সম্প্রতি অর্থ আত্মসাতের বিষয়টি পুরোপুরি জনসম্মুখে বেরিয়ে আসলে ব্যাবসায়ীদের চাপের মুখে পড়ে আনসার-মতিয়ার কমিটির হোতারা। এ ঘটনার পর গত ৯ জুলাই সন্ধ্যার পর সখিপুর বাজার মুদি ব্যবসায়ী সমিতির অফিসে হিসাব নিকাশে বসলে সাধারণ সম্পাদক মতিয়ারের দীর্ঘদিনের অপকর্ম ৬৫ লক্ষ টাকা আত্মসাতের ঘটনাটি ব্যবসায়ীদের সামনে ধরা পড়লে উত্তেজনাকর পরিস্থিতিসহ গোটা বাজার জুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। কিন্তু অর্থ আত্মসাতের চাঞ্চল্যকর এ ঘটনায় অভিযুক্ত মতিয়ারের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক কোন ব্যবস্থা না নিয়ে এবং আত্মসাতকৃত টাকা আদায়ের কোন ব্যবস্থা না করে কেবলমাত্র মৌখিক আশ্বাস দিয়ে সমিতির সভাপতি আনসারসহ অন্যান্যরা নাটকীয় ভাবে ঘটনাটি ধাপা চাঁপা দেয়ার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলেও অভিযোগ ভুক্তভোগী মুদি ব্যবসায়ীদের। এ ব্যাপারে অভিযুক্ত অর্থ আত্মসাতকারী মতিয়ারের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, টাকার হিসাব মেলেনি তাই নিজেদের মধ্যে একটু ঝামেলা হয়েছে। পরে বিষয়টি মিটে গেছে। তবে মিমাংসার কথা অস্বীকার করে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছে, অর্থ আত্মসাতের বিষয়ে এখনও কোন সুষ্ঠু মিমাংসা হয়নি। মিমাংসার নামে বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার অপচেষ্টা চলছে বলেও জানান ব্যবসায়ীরা।