জেলায় শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় জাতির সূর্য সন্তানদের স্মরণ


প্রকাশিত : November 3, 2019 ||

পত্রদূত রিপোর্ট: বিন¤্র শ্রদ্ধা আর অকৃত্রিম ভালোবাসায় জাতির শ্রেষ্ঠ সূর্য সন্তানদের স্মরণ করেছে জেলাবাসি। ৩রা নভেম্বর জেলহত্যা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের মধ্য দিয়ে তাদের স্মরণ করা হয়। জেলার ৭টি উপজেলায় আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করা হয়। এদিকে রবিবার বিকালে জাতির সূর্য সন্তানদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা আর অকৃত্রিম ভালোবাসা জানিয়ে জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজন করে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল। শোকাবহ পরিবেশে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি পাঠাগারে এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুনসুর আহমেদ। এতে অতিথি ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম, সদর আসনের সাংসদ, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ আবু আহমেদ, শেখ সাহিদ উদ্দীন, সাংগঠনিক সম্পাদক ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান বাবু।
এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক শেখ নুরুল হক, থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি এসএম শওকত হোসেন, সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান আলী, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু সায়ীদ, সাধারণ সম্পাদক শাহাদাৎ হোসেন, যুগ্ম সম্পাদক রাশেদুজ্জামান রাশি, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক মীর মোস্তাক আলী, জেলা বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগের সভাপতি মাহমুদ আলী সুমন, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রেজাউল ইসলাম রেজা, মোস্তাফিজুর রহমান, সুবর খান, কামরুল ইসলাম প্রমূখ।
সভায় বক্তারা বলেন, আজ শোকাবহ জেলহত্যা দিবস। ’৭৫ এর ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর দ্বিতীয় কলঙ্কজনক অধ্যায় রচিত হয় এই দিনে। ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর মধ্যরাতে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের নির্জন প্রকোষ্ঠে জাতীয় চার নেতা বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ, মন্ত্রিসভার সদস্য ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী এবং এ এইচ এম কামারুজ্জামানকে নির্মম ও নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়।
বক্তারা আরো বলেন, বঙ্গবন্ধুর আশার প্রতীক ছিলেন জাতীয় চার নেতা। যারা জাতীয় চার নেতাকে হত্যা করেছিল তাদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচার করতে হবে। স্বাধীনতা বিরোধী চক্র আজও দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধের শত্রুরা সেদিন জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান এই জাতীয় চার নেতাকে শুধু গুলি চালিয়েই ক্ষ্যান্ত হয়নি, কাপুরুষের মতো গুলিবিদ্ধ দেহকে বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে ক্ষতবিক্ষত করে একাত্তরের পরাজয়ের জ্বালা মিটিয়েছিল। ইতিহাসের এই নিষ্ঠুর হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় শুধু বাংলাদেশের মানুষই নয়, হতবাক হয়েছিল সারা বিশ্ব। কারাগারে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকা অবস্থায় বর্বরোচিত এ ধরনের হত্যাকা- পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল ঘটনা। একাত্তরের পরাজিত সৈনিকরাই জাতীয় চার নেতাকে হত্যা করেছিল।
বক্তারা আরো বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ দুর্বার গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। শেখ হাসিনা দেশব্যাপী শুদ্ধি অভিযান পরিচালনা করছে। যে কারণে বিভিন্ন অপকর্মের সাথে জড়িতরা ধরা পড়ছে। দলে যাতে অনুপ্রবেশকারীরা ঢুকতে না পারে সেজন্য সকলকে সজাগ থাকার আহবান জানান বক্তারা। এসময় উপস্থিত ছিলেন পৌর আওয়ামী লীগের সদস্য আমজাদ হোসেন লাভলু, সাবেক ছাত্রনেতা জাহিদ হোসেন বাপ্পী, এড. সাহেদুজ্জামান শাহেদ প্রমূখ। শহীদ জাতীয় চার নেতা রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া মোনাজাত করা হয়। দোয়া মোনাজাত পরিচালনা করেন তুফান কোম্পানী জামে মসজিদের পেশ ইমাম হাফেজ ওমর ফারুক।