রবিবার, ২৪ মে ২০২৬, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
রবিবার, ২৪ মে ২০২৬, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

আছিয়া বেগম স্মৃতি পাঠাগারের নিরলস পথচলা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৩ মে, ২০২৬, ১০:৫৯ অপরাহ্ণ
আছিয়া বেগম স্মৃতি পাঠাগারের নিরলস পথচলা

খোলা চিঠি

মো. আলমগীর হোসেন টিটু

বর্তমান সমাজে যখন মানবিক মূল্যবোধ, শিক্ষা ও সামাজিক সচেতনতা নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি, তখন কিছু সংগঠন নীরবে মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে আলোর দিশা দেখিয়ে যাচ্ছে। তেমনি একটি ব্যতিক্রমধর্মী ও মানবিক সংগঠন হলো আছিয়া বেগম স্মৃতি পাঠাগার। ২০০৯ সালে প্রতিষ্ঠিত এই স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনটি সাহিত্য, সংস্কৃতি চর্চা, মানবাধিকার ও সমাজ উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে।

একটি পাঠাগার কেবল বই পড়ার স্থান নয়; এটি একটি সমাজের জ্ঞানচর্চা, নৈতিকতা ও সচেতনতার কেন্দ্র। সেই ভাবনা থেকেই আছিয়া বেগম স্মৃতি পাঠাগার পাঠকদের জন্য গড়ে তুলেছে একটি সুন্দর ও মনোরম পাঠ পরিবেশ। তথ্যসমৃদ্ধ ও প্রয়োজনীয় বই সংরক্ষণের পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মকে বইমুখী করতে সংগঠনটি নিরলস কাজ করে যাচ্ছে।

তবে এই সংগঠনের কার্যক্রম শুধু পাঠাগারকেন্দ্রিক নয়। সমাজের অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে তারা নিয়মিত পরিচালনা করছে বিভিন্ন মানবিক উদ্যোগ। প্রতি শীতে দরিদ্র ও শীতার্ত মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ, ঈদ উপলক্ষে খাদ্যসামগ্রী ও নতুন পোশাক প্রদান, অসচ্ছল রোগীদের চিকিৎসা সহায়তা এবং প্রবীণদের সম্মানার্থে বস্ত্র উপহার—এসব কার্যক্রম মানবতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।

শিক্ষা ক্ষেত্রে সংগঠনটির অবদানও প্রশংসনীয়। দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের শিক্ষা উপকরণ বিতরণ, ফ্রি কোচিং, শিক্ষা বৃত্তি ও মেধা অন্বেষণ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে তারা একটি জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনের স্বপ্ন বাস্তবায়নে কাজ করছে। পাশাপাশি মাদক, বাল্যবিবাহ, দুর্নীতি ও নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে সচেতনতামূলক কার্যক্রম সমাজে ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দিচ্ছে।

আজকের দিনে সমাজ উন্নয়নে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আছিয়া বেগম স্মৃতি পাঠাগারের মতো সংগঠনগুলো প্রমাণ করছেÑইচ্ছাশক্তি, সততা ও মানবিক দায়বদ্ধতা থাকলে সমাজ পরিবর্তন সম্ভব।

মানবিক এই কার্যক্রমগুলো পরিচালিত হয় সমাজের দানশীল ব্যক্তি ও শুভানুধ্যায়ীদের সহযোগিতায়। তাই সমাজের বিত্তবান ও সচেতন মানুষদের উচিত এমন উদ্যোগের পাশে দাঁড়ানো। কারণ, আপনার একটি ছোট সাহায্যও হয়তো একটি পরিবারের বেঁচে থাকার স্বপ্ন হয়ে উঠতে পারে। আসুন, মানবতার সেবায় সবাই একসাথে এগিয়ে আসি। একটি সুন্দর, আলোকিত ও মানবিক সমাজ গঠনে সহযোগিতার হাত বাড়াই।

 

Ads small one

ঐতিহ্য ও বিনোদনের প্রাণকেন্দ্র সাতক্ষীরার ‘শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্ক’

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৪ মে, ২০২৬, ৬:১০ অপরাহ্ণ
ঐতিহ্য ও বিনোদনের প্রাণকেন্দ্র সাতক্ষীরার ‘শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্ক’

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরা শহরের কোলাহল আর ব্যস্ততার মাঝে বুক ভরে নিঃশ্বাস নেওয়ার এক টুকরো সবুজ চত্বর ‘শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্ক’। শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত এই ঐতিহাসিক পার্কটি কেবল একটি বিনোদন কেন্দ্রই নয়, এটি সাতক্ষীরার রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনের এক নীরব সাক্ষী।

প্রতিদিনই শহরের হাজারো মানুষের পদচারণায় মুখরিত থাকে এই পার্ক প্রাঙ্গণ। বিশেষ করে সকাল এবং বিকেলে সব বয়সী মানুষের জন্য এটি এক অন্যতম মিলনমেলায় পরিণত হয়।

ইতিহাস ও নামকরণ: মহান মুক্তিযুদ্ধের গৌরবময় ইতিহাসের সাথে জড়িয়ে আছে এই পার্কের নাম। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের প্রাক্কালে মার্চের গণআন্দোলনের সময় ৩ মার্চ নিহত দেশের জন্য প্রাণ উৎসর্গকারী বীর শহীদ আব্দুর রাজ্জাকের স্মরণে এই পার্কটির নামকরণ করা হয়। পার্কের ভেতরে প্রবেশ করলেই চোখে পড়ে এক কোণে দাঁড়িয়ে থাকা দৃষ্টিনন্দন কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, যা আগত দর্শনার্থী ও তরুণ প্রজন্মের মাঝে দেশপ্রেমের চেতনাকে জাগ্রত করে।

নাগরিক জীবনের ফুসফুস: যান্ত্রিক শহরের ব্যস্ত জীবন থেকে ক্লান্তি দূর করতে এই পার্কটি স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে এক বড় আশ্রয়স্থল।

প্রাতঃভ্রমণ ও স্বাস্থ্য সচেতনতা: প্রতিদিন ভোরে শহরের শত শত সচেতন নাগরিক এখানে আসেন প্রাতঃভ্রমণ ও ব্যায়াম করতে। পার্কের বিশাল গাছপালার ছায়া ঘেরা পরিবেশ ভোরের বাতাসকে রাখে সতেজ।

বিকেলের আড্ডা ও শিশু বিনোদন: বিকেলে পার্কটি মুখরিত হয়ে ওঠে শিশু-কিশোর ও তরুণ-তরুণীদের আড্ডায়। পরিবারের সবাইকে নিয়ে একটু খোলামেলা পরিবেশে সময় কাটানোর জন্য এটি শহরের সবচেয়ে জনপ্রিয় স্থান।
সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক কেন্দ্রবিন্দু: সাতক্ষীরার যেকোনো বড় উৎসব, মেলা, রাজনৈতিক সমাবেশ কিংবা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মূল ভেন্যু হিসেবে বছরের পর বছর ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে এই শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্ক। বিজয় মেলা, বইমেলা কিংবা স্বাধীনতা দিবসের বিভিন্ন অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে এই মাঠ উৎসবের নগরীতে পরিণত হয়।

সংস্কার ও আধুনিকায়নের প্রত্যাশা: স্থানীয় দর্শনার্থীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, পার্কের পরিবেশ রক্ষায় এবং সৌন্দর্য আরও বৃদ্ধি করতে কিছু সংস্কার প্রয়োজন। পার্কের ভেতর বসার পর্যাপ্ত আধুনিক বেঞ্চের ব্যবস্থা করা, ওয়াকওয়ে (হাঁটার পথ) আরও উন্নত করা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার দাবি জানান তারা।

নাগরিকদের অভিমত: “শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কটি আমাদের সাতক্ষীরা শহরের প্রাণ। পৌর কর্তৃপক্ষ ও জেলা প্রশাসন যদি পার্কটির সৌন্দর্য বর্ধনে এবং পরিবেশ রক্ষায় আরও একটু নজর দেয়, তবে এটি দেশের অন্যতম সেরা একটি দর্শনীয় স্থান হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।”

সব মিলিয়ে, সাতক্ষীরার ঐতিহ্য ও নাগরিক জীবনের স্পন্দন হয়ে আজও মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্ক। শহরের সৌন্দর্য ধরে রাখতে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুস্থ বিনোদনের স্বার্থে এই পার্কের যতœ নেওয়া আমাদের সবার দায়িত্ব। সংবাদদাতা জুলফিকার আলী

 

 

 

 

 

 

কলারোয়ার জালালাবাদে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার: ভিজিএফ’র চাল বিতরণ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৪ মে, ২০২৬, ৫:৫১ অপরাহ্ণ
কলারোয়ার জালালাবাদে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার: ভিজিএফ’র চাল বিতরণ

সংবাদদাতা: পবিত্র ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষে সাতক্ষীরার কলারোয়ার জালালাবাদ ইউনিয়নে গরিব ও অসহায় মানুষের মাঝে ভিজিএফ’র চাল বিতরণ করা হয়েছে। রোববার (২৪ মে) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে জালালাবাদ ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে এ চাল বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।

 

জালালাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহফুজুর রহমান নিশান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই বিতরণ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন। ইউনিয়ন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, জালালাবাদ ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডের মোট ৬৪১টি কার্ডধারী পরিবারের মাঝে পরিবারপ্রতি ১০ কেজি করে এই চাল বিতরণ করা হয়।

 

চাল বিতরণকালে অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন-ইউপি সচিব আমিনুর রহমান, ইউপি সদস্য মোকলেছুর রহমান, মোজব্বার আলী, মাহবুবর রহমান ও মনিরুল ইসলাম, ইউপি সদস্য আলী মাহমুদ, মশিয়ার রহমান, শফিউল আজম ও সাইফুল ইসলাম, মহিলা ইউপি সদস্য কাঞ্জন বিবি, নুর জাহান ও সালমা খাতুন, ডিএম আফতাবুজ্জামান প্রমুখ।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

ব্রহ্মরাজপুরে ভিজিএফের চাল বিতরণ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৪ মে, ২০২৬, ৫:৫০ অপরাহ্ণ
ব্রহ্মরাজপুরে ভিজিএফের চাল বিতরণ

সংবাদদাতা: আসন্ন পবিত্র ঈদুল আযহা উদযাপন উপলক্ষে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ব্রহ্মরাজপুর ইউনিয়নে অসহায় ও দুস্থ পরিবারের মাঝে সরকারি ভিজিএফ (ভার্নারেবল গ্রুপ ফিডিং) কর্মসূচির চাল বিতরণ সম্পন্ন হয়েছে। সরকারের এই মানবিক সহায়তার আওতায় ইউনিয়নের মোট ১ হাজার ০৪৬টি সুবিধাভোগী পরিবারের মাঝে এই চাল বিতরণ করা হয়।

শনিবার (২৩ মে) ও রবিবার (২৪ মে) দুই দিনব্যাপী উৎসবমুখর ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে ইউনিয়নের পৃথক দুটি স্থানে এ চাল বিতরণ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়।

ইউনিয়ন পরিষদ হলরুমে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই চাল বিতরণ কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করেন সাতক্ষীরা সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) শাহিনুল ইসলাম।

 

এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন ব্রহ্মরাজপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন, প্রশাসনিক কর্মকর্তা সেরাজুর রহমান, যুবদল নেতা জিয়ারুল ইসলাম, ট্যাগ অফিসার সুমন সাহা, ইউপি সদস্য সুভাষ চন্দ্র, হাকিম, লুৎফর, এবং কুরমান ও ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের উদ্যোক্তা রজব আলীসহ স্থানীয় গ্রাম পুলিশের সদস্যবৃন্দ।