অদক্ষ মেকানিক দিয়ে এক কম্পিউটারে ৩০ প্রশিক্ষাণার্থীর শিক্ষা প্রদান করছেন বায়োস্কোপ


প্রকাশিত : জুলাই ১২, ২০১৯ ||

নিজস্ব প্রতিনিধি: নেই একাডেমিক কোন সার্টিফিকেট! নেই প্রতিষ্ঠানিক সনদ। পাটকেলঘাটা বাজারের রোজ কম্পিউটার নামের একটি সার্ভিসিং দোকান রয়েছে তার। এরপর পরিচয় বায়োস্কোপ নামের এনজিও’র এক কর্মকর্তার সাথে। এভাবে ২০১৮ সালে যোগদান করেন প্রশিক্ষক হিসাবে। একে একে কয়েকটি ব্যাজে প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করে দিয়েছেন বলেও জানান ঐ প্রশিক্ষক আল আমিন।
সুত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ সরকারের মহিলা বিষায়ক অধিদপ্তরের আইজিএ প্রকল্পের আওতায় বায়োস্কোপ নামের একটি এনজিও এর সাথে চুক্তি হয়। প্রতিষ্ঠানটি দারিদ্র অসহায় ১৮-৪৫ বছর বয়সী নারীদের আয়বর্ধনমূলক কর্মকান্ডের লক্ষে কম্পিউটর সার্ভিসিং দেওয়ার চুক্তিবদ্ধে স্বাক্ষর করেন। যার প্রতি ব্যাজে ৩০ জন প্রশিক্ষাণার্থীকে সপ্তাহের ৫দিন সকাল ৯টা থেকে ৩টা পর্যন্ত ক্লাসের নির্ধারণ করা হয়। প্রশিক্ষণকালে প্রতিদিন ১শত হারে সম্মানী পাবে ঐ শিক্ষার্থীরা। গত ৯-৫-১৮ তারিখে এক শিক্ষক একটি অভিযোগ দায়ের করেন উপ-পরিচালকের কার্যালয়ে। পরে অনিয়মের বিরুদ্ধে তদন্ত করে মহিলা অধিদপ্তর।
সরেজমিনে দেখা গেছে, আবাসিক এলাকায় বাসা বাড়িতে দুইটি রুম নিয়ে গড়ে তোলা হয়েছে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। আলো-বাতাসহীন ছোট্ট একটি রুমে দেওয়া হচ্ছে প্রশিক্ষণ। যেখানে একটি মাত্র কম্পিউটারে ৩০জনের ক্লাস চলছে। সার্ভিসিং প্রশিক্ষণ থাকলেও নেই কোন প্রয়োজনীয় সারঞ্জাম। অথচ ট্রেডের নাম কম্পিউটার সর্ভিসিং এন্ড রিপিয়ারিং। ভেতরের পরিবেশ যায় হোক বাহিরে চিত্র ভিন্ন। প্রতিষ্ঠানিক কোন সাইনবোর্ড না থাকলেও একটি সাদা কাগজে লেখা আছে বায়োস্কোপ কম্পিউটার সার্ভিসিং সেন্টার। তবে সাইনবোর্ড থাকুক আর না থাকুক চায়না হোমিও হেল্থ নামের প্রতিষ্ঠানটি সেখানে পরিচালিত হয় সেটি বাহিরের বিজ্ঞাপন দেখেই এক নিমিশে বোঝা যায়। হেল্থ সেন্টারে কিভাবে কম্পিউটার সেন্টার পরিচালিত হচ্ছে প্রশ্ন সাধারণ মানুষের? বিষয়গুলো নিয়ে প্রশিক্ষক আল আমিনের সাথে কথা বলতে গেলে বেরিয়ে আসে ভিন্ন তথ্য। তিনি যে আফিসে চাকুরি করেন তার অফিস কোথায় জানেনই না। ডিপ্লোমা বা প্রতিষ্ঠানিক সনদ না থাকলেও এখানে আসার আগে একটি দোকানে কাজ করতেন তিনি। ফোনে ফোনে কর্মকর্তারা নিয়ন্ত্রন করেন তাকে আর তিনি একাই প্রশিক্ষণ কেন্দ্র পরিচালনা করেন। সাম্প্রতিক জেলা মহিলা বিষয়ক দপ্তরের উপ-পরিচালক তার অনিয়ম অনিয়ম, দূর্নীতির বিরুদ্ধে তদন্ত করে। এত তার অনিয়ম ও ছাত্রীদের সাথে আপত্তিকর অবস্থায় ধরা পরার বিষয়কে কেন্দ্র করে অফিসিয়ালভাবে একটি গোলোযোগ বাধে। পরে আল-আমিন জেলা প্রশাসকের নিকট অভিযোগ করেন তিনি। এরপর নিজের ভুল বুঝতে পেরে নিজের অভিযোগ তুলতে যান জেলা প্রশাসকের দপ্তরের কার্যালয়ে। আল আমিন অন্যের প্ররোচনায় এমন কাজ করেছে বলেও তথ্যে বেরিয়ে আসে। এদিকে, গত ২৭/৬/১৯ তারিখে মহিলা ও শিশু বিষায়ক মন্ত্রাণালয়, মবিঅ-১ শাখা, বাংলাদেশ সচিবালয়, ঢাকা এর প্রজ্ঞাপন নং- ৩২.০০.০০০০.০২.১২.০০৭.২০১৬(অংশ-২)-২৯০, তারিখ-২৭/০৬/২০১৯ খ্রিঃ ২০১৫এর ১০ম গ্রেড হতে ৯ম গ্রেডে পদোন্নিত হয়ে লামা উপজেলা মহিলা বিষায়ক কর্মকর্তা হিসাবে যোগদান করেন। কিন্তু ঐ ঘটনার পর তাকে একাধিক সংবাদ প্রকাশে শাস্তিমূলক বদলির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সারাদেশে একযোগে বদলী আদেশের ৩০ নাম্বার ক্রমিকে রয়েছেন নাজমুন নাহারের নাম।
এদিকে, বায়োস্কোপ এনজিও জেলা প্রতিনিধি আব্দুস সালামের সাথে কথা বললে তিনি জানান, আমি ঢাকায় আছি। সাতক্ষীরায় কোন শাখা নেই আমাদের। আমি মাঝে মাঝে আসি সাতক্ষীরাতে। তবে সাতক্ষীরাতে তাদের একটি ট্রেনিং সেন্টার রয়েছে। পরবর্তীতে তার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
জেলা মহিলা অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক নাজমুন নাহারের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি আল আমিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ পেয়ে তদন্ত করি। তাদের প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি নিয়মনীতি না মেনে চালানো হচ্ছে। নেই পরিবেশ। একটি কম্পিউটারে ৩০জনের প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে। তাদের নেই পর্যাপ্ত যন্ত্রপাতি। তাছাড়া প্রশিক্ষকের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের বিরুদ্ধে আমি অবস্থান নেওয়ায় আমার বিরুদ্ধে একটি মহল ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। তাছাড়া সরকারি নিয়মে আমার পদন্নোতি হওয়ায় বদলি আদেশ এসেছে।