কলারোয়া পৌরসভায় ভিজিএফ’র ১৪হাজার কেজি চাল গায়েবের অভিযোগ


প্রকাশিত : August 9, 2019 ||

আরিফ মাহমুদ, কলারোয়া: কলারোয়া পৌরসভায় অসহায় ও হতদারিদ্র মানুষের জন্য সরকার প্রদত্ত প্রায় ১৪হাজার কেজি চাল গায়েব হওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
বৃহষ্পতিবার বিকেলে পৌরসভা চত্বরে উপস্থিত ভূক্তভোগী ১০/১২জন অসহায়-হতদারিদ্র অভিযোগ করে জানান ‘তাদের জনপ্রতি ১৫কেজি করে চাল দেয়ার কথা থাকলেও ওজনে প্রায় ৪কেজি চাল কম দেয়া হয়েছে।’ এ ঘটনায় হতদরিদ্র কার্ডধারীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পরিস্থিতি ঘোলাটে হওয়ার সংবাদ পেয়ে তাৎক্ষণিক উপজেলা চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার সেখানে উপস্থিত হয়ে বিষয়টির প্রাথমিক সত্যতা জানতে পারেন। সেসময় কয়েকজন পৌর কাউন্সিলর ভিজিএফ কার্ডধারীদের চাল কম দেয়া ও অনেক কার্ডধারীদের মাঝে চাল না দিতে পারার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
কার্ডধারী কয়েকজন অভিযোগ করে বলেন বিগত দু’দিন পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের ৩হাজার ৮১টি ভিজিএফ কার্ডধারীদের মাঝে জনপ্রতি ১৫কেজি চাল বিতরণের কথা থাকলেও প্রকৃতপক্ষে তাদের মাঝে প্রায় ৪ কেজি চাল কম দেয়া হয়। তাদের কেউ ১১ কেজি, কেউ ১১ কেজি ৮২ গ্রাম, কেউ ১১ কেজি ৬’শ গ্রাম, কেউ ১১কেজি ৭’শ গ্রাম করে চাল পেয়েছেন। ১৫কেজির স্থলে জনপ্রতি ১১কেজি থেকে ১১ কেজি ৭’শ গ্রামের মতো চাল দিয়ে বাকী ৩কেজি ৩’শ গ্রাম থেকে ৪কেজি চাল কম দেয়ার ঘটনা ঘটেছে। সেই হিসেবে প্রায় ১৪হাজার কেজি চাল গায়েব হয়েছে বলে তাদের অভিযোগ।
এদিকে, বিকেলে এ ঘটনায় পৌরসভা চত্বরে তোলপাড় শুরু হলে উপজেলা চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম লাল্টু, ইউএনও আরএম সেলিম শাহনেওয়াজসহ সংবাদকর্মীরা সেখানে যান। তখন উপস্থিত কার্ডধারীদের চাল কম দেয়ার বিষয়টির তাৎক্ষণিক সত্যতা দেখা যায়।
চাল কম দেয়ার সত্যতা স্বীকার করে পৌর কাউন্সিলর আলফাজ উদ্দীন, ইমাদুল ইসলামসহ কয়েকজন পৌর কাউন্সিলর জানান ‘এইসব ব্যাপারে আমরা কোন কিছুই জানি না। আমাদের কোন দায়িত্ব দেয়া হয় না। সব কিছুই ভারপ্রাপ্ত মেয়র মনিরুজ্জামান বুলবুল ও সচিব তুষার কান্তি দাস জানেন।’ তারা আরো জানান ‘বৃষ্টির কারণে এখনো ৯টি ওয়ার্ডের প্রায় শতাধিক কার্ডধারী চাল গ্রহণ করেন নি। ফলে প্রায় ১৪হাজার কেজি চালের কোন হিসাব নেই।’
পৌর কাউন্সিলর আলফাজ উদ্দীন জানান ‘আমার ধারণা বিগত দুই রাতে এই চাল অন্যত্রে পাচার হতে পারে।’ এ বিষয়ে পৌর সচিব তুষার কান্তি দাস জানান ‘আমি একাই তো এতগুলো চাল দেই নি। আরো অনেকে এই চাল বিতরণ করেছেন। আমার উপস্থিতিতে যে চাল বিতরণ করা হয়েছে তাতে কোন কম দেয়া হয়নি। এমনকি কার্ডধারী ব্যতীত কেউ চাল পাননি।’
ভারপ্রাপ্ত পৌর মেয়র প্রধান শিক্ষক মনিরুজ্জামান বুলবুল জানান ‘আমার জানা মতে চাল বিতরণের প্রথমদিন (বুধবার) কোন অনিয়ম হয়নি। তবে বৃহষ্পতিবার আমি সাতক্ষীরায় একটি মিটিং-এ থাকায় কিছু অনিয়ম হতে পারে।’ একজন কাউন্সিলরের উদ্ধৃতি দিয়ে ‘জনপ্রতি কিছু চাল কম দেয়ার বিষয়টি’ তিনি স্বীকার করেন।
চাল গায়েব হওয়ার বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে ভারপ্রাপ্ত মেয়র বলেন ‘কোন চাল গায়েব হয়নি। সামান্য ত্রুটি-বিচ্যুতি হয়েছে।’
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আরএম সেলিম শাহনেওয়াজ বলেন ‘খবর পেয়ে আমি পৌরসভায় গিয়ে উপস্থিত কার্ডধারীদের চাল কম দেয়ার বিষয়টি সরেজমিনে সত্যতা পাই। চাল কোথায় গেলো এবং কেন কম দেয়া হলো এই বিষয়ে সচিবের কাছে জানতে চেয়ে কারণ দর্শাণোর নোটিশ করতে ভারপ্রাপ্ত মেয়রকে বলা হয়েছে।’ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম লাল্টু বলেন ‘এত চালের অনিয়ম হওয়ার কথা না। এর পিছনে বড় কোন কারণ বা হাত থাকতে পারে।’ তিনি আরো বলেন ‘জননেত্রী শেখ হাসিনা হতদারিদ্রদের জন্য চাল দিচ্ছেন। সেই ন্যায্য চাল আত্মসাতকারীদের বিরুদ্ধে সজাগ থাকতে হবে।’ উল্লেখ্য, কলারোয়া পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের ৩হাজার ৮১টি ভিজিএফ কার্ডধারীদের জন্য ৪৬হাজার ২’শ ৫০কেজি চাল বিতরণের কথা।