রবিবার, ২৪ মে ২০২৬, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
রবিবার, ২৪ মে ২০২৬, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

উপকূলের জ্বালানি বৈষম্য দূর করতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ওপর জোর

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৪ মে, ২০২৬, ৯:৫৬ অপরাহ্ণ
উপকূলের জ্বালানি বৈষম্য দূর করতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ওপর জোর

নিজস্ব প্রতিনিধি: আমদানি-নির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমানো, উপকূলীয় অঞ্চলের জ্বালানি বৈষম্য দূরীকরণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় একটি ন্যায্য ও জনগণকেন্দ্রিক জ্বালানি রূপান্তরের দাবিতে সাতক্ষীরায় নীতি সংলাপ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 

২৪ মে (রবিবার) সকাল ১১টায় সাতক্ষীরার এল্লারচরস্থ চিংড়ি চাষ প্রদর্শনী খামার মিলনায়তনে ‘স্থানীয় টেকসই উন্নয়ন প্রতিবন্ধকতা ও সম্ভাবনা: আর্থ-সামাজিক সমৃদ্ধি অর্জনে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ভূমিকা’ শীর্ষক এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। জাস্ট এনার্জি ট্রানজিশন নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ (জেটনেট-বিডি), একশনএইড বাংলাদেশ এবং স্থানীয় নাগরিক সমাজ যৌথভাবে এই আলোচনার আয়োজন করে। স্থানীয় সহযোগী হিসেবে ছিল সুন্দরবন ফাউন্ডেশন, স্বদেশ, বিন্দু নারী উন্নয়ন সংঘ, কবি জসিমউদ্দীন নারী উন্নয়ন সংস্থা, লিডার্স এবং সমাজ উন্নয়ন ফাউন্ডেশন।

 

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা-১ (তালা ও কলারোয়া) আসনের সংসদ সদস্য ইজ্জতউল্লাহ। অনুষ্ঠান চলাকালীন একশনএইড বাংলাদেশ ও জেটনেট-বিডি’র পক্ষ থেকে পরিবেশবান্ধব জ্বালানির প্রতীক হিসেবে সংসদ সদস্যের হাতে একটি ‘সোলার প্ল্যান্ট প্রজেক্ট মডেল’ উপহার তুলে দেওয়া হয়।

 

আয়োজকরা জানান, ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশব্যাপী নির্বাচনী প্রার্থীদের কাছে “জ্বালানির জন-মালিকানা: বাংলাদেশের ন্যায্য জ্বালানি রূপান্তর নাগরিক ইশতেহার” উপস্থাপন করা হয়েছিল। সেই প্রচারণার ধারাবাহিকতায় নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে জনপ্রতিনিধি ও অংশীজনদের সাথে নীতি সংলাপ জোরদার করতেই এই উদ্যোগ। অনুষ্ঠানে স্থানীয় টেকসই উন্নয়নের চ্যালেঞ্জ, নবায়নযোগ্য জ্বালানির (সোলার, বায়োগ্যাস ইত্যাদি) সম্ভাবনা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

সংলাপে বিশেষ অতিথি ও আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতের আমির শহিদুল ইসলাম মুকুল, সাতক্ষীরা পৌর ৭নম্বর ওয়ার্ডের মেয়র প্রার্থী জাহিদুল ইসলাম বকুল, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের কেন্দ্রীয় পরিচালক নাজমুন নাহার, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক (ডিডি) হারুন বিন হানিফ, পিএএবি-এর হামিদুল ইসলাম, পিডিবি-এর নির্বাহী প্রকৌশলী শোয়েব হোসেন এবং যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক সঞ্জিত কুমার দাশ।

 

এছাড়া সাতক্ষীরা উপজেলা চেয়ারম্যান ও প্রান্তিক যুব সংঘের সভাপতি হৃদয় মন্ডল, যুব নেত্রী পলি সরকার, উন্নয়ন কর্মী আজিজুর রহমানসহ যুব সংঘের নেতৃবৃন্দ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

 

 

 

Ads small one

কলারোয়ার কামারশালায় টুংটাং শব্দে ঈদের আগমনী বার্তা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ১২:৩৬ পূর্বাহ্ণ
কলারোয়ার কামারশালায় টুংটাং শব্দে ঈদের আগমনী বার্তা

আরিফ মাহমুদ: ঈদুল আজহার আর খুব বেশি দিন বাকি নেই। এখনই চারদিকে ছড়াতে শুরু করেছে কোরবানির আমেজ। আর এই আমেজ সবচেয়ে বেশি টের পাওয়া যাচ্ছে কলারোয়ার কামারশালাগুলোতে। কয়লার দগদগে আগুনে পুড়ছে লোহা, আর হাতুড়ির আঘাতে তৈরি হচ্ছে ধারালো সব সরঞ্জাম। ‘টুংটাং’ শব্দের সেই চিরচেনা ব্যস্ততা জানান দিচ্ছে, দুয়ারে কড়া নাড়ছে উৎসব।
কোরবানির পশু জবাই থেকে শুরু করে মাংস প্রস্তুত করা-সবখানেই অপরিহার্য দা, বটি, ছুরি ও চাপাতি। তাই বছরের অন্য দিনগুলোতে অলস সময় পার করলেও এখন দম ফেলার ফুসরত নেই কামারদের। কলারোয়া পৌর সদরের হাসপাতাল রোড থেকে শুরু করে উপজেলার চন্দনপুর, ফজলেপুর, বসন্তপুর, দেয়াড়া, কেঁড়াগাছি, সোনাবাড়িয়া ও কেরালকাতাসহ বিভিন্ন গ্রামীণ জনপদের কামারশালাগুলো এখন মুখর। কেউ পুরোনো সরঞ্জামে শান দিচ্ছেন, কেউ বা ফরমাশ অনুযায়ী লোহা পিটিয়ে তৈরি করছেন নতুন দা-বটি।
সরেজমিনে বিভিন্ন কামারশালা ঘুরে দেখা যায়, আগুনের তীব্র তাপে ঘেমে নেয়ে একাকার কারিগররা। একহাতে হাঁপর টেনে আগুন জ্বালিয়ে রাখছেন, অন্যহাতে লাল টকটকে লোহা পিটিয়ে নিখুঁত রূপ দিচ্ছেন কাক্সিক্ষত অস্ত্রের। তবে কারিগরদের চোখে-মুখে ক্লান্তির চেয়ে ব্যস্ততার আনন্দই বেশি। বছরের এই একটা সময়েই যে তাঁদের সুদিন ফেরে!
তবে এবারের বাজারে উপকরণের বাড়তি দাম নিয়ে কিছুটা দুশ্চিন্তা রয়েছে ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ের মধ্যেই। কামারদের ভাষ্য, লোহা ও কাঠের কয়লার দাম গত বছরের তুলনায় অনেকটাই বেশি, যার প্রভাব পড়ছে তৈরি পণ্যের দামেও।
বামনখালী ফজলেপুর গ্রামের কারিগর উত্তম সেন কর্মকার বলেন, “আমরা মূলত গাড়ির স্প্রিং ও সাধারণ লোহা দিয়ে দা, বটি ও ছুরি তৈরি করি। স্প্রিংয়ের লোহার তৈরি জিনিসের টেকসই ও ধার বেশি হয়, তাই দামও একটু বেশি। এবার ভালো একটি দা ওজন ও মানভেদে ৭৫০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া বটি ৩৫০ টাকা এবং ছোট-বড় ছুরি মিলছে ২০০ থেকে ২৫০ টাকার মধ্যে।”
ঈদ যতই ঘনিয়ে আসবে, কামারশালাগুলোর এই ব্যস্ততা আর হাতুড়ির আওয়াজ ততই তীব্র হবে। চেনা এই টুংটাং শব্দ যেন মনে করিয়ে দিচ্ছে, ত্যাগের মহিমায় ভাস্বর কোরবানির ঈদ আর মাত্র কয়েক দিন দূরে।

 

 

 

 

 

ঈদ উপলক্ষে ৪ বন্দির সাজা মওকুফ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ১২:৩৩ পূর্বাহ্ণ
ঈদ উপলক্ষে ৪ বন্দির সাজা মওকুফ

 

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে মানবিক বিবেচনায় চার বন্দির অবশিষ্ট সাজা মওকুফ করে তাদের মুক্তির নির্দেশ দিয়েছে সরকার।

রবিবার (২৪ মে) কারা অধিদপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রাষ্ট্রপতির ক্ষমা প্রদানের আওতায় চারজন কয়েদির অবশিষ্ট সাজা মওকুফ করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে শিগগিরই তারা কারাগার থেকে মুক্তি পাবেন।

মুক্তির অপেক্ষায় থাকা বন্দিরা হলেন— ফরিদপুর জেলা কারাগারের নাঈম শিকদার, খুলনা জেলা কারাগারের মো. ইসলাম শেখ, রাঙ্গামাটি জেলা কারাগারের পলাশ বড়ুয়া এবং চুয়াডাঙ্গা জেলা কারাগারের আব্দুল মালেক।

কারা অধিদপ্তর জানিয়েছে, ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাষ্ট্রপতির ক্ষমা প্রদানের আওতায় এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হচ্ছে।

লবণাক্ততার আগ্রাসন ও দুর্যোগ: উপকূলে হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী মাটির ঘর

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৪ মে, ২০২৬, ১১:৩৯ অপরাহ্ণ
লবণাক্ততার আগ্রাসন ও দুর্যোগ: উপকূলে হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী মাটির ঘর

মুন্সিগঞ্জ (শ্যামনগর) প্রতিনিধি: দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলীয় অঞ্চলে একসময় মাটির তৈরি দেওয়াল আর খড়ের ছাউনির ঘরই ছিল সাধারণ মানুষের প্রধান আশ্রয়। কৃষি-নির্ভর এই জনপদে যুগ যুগ ধরে মানুষ প্রকৃতির সঙ্গে মিশে এই মাটির ঘরেই বাস করত। তবে ২০০৯ সালের ২৫ মে আঘাত হানা প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় ‘আইলা’র পর থেকে মাটির ঘর নির্মাণ এ অঞ্চলে নেই বললেই চলে। আইলার পর বুলবুল, আম্পান, ইয়াসের মতো একের পর এক প্রাকৃতিক দুর্যোগ উপকূলের মাটি ও মানুষের জীবনকে ওলটপালট করে দিয়ে গেছে। জলোচ্ছ্বাসের লোনা পানি বিস্তীর্ণ এলাকায় ছড়িয়ে পড়ায় সংকুচিত হয়েছে কৃষিজমি, আর তাতেই হারিয়ে যেতে বসেছে উপকূলের চিরচেনা এই মাটির ঘর।
স্থানীয় প্রবীণদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উপকূলের বেলে-দোঁয়াশ ও এঁটেল মাটি মিশিয়ে ম- তৈরি করা হতো। এরপর হাতের সুনিপুণ কারুকাজে মাটির ‘চাফ’ (দলা) কেটে ধাপে ধাপে তৈরি হতো ঘরের মজবুত দেওয়াল। কিন্তু ক্রমাগত প্রাকৃতিক দুর্যোগে মাটির দেওয়াল ধসে আসবাবপত্র নষ্ট হওয়া এবং শিশুসহ মানুষ চাপা পড়ার ঘটনার পর থেকে এই ঘরের প্রতি মানুষের আগ্রহ কমতে থাকে। এর ওপর বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে মাটির সংকট। চিংড়ি ঘেরের কারণে লোনা পানি ঢুকে টপ-সয়েলের (মাটির উপরিভাগ) বুনট নষ্ট হয়ে গেছে, ফলে ঘর তৈরির উপযোগী আঠালো মাটি এখন আর পাওয়াই যায় না।
উপকূলের মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের পূর্বকালিনগর গ্রামে এখনো কোনোমতে টিকে আছে একটি মাটির ঘর। ঘরের কারিগর কৃষক শ্যামাপদ বৈদ্য বলেন, “এখন আর মাটির ঘর চোখেই পড়ে না। অথচ ২০-২৫ বছর আগে পৌষ থেকে চৈত্র মাস পর্যন্ত মাটির দেওয়াল তৈরির কাজে আমাকে দিন-রাত ব্যস্ত থাকতে হতো। এই ঘরগুলোতে খরচ কম, আরাম বেশি। বাইরে ঝড়-বৃষ্টি হলেও ভেতরে সহজে টের পাওয়া যেত না। এখনকার বেড়ার ঘরে সামান্য বাতাসেই বুক কাঁপে। আগেকার মাটির উঁচু ঘর চোর-ডাকাতদের থেকেও নিরাপদ ছিল।”
শ্যামাপদ বৈদ্যের স্ত্রী কৃষ্ণা রানী বৈদ্য বলেন, “আইলার আগে আমাদের তিনটি মাটির ঘর ছিল, সব ভেঙে গেছে। এবার খরচ ও পরিশ্রম কমাতে শুধু গোয়ালঘরটা আবার মাটি দিয়েই তৈরি করছি। বছরে একবার গোবর-মাটি দিয়ে লেপে দিলেই এক বছর চলে যায়।”
স্থানীয় শিক্ষক মনোজিৎ কর্মকার বলেন, “আগে গ্রামে প্রায় সব ঘরই ছিল মাটির। মানুষ তখন শান্তিতে থাকত, রোগবালাই কম ছিল। মাটির ঘর তৈরির জন্য গ্রামে কিছু লোকায়ত জ্ঞানসম্পন্ন প্রবীণ মানুষ ছিলেন। বছরের শুরুতে পৌষ-মাঘ মাসে কৃষিজমির বিশেষ মাটি তুলে ঘর বাঁধার প্রস্তুতি নেওয়া হতো। মাটি পেটানো, শুকানো আর ধাপে ধাপে দেওয়াল তুলতে তিন-চার মাস সময় লেগে যেত।” তিনি আফসোস করে বলেন, মাটির ঘরের পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী মাটির হাঁড়ি, পাতিল, কলসের ব্যবহারও এখন বিলুপ্তির পথে।
বেসরকারি একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের বিভাগীয় সমন্বয়কারী শাহিন ইসলাম এই পরিস্থিতিকে ‘সংস্কৃতি হারিয়ে যাওয়ার নীরব বিপ্লব’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি বলেন, “উপকূলে মাটির ঘর ছিল প্রজন্ম থেকে প্রজন্মের ঐতিহ্য। একান্নবর্তী পরিবারগুলোতে থাকার ঘর, গোয়াল ঘর, খড় রাখার ঘরÑসবই মাটির তৈরি হতো। এগুলো ছিল প্রকৃতির সঙ্গে মিলেমিশে বেঁচে থাকার প্রতীক। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ভূগর্ভস্থ এবং উপরিভাগের পানি ও মাটি অতিরিক্ত লবণাক্ত হয়ে পড়েছে, যা মাটির স্বাভাবিক আঠালো বুনট নষ্ট করে দিয়েছে। মাটি ও পানির সংকটে এ অঞ্চলের কুমারদের পেশাও বদলে যাচ্ছে।”
শাহিন ইসলাম আরও বলেন, উপকূলে লবণ পানির এই আগ্রাসন ও জলবায়ু পরিবর্তনের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব রুখতে না পারলে শুধু মাটির ঘরই নয়, প্রকৃতির ওপর নির্ভরশীল স্থানীয় সংস্কৃতি ও প্রাণবৈচিত্র্যকেও টিকিয়ে রাখা অসম্ভব হয়ে পড়বে।