কালিগঞ্জের তারালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক কাউন্সিল

বিশেষ প্রতিনিধি: বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ তারালী ইউনিয়ন শাখার ২নং ওয়ার্ডের ত্রি-বার্ষিক কাউন্সিল শনিবার বিকেল ৪টায় অনুষ্ঠিত হয়েছে।
তারালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আহম্মদ আলী সরদারের সভাপতিত্বে বাথুয়াডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত কাউন্সিল অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কালিগঞ্জ উপজেলা শাখার সভাপতি যুুদ্ধকালীন কমান্ডার শেখ ওয়াহেদুজ্জমান।
তারালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এহছানুল কবিরের সঞ্চালনায় ত্রি-বার্ষিক কাউন্সিলে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কালিগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শেখ আব্দুস সোবাহান, সাংগঠনিক সম্পাদক ডিএম সিরাজুল ইসলাম, প্রচার সম্পাদক আশরাফ হোসেন, উপজেলা কৃষক লীগের আহবায়ক অধিবাস অধিকারী প্রমুখ।
ত্রি-বার্ষিক কাউন্সিলে সর্ব সম্মতিক্রমে ফারুক হোসেনকে সভাপতি ও হরিদাস সরকারকে সাধারণ সম্পাদক করে ৫১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে।

কালিগঞ্জ পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের নির্বাচন আদালতের নির্দেশে স্থগিত

বিশেষ প্রতিনিধি: কালিগঞ্জ পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের নির্বাচন আদালতের নির্দেশে স্থগিত হয়েছে। নির্বাচনের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রিজাইডিং অফিসার কালিগঞ্জ উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা নির্বাচন স্থগিতের ঘোষণা দেন।
প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, কালিগঞ্জ পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের নির্বাচিত ম্যানেজিং কমিটির মেয়াদ ২০১০ সালের ৫ ডিসেম্বর শেষ হয়। পরবর্তীতে কয়েকটি শূন্য পদে নিয়োগ দিয়ে অর্থবাণিজ্যের জন্য একটি মহল মরিয়া হয়ে ওঠে। স্থানীয় সংসদ সদস্যের ডিও লেটার নিয়ে গত ১২/১/২০১১ তারিখে এডহক কমিটির সভাপতি হন উপজেলার বাজারগ্রামের মৃত শেখ মোস্তফা হোসেনের ছেলে এ্যাডভোকেট শেখ মোজাহার হোসেন। পরবর্তীতে তিনি তার দু’ভাই শেখ মোদাব্বের হোসেন ও মোদাচ্ছের হোসেনকে নিয়ম বহির্ভুতভাতে বিদ্যালয়ের দাতা হিসেবে অন্তর্ভূক্ত করিয়ে নেন বলে অভিযোগ ওঠে। এসব ঘটনায় নির্দিষ্ট সময়ে পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচন সম্পন্ন না করেই ওই কমিটির মেয়াদ ১১/০৭/২০১১ তারিখে উত্তীর্ণ হয়। এর প্রেক্ষিতে যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড ১১/০৮/২০১১ তারিখে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে এডহক কমিটির সভাপতি মনোনীত করে ৩ মাসের জন্য কমিটি গঠন করে দেয়। দায়িত্ব পাওয়ার পর উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা তপশীল ঘোষণা করলে শেখ মোজাহার হোসেনের বড় ভাই দাতা সদস্য শেখ মোদাব্বের হোসেন সাতক্ষীরা সহকারি জজ আদালতে গত ৩/১০/১১ ইং ১৬০ নম্বর মামলা রুজু করেন। পরবর্তীতে আজীবন দাতা সদস্য মহিউদ্দীন আহম্মেদ একই আদালতে গত ১৭/১০/১১ তারিখে শেখ মোদাব্বের হোসেনের দাতা সদস্য হওয়ার বিষয়টি অবৈধ মর্মে উল্লেখ করে একটি মামলা দায়ের করেন যার নম্বর ১৭০।
এদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্ধারিত ৩ মাসের মেয়াদ ১০/১১/১১ তারিখে শেষ হলে স্কুলের স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনার স্বার্থে যশোর শিক্ষাবোর্ড জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার উপর দায়িত্বভার অর্পণ করেন। এসব বিষয়ে প্রতিবাদ করায় স্কুলের শিক্ষক আবুল বাসার ও বাসুদেব ঘোষকে কোন কারণ ছাড়াই গত ০৪/০৭/১১ ইং তারিখে বরখাস্ত করেন। যার প্রেক্ষিতে তারা আদালতে ৯৬/১২ নম্বর মামলা দায়ের করেন যা বর্তমানে চলমান আছে। এদিকে শেখ মোজাহার হোসেন পরবর্তীতে গত ১৭/১১/২০১২ তারিখে যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড থেকে এডহক কমিটি অনুমোদন করিয়ে নেন। এর মধ্যে গত ২১/১/২০১৩ তারিখে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা সুফিয়া খাতুনের চাকুরির মেয়াদ শেষ হলে বর্তমান এডহক কমিটির সভাপতি শেখ মোজাহার হোসেন গত ১০/১/১৩ ইং তারিখে এডহক কমিটির সভায় তার চাকুরির মেয়াদ বাড়িয়ে স্ব-পদে বহাল রেখে ১৫০ টাকা সম্মানি প্রদান করার সিদ্ধান্ত নেন এবং তড়িঘড়ি করে নির্বাচনী তপশীল ঘোষণা করেন। সরকারি পরিপত্র অনুযায়ী বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক না থাকলে জ্যেষ্ঠতম সহকারি শিক্ষককে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করার বিধান থাকলেও তা করা হয়নি মর্মে দাতা সদস্য মহিউদ্দীন আহম্মেদ, অভিভাবক সদস্য নূরুজ্জামান মুকুল, শেখ নাজমুল ইসলাম বাদী হয়ে বাবু বিজ্ঞ আদালতে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা, উপজেলা ও জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, যশোর শিক্ষাবোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শক, যশোর শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, বিভাগীয় মহা পরিচালক, শেখ মোদ্দাব্বের হোসেন, শেখ মোজাহার হোসেন, শেখ মোদাচ্ছের হোসেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা সিনিয়ার মৎস্য কর্মকর্তা ও বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রবিন্দ্রনাথ বাছাড়কে বিবাদী করে গত ০২/০২/১৩ তারিখে বিজ্ঞ দেওয়ানী আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন, যার নম্বর: ২৯। বিজ্ঞ আদালত শুনানী শেষে বিবাদীদের বিরুদ্ধে কারণ দর্শানো নোটিশ জারি করেন। এছাড়াও বিজ্ঞ আদালত নির্বাচন স্থগিত করে ২১/০৪/১৩ তারিখ রোববার আদালতে জবাব দাখিলের দিন ধার্য করেন।

কালিগঞ্জ-শ্যামনগর প্রাণিসম্পদ কৃত্রিম প্রজনন স্বেচ্ছাসেবী সমিতির কমিটি গঠন: সুমন সভাপতি, জাকির সম্পাদক

বিশেষ প্রতিনিধি: বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ স্বেচ্ছাসেবী সমিতির উদ্যোগে কালিগঞ্জ-শ্যামনগর প্রাণিসম্পদ কৃত্রিম প্রজনন’র স্বেচ্ছাসেবী সমিতির কমিটি গঠন উপলক্ষে এক আলোচনা সভা কালিগঞ্জ প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে অনুষ্ঠিত হয়।
শাহিনুর রহমান সুমনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা ডিপ্লোমা এ্যাসোসিয়েশনের উপদেষ্টা এফএআই শেখ আামিরুল ইসলাম। স্বপন কুমার সরকারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এফএআই দাউদ আলী, সান এগ্রোভেটের মার্কেটিং অফিসার আশরাফুল ইসলাম।
আলোচনা সভা শেষে সর্ব সম্মতিক্রমে শাহিনুর রহমান সুমনকে সভাপতি ও জাকির হোসেনকে সাধারণ সম্পাদক করে ৭ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠিত হয়। কমিটির অন্যান্যরা হলেন সহ-সভাপতি ওয়াসিম আকরাম, ক্যাশিয়ার সাইফুল ইসলাম, দপ্তর সম্পাদক স্বপন কুমার সরকার, প্রচার সম্পাদক ইমরান হোসেন এবং সদস্য যথাক্রমে শহিদ উদ্দীন, রশিদ, তপন, এনামুল, আজিজুর রহমান। এ সময় কালিগঞ্জ ও শ্যামনগর উপজেলার সকল ইউনিয়নের স্বেচ্ছাসেবীগণ উপস্থিত ছিলেন।

কালিগঞ্জে মে দিবস উপলক্ষে শ্রমিক দলের প্রস্তুতি সভা

বিশেষ প্রতিনিধি: বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল কালিগঞ্জ উপজেলা শাখার উদ্যোগে উপজেলা বিএনপি’র কার্যালয়ে এক প্রস্তুতি সভা শুক্রবার বিকেল ৪টায় অনুষ্ঠিত হয়েছে।
কালিগঞ্জ উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি শেখ শোকর আলীর সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা শ্রমিক দলের সহ-সভাপতি শহিদুল ইসলাম, সহ-সভাপতি আবদিন, সাধারণ সম্পাদক সেলিম, সাংগঠনিক সম্পাদক শাহিনুর রহমান শাহিন, প্রচার সম্পাদক শহিদ, নির্বাহী সদস্য হিরা, মনিরুজ্জামান আঙ্গুর প্রমুখ।

কালিগঞ্জে ৩ মাদকসেবীসহ ৫ জন আটক

বিশেষ প্রতিনিধি: গভীর রাতে মদ পান করে মাতলামীর অভিযোগে পুলিশ ৩ জনসহ মোট ৫ জনকে আটক করেছে। কালিগঞ্জ থানা পুলিশ সোমবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে অভিযান চালিয়ে উপজেলার ভদ্রখালী বাজার এলাকা থেকে তাদেরকে আটক করে মঙ্গলবার জেলহাজতে প্রেরণ করেছে।
আটককৃতরা হলো শ্যামনগর উপজেলা গুমনতলী গ্রামের মৃত লুৎফর রহমানের ছেলে আলীম (৩০), একই গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে শিমুল (২০) এবং ইসলামপুর গ্রামের মুনসুর আলী গাজীর ছেলে আলমগীর হোসেন (২৪)। এ ব্যাপারে কালিগঞ্জ থানায় একটি মামলা হয়েছে। যার নম্বর: ১৭, তারিখ: ১৬/৪/১৩। এদিকে ওই তিন মাদকসেবীর সাথে থাকা দু’মোটরসাইকেল চালককে আটক করার পর ৫৪ ধারায় ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়।

কালিগঞ্জে আওয়ামী লীগের কর্মী সভা

বিশেষ প্রতিনিধি: বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ চাম্পাফুল ইউনিয়ন শাখার এক কর্মী সভা মঙ্গলবার বিকেল ৪টায় অনুষ্ঠিত হয়।
চাম্পাফুল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সরদার মতিয়ার রহমানের সভাপতিত্বে উজিরপুর বাজারস্থ বঙ্গবন্ধু স্মৃতি পাঠাগারে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কালিগঞ্জ উপজেলা শাখার সভাপতি মুক্তিযুদ্ধকালীন কমান্ডার শেখ ওয়াহেদুজ্জামান।
চাম্পাফুল ইউনিয়ন আওয়ামীল লীগের সাধারণ সম্পাদক উদয় কুমার ভাস্করের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কালিগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক খান আসাদুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক ডিএম সিরাজুল ইসলাম প্রমুখ। সভায় ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন কমিটি গঠনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

কালিগঞ্জে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিদ্যুৎসাহী সদস্য প্রার্থীদের মৌখিক পরীক্ষা!

বিশেষ প্রতিনিধি: উপজেলার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পরিচালনা পর্ষদের বিদ্যুৎসাহী পুরুষ ও মহিলা সদস্য হিসেবে মনোনয়ন পাওয়ার জন্য মৌখিক পরীক্ষা দিতে হয়েছে আগ্রহী প্রার্থীদের। সাতক্ষীরা-৪ আসনের এমপি এইচএম গোলাম রেজা সোমবার কালিগঞ্জ উপজেলা সদরে তার নির্মিতব্য বাসভবন প্রাঙ্গণে এই ভাইবার আয়োজন করেন। সকাল ১০টায় উপজেলার ১৩১টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ বিদ্যুৎসাহী সদস্য পদে আবেদনকারী প্রার্থীদের হাজির হতে বলা হয়। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে দুপুর ১টার দিকে এই ভাইবা পরীক্ষার কার্যক্রম শুরু হয়। আবেদনপত্রসহ একে একে প্রার্থীরা মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে সংসদ সদস্যের প্রশ্নের উত্তর দেন। অভিনব এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট প্রধান শিক্ষক, আবেদনকারীসহ এলাকাবাসীর মাঝে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

কালিগঞ্জের কুশুলিয়ায় একটি পরিবার অবরুদ্ধ! প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা

আব্দুস সামাদ: জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে কালিগঞ্জ উপজেলার কুশুলিয়া গ্রামের একটি পরিবার দীর্ঘদিন ধরে অবরুদ্ধ হয়ে রয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
জানা যায়, কুশুলিয়া গ্রামের মৃত কাজী আতোয়াল হকের পুত্র কাজী শামসুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া জমিতে বসবাস করে আসছেন। কাজী আতোয়াল হকের অন্যান্য শরীকরা তাদের জমি বিক্রি করে দেয় মৃত ইমদাদুল হকের পুত্র আব্দুল হাকিমের নিকট। তবে আব্দুল হাকিম প্রভাব খাটিয়ে শামসুর রহমানকে ভিটে বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করার জন্য বিগত ২০০৪ সাল থেকে উঠে পড়ে লাগে। এ ব্যাপারে শামসুর রহমানের স্ত্রী আলেয়া বেগম প্রশাসনের কাছে একাধিকবার অভিযোগ করেও কোন ফল পাননি।
আলেয়া বেগম জানান, কাজী আব্দুল হাকিম তাদের বাড়ি ছাড়া করার জন্য বিভিন্নভাবে হয়রানি করে আসছে। রান্নাঘরের পাশে পায়খানা তৈরি, গাছগাছালি কেটে নেওয়া, প্রাণ নাশের হুমকিসহ বাড়ি থেকে বের হওয়ার রাস্তাও বন্ধ করে দিয়েছে। এর আগে আব্দুল হাকিম আলেয়ার মেয়ে সালমাকে মারধর করে আহত করে। তাছাড়া মেয়েদের লেখাপড়ারও বিঘœ ঘটায়।
অভিযোগ সূত্রে আরো জানা যায়, আলেয়া বেগম কালিগঞ্জ থানা, উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং চেয়ারম্যানের কাছে অভিযোগ করলেও থানা, ইউএনও এবং চেয়ারম্যান কোন সমাধান করতে পারেননি। এ ব্যাপারে ইউপি চেয়ারম্যান, মেম্বরসহ গণ্যমান্য ব্যক্তির উপস্থিতিতে একাধিকবার শালিসও বসে। কিন্তু আব্দুল হাকিম কোন শালিস-বিচার মানতে অপরাগতা প্রকাশ করেন।
অভিযোগ পেয়ে কালিগঞ্জ ইউএনও আব্দুল হাকিমের তৈরি করা ঝুলন্ত পায়খানা অপসারণের নিদের্শ দিয়েছিলেন। ইউনিয়ন পরিষদ প্রদত্ত এক প্রতিবেদনে জানা যায়, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের শালিস কোন পক্ষই মান্য না করায় বিবাদ লেগেই আছে।
আলেয়া বেগম জানান, তার স্বামী শামসুর রহমান খুবই সাদাসিদে মানুষ। পিতার বড় সন্তান হওয়ায় ছোট ভাই বোনদের মানুষ করেছেন তিনি। ছোট ভাই বোন তাদের জমি আব্দুল হাকিমের কাছে বিক্রি করার কারণে বিবাদ লেগেই আছে। আলেয়া বেগম অভিযোগ করেন, তার ৫টি মেয়ে। বড় দুই মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে। অপর তিন মেয়ে বাড়িতেই থাকে। কিন্তু আব্দুল হাকিমের অত্যাচারে তাদের লেখাপড়ার মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। তাছাড়া তার জামাতারা বেড়াতেও আসতে পারে না। বর্তমানে তার পরিবার এক প্রকার অবরুদ্ধ হয়ে আছে, বলেন আলেয়া। এ ব্যাপারে তিনি প্রশাসনের উর্ধতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

নলতা হাসপাতালে মতবিনিময় সভায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী: সরকার তৃণমূল পর্যায়ে নারীদের স্বাস্থ্য সেবায় নজর দিচ্ছে

নিজস্ব প্রতিনিধি: ‘গর্ভবতীর ভয়, আমরা করব জয়’ এই শ্লোগানকে সামনে রেখে তিন’শ স্বেচ্ছাসেবী সোনার মেয়েদের অংশগ্রহণে এক মতবিনিময় সভা শনিবার বিকাল ৩টায় নলতা হাসপাতাল এন্ড কমিউনিটি হেলথ্ ফাউন্ডেশনের হল রুমে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
নলতা হাসপাতাল’র সুপারিনটেনডেন্ট ডা. আবুল ফজল বাপ্পীর সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. আ ফ ম রুহুল হক বলেন, সরকার তৃণমূল পর্যায়ে স্বাস্থ্য সেবায় নারীদের জন্য বিশেষ নজর দিচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর মাধ্যমে দুস্থ, দারিদ্র্য, বয়স্ক এবং বিধবা নারীর উন্নয়ন নিশ্চিত করা হচ্ছে। মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ নারী স্বাস্থ্য উন্নয়নে যথেষ্ট উন্নতি অর্জন করেছে। সরকার স্বাস্থ্য ও পুষ্টি কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে, যার মাধ্যমে দেশের নারী স্বাস্থ্য উন্নয়ন সূচকের উর্ধ্বমূখী গতিকে বেগবান করবে। এ সময় তিনি স্বাস্থ্য সেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার জন্য নলতা হাসপাতাল এন্ড কমিনিউটি হেলথ্ ফাউন্ডেশনের সকল কর্মকর্তাকে অভিনন্দন জানান।
সভায় আরোও বক্তব্য রাখেন, সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আতিক, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রীর উপদেষ্টা ও নলতা হাসপাতাল এন্ড কমিউনিটি হেলথ্ ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা ডা. শেখ নাজমুল হুদা, কালিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তৌফিক-ই-লাহী চৌধুরী, রোটারি ক্লাব অব সাতক্ষীরার পাস্ট প্রেসিডেন্ট ডা. সুশান্ত ঘোষ, সাতক্ষীরা পরিবার পরিকল্পনার বিভাগের উপ-পরিচালক ডা. অসিত কুমার স্বর্ণকার প্রমুখ।
সভা সঞ্চালনা করেন নলতা হাসপাতাল এন্ড কমিউনিটি হেলথ্ ফাউন্ডেশনের এরিয়া মানেজার নিত্য বিশ্বাস।

কালিগঞ্জে দুর্ঘটনার কবলে বিআরটিসি’র বাস, চালকসহ আহত ১৫

বিশেষ প্রতিনিধি: কালিগঞ্জে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছের সাথে ধাক্কা খেয়েছে বিআরটিসি’র একটি যাত্রীবাহী বাস (কুমিল্লা জ ১১-০০৫৫)। এ ঘটনায় বাসের চালকসহ আহত হয়েছে অন্তত ১৫ জন। শনিবার বিকেল ৪টার দিকে সাতক্ষীরা-কালিগঞ্জ সড়কের ভাড়াশিমলা কুকোডাঙ্গা মোড়ে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, শ্যামনগর থেকে রংপুরের উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসা বিআরটিসি’র যাত্রীবাহী বাসটি বিকেল ৪টার দিকে কুকোডাঙ্গা মোড় এলাকায় পৌঁছানোর পর এর চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। এ সময় বাসটি সড়কের পাশের একটি বড় মেহগনি গাছের সাথে সজোরে ধাক্কা খায়। দুর্ঘটনায় বাসের চালক সুব্রত কুমার (৪৫) এবং অন্তত ১৫ যাত্রী আহত হন। এর মধ্যে গুরুতর আহত বাস চালক সুব্রত কুমারকে স্থানীয় জনতা নলতা হাসপাতালে ভর্তি করেছে। অন্যন্যরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা, পুত্রকে গুমের ঘটনায় উদ্বিগ্ন পিতা

বিশেষ প্রতিনিধি: আদালতের নির্দেশ অমান্য করে অসৎ উদ্দেশ্যে গুম করা হয়েছে শিশু জিহানকে (৬)। এদিকে পুত্রকে না পেয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে তার পিতা। এ ব্যাপারে থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হলেও এখনও পর্যন্ত জিহানের সন্ধান দিতে পারেনি পুলিশ।
জিহানের পিতা ইয়াছিন আলী জানান, প্রায় আট বছর পূর্বে খুলনার পাইকগাছা উপজেলার লক্ষ্মীখোলা গ্রামের আব্দুল্যা-হেল-বাকী গাজীর মেয়ে ডালিয়া খানমের সাথে তার বিয়ে হয়। তাদের সংসারে জন্ম নেয় পুত্র সন্তান জিএম ইমতিয়াজ আলী জিহান। কিন্তু ডালিয়া খানমের ভাই সম্পত্তি আত্মসাতসহ নানবিধ অসৎ উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে তাদের দাম্পত্য জীবনে কলহের সৃষ্টি করে। এর জের ধরে ইয়াছিন আলীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্রকার মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির পাশাপাশি ২০০৮ সালের ২৫ আগস্ট তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটাতে বাধ্য করেন। এরপর থেকে জিহান তার মায়ের সাথে খুলনার গগণবাবু রোডে অবস্থিত নানা-মামার সাথে বসবাস করতে থাকে। এ সময় মামার অত্যাচার ও নির্যাতনে জর্জরিত জিহান পিতার কাছে থাকতে চাইলেও তাকে জোরপূর্বক আটক রাখা হয়। এর প্রেক্ষিতে জিহানের পিতা সন্তানকে নিজের কাছে রাখার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনাসহ বিভিন্নভাবে প্রচেষ্টা চালানা। এতে ব্যর্থ হয়ে তিনি বিজ্ঞ আদালতের আশ্রয় নেন। আদালত জিহানকে তার পিতার সাথে প্রতি মাসে অন্তত দু’বার দেখা করানোর জন্য নির্দেশনা দেয়। আদালতের নির্দেশনা সত্ত্বেও মা ও মামা জিহানের সাথে দেখা করার ক্ষেত্রে টালবাহানা করতে থাকায় বিচলিত হয়ে পড়েন পিতা ইয়াছিন আলী। এ ঘটনা সে সময়ে বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত হয়। তারপরও আদালতের নির্দেশ অমান্য করে ৯ মাস জিহানের সাথে দেখা করতে না দেয়ায় ইয়াছিন আলী ২০১১ সালের ১১ আগস্ট বিষয়টির প্রতিকার চেয়ে সাতক্ষীরার বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন যার নম্বর: ৫৬৬। উক্ত মামলার শুনানি শেষে আদালতের বিজ্ঞ বিচারক আসামি ডালিয়া খানম, তার পিতা আব্দুল্যা-হেল-বাকি, মা লতিফা বেগমের বিরুদ্ধে বর্তমান ঠিকানা ৮৮ গগণ বাবু রোড, খুলনা বরাবর সার্চ ওয়ারেন্ট জারী করেন। কিন্তু খুলনা সদর থানা পুলিশ ওয়ারেন্ট তামিলের জন্য ওই ঠিকানায় যেয়ে তাদেরকে না পেয়ে বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন। পরবর্তীতে ডালিয়া খানমের পিতার গ্রামের বাড়ি খুলনার পাইকগাছার লক্ষ্মীখোলা গ্রামের ঠিকানায় গত ১৬/১০/২০১২ তারিখে ডাকযোগে একটি লিগ্যাল নোটিশ প্রেরণ করা হয়। ওি ঠিকানাতেও ডালিয়া খানম ও জিহানকে না পাওয়ায় ডাক বিভাগ সেটি ফেরত দেন। এরপর উদ্বিগ্ন হয়ে জিহানের পিতা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুজিঁ করেও শিশুপুত্রের সন্ধান পাননি। ডালিয়া খানম ও মামা ইকবাল পরিকল্পিতভাবে জিহানকে গুম বা পাচার করেছে বলে ইয়াছিন আলী আশংকা করছেন। এমনকি ইয়াছিন আলীকেও ওই মহলটি হত্যা করার জন্য নানাভাবে ষড়যন্ত্র করছে। সে আশংকায় ইকবালের বিরুদ্ধে খুলনার ডুমুরিয়া, পাইকগাছা এবং সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন বলে তিনি জানিয়েছেন। শিশুপুত্র জিহানকে উদ্ধারে জরুরী ভিত্তিতে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানের জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।

কালিগঞ্জে টানা ৩৬ ঘণ্টার নিরুত্তাপ হরতাল

বিশেষ প্রতিনিধি: কালিগঞ্জে বিএনপি’র নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোটের ডাকা টানা ৩৬ ঘণ্টার হরতাল শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ঢিলেঢালাভাবে পালিত হয়েছে। দুরপাল¬ার কোন যানবাহন চলাচল করেনি। তবে অন্যান্য যান চলাচল স্বাভাবিক ছিল। হরতালের সমর্থনে কোন মিছিল, মিটিং কিংবা পিকেটিং করতে দেখা যায়নি। সরকারি, বেসরকারি অফিস, ব্যাংক, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম অনেকটা স্বাভাবিক ভাবে চলেছে। নলতা, ফুলতলা মোড়, ডাকবাংলা মোড়সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানসমূহে পুলিশ মোতায়েন ছিল। কোন প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। এর আগে ৮ এপ্রিল হেফাজতে ইসলামের ডাকা সকাল-সন্ধ্যা হরতালও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পালিত হয়।

নলতায় সাইকেল চুরির অভিযোগে এক ব্যক্তি আটক

নিজস্ব প্রতিনিধি: কালিগঞ্জের নলতায় সাইকেল চুরি করে পালানোর সময় নজরুল ইসলাম ওরফে সাদ্দাম (২৫) নামের এক ব্যক্তিকে হাতে-নাতে আটক করেছে জনতা। তিনি তালা উপজেলার বরাত গ্রামের আব্দুল করিম সরদারের ছেলে।
স্থানীয়রা জানান, আটককৃত নজরুল ইসলাম তার সহযোগী সুমনকে নিয়ে মঙ্গলবার সকালে নলতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে এক শিক্ষার্থীর সাইকেল নিয়ে পালানোর সময় ৪র্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী সিয়াম বাঁধা দিলে তাকে লাথি মেরে সাইকেলটি নিয়ে পালিয়ে যায়। এ সময় ওই শিক্ষার্থী বিষয়টি শিক্ষকদের জানালে শিক্ষকদের সহযোগিতায় স্থানীয়রা মোটরসাইকেল নিয়ে ধাওয়া করে হাদিপুর নামক স্থান থেকে নজরুল ইসলামকে আটক করলেও তার সহযোগী সমুন পালিয়ে যায়। আটক নজরুল ইসলামকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে।

কৃষ্ণনগরে শিক্ষকের বাড়ি-ঘর জ্বালিয়ে দিয়েছে জামায়ত-শিবিরের নেতা-কর্মীরা, তিন দিন খোলা আকাশের নিচে

ডেস্ক রিপোর্ট: কালিগঞ্জ উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের দক্ষিণ রঘুনাথপুর গ্রামের আবুল কাশেম ছাত্র জীবন থেকেই আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে বিশ্বাসী। বড় ছেলে নাজমুস শাহাদাৎ এবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিশ্ব ধর্ম ও সংস্কৃতিকে মাস্টার্স পাশ করেছে। সে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে লালন করে মুক্তিযুদ্ধে বিরোধিতাকারীদের সঙ্গে তার বিরোধ নীতিগত কারণে। যার ফলে নিজের কর্মস্থল চৌমুহুনী দারুল উলুম সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার সুপার জামায়াত নেতা আব্দুল কাদের হেলালী, জামায়াতপন্থী শিক্ষক ও কর্মচারীদের সঙ্গে তার বিরোধ প্রতিদিনকার। বিরোধ ছিল গ্রামের জামায়াত শিবিরের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে। ২৮ ফেব্র“য়ারি জামায়াত নেতা দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর ফাঁসির রায় ঘোষণার পরবর্তী কয়েকদিন এলাকা চলে যায় জামায়াত-শিবিরের দখলে। চলতে থাকে আওয়ামী পরিবারের উপর হুমকি। এরই জের ধরে গত ৫ এপ্রিল রাতে পরিকল্পিতভাবে আগুণ লাগিয়ে সর্বস্ব জ্বালিয়ে দেওয়া হলো। অভিযোগ দিলে পিছে জীবন হারাতে হয় এ আশঙ্কায় তিন দিনেও থানায় যাননি তিনি।
সোমবার সকালে তার বাড়িতে গেলে পুড়ে যাওয়া ঘরে বসে ডুকরে কাঁদতে কাঁদতে সাংবাদিকদের কাছে শুক্রবার রাতে বাড়ি ঘর পুড়িয়ে দেওয়ার বর্ণনা দেন আবুল কাশেম। তিন সন্তানকে পাশে নিয়ে স্বামাীকে সান্ত্বনা দিচ্ছিলেন স্ত্রী আরিয়া খাতুন।
স্বামীর সঙ্গে সুর মিলিয়ে আরিয়া খাতুন বলেন, তাদের ঘরে আগুণ দেওয়া হবে এ নিয়ে জামায়াত সমর্থক জলিল সানা ও নুরুজ্জামান হুমকি দিয়েছিল। তার এক সপ্তাহ আগে বাড়ির পাশের রাস্তা দিয়ে মিছিল নিয়ে যাওয়ার সময় জামায়াত শিবিরের নেতা-কর্মীরা আওয়ামী লীগ এলাকায় রাখা হবে না বলে হুমকি দিয়েছিল। সাবধান থেকেও শেষ রক্ষা হলো না। আরিয়া খাতুন আপশোষ করে বলেন, লুটপাট করলেও কিছু থাকে, কিন্তু পুঁড়ে গেলে কিছুই থাকে না। এ অবস্থায় বাচ্চাদের নিয়ে কিভাবে কোন জায়গায় থাকব।
আবুল কাশেম জানান, আগুণে তার দেড় লক্ষাধিক টাকার মালামালের পাশাপাশি পুড়ে গেছে বিভিন্ন লেখকের লেখা দেড় শতাধিক বই। আগুণের তাপে ঝলসে গেছে আম, কাঠালসহ কয়েকটি ফলন্ত গাছ। ঘরে নেই এক কেজি চাউলও। নিজের পুকুরে মাছ চুরির মামলায় তাকে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ সাময়িক বরখাস্ত করেছে। এ অবস্থায় কৃষ্ণনগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল মাজেদসহ কয়েকজনের সহযোগিতায় দু’বেলা দু’মুঠো খেয়ে কোন রকমে একচালা বানিয়ে দিন কাটাচ্ছি।
তিনি কালিগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক বেল্লাল হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেন, যারা পেট্রোল ঢেলে আগুন দিয়ে পালিয়ে গেল তাদের বাঁচাতে উনান থেকে আগুন লেগেছে বলে সকলকে জানিয়েছেন। সাংবাদিকরা তার পাশে থাকবে এমন আশ্বাস পেয়ে সোমবার বিকেলে তিনি থানায় অভিযোগ দিতে যান।
কালিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মীর খায়রুল কবীর জানান, আবুল কাশেম থানায় অভিযোগ দিলে সেটি মামলা হিসেবে রেকর্ড করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এইচএসসি পরীক্ষায় অবৈধ সুযোগ না পেয়ে কালিগঞ্জ কলেজ ও রোকেয়া মনসুর মহিলা কলেজ কেন্দ্রে উচ্ছৃঙ্খল পরীক্ষার্থীদের হামলা ভাঙচুর

পত্রদূত রিপোর্ট: যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডের অধীনে রোববার অনুষ্ঠিত উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় ২০১৪ এর ইংরেজি প্রথম পত্রের পরীক্ষায় অবৈধ সুযোগ-সুবিধা না পেয়ে পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর রোকেয়া মনসুর মহিলা কলেজ কেন্দ্রে এবং কালিগঞ্জ কলেজে হামলা ও ভাঙচুর করেছে উচ্ছৃঙ্খল পরীক্ষার্থীরা। এ ঘটনায় কক্ষ পরিদর্শকসহ কলেজ প্রশাসনের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রোববার ইংরেজি ১মপত্রের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এ দিন বোর্ডের নির্দেশে ‘খ’ সেটের প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেয়া হয়। প্রশ্ন কমন না হওয়ায় কিছু পরীক্ষার্থী অন্যের খাতা দেখে বা শুনে লেখার চেষ্টা করে। রোকেয়া মনসুর মহিলা কলেজ কেন্দ্রে দায়িত্বরত কক্ষ পরিদর্শকদের সতর্কতার কারণে তারা অবৈধ সুযোগ পেতে ব্যর্থ হয়। তবে পরীক্ষা শেষে রোকেয়া মনসুর মহিলা কলেজ কেন্দ্রের ৭নং কক্ষে পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী কালিগঞ্জ কলেজের কিছু শিক্ষার্থী কেন্দ্র সচিব, হলসুপারসহ দায়িত্বরত কক্ষ পরিদর্শকদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। এক পর্যায়ে তারা রোকেয়া মনসুর মহিলা কলেজে হামলা চালিয়ে চেয়ার-টেবিল ভাঙচুর করে। পরবর্তীতে উচ্ছৃঙ্খল ওই সব শিক্ষার্থী কালিগঞ্জ কলেজে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে। খবর পেয়ে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও কলেজ দু’টির পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি এইচএম গোলাম রেজা, কালিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার তৌফিক-ই-লাহী চৌধুরী, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কালিগঞ্জ উপজেলা শাখার সভাপতি যুদ্ধকালীন কমান্ডার শেখ ওয়াহেদুজ্জামানসহ থানা পুলিশ রোকেয়া মনসুর মহিলা কলেজে যেয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। রোকেয়া মনসুর মহিলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও কেন্দ্র সচিব আবু জাফর সিদ্দীক ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন।