কলারোয়ায় জীবন বীমা অফিসে দুদকের ঝটিকা অভিযান


প্রকাশিত : August 6, 2019 ||

নিজস্ব প্রতিনিধি: গ্রাহকদের পলিসির টাকা আত্মসাতের অভিযোগের ভিত্তিতে কলারোয়ায় জীবন বীমা কর্পোরেশনের অফিসে (শাখা-৯৩৮) ঝটিকা অভিযান চালালো দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কর্মকর্তারা।
সোমবার বিকাল ৪টার দিকে পৌরসদরের হাসপাতাল রোডে কৃষি ব্যাংক সংলগ্ন এ অফিসে আসেন খুলনা বিভাগীয় দুদকের উপ-সহকারী পরিচালক ফয়সাল কাদের, সহকারী পরিদর্শক মনিরুজ্জামান ও শ্যামল চন্দ্র সেন। সেসময় তারা জীবন বীমা অফিসে অভিযোগের সংশ্লিষ্ট সূত্রের কাগজপত্রে গড়মিল দেখেন। পরে সরেজমিনে ভূক্তভোগিদের সাথে কথা বলতে উপজেলা শংকরপুর গ্রামে যান।
দুদকের উপ-সহকারী পরিচালক ফয়সাল কাদের জানান- ‘জীবন বীমা কর্পোরেশনের কলারোয়া অফিসের বীমা পলিসি করা উপজেলার শংকরপুর গ্রামের ১৩জন ব্যক্তি প্রায় ৬লাখ টাকা আত্মসাতের বিষয়ে দুদকে অভিযোগ করেন। ওই অভিযোগের সূত্র ধরে তারা (দুদক কর্মকর্তারা) সোমবার বিকেলে কলারোয়ার জীবন বীমা অফিসে আসেন। তখন অফিসের ম্যানেজার ও অভিযোগের আবেদনে অভিযুক্ত টাকা তছরুপকারী অফিসার আরিজুল ইসলামকে পান নি। সেখানে উপস্থিত উন্নয়ন অফিসার হাফিজুর রহমান সংশ্লিষ্ট কোন কাগজপত্র দেখাতে ব্যর্থ হন। তখন মুঠোফোনে আরিজুল ইসলামকে অফিসে ডেকে আনা হয়। আরিজুল অফিসে এসে তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ অস্বীকার করায় তাকে নিয়ে তাৎক্ষনিক উপজেলাধীন শংকরপুর গ্রামে যান দুদক কর্মকর্তারা। সেখানে পৌছে পলিসি আত্মসাতের অভিযোগ দেয়া আবেদনকারীরা জানান, তাদের পলিসির টাকা জমা দেয়া হলেও যথাযথ রিসিট তারা পাননি। অনেকের কিস্তি পরিশোধ হওয়ার পরেও তাদের লভ্যাংশসহ আসল টাকা পূর্ণাঙ্গ ফেরত পাননি। আবার অনেকে ৫কিস্তির টাকা জমা দিলেও রিসিট পেয়েছেন ২টা। দুদক কর্মকর্তাদের কাছে অভিযুক্ত আরিজুলের সামনেই তার বিরুদ্ধে এরূপ অন্যান্যভাবে প্রায় ৬লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ তোলেন। তবে সেখানে উপস্থিত আবেদনকারীর মধ্যে ২/১জন জানান যে, তাদের পলিসিকৃত টাকা পরবর্তীতে ফেরত পেয়েছেন।’
দুদকের সহকারী পরিদর্শক মনিরুজ্জামান জানান- ‘সরেজমিনে অভিযোগের সত্যতা পেয়ে অভিযুক্ত জীবন বীমা অফিসার আরিজুল ইসলামের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
সেসময় কলারোয়া জীবন বীমা অফিসের শাখা ব্যবস্থাপক হাফিজুর রহমানসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।