সরকারি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করেও জেলেরা সুন্দরবনে, নিশ্চুপ বনবিভাগ

শ্যামনগর প্রতিনিধি: মন্ত্রনালয়ের ষ্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে আপাতত মাছ ও কাঁকড়া শিকারের জন্য কোন জেলেকে সুন্দরবনে প্রবেশের অনুমতি দেয়া যাবে না। মুলত বিষ টোপ দিয়ে মাছ ও কাঁকড়া শিকারের প্রবনতা মারাত্মকভাবে বেড়ে যাওয়ার কারনে প্রায় সপ্তাহকাল পুর্বে মন্ত্রণালয় ঐ নিষেধাজ্ঞা জারি করে। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে বনবিভাগকে জানিয়েও দেয়া হয়। একই সাথে ইতিপুর্বে যারা মাছ/কাঁকড়া শিকারের অনুমতি নিয়ে সুন্দরবনে প্রবেশ করেছে তাদের ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিতে বনবিভাগকে নির্দেশ দেয়া হয়।
কিন্তু সরকারি সে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করেও এখনও সুন্দরবনে দিব্যি মাছ শিকারের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে শতাধিক নৌকা। ইতিমধ্যে পশ্চিম সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের পক্ষ থেকে নদীতে মাইকিং করে জেলেদের ফিরে আসার আহবান জানানো হলেও এখনও শত শত নৌকা সুন্দরবন এবং তদসংলগ্ন সাগরে মাছ শিকারের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। সুন্দরবন থেকে ফিরে আসা জেলে এবং স্থানীয় একাধিক সুত্রসমুহের সাথে কথা বলে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।
এদিকে সুন্দরবনে এই মুহুর্তে কোন নৌকা না থাকার বিষয়ে বনবিভাগের দাবির মধ্যেই গত শনিবার আটটি নৌকা আটক করে খোদ বিভাগ। অভিযোগ উঠেছে মুলত সাতক্ষীরা রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তাসহ বুড়িগোয়ালীনি ষ্টেশন কর্মকর্তা এবং পুষ্পকাঠি টহল ফাঁড়ির ওসির যোগসাযশে জেলেরা সুন্দরবন এমনকি অভয়ারণ্য এলাকাতে যেয়ে নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও মাছ শিকার করছে।
একাধিক সুত্র নিশ্চিত করেছে যে নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও সুন্দরবনে অদ্যাবধি অবস্থানরত শত শত জেলে নৌকার মধ্যে নীলডুমুর গ্রামের সফিকুল ইসলাম, নোবেল গাজী, শহিদুল ইসলাম, সাইদুল গাজী রয়েছে। এছাড়া পাশর্^বর্তঅ দাতিনাখালী, বুড়িগোয়ালীনি, মুন্সিগঞ্জ, হরিনগর এবং কয়রা গ্রামের অসংখ্যা জেলে অদ্যাবধি সুন্দরবনে রয়েছে।
তথ্যসুত্রের দাবি সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করেও অদ্যাবধি সুন্দরবনে অবস্থানকারী এসব জেলেরা মুলত কয়রার কামরুল কোম্পানীর কামরুল ইসলাম, রজব কলই এবং পাতাখালীর আবু সালেহ এর হয়ে কাজ করছে। এসব বড় বড় কোম্পানীর মালিকরা বনবিভাগের সাথে গোপন যোগসাযশের মাধ্যমে নিশেধাজ্ঞার মধ্যেও তারা দিব্যি সুন্দরবনে অবস্থান করে মাছ শিকার করছে। ফিরে আসা অসংখ্যা জেলের দাবি কামরুল কোম্পানী এবং রজব কলই এর জেলেরা মান্দারবাড়িয়া এবং পুষ্পকাঠির মত অভয়ারন্য এলাকাতেও পর্যন্ত অবস্থান করে মাছ শিকার করছে। তবে কামরুল কোম্পানীর মালিক কামরুল ইসলাম দাবি করেছে এখন সুন্দরবনে অবস্থানকারী জেলেরা তার লোক নয়।
এদিকে সাতক্ষীরা রেঞ্জ কর্মকর্তা মোঃ রফিক ফোন রিসিভ না করলেও বনবিভাগের অপরাপর সুত্রগুলোর দাবি আপাতত সুন্দরবনে কোন নৌকা নেই। তবে এমন দাবির পরও দুই দিন আগে আটটি জেলে নৌকাসহ একই চোরাই কাঠসহ নৌকা আটকের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি উত্তর দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন।
প্রসংগত উল্লেখ্য যে সাম্প্রতিক সময়ে সাতক্ষীরা রেঞ্জের পশ্চিম সুন্দরবন এলাকায় মাছ ও কাঁকড়া শিকারে বিষ টোপ ব্যবহারের মাত্রা মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। মুলত অল্প সময়ের মধ্যে প্রত্যাশার তুলনায় প্রচুর মাছ ও কাঁকড়া শিকারের প্রলোভনে সুন্দরবনে যাতায়াতকারী জেলেরা এমন অসদুপায় অবলম্বন করছে বলে খোদ জেলেদের মুখ থেকে তথ্য মিলেছে।