শার্শায় মাদ্রাসার যৌন হয়রানির অভিযোগ, প্রধান শিক্ষক পলাতক
বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি: যশোরের শার্শা উপজেলায় এক মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে নিজ প্রতিষ্ঠানের ছাত্রীকে যৌন হয়রানি করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত শিক্ষকের নাম মোমিনুল, তিনি উপজেলার সামটা সিদ্দিকিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক পলাতক রয়েছেন।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার (১৮ মে) প্রধান শিক্ষক মোমিনুল অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীর ভাড়া বাসায় গিয়ে তাকে হেনস্তা করেন ও স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেন। এ সময় ওই ছাত্রী চিৎকার করলে শিক্ষক দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। পরে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বিষয়টি বাসার মালিককে জানায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, এর আগেও একাধিক ছাত্রীকে ওই প্রধান শিক্ষক যৌন হয়রানি করলেও মান-সম্মানের ভয়ে কেউ মুখ খোলার সাহস পাননি।
এদিকে ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে একটি রাজনৈতিক দলের প্রভাবশালী কিছু নেতা তৎপরতা চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এক অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “নিরাপদ ভেবেই সন্তানদের মাদ্রাসায় পাঠাই। কিন্তু প্রধান শিক্ষকের এমন অনৈতিক কর্মকা-ে আমরা লজ্জিত। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই।”
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য নিতে সংবাদকর্মীরা মোমিনুলের বাসায় গেলে তাঁর পরিবারের সদস্যরা সাংবাদিকদের হেনস্তা করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকসহ চারজনের নাম উল্লেখ করে শার্শা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন বাগআঁচড়া প্রেসক্লাবের সভাপতি শহিদুল ইসলাম।
ভুক্তভোগী ছাত্রীর বাবা ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, স্থানীয় কিছু ব্যক্তি বিষয়টি মীমাংসার আশ্বাস দিয়েছেন। তবে সুষ্ঠু বিচার না পেলে তিনি আইনের আশ্রয় নেবেন। মেয়ের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে তিনি এখন মানসিকভাবে বিপর্যস্ত।
মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মাওলানা ফারুক হোসেন বলেন, বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। অপরাধ প্রমাণিত হলে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে যথাযথ প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মারুফ হোসেন বলেন, ছাত্রীকে যৌন হয়রানির বিষয়টি পুলিশ অবগত রয়েছে। তবে ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো থানায় কোনো লিখিত মামলা করা হয়নি। মামলা হলে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।












