মুন্সিগঞ্জে পল্ল¬ী বিদ্যুতের গ্রাহক সেবা ও দুর্নীতিরোধে উঠান বৈঠক


প্রকাশিত : অক্টোবর ৬, ২০১৯ ||

মো. মনির হোসেন, কৈখালী (শ্যামনগর): শ্যামনগর উপজেলাধীন ৭নং মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের ৮৮ নং চুনকুড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ৫ অক্টোবর বিকালে সাতক্ষীরা পল্ল¬ী বিদ্যুৎ সমিতির আয়োজনে ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্যোগ, ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ’ এই স্লে¬াগানকে সামনে রেখে দুর্নীতি, হয়রানী, অনিয়ম, চুরি প্রতিরোধসহ ‘আমার গ্রাম আমার শহর’ প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষে গ্রাহক সেবা ও উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবুল কাশেম মোড়লের সভাপতিত্বে এলাকার প্রায় তিন শতাধিক মানুষের উপস্থিতিতে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি শ্যামনগর সাব-জোনাল অফিসের এজিএম মধুসুধন রায়। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, শ্যামনগর পল্ল¬ী বিদ্যুৎ সমিতির পরিচালক কুদরত-ই-খোদা (কচি) এবং সমাজ সেবক ও বনশ্রী শিক্ষা নিকেতনের প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল করিম, সাংবাদিক শাহীন আলম, মেহেদী হাসান মারুফ ও মনিরুজ্জামান মুকুল। সমগ্র অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন পল্ল¬ী বিদ্যুতের মুন্সিগঞ্জ অভিযোগ কেন্দ্রের জাকির হোসেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি পল্ল¬ী বিদ্যুতের বিভিন্ন উন্নয়নের দিক তুলে ধরেন এবং বিদ্যুৎ দেওয়ার নামে কোন দালাল চক্রের নিকট কোন প্রকার টাকা দিয়ে হয়রানী হওয়া থেকে বিরত থাকতে বলেন। এলাকার বিদ্যুৎ লাইনের কাজ শেষ হলে গ্রাহক সরকারি রেট অনুযায়ি প্রতি ৪৫০ টাকা হারে ডিজিটাল মিটার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। এলাকার চিহ্নিত দালালদের নিকট টাকা দিয়ে হয়রানীর বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে উপস্থিতি এলাকাবাসীর পক্ষে বক্তব্য রাখেন মো. আবুল বাশার। প্রশ্নের জবাবে পল্ল¬ী বিদ্যুৎ সমিতির পরিচালক কুদরত-ই- খোদা (কচি) এলাকাবাসীকে সাতক্ষীরা পল্ল¬ী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার বরাবর লিখিতভাবে অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেন।

এরআগে উক্ত পরিচালক এলাকাটি সরেজমিনে পরিদর্শন করেন বলে জানা যায়। পরিদর্শনকালে সেখানে কিছু বিদ্যুতের খুঁটি বসানোর অনিয়ম দেখতে পেয়ে তিনি পল্ল¬ী বিদ্যুতের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করলে তারা উক্ত উঠান বৈঠকের আয়োজন করেন।

এলাকাবাসীর দাবি বিদ্যুতের তৎকালীন ইঞ্জিনিয়ার মাপজরীপকালে চুনকুড়ি গ্রামের ইছহাক গাজীর বাড়ির পাশ দিয়ে মাছুম গাজীর বাড়ি পর্যন্ত সরকারি রাস্তায় ১০-১২জন গ্রাহকের জন্য ৩টি খুঁটি স্থাপনের মাপ নেওয়া হয়। কিন্তু এলাকার কিছু দালালচক্র বর্তমান ইঞ্জিনিয়ারকে ম্যানেজ করে তাদের নিজেদের মতো সিডিউল তৈরী করে নেন বলে অভিযোগে জানা যায়। বিগত ১ বছর পূর্বে এলাকায় বিদ্যুৎ দেওয়ার নাম করে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। বর্তমানে বিদ্যুৎ লাইনের কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিদের ম্যানেজ করে দালাল চক্র লাইনের কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিদের যেভাবে লাইন নির্মাণ করতে বলছে তারা সেইভাবে লাইন নির্মাণ করছে। সিডিউল অনুযায়ী কাজ হচ্ছে না। বর্তমানে এলাকায় নতুন সংযোগের খুঁটি বসানোকে কেন্দ্র করে দালালচক্র পুনরায় আবার টাকা উত্তোলনের জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে বলে উপস্থিতিরা জানান।