কপিলমুনিতে পুকুর থেকে উদ্ধার গৃহবধু পপির মৃতদেহ নিয়ে নানা গুঞ্জন


প্রকাশিত : August 7, 2019 ||

কপিলমুনি (খুলনা) প্রতিনিধি: কপিলমুনির শ্রীরামপুর গ্রামের গৃহবধু পপি বেগম পুকুরে ডুবে মারা গেল নাকি তাকে হত্যা করে পুকুরে ফেলে দেয়া হয়েছে-এমন কথা ঘুরপাক খাচ্ছে এলাকাবাসীর মধ্যে। ঘটনাটি রীতিমত নানান গুঞ্জনেরও জন্ম দিয়েছে।
জানা যায়, সোমবার সন্ধ্যার আগে প্রতিবেশির ছোট্ট পুকুর থেকে পপি বেগমের মৃতদেহ উদ্ধার হওয়ার পর সকলে হতবিহবল হলেও গতকাল মঙ্গলবার থেকে তাকে হত্যা করার গুঞ্জন শুরু হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, চারিদিকে ফসল ও গাছপালা বেষ্টিত নির্জন ওই পুকুরের শ্যাওলার মধ্যে থেকে ভাসমান অবস্থায় যখন গৃহবধু পপিকে উদ্ধার করা হয় তখন সে ছিল বিবস্ত্র। গায়ে শুধুমাত্র একটি ব্লাউজ থাকলেও ব্লাউজের সবকটি বোতাম ছিল খোলা। আর মৃতদেহ উদ্ধারের পর তার পেটে কোন পানি ছিলনা। তবে পপির নাক ও কানে টাটকা রক্তের দাগ ছিল। এ কথা শুধু লোকের মুখে নয় গ্রামের যে দুজন পুকুর থেকে মৃতদেহ উদ্ধার করেন তাদেরও কথা একই। শ্রীরামপুর গ্রামের রাজ্জাক সরদার ও সাইফুল্লা সরদার মৃতদেহ উদ্ধারের পর এ সব কথা বলেন।
গ্রামবাসী বলেন, সুস্থ্য সবল প্রাণবন্ত পপি বেগম সোমবার দুপুরে তার বাড়ি থেকে পায়ে হেটে বিবস্ত্র অবস্থায় তো পুকুরে গোছল করতে যায়নি, তাহলে বিবস্ত্র অবস্থায় তার লাশ পাওয়া গেল কেন? কেনই বা তার ব্লাউজের বোতাম খোলা। এদিকে পপি বেগমের স্বামী শ্রীরামপুর গ্রামের সামাদ গাজীর পুত্র লাভলু গাজীর সম্পর্কে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন একটি সূত্র। সূত্রটি জানায়, পপির স্বামী লাভলু কপিলমুনির এক রাইচ মিল শ্রমিক কাদের সানার দ্বিতীয় স্ত্রী সাজেদা বেগম (২৮) এর সাথে পরকীয়া প্রেমে জড়িয়ে পড়ে। গত ১৫ জুন রাত ১০টায় কপিলমুনি বাজারে প্রেমিকা সাজেদা বেগমের ভাড়াটিয়া বাড়ীতে পপির স্বামী লাভলু ও সাজেদাকে আপত্তিকর অবস্থায় ধরে ফেলে সাজেদার স্বামী কাদের সানা। কাদের সানা এর প্রতিবাদ করলে সাজেদা এবং লাভলু মিলে কাদেরকে বেদম মারপিট করে জীবননাশের হুমকি দেয়। এ ঘটনায় কাদের ঐ রাতেই কপিলমুনি পুলিশ ফাঁড়িতে একটি লিখিত অভিযোগ দেয়। অভিযোগের এক সপ্তাহের মধ্যে লাভলুর প্রতি পরকীয়ার মোহে কাদেরকে ডিভোর্স দেয় সাজেদা বেগম। ঘটনাটি চাউর হলে লাভলুর সাথে স্ত্রী পপির দাম্পত্য জীবনে কলহের সৃষ্টি হয়। আর ঐ কলহের জেরে পপি বলি হতে পারে বলে সূত্র দাবী করেছে। তবে এ ব্যাপারে পপির পরিবার থানায় কোন অভিযোগ না দেয়ায় গতকাল মঙ্গলবার দুপুর ১২ টায় প্রতাপকাঠি গ্রামে পপির পিতা খোকন গাজীর বাড়ীতে পপিকে দাফন করা হয়। অথচ সোমবার সন্ধ্যায় পপির মৃতদেহের পাশে করুন আহজারিতে পপির পিতা মাতা বার বার বলছিল পপি সুস্থ্য সে সাঁতার জানে তাকে মেরে ফেলা হয়েছে। এলাকাবাসীর প্রশ্ন, তাহলে থানায় কেন অভিযোগ দিল না পপির পিতা মাতা। থানায় অভিযোগ না করতে তাদেরকে ভয় দেখানো হয়েছে নাকি প্রভাবিত হয়েছে। এদিকে পপির চাচা আব্দুল্যা গাজী জানান, পপিকে হত্যা করা হয়েছে। মামলা করলেন না কেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, আমার ভাই নিরীহ ও অতিশয় গরীব মানুষ। তাই মামলা মোকদ্দমায় জড়াতে চায়না। তবে প্রশাসন উদ্যোগ নিলে এর প্রকৃত রহস্য উন্মোচন হতে পারে।
প্রসংগত, সোমবার দু’ সন্তানের জননী পপি বেগম (২০) দুপুর বেলায় এক প্রতিবেশীর পুকুরে গোসল করতে যায়। এদিন সন্ধ্যার একটু আগে ঐ পুকুর থেকে তার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।