কালিগঞ্জে হরতাল প্রত্যাহার: জনমনে স্বস্তি

 

 

বিশেষ প্রতিনিধি: দু’দিন হরতাল ও সড়ক অবরোধের পর স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগে নেতৃবৃন্দের হস্তক্ষেপে কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হয়েছে। একই সাথে নবনির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান সাঈদ মেহেদী তার কর্মী সমর্থকদের নিয়ে সমাবেশ করে শান্তির আহ্বান জানানোর ফলে জনমনে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

কুশুলিয়া ইউপি’র সাবেক চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড কালিগঞ্জ ইউনিটের সভাপতি শেখ মেহেদী হাসান সুমন জানান, উপজেলা নির্বাচন পরবর্তী সময়ে নির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান সাঈদ মেহেদীর কর্মী সমর্থকদের দ্বারা বিষ্ণুপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ কার্যালয় দখল, বিষ্ণুপুর ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ রিয়াজ উদ্দীনকে হত্যার চেষ্টা, বিষ্ণুপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নিরঞ্জন কুমার পাল বাচ্চুকে মারপিট, কুশুলিয়ায় একটি পরিবারে নারীসহ সকলের উপর হামলা ও শ্লীলতাহানী, বিভিন্ন ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দকে ভয়ভীতি প্রদর্শনসহ বিভিন্ন সহিংসতামূলক কার্যক্রম চলতে থাকে। এর জের ধরে আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ আলোচনার ভিত্তিতে হরতাল ও সড়ক অবরোধের মতো কর্মসূচি দিতে বাধ্য হয়। দু’দিনের হরতাল অবরোধে জনজীবনে ভোগান্তি নেমে আসায় জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুনসুর আহম্মেদ, সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম, সাতক্ষীরা-৩ আসনের এমপি সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী অধ্যাপক আ ফ ম রুহুল হক, সাতক্ষীরা-৪ আসনের এমপি এসএম জগলুল হায়দার এর নির্দেশনার ভিত্তিতে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ শনিবার বেলা ১১টার দিকে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনে জরুরি সভায় মিলিত হন। সভায় দু’জন মাননীয় সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ দু’নেতার আহ্বানে সাড়া দিয়ে হরতাল প্রত্যাহারের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়া হয়। নির্বাচন পরবর্তী সময়ে সংঘঠিত সহিংস কার্যক্রমের সুষ্ঠু সমাধান না হলে পরবর্তীতে আবারও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে তিনি জানান।

কালিগঞ্জে নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা বন্ধে শান্তি সমাবেশ

 

 

বিশেষ প্রতিনিধি: ‘সংঘাত ও সংঘর্ষ নয়, শান্তি চাই’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে কালিগঞ্জে নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা রোধে শান্তি সমাবেশ শনিবার বেলা ১১টায় পিরোজপুর মোড়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা ও সাবেক সহ-সভাপতি মাষ্টার নরীম আলীর সভাপতিত্বে সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও নবনির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান সাঈদ মেহেদী। কালিগঞ্জ আদর্শ বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলামের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য রাখেন দক্ষিণ শ্রীপুর ইউপি চেয়ারম্যান প্রশান্ত সরকার, নলতা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল হোসেন পাড়, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক আল-মামুন সরদার, উপজেলা যুবলীগের সাবেক যুগ্ম-আহবায়ক এড. হাবিব ফেরদাউস শিমুল, ইউপি সদস্য আবু বক্কর সিদ্দিক, আফসার আলী, সিরাজুল ইসলাম, কৃষক লীগের জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক সরদার গিয়াস উদ্দিন, ধলবাড়িয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক চন্ডিচরণ মন্ডল, ইউপি সদস্য আব্দুস সাত্তার প্রমুখ। নির্বাচন পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন সহিংস ঘটনার সাথে নবনির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যানকে নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে একটি মহল তৎপরতা চালিয়েছে বলে বক্তারা অভিযোগ করেন। নবনির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান সাঈদ মেহেদীর নেতৃত্বে আগামীতে একটি সুখী সম্মৃদ্ধ ও উন্নত উপজেলা পরিষদ গঠিত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

কালিগঞ্জে দ্বিতীয় দিনের হরতাল ও সড়ক অবরোধ: চরম জনদুর্ভোগ

 

বিশেষ প্রতিনিধি: কালিগঞ্জের বিষ্ণুপুর ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ রিয়াজ উদ্দীনকে হত্যাচেষ্টার প্রতিবাদে শুক্রবার দ্বিতীয় দিনের মতো হরতাল ও সড়ক অবরোধ পালিত হয়েছে। হরতালে স্থানীয় সকল ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল। সড়ক অবরোধের কারণে শ্যামনগর ও কালিগঞ্জ থেকে বাস চলাচল বন্ধ থাকায় যাত্রীসাধারণ চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়েন। দুপুরে জুমআ’র নামাজের আগে ও পরে কিছু সময়ের জন্য অবরোধ শিথিল করা হয়। তবে বিকেল থেকে শ্যামনগর-সাতক্ষীরা সড়কের ফুলতলা মোড় এলাকায় আবারও সড়কে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়।

তারালী ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক এনামুল হোসেন ছোট শুক্রবার সন্ধ্যায় গণমাধ্যমকে জানান, পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে হরতাল ও অবরোধ পালিত হচ্ছে। অবিলম্বে দোষীদের গ্রেপ্তারে প্রশাসন ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে কোনো প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে তার জন্য প্রশাসন দায়ি থাকবে। তিনি আরও বলেন, আমরা শান্তিপূর্ণভাবে হরতাল ও অবরোধ কর্মসূচি পালন করছি। আমরা নেতৃবৃন্দ বসে আলোচনার ভিত্তিতে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করবো।

প্রসঙ্গত, বিষ্ণুপুর ইউপি চেয়ারম্যান নীলকন্ঠপুর গ্রামের নবীর শেখের ছেলে শেখ রিয়াজ উদ্দীন (৫৫), একই গ্রামের আমজাদ মোড়লের ছেলে তাহের মোড়ল (৪০) ও তার সহোদর আলাউদ্দীন মোড়ল (৩৪) মোটর সাইকেলযোগে বুধবার দিবাগত রাত সাড়ে ১০টার দিকে কালিগঞ্জ থেকে বাড়ি ফেরার সময় কুশুলিয়া এলাকায় উপজেলা চেয়ারম্যান সাঈদ মেহেদীর নেতৃত্বে তার কর্মী সমর্থকরা হামলা চালায় বলে তারা অভিযোগ করেন। তবে অভিযোগের বিষয়ে সাঈদ মেহেদীর বক্তব্য জানা না গেলেও তার কর্মী সমর্থকরা ইউপি চেয়ারম্যান শেখ রিয়াজ উদ্দীনের উপর হামলাসহ সকল প্রকার হামলার বিষয় অস্বীকার করে বলেছেন মটরসাইকেল থেকে পড়ে যেয়ে তিনি আহত হয়েছেন।

রাত ৮ টায় শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত সড়ক অবরোধ চলছিল। উপজেলা সদরের ফুলতলা মোড় ও পাশর্^বর্তী এলাকায় থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে। ফুলতলা মোড় ও পাশর্^বর্তী এলাকায় প্রচুর সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

বঙ্গবন্ধু পেশাজীবী পরিষদের জেলা শাখার কার্য নির্বাহী কমিটির জরুরী সভা

 

বঙ্গবন্ধু পেশাজীবী পরিষদ এর সাতক্ষীরা জেলা কার্যনিবাহী কমিটির জরুরী সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২৯ মার্চ বিকাল ৩টায় সংগঠনের জেলা কার্যালয়ে বঙ্গবন্ধু পেশাজীবী পরিষদের জেলা সভাপতি এড. আল মাহমুদ পলাশের সভাপতিত্বে ও জেলা সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুর রাজ্জাকের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় আলোচনা করেন জেলা সভাপতি ডা. এম তাহের, অধ্যাপক তপন কুমার শীল,আসাদুল ইসলাম, রফিকুল ইসলাম যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাছুম বিল্লাহ, সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ আবু বাক্কার, আহছান হাবিব, শেখ মহিউদ্দীন, আল আমিন সরদার, জামাল আহমেদ বাদল, নূরুজ্জান বাবু, মাষ্টার আয়ুব আলী, মাষ্টার আব্দুল আওয়াল, শফিকুল ইসলাম, মোখলেছুর রহমান, আব্দুস সালাম, আহাদ আলী, রওশান আরা বানু, কিয়াম উদ্দীন গাজি, হাফিজুল ইসলাম, সদর উপজেলা সভাপতি সৈয়দ আব্দুস সেলিল, পৌর সভাপতি আসাদুজ্জামান লাভলু, আশাশুনি উপজেলা সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, কালিগঞ্জ সভাপতি মুকুল বিশ্বাস।

সভায় দলের সাংগঠনিক কার্যক্রমকে আরো গতিশীলতার লক্ষ্যে শহরস্থ জেলার সিনিয়র নেতৃবৃন্দদের সমন্বয়ে ১৭ সদস্য বিশিষ্ট ওয়ার্কিং কমিটি গঠন, জেলার নির্বাচিত এমপিগণ, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা পরিষদের নির্বাচিত চেয়ারম্যানগণ এবং দলের জেলা সভাপতি এড. আল মাহমুদ পলাশকে ভারপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ও জেলা সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাককে নির্বাহী সদস্য মনোনীত করায় বঙ্গবন্ধু পেশাজীবী পরিষদের পক্ষ থেকে সংবর্ধনা দেয়াসহ সাংগঠনিক বিভিন্ন বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। প্রেস বিজ্ঞপ্তি

সংবাদ সম্মেলনে জামানত হারানো নৌকার প্রার্থী কালিগঞ্জে উপজেলা নির্বাচনে ভোট ডাকাতি করেছেন ভোটগ্রহণ কর্মকর্তারা

 

নিজস্ব প্রতিনিধি: উপজেলা নির্বাচনে তিন প্রার্থীর মধ্যে সবচেয়ে কম (৯৪৯৬) ভোট পেয়ে জামানত হারানো কালিগঞ্জের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী শেখ আতাউর রহমান অভিযোগ করে বলেন, ভোটগ্রহণ কর্মকর্তারা বিজয়ী বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে ভোট ডাকাতি করেছেন। তিনি বলেন, আগেই বেশ কিছু সংখ্যক ভুয়া প্রতিষ্ঠানের ভুয়া কর্মকর্তাদের ভোট গ্রহণ কাজে নিয়োগ করা হয়। তারাই এই ভোট ডাকাতির সাথে জড়িত দাবি করে তিনি বলেন, বিজয়ী প্রার্থী সাঈদ মেহেদির সাথে যোগসাজশ করে এই অনিয়ম করা হয়েছে।

শুক্রবার সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলন করে এই দাবি জানান নৌকার প্রার্থী অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা শেখ আতাউর রহমান। তবে তিনি পুন:নির্বাচন দাবি না করেই বলেন, এসব বিষয়ে তিনি নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ করবেন। প্রয়োজনে মামলা করবেন। তিনি সাংবাদিকদের মাধ্যমে এর প্রতিকার দাবি করেন।

তবে এ বিষয়ে কালিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার সরদার মোস্তফা শাহিনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘শেখ আতাউর রহমানের কোনো অভিযোগ তিনি লিখিতভাবে পাননি। তিনি বলেন, বিধিবহির্ভূত কোনো ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি। অভিযোগ থেকে থাকলে তা তিনি নির্বাচন কমিশনে জমা দিতে পারেন। প্রকৃতপক্ষে তিনি নির্বাচনে কোনো ধরনের অবৈধ সুযোগ সুবিধা না পেয়ে এ ধরনের কথাবার্তা বলছেন’।

এদিকে সংবাদ সম্মেলনে শেখ আতাউর রহমান তার লিখিত বক্তব্যে বলেন, ভোট  কেন্দ্র থেকে নৌকার এজেন্টদের মারপিট করে তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। উপজেলার ৭৮টি কেন্দ্রে প্রিজাইডিং অফিসার, সহকারি প্রিজাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসারদের সহযোগিতা নিয়ে ঘোড়া প্রতীকের প্রার্থী সাঈদ মেহেদি জুলুম করে ভোট ডাকাতি সংঘটিত করেছেন। ২৫টি মাদ্রাসার নাম উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব প্রতিষ্ঠান নাম সর্বস্ব, ঠিকানাবিহীন ও অস্তিÍত্বহীন। এর ভুয়া শিক্ষকদের ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়েছে। তাদের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর ভোট চুরি করে ঘোড়ার প্রার্থীকে জয়ী করা হয়েছে। এছাড়া ব্লক সুপারভাইসর, ল্যাব সহকারি ও পোস্টম্যানদেরও ভোটগ্রহণ কাজে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এমনকি একই প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের একই কেন্দ্রে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা হিসেবে তিনি সাঈদ মেহেদির বিরুদ্ধে ১০টি অভিযোগ তুলে ধরেন। সাঈদ মেহেদির কারণে এখন কালিগঞ্জে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, নৌকায় ভোট দেওয়ায় ইউপি চেয়ারম্যান, আওয়ামী লীগ নেতা এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্যদের মারপিট করতে শুরু করেছেন বিজয়ী প্রার্থী ও তার লোকজন।

জানতে চাইলে বিজয়ী প্রার্থী সাঈদ মেহেদি বলেন, ‘২৪ মার্চের নির্বাচনে  জামানত হারিয়ে শেখ আতাউর রহমান এখন ভুল বকছেন। আমার বিরুদ্ধে আনীত সব অভিযোগ মিথ্যা। ভোট গ্রহণ কাজে নিয়োগ প্রদান প্রশাসনিক বিষয়। এ ব্যাপারে আমার হাত থাকার কথা সত্য নয়। ভোটের পরে আমার কোনো নেতাকর্মী কোনো ধরনের সহিংসতায় জড়ায়নি’।

কালিগঞ্জে পুনরায় ভোট চান কিনা এমন প্রশ্ন করা হলে প্রার্থীর পক্ষে কথা বলেন, আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোজাহার হোসেন কান্টু। তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে’। তবে শেখ আতাউর রহমান বলেন, ‘সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আমি বাংলাদেশ সরকার, সকল প্রশাসনিক কর্মকর্তা এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দকে অবহিত করতে চাই। একই সাথে সচেতন দেশবাসীকে অবহিত করে উপযুক্ত প্রতিকার চাই’।

কালিগঞ্জের ইউএনও বলেন, ‘শেখ আতাউর রহমান কোনো অভিযোগ দিলে তা তদন্ত করা হবে’।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগ নেতা মোজাহার হোসেন কান্টু, তারালি ইউপি চেয়ারম্যান এনামুল হোসেন ছোট, মথুরেশপুর ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান গাইন, ধলবাড়িয়ার গাজি শওকত হোসেন, চাম্পাফুলের মোজাম্মেল হক, রতনপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আশরাফুল ইসলাম খোকন, নলতার আজিজর রহমান প্রমূখ।

নির্বাচনী ফলাফল অনুযায়ী কালিগঞ্জ উপজেলা নির্বাচনে ২,১৭,৭০৬ ভোটের মধ্যে ভোট পড়েছে ১,০৩,৪৩০ টি। এরমধ্যে নৌকার প্রার্থী পেয়েছেন ৯৪৯৬ ভোট। দ্বিতীয় হয়েছেন তার ভাতিজা মেহেদি হাসান সুমন ৩৪,৭৬৬ ভোট। বিজয়ী আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী সাঈদ মেহেদি পেয়েছেন ৫৬,৮৩৮ ভোট। এ নির্বাচনে যথেষ্ট সংখ্যক ভোট না পাওয়ায় শেখ আতাউর রহমান তার জামানত হারিয়েছেন।

কালিগঞ্জে ইউপি চেয়ারম্যানকে হত্যাচেষ্টার প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ

বিশেষ প্রতিনিধি: গত ২৪ মার্চ অনুষ্ঠিত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট সহিংসতার অংশ হিসেবে এবার নবনির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাঈদ মেহেদী এবং তার কর্মী-সমর্থকরা পিটিয়ে গুরুতর আহত করলো বিষ্ণুপুর ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ রিয়াজ উদ্দীনকে। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে সাঈদ মেহেদী ও সমর্থকরা জানান, মটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত হয়ে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করছেন। প্রত্যক্ষদর্শী জানান, দুইটি মটরসাইকেল দ্রুত গতিতে চালানোর সময় তাদের একটি থেকে পড়ে যান শেখ রিয়াজ উদ্দীন। এতে তিনি আঘাত পান।
এদিকে কর্মী-সমর্থকদের হামলায় আহত হয়েছে নারীসহ আরও ৬ জন। ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার দিবাগত রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার কুশুলিয়া গ্রামে। হামলার প্রতিবাদে বুধবার সকাল থেকে সাতক্ষীরা-মুন্সীগঞ্জ সড়কের কালিগঞ্জ ফুলতলা মোড় এলাকায় হাজার হাজার আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মী সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে। দোষীদের ২৪ ঘন্টার মধ্যে গ্রেফতার না করলে অনির্দিষ্টকালে হরতাল অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হবে বলে ওই সমাবেশ থেকে ঘোষণা দেয়া হয়েছে। অবরোধ চলাকালে মৌতলার রাণীতলা গ্রামের আনিছুর রহমান (২৮) নামে সাঈদ মেহেদীর এক সমর্থক অবরোধ প্রত্যাখ্যান করে যাওয়ার চেষ্টা করলে তার মটরসাইকেলের উপর হামলার ঘটনা ঘটে। এসময় ছাত্রলীগের এক নেতাকে বেধড়ক মারপিটের ঘটনায় প্রত্যাহার করা হয়েছে এক পুলিশ সদস্যকে।
আহত ইউপি চেয়ারম্যানের পরিবারের সদস্য ও বিভিন্ন সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, বিষ্ণুপুর ইউপি চেয়ারম্যান নীলকন্ঠপুর গ্রামের নবী শেখের ছেলে শেখ রিয়াজ উদ্দীন (৫৫), একই গ্রামের আমজাদ মোড়লের ছেলে তাহের মোড়ল (৪০) ও তার সহোদর আলাউদ্দীন মোড়ল (৩৪) মোটর সাইকেলযোগে বুধবার দিবাগত রাত ১০টার দিকে কালিগঞ্জ থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। তারা কুশুলিয়ার জোড়া আমতলা মোড় নামক স্থানে পৌছালে উপজেলা চেয়ারম্যান সাঈদ মেহেদীর কর্মী সমর্থকরা তাদের ধাওয়া করে। এসময় প্রাণ রক্ষার্থে তাহের মোড়ল ও আলাউদ্দীন মোড়ল পাশ^বর্তী কাজী মজিদ জাহাঙ্গীর মৃদুলের বাড়িতে আশ্রয় নেয়। তাদের ধরতে বাড়ির ভিতরে প্রবেশ করে হামলা চালালে মৃত আব্দুল হান্নানের ছেলে কাজী মজিদ জাহাঙ্গীর মৃদুল (৬০), তার স্ত্রী রেহেনা বেগম (৫০), মেয়ে তানিয়া খাতুন (২৫) ও কলেজ ছাত্রী মদিনা মনোয়ারা জুঁই আহত হয়। নারীদের উপর হামলার প্রতিবাদ করায় স্থানীয় মসজিদের ইমাম আমিরুল ইসলামকেও (৫৫) মারধর করা হয়। একই সময়ে চেয়ারম্যান শেখ রিয়াজ উদ্দীনকে ধাওয়া করে কুশুলিয়া স্কুল এন্ড কলেজ এলাকায় আটকানোর পর তারা লোহার রড ও বাঁশের লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারপিট করে। এক পর্যায়ে অজ্ঞান হয়ে গেলে সন্ত্রাসীরা তাকে মৃত ভেবে ধানক্ষেতে ফেলে যায়। খবর পেয়ে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় পুলিশ আহত ইউপি চেয়ারম্যানকে এবং এলাকাবাসি তাহের মোড়ল, আলাউদ্দীন মোড়ল ও রেহেনা বেগমকে উদ্ধার করে কালিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। পরবর্তীতে অবস্থার অবনতি হওয়ায় শেখ রিয়াজ উদ্দীনকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে। এর আগে গত ২৫ মার্চ বিষ্ণুপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ অফিসে তালা লাগিয়ে দেয় সাঈদ মেহেদীর অন্যতম সহযোগী সিদ্দিক মেম্বর ও সিরাজুল মেম্বর। পরদিন ২৬ মার্চ বিকেলে বিষ্ণুপুর বাজার এলাকায় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি সদস্য নিরঞ্জন কুমার পাল ওরফে বাচ্চু পালকে মারপিট করে সাঈদ মেহেদীর কর্মী চাঁচাই গ্রামের মৃত মাদার মোড়লের ছেলে দিদারুল ইসলাম দিদার (২৪)। এঘটনায় নিরঞ্জন পাল বাচ্চু থানায় লিখিত অভিযোগ দিলে সেটি জিডি হিসেবে অন্তর্ভূক্ত করেছে পুলিশ। নৌকা প্রতীকের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেয়ার ঘটনায় মারপিট ও দলীয় কার্যালয় দখলকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা হয়। এসব ঘটনার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার সকালে আওয়ামী লীগ ও ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সমিতি যৌথভাবে অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা করে ফুলতলা মোড় এলাকায় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীর অবস্থান নেয়। জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য এড. শেখ মোজাহার হোসেন কান্টুর সভাপতিত্বে ও ধলবাড়িয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সজল মুখার্জীর সঞ্চালনায় বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বিষ্ণুপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নিরঞ্জন কুমার পাল বাচ্চু, চাম্পাফুল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক গাইন, রতনপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান আশরাফুল হোসেন খোকন, মথুরেশপুর ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান গাইন, ইউপি চেয়ারম্যান সমিতির সভাপতি ও ধলবাড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান গাজী শওকাত হোসেন, তারালী ইউপি চেয়ারম্যান এনামুল হোসেন ছোট, কুশুলিয়া ইউপি’র সাবেক চেয়ারম্যান ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ডের সভাপতি শেখ মেহেদী হাসান সুমন, অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা নৌকা প্রতীকের প্রার্থী শেখ আতাউর রহমান প্রমুখ। আন্দোলনের সাথে একাত্মতা ঘোষণা করে বক্তব্য রাখেন জাতীয় কৃষক জোটের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও ‘দৈনিক দক্ষিণের মশাল’ পত্রিকার সম্পাদক অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আশেক-ই-এলাহী।
প্রায় দু’ঘন্টাব্যাপী অবরোধ চলাকালে ফুলতলা মোড় গোল চত্ত্বরের দু’পাশে শতশত যানবাহন আটকা পড়ে। খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সরদার মোস্তফা শাহিন, কালিগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জামিরুল ইসলাম, থানার অফিসার ইনচার্জ হাসান হাফিজুর রহমান ও বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদস্য ঘটনাস্থলে যেয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। এসময় হঠাৎ অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের গাড়িচালক কনস্টেবল হাসিব (কং নং-৮১৭) কুশুলিয়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি অয়েজ আহম্মেদকে বেধড়ক মারপিট করে আহত করলে পূণরায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এঘটনাকে কেন্দ্র করে অবরোধ কর্মসূচি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন নেতৃবৃন্দ। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তাৎক্ষণিক ভাবে দোষী পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার ও তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়ার ঘোষণা দিলে পরিস্থিতি শান্ত হয়। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। ফুলতলা মোড় ও এর পাশ^বর্তী এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
কালিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ হাসান হাফিজুর রহমান জানান, এঘটনায় এখনও লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ঘটনার সত্যতা জানার জন্য নবনির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান সাঈদ মেহেদীর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সংযোগ পাওয়া যায়নি। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সাঈদ মেহেদী কয়েকজন কর্মী-সমর্থক জানান, চেয়ারম্যান শেখ রিয়াজ উদ্দীনের উপর হামলার ঘটনা ঘটেনি। তিনি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন।

কালিগঞ্জ উপজেলা ভূমি কমিটি গঠন

 

বিশেষ প্রতিনিধি: কালিগঞ্জ উপজেলা ভূমি কমিটি গঠন উপলক্ষে এক সভা বৃহস্পতিবার দুপুরে বেসরকারি সংস্থা উত্তরণের নলতা কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হয়েছে। উত্তরণ নলতা কেন্দ্রেরে ব্যবস্থাপক মোখলেছুর রহমান কামালের সার্বিক ব্যবস্থাপনায়, উত্তরণ অপ্রতিরোধ্য পকল্পের আয়োজনে ও মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় কালিগঞ্জ উপজেলা ভূমি কমিটির সভাপতি অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক আব্দুল খালেকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় পূর্বের ভূমি কমিটির সার্বিক কার্যক্রম তুলে ধরেন এবং কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করেন। সাধারণ সম্পাদক এড. জাফরুল্যাহ ইব্রাহিমের সঞ্চালনায় নতুন প্রকল্পের বর্ণনা প্রদানপূর্বক বক্তব্য রাখেন উত্তরণ এর আইন উপদেষ্টা এড. মুনির উদ্দীন। দ্বিতীয় পর্বে উত্তরণ কালিগঞ্জ কেন্দ্রের সাবেক ব্যবস্থাপক মোস্তাক আলীর সভাপতিত্বে সভায় সর্বসম্মতিতে আব্দুল খালেককে সভাপতি ও এড. জাফরুল্যাহ ইব্রাহিমকে সাধারণ সম্পাদক মনোনীত করে ৩১ সদস্যবিশিষ্ট কার্যকরী কমিটি এবং ৭ সদস্যবিশিষ্ট উপদেষ্টা কমিটি গঠিত হয়েছে। কমিটির অন্যান্যরা হলেন, সহ-সভাপতি শেখ আনোয়ার হোসেন, শেখ সাইফুল বারী সফু, ইলাদেবী মল্লিক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক নিয়াজ কওছার তুহিন, অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক মুনছুর আলী, খোদেজা খাতুন, সাংগঠনিক সম্পাদক সুকুমার দাশ বাচ্চু, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম আহমদুলাহ বাচ্চু, আইন সহায়তা সম্পাদক সনৎ কুমার গাইন, খাস জমি বিষয়ক সম্পাদক মধু সরদার, জলমহল সম্পাদক আবুল হোসেন, নারী ও শিশু বিষয়ক সম্পাদক কনিকা সরকার, মিডিয়া বিষয়ক সম্পাদক সেলিম শাহরিয়া, সাংস্কৃতিক সম্পাদক শান্তি চক্রবর্তী, ইউনিয়ন ফেডারেশন প্রতিনিধি তাহেরা খাতুন, রেহেনা খাতুন ও রুহুল হক, অন্ত্যজ জনপ্রতিনিধি পরিতোশ দাশ ও নুপুরী দাশ, নারী সংগঠনের প্রতিনিধি শম্পা গোস্বামী, শিক্ষক প্রতিনিধি প্রদীপ কুমার ও সাইফুল ইসলাম, উপজেলা কৃষি খাসজমি বন্দোবস্ত কমিটি গাজী জাহাঙ্গীর কবির ও সুকুমার কুমার ঘোষ, উপজেলা জলমহল বন্দোবস্ত কমিটি সাধন কুমার হালদার, কৃষক প্রতিনিধি শেখ শাহরিয়ার হোসেন শাওন, ক্রীড়া সংগঠক ইকবাল আলম বাবলু, এনজিও প্রতিনিধি মো. আকতার হোসেন, আইনজীবী এড. হাবিব ফেরদাউস শিমুল, উত্তরণ প্রতিনিধি মোকলেসুর রহমান। সাত সদস্যের উপদেষ্টা কমিটির সদস্যবৃন্দ হলেন যথাক্রমে শামছুর রহমান, ডলি ইসলাম, গোলাম রসুল, জেবুন্নাহার জেবু, ওহাব আলী সরদার, আব্দুল লতিফ, আব্দুল করিম মামুন হাসান ও অসিত কুমার সেন।

কালিগঞ্জে নানা কর্মীসূচির মধ্য দিয়ে গণহত্যা দিবস পালিত

বিশেষ প্রতিনিধি: কালিগঞ্জে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস পালিত হয়েছে। সকাল ৯ টায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার সরদার মোস্তফা শাহিন এর নেতৃত্বে উপজেলা পরিষদ ডাকবাংলো সংলগ্ন বধ্যভূমির স্তম্ভে পুষ্পমাল্য অর্পণ করা হয়। এসময় কালিগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জামিরুল ইসলাম, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শেখ ফজলুল হক মনি, থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হাসান হাফিজুর রহমান, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক উপদেষ্টা মাস্টার নরিম আলী, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কালিগঞ্জ ইউনিটের সাবেক সহকারী কমান্ডার এসএম শাহাদাত হোসেনসহ সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক ও সূধীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সন্ধ্যা ৬ টায় গণহত্যার উপর দুর্লভ আলোকচিত্র ও প্রামাণ্য চলচ্চিত্র প্রদর্শণীর আয়োজন করা হয়।

একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে সাতক্ষীরা

আরশি বাউল
সাতক্ষীরার মাটিতে যে মানুষগুলো স্বাধীন দেশের নাগরিক বলে গর্ববোধ করেন, দেশের বুকে লাল সবুজের যে জাতীয় পতাকাগুলো পতপত করে উড়ে সেই দেশটির নাম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ। বুকভরে আমরা যাকে আমার দেশের নাম কিম্বা আমাদের দেশের নাম বাংলাদেশ বলি তা’ কিন্তু অতি সহজে অর্জিত হয়নি। দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম আর নয় মাসব্যাপি মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত হয়েছিল। নয় মাসব্যাপী পাকিস্তানী খানসেনা ও তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে সম্মুখ যুদ্ধ ও গেরিলা যুদ্ধ করেছিল মুক্তিযোদ্ধারা, মুক্তিকামী নির্ভীক বাঙালিরা এই নয় মাসের স্বাধীনতা যুদ্ধে মাতৃভূমি রক্ষায় প্রাণ দিয়ে লক্ষ বাঙালি শহীদ হয়েছেন। নির্বিচারে গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল অসংখ্য মানুষকে, খান সেনা ও তাদের দোসররা লক্ষ লক্ষ বাঙালি মা-বোনদের ইজ্জত লুট করেছিল; আগুনে পুড়িয়ে মেরেছিল যেমন মুক্তিকামী মানুষেকে তেমনি ঘর-বাড়ি জ্বালিয়ে ছাই করেছিল। কিন্তু মুক্তিপাগল সাহসী মুক্তিযোদ্ধাদের এবং মুক্তিকামী মানুষের কাছে ওরা পরাজিত হয়ে আত্মসমর্পন করেছিল। অবশেষে তাদের রক্তের বিনিময়ে হলুদ রঙের বাংলাদেশের মানচিত্র খচিত সবুজের মাঝে লাল সূর্যের লক্ষ-কোটি পতাকা উড়ল স্বাধীন বাংলাদেশের মাটিতে। কীভাবে কেটেছে ন’মাস যুদ্ধকালে তা’ শুনলে হতবাক হতে হয়। সারা দেশজুড়ে এ যুদ্ধ হয়েছিল।
দেশের সর্ব দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে অবস্থিত সাতক্ষীরা জেলা। এই সাতক্ষীরা জেলার দক্ষিণে সুন্দরবন এবং সাগর সীমান্তে দক্ষিণ তালপট্টির প্রান্ত ছুঁয়ে রায়মঙ্গল নদী আন্তর্জাতিক সীমানা ধরে জেলার পশ্চিমে ভারত সীমান্ত। এ কারণে মুক্তিযুদ্ধের সময় সাতক্ষীরা জেলা ছিল খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি জেলা। দেশের ভেতর থেকে বহু মানুষে ছুটে গেছে মার্শ্ববর্তী ধেশ ভারতে সাতক্ষীরা জেলার সীমান্ত পেরিয়ে যেমন , ঠিক তেমন সাতক্ষীরার সীমান্ত পার হয়ে মুক্তিযোদ্ধা দেশের মধ্যে ঢুকে পাক হানাদারদের সাথে যুদ্ধ করেছে। এ কারণে সময়কালটা সাতক্ষীরা জেলার জন্য ছিল ঘটনাবহুল। দেশের ভেতর থেকে ৫ মুক্তিপাগল ছাত্র (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মতান্তরে খুলনা বিএল কলেজ) জেলার কলারোয়া থানার সীমান্ত পার হতে যেয়ে রাজাকারদের হাতে ধরা পড়ে। এর মধ্যে ২ জন পালিয়ে যেতে পারলেও ৩ জনকে ধরে কলারোয়া থানায় নিয়ে যায়। পরে ঐ ৩ জনকে থানার পেছনে নিয়ে গুলি করে হত্যা করে। উল্লেখ্য এর মধ্যে ২ জন তাৎক্ষণিক মারা না গেলেও মাটি খুঁড়ে তাদেরকে জীবন্ত কবর দেয়া হয়। সাতক্ষীরা সদর উপজেলার আবাদেরহাট এলাকার শিয়ালডাঙ্গা গ্রামের জনৈক ব্যক্তিকে মাটি খুঁড়তে বলে খানসেনারা। অপরাধ কী সে জানে না। শুধু মুক্তি হ্যায়-সন্দেহে তাকে তারই খোড়া ঐ কবরে শুইয়ে জীবন্ত কবর দেয়। কালিগঞ্জ থানাধীন পোদালী চাঁদখালীর ধ্রুব মিস্ত্রী ওরফে পাগল ডাক্তারকে ধরে কাকশিয়ালী নদীর চরে অর্ধেকটা পুঁতে ইট-পাথর মেরে নির্মম নির্যাতন চালিয়ে খানসেনারা তাকে হত্যা করে। এ রকম লোমহর্ষক অনেক ঘটনা জানা অজানায় রয়ে গেছে।
১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে ব্যাপক ও জোরদার করতে ১১টি রণাঙ্গণে (সেক্টরে) ভাগ করা হয়েছিল। প্রতিটি রণাঙ্গণে সেক্টরে) একজন করে সেক্টর কমান্ডার ছিল। প্রবাসী সরকার থেকে প্রথমে যে ১০টি সেক্টর করা হয়ে তার মধ্যে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম সীমান্ত জুড়ে সাতক্ষীরা জেলার ৩ টি সেক্টর-এর আওতাধীণ ছিল। মূল জেলা শহরসহ পার্শ্ববর্তী দক্ষিণে সুন্দরবন এলাকা ৯ নং এবং শহরের গা ঘেষে উত্তরাংশে সাতক্ষীরা সদর ও কলারোয়া থানা এলাকা ৮ নং ও জেলার দক্ষিণে সুন্দরবন ও বঙ্গোপসাগর-এ মোহনা জুড়ে ছিল ১০ নং নৌ মুক্তিবাহিনী (নৌ কমান্ডো) সেক্টর।

শ্যামনগর: সাতক্ষীরার দক্ষিণাঞ্চল আশাশুনি ও শ্যামনগর দুটি থানা সুন্দরবন সংলগ্ন এবং নদী-খাল বেষ্টিত থাকায় এখনকার যুবকরা নদী ও পানি দেখে উৎফুল্ল হয় এবং সাঁতারে পটু থাকায় অধিকাংশ মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে এ নৌ কমান্ডে নাম লেখায় ও যোগ্যতায় উত্তীর্ণ হয়। দীর্ঘ প্রশিক্ষণ ও বাছাইতে ৪০ হাজারের মধ্যে মাত্র যে ৬০ জনকে প্রাথমিক পর্বে নির্বাচিত করা হয় তার অধিকাংশই সাতক্ষীরা জেলার। এ গর্ব সাতক্ষীরাবাসির। শুধু এ কারণে গর্ব নয়। একাত্তরের ১৪ আগস্ট মংলা বন্দরে ঐতিহাসিক ও বিস্ময়কর যে অপারেশন করা হয় তা’ ছিল অতীব লোমহর্ষক ঘটনা। জাহাজ ধ্বংসকারী মাইন হাতে নিয়ে নৌ কমান্ডোর সাহসী মুক্তিযোদ্ধারা প্রায় ২ মাইল বড় নদী ডুব দিয়ে দিয়ে অতি সতর্কতার সাথে ৯ টি জাহাজের কাছে যায়। এর পর দ্রুত ফিরে আসার মুহূর্তে প্রচন্ড বিস্ফোরণে ৯ টি জাহাজ ধ্বংস হয়ে বন্দরের বুকে ডুবে যায়। শুধু দেশের মানুষ নয়, সারা বিশ্বের মানুষে এ অপারেশনের কথা শুনে অবাক হয়ে যায়। এ অপারেশন শেষ করে সাতক্ষীরার সীমান্ত পথে ভারতের হাসনাবাদ ফেরার আগে একটি ফরেস্ট অফিস ঘেরাও করে তারা ২ টি লঞ্চসহ বহু মালামাল নিয়ে যায়। এতে সন্তুষ্ট হয়ে মেজর এম এ জলিল তাদেরকে অভ্যর্থনা জানান। পরে তাদেরকে বাংলাদেশ মিশনে নিয়ে গেলে মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক এম এ জি ওসমানী সকলকে মিষ্টি খাওয়ান এবং ১০০ টাকা উপহার দেন। এর পরদিন রাতে শ্যামনগর থানার শেখ মোহর আলী ও আবু নেছার সিদ্দিকীকে এবং সাতক্ষীরা শহরের মীর মোস্তাক আহমদে রবিকে সিলেট অপারেশনে যেতে দমদম বিমান বন্দরে এম এ জি ওসমানী বিদায় দেন। সাতক্ষীরার ৩ জন মুক্তিযোদ্ধার যুদ্ধকালীন সময়ের এ সংবর্ধনা ইতিহাসের পাতায় চির অম্লান। সাতক্ষীরাবাসি গর্বিত।
১৯৭১’র ৬ মে সুন্দরবনের কোল ঘেসে যাওয়া খোলপেটুয়া নদীতে ৯নং সেক্টরের বহু কমান্ডার ও মুক্তিযোদ্ধার একটি দল মুক্তিযোদ্ধাদের অস্ত্র যোগাতে ভারত যেয়ে অস্ত্র বোঝাই করে নিয়ে আসার পর রাজাকার ও পিচ কমিটির সহায়তায় খানসেনাদের খবর দেয়। পরে খানসেনারা গান বোট নিয়ে এসে অতর্কিত হামলা চালিয়ে লঞ্চটি ডুবিয়ে দেয়। এলাকাটি হচ্ছে শ্যামনগরের গাবুরা ইউনিয়নের পারশেমারী। এতে ৯নং সেক্টর কমান্ডার এম এ জলিল ও ক্যাপ্টেন তোফাজ্জেলসহ প্রায় ১৫০ জন মুক্তিযোদ্ধা অচেনা শ্যামানগরের গাবুরা ঢুকে পড়ে এবং হতবিহ্বাল হয়ে নিরাপদ স্থানে চলে যেতে থাকে। খান সেনাদের দোসর স্থানীয় সোহরাব হাজীর হাতে এম এ জলিলসহ কয়েকজন ধরা পড়ে। পরে কৌশলে তারা পালিয়ে যেতে পারলেও একই এলাকার ওয়াজেদ জোয়াদ্দারের হাতে ধরা পড়ে ১১ জন মুক্তিযোদ্ধা। তাদের পাক ক্যাম্পে পাঠানো হলে তারা শহীদ হন। মুক্তিযোদ্ধারা শ্যামনগর থানা লুট করে ৩টি রাইফেল, ২টি রিভলবার ও ১টি পাইপগান নিয়ে নেয়। ১৯৭১ সালের ১৯ আগস্ট শ্যামনগরের অভিযানে মুক্তিযোদ্ধাদের ৪ জন শহীদ হন এবং কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হন। মুক্তিযোদ্ধাদের গুলিতেও ৩ জন খান সেনা নিহত হয় এবং কয়েকজন আহত হয়। এছাড়া শ্যামনগরে ভেটখালী যুদ্ধ, সুন্দরবনের নদীতে পাক গানবোটে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিহত করার বীরত্ব কাহিনী, রামজীবনপুরে ভয়ংকর রাজাকার কমান্ডার মাও. আব্দুস সাত্তারকে গুলি করে হত্যা, নওয়াবেঁকি বাজার রাজাকার ক্যাম্পে আক্রমন চালিয়ে এব রাজাকারকে গুলি করে হত্যা করে মুক্তিযোদ্ধারা। রাজাকার মুনসুর নির্মমভাবে হত্যা করে সুরেন বাবুকে। এমনি করে জানা-অজানায় বহু মানুষকে নির্যাতন করেছে, ঘর-বাড়ি জ্বালিয়েছে। ৯ সেপ্টেম্বরের হরিনগরের গণহ্যতার কথা আজও মানুষের কাছে চির স্মরণীয় হয়ে রয়েছে।
সাতক্ষীরা সদর: সারাদেশের ন্যায় তৎকালীন সাতক্ষীরা মহকুমা শহরের শুরু হয়ে যায় মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি। এপ্রিল ’৭১ এর মাঝামাঝি সাতক্ষীরা সংগ্রাম পরিষদ-এর নেতৃবৃন্দ খুলনার পাইকগাছার এম এন এ আব্দুল গফুর (সাতক্ষীরা সদরের ব্রহ্মরাজপুর ইউপি’র তৎকালীন চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সরদারের জামাতা) ইপিআর এর সুবেদার আইযুর আলীর নেতৃত্বে সশস্ত্র কিছু যুবক ইপিআর এবং সংগ্রাম পরিষদের বেশ কিছু সংগ্রামী যুবক নেতা ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান এর সাতক্ষীরা শাখা অপারেশন করে পৌনে ২ কোটি এবং বহু সোনাদানা নিয়ে দ্রুত জীপ গাড়ীতে করে ভারতে চলে যান। এই টাকা প্রথম প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের কোষাগারে জমা হয়। এই টাকা পেয়ে মুজিবনগর সরকার নব উদ্যমে যুদ্ধ পরিচালনার উৎসাহ পায়। এ খবর পেয়ে যায় খান সেনারা। দ্রুত সাতক্ষীরায় চলে আসে। যশোর থেকে কলারোয়া হয়ে সাতক্ষীরা আসার পথে সদরের ঝাউডাঙ্গা বাজারে পৌছালে ভারতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে খুলনা ও যশোর জেলা থেকে আগত শরণার্থী দলের ওপর গুলিবর্ষণ করে। তাতে বহু হিন্দু নারী-পুরুষ নিহত হয়। এদের মধ্যে মৃত এক মায়ের বুকে জীবিত এক শিশু দুধ খাচ্ছিল। পরে পার্শ্ববর্তী গ্রামের একজন শিশুটিকে নিয়ে যায় এবং লালন পালন করে। এ ছাড়া ২১ এপ্রিল শহরের টাউন হাইস্কুলে (বর্তমানে সরকারি উচ্চ বালক বিদ্যালয়) আশ্রিত শরণার্থীদের ওপর গুলি করে বহু লোককে হত্যা করে। পরে পার্শ্ববর্তী দীনেশ নামের এক কর্মকারের বাড়িতে গর্ত করে নিহতদের মাটি চাপা দেয়া হয়। পরদিন ২১ এপ্রিল শহরের কয়েকটি বাড়িতে যেয়ে কয়েকজনকে হত্যা করে এবং বাড়ি-ঘরে আগুন জ্বালিয়ে দেয়। সারা শহর ফাঁকা। থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। অজানা আতঙ্কে কাটায় শহরবাসি। এরপর সাতক্ষীরার পশ্চিম সীমান্ত তৎকালীন ভারত-পাকিস্তান সীমান্ত ভোমরায় ২৯ এপ্রিল পাক সেনাদের সাথে মুক্তিবাহিনীর ১৮ ঘন্টাব্যাপী প্রচন্ড যুদ্ধ হয়। এতে আবুল কাশেমসহ কয়েকজন শহীদ হন এবং কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা গুরুতর আহত হন। একাত্তরের জুন মাসের মাঝামাঝি সদরের বৈকারীর পাক ক্যাম্প আক্রমণ চালিয়ে যুক্তিযোদ্ধারা ৭ জন খান সেনাকে হত্যা করে। এ ছাড়াও হরিণ খোলা গোয়ালপোতা গ্রামে অগ্নিসংযোগ ও নরকীয় হত্যাযজ্ঞ ঘটায়। এতে বহু লোককে নির্মমভাবে গুলি করে হত্যা করা হয়। শহরের অনতিদূরে মাছখোলা বাজারে ৩ জনকে গুলি করে হত্যা করে খান সেনারা। এটা সেপ্টেম্বররে শেষ দিকের ঘটনা। এরা হচ্ছে- আশাশুনির সরাপপুরের কেষ্টপদ দাশ, তারাপদ ও মেঘনাদ। এ ছাড়া মাটিয়াডাঙ্গা খেয়াঘাটের কাছে এক হৃদয় বিদারক কাহিনী রয়েছে। রাজাকার ও পিচ কমিটির লোকজন শরণার্থীদের নৌকার বহর আটক করে সোনাদানা লুটপাট করার সময় কয়েকজনকে ধরে শহরে নিয়ে যায়। মালামাল লুটের সময় এক শিশু নদীতে পড়ে চিরতরে হারিয়ে যায়। হিন্দু অধ্যুষিত গোয়ালপোতা গ্রামে যেয়ে খান সেনারা কয়েকজনকে গুলি করে হত্যা করে এবং গ্রামের অধিকাংশ বাড়ি জ্বালিয়ে দেয়। গোলা ভর্তি ধান কয়েকদিন ধরে পুড়ে অবশেষে ছাই হয়ে যায়। নভেম্বরের দিকে এক রাত সাতক্ষীরার একমাত্র বিদ্যুৎ সরবরাহ কেন্দ্রটি মুক্তিযোদ্ধাদের একটি দল অতি গোপনে যেয়ে মাইন পেতে রেখে আসে। পরে প্রচন্ড বিস্ফোরণে তা’ ধ্বংস হয়। তৎকালীন ব্রহ্মরাজপুর ইউপি চেয়ারম্যান পুত্র নজরুল ইসলাম হারু কে খান সেনাদের গাড়ীর পিছনে বেঁধে তাকে নির্মমভাবে নির্যাতন করা হয়। যা’ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের পাতায় চির ভাস্বর হয়ে রয়েছে। এমন শত শত নির্মম নির্যাতনের ঘটনা এখনও মানুষের মুখে মুখে।
কালিগঞ্জ: সাব-সেক্টর কমান্ডার ক্যাপ্টেন নূরুল হুদার নেতৃত্বে একাত্তরের জুন মাসে কালিগঞ্জের বসন্তপুরে অবস্থিত পাক সেনাদের ক্যাম্পে অপারেশন চালিয়ে মুক্তিযোদ্ধারা বীরত্বের সাথে ২০ জন খান সেনাকে খতম করে। এই ক্যাম্প থেকে বহু অস্ত্র ও গোলাবারুদ সংগ্রহ করে। উকশা গ্রামে মুক্তিযোদ্ধারা মাইন পুতে রাখলে তা’ বিস্ফোরণে কয়েকজন খান সেনা নিহত হয়। এছাড়া জুলাই মাসে খানজিয়া যুদ্ধ, পিরোজপুর যুদ্ধ এবং সেপ্টেম্বরে ব্যাংক অপারেশন করে ব্যাংক থেকে বন্দুক সংগ্রহ করে। কালিগঞ্জের খেয়াঘাটের পাশে ধ্রুব মিস্ত্রী (পাগল ডাক্তার) কে চরে পুতে ই্ট মেরে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। ১৮ মভেম্বর কালিগঞ্জ ওয়াপদা কলোনীতে খান সেনাদের সাথে যুদ্ধ হয়। খান সেনারা অবশেষে পিছু হটে যেতে বাধ্য হয়। এ জন্য এ দিনটিতে কালিগঞ্জে বিজয় দিবসের মত উল্লাস ছড়িয়ে পড়ে।
দেবহাটা: দেবহাটার টাউন শ্রীপুরের যুদ্ধ ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। টাউন শ্রীপুরের গা ঘেষে ইছামতি নদী। পশ্চিমে ভারতের টাকী। এ পারে খান সেনা ওপারে মুক্তিযোদ্ধা। নদী পার হয়ে ৩ বাড়িতে গোপনে পালিয়ে থাকা মুক্তিযোদ্ধার দল। এক মুয়াজ্জীন খবর দেয় দেবহাটার পাক সেনাদের ক্যাম্পে। দ্রুত তারা চলে এসে প্রচন্ড গুলিবর্ষণ শুরু করে। একটি সজনে গাছে উঠে প্রথম গুলি চালায় ক্যাপ্টেন শাহাজান মাষ্টার। শুরু হয় যুদ্ধ। এতে ১৪ জন শহীদ হন এবং কয়েকজন গুরুতর আহত হয়। এ যুদ্ধে ৭/৮ জনের লাশ খুজে পাওয়া যায়নি। মুক্তিযোদ্ধা নাজমুল সহ কয়েকজনকে নদীর চরে কবর দেওয়া হয়।
তালা: তালার মাদরা, মাগুরা ও বাথুয়াডাঙ্গা সাতক্ষীরার পূর্বাংশের এলাকা ঐতিহাসিক কপোতাক্ষ নদ তীরবর্তী এই ৩টি এলাকা ছিলো মূলত মুক্তিযোদ্ধাদের দখলে। তারপরও খান সেনাদের সাথেসম্মুখ আত্রমণ ও যুদ্ধ হয়। এর মধ্যে মাগুরার যুদ্ধ অন্যতম। এই যুদ্ধে আবু বক্কার, আব্দুল আজিজ ও সুশীল সরকার শহীদ হন। তাদেরকে যুদ্ধ ক্ষেত্রের পাশে একটি বাগানে মাটি খুঁড়ে চাপা দেওয়া হয়। আজও সেই গণকবরটি অযতেœ অবহেলায় রয়েছে। রাজাকারদের সাথে তারা কলারোয়ার সীমান্তের বাটরা কুশোডাঙ্গায় দিনভর যুদ্ধ চলে। তালার ঐতিহ্যবাহী বাণিজ্যকেন্দ্র পাটকেলঘাটায় হত্যাযজ্ঞ চলে। চালানো হয় ব্যাপক অত্যাচার ও নির্যাতন। হরিণখোলা ট্রাজেডির কাহিনী আরও দু:খজনক। খান সেনারা আগুন জ্বালিয়ে দিয়ে পাখির মত গুলি করে হত্যা করে নিরীহ গ্রামবাসিকে। একজনকে জীবন্ত অবস্থায় ধরে বেয়নেট দিয়ে তার চোখ দুটো তুলে ফেলে। দুটো চোখ যখন মাটিতে নাচছিল তখন তার স্ত্রী-কন্যা তা দেখেছিল। বসন্ত রোগে আক্রান্ত গ্রামবাসির বহু লোক খালে যেয়ে পালিয়ে ছিল। মাছে সেই বসন্ত খুটে খুটে খেয়েছিল। উল্লেখ্য, আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগেই তালার পল্লী মেসেরডাঙ্গী এলাকায় কমরেড আজমল ও তার সহযোগী বামপস্থীদের আস্তানা গড়ে ওঠে। সেখান থেকে তারা এলাকা মুক্ত করার কাজে নিয়োজিত ছিল। এছাড়া সাতক্ষীরার সীমান্তবর্তী যশোর জেলার সাগরদাঁড়ীর চিংড়ি ক্যাম্পের রাজাকাররা তালার কুমিরা ও সেনপুরে ব্যাপক নির্যাতন চালায় ও অগ্নিসংযোগ করে। ৩ জন যুবক কপোতাক্ষ পার হওয়ার সময় তাদের ডাকা হয়। ১ জন ফিরে আসেনি। বাকী দু’জনকে গুলি করে হত্যা করে।
আশাশুনি: ১৯৭১’র ১৫ আগস্ট মংলা বন্দর অপারেশন শেষে নৌকাযোগে ভারতে ফেরার পথে বুধহাটায় পৌছালে বেতনা নদীর বুকে রাজাকারদের দ্বারা ঘেরাও হয়। চলে গোলাগুলি। এতে সাতক্ষীরা শহরের ছাত্র মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুলসহ কয়েকজন শহীদ হন। খোলপেটুয়া নদীতে কেয়ারগাতির কাছে খান সেনাদের সাথে সম্মুখ যুদ্ধ হয়। এর কিছু পূর্ব দিকে গোয়ালডাঙ্গা গ্রামে বীর মুক্তিযোদ্ধা স. ম বাবর আলীর নেতৃত্বে এক যুদ্ধ হয়। এ যুদ্ধে কয়েকজন রাজাকার অস্ত্রসহ ধরা পড়লেও তালার মনোরঞ্জন ও গোয়ালডাঙ্গার গাজী ভাই শহীদ হন। আশাশুনি থানা সদরের কাছে চাপড়া রাজাকার ক্যাম্পে মুক্তিযোদ্ধারা আক্রমণ করলে কয়েকজন রাজাকার হতাহত হয়।
কলারোয়া: ৮ নং সেক্টরের অধীনে কলারোয়া অঞ্চল। সীমান্ত পথের এই কলারোয়াতে সম্মুখ যুদ্ধ ও গেরিলা যুদ্ধ সংঘটিত হয়। এর মধ্যে কাকডাঙ্গা, মাদরা, হিজলদী, বেলেডাঙ্গা, নাথপুর, খোর্দ্দ ও ইলিশপুরের যুদ্ধ উল্লেখযোগ্য। এসব যুদ্ধে বহু মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন এবং আহত হন বহু মুক্তিযোদ্ধা। অন্যদিকে এসব যুদ্ধে বহু খানসেনা ও রাজাকার হতাহত হয়। ১৯ এপ্রিল খান সেনাদের কমান্ডার কলারোয়া পৌছে মাহমুদপুর গ্রামের আফছার আলীকে প্রথম গুলি করে হত্যা করে। এরপর তারা মুরারীকাটী পালপাড়ায় যেয়ে ৯ জনতে নির্মমভাবে হত্যা করে। নয় মাস ধরে কলারোয়ার বহু মানুষেকে তারা গুলি করে হত্যা করে। এসব গণকবরের মধ্যে উল্লেখযোগ্য গয়ড়ার গণকবর, কলারোয়া সদরের গণকবর, মুরারীকাটি শ্রীপতিপুরের গণকবর, বেলেডাঙ্গার গণকবর, বামনখালী ও সোনাবাড়িয়ার গণকবর। লাউডুবীর রজো হত্যা, সোনাবাড়িয়ার হাজরা গাঙ্গুলী ও শিবু পোদ্দারের হত্যা, বামনখালীর রাজকুমার, খগেনসহ কয়েকজনকে হত্যা, পাঁচপোতা গ্রামের আমিনুল ইসলাম, পাঁচনল গ্রামের মতিয়ার রহমান ও আব্দুর রশীদকে হত্যাসহ বহু মানুষকে নির্বিচারে গুলি করে হত্যা করা হয়। কলারোয়ার তাৎকালীন জাতীয় পরিষদ সদস্য মমতাজ আহম্মদ স্বাধীন বাংলা সংগ্রাম পরিষদের ভাষা সৈনিক আহমদ হোসেন খান, ভাষা সৈনিক বাগ্মী শেখ আমানউল্যাহ, বিএম নজরুল ইসলাম, শ্যামাপদ শেঠ, তারকনাথ ঘোষ, মো. মোসলেম উদ্দীনসহ বেশ কয়েকজন ব্যক্তির নতৃত্বে কলারোয়ার মাটি মুক্তিযুদ্ধের সময় দুর্জয় ঘাটি হিসেবে চিহ্নিত হয়। নারী ধর্ষণ, নারী নির্যাতন, অগ্নি সংযোগের মত নারকীয় ঘটনা ঘটায় খান সেনারা। দমদম বাজারের খান সেনাদের বাঙ্কার থেকে স্তন কর্তন অবস্থায় মহিলার লাশ উদ্ধার করা হয়। বহু গ্রামে ঢুকে যে সব গৃহবধূ ও যুবতী মেয়েদেরকে ধর্ষণ করা হয় তার কাহিনী লোমহর্ষক। বহু ত্যাগ তিতিক্ষা আর সংগ্রামের মধ্যদিয়ে ৭১’র ৬ ডিসেম্বর কলারোয়া মুক্ত হয়। এর পরদিন সাতক্ষীরা থেকে খান সেনারা চলে গেলে ৭ ডিসেম্বর গোটা সাতক্ষীরা মুক্তাঞ্চলে পরিণত হয়। এর কয়েকদিন পর শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কের এক মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশে সাতক্ষীরা শহরকে কাজলনগর, মিলনী (লাবনী) সিনেমা হলকে শহীদ মিলনায়তন, সাতক্ষীরা কলেজকে নাজমুল মহাবিদ্যালয়সহ মুক্তিযোদ্ধাদের নামে অনেক সড়কের নামকরণও করা হয়।

কালিগঞ্জে চেয়ারম্যান সাঈদ মেহেদী, নাজমুল ও দিপালী ভাইস চেয়ারম্যান

নিয়াজ কওছার তুহিন: সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে রবিবার (২৪ মার্চ) কালিগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ও ভয়ভীতিমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা হলেও উপজেলার ১২ ইউনিয়নের ৭৮ টি কেন্দ্রের অধিকাংশতে ভোটারদের উপস্থিত ছিল কম। উপজেলার বন্দকাটি, এম.এমপুর চৌমুহনী, ফতেপুর, নামাজগড়, ইন্দ্রনগরসহ কয়েকটি কেন্দ্রে মহিলা ভোটারদের ভিড় থাকলেও পুরুষদের উপস্থিতি তুলনামূলক কম ছিল।
উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, কালিগঞ্জ উপজেলার ১২ ইউনিয়নের মোট ভোটার ২ লক্ষ ১৭ হাজার ৭০৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লক্ষ ৯ হাজার ৯১৬ এবং মহিলা ভোটার ১ লক্ষ ৭ হাজার ৭৯০ জন। ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন ১ লক্ষ ৩ হাজার ৪৩০জন। ভোট প্রদানের হার শতকরা ৪৭ দশমিক ৩৮ ভাগ। নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে তিনজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেন। বাতিল ভোটের সংখ্যা ২ হাজার ৩৩০ টি। ৫৬ হাজার ৮৩৮ ভোট পেয়ে বেসরকারি ভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাঈদ মেহেদী (ঘোড়া প্রতীক)। নিকটম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ মেহেদী হাসান সুমন (আনারস) পেয়েছেন ৩৪ হাজার ৭৬৬ ভোট। আওয়ামী লীগ সমর্থিত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী অবসরপ্রাপ্ত এএসপি আলহাজ্জ্ব শেখ আতাউর রহমান পেয়েছেন ৯৪৯৬ ভোট।
ভাইস চেয়ারম্যান (পুরুষ) পদে প্রতিদ্বন্দ্বিকারী প্রার্থী ছিলেন ৭জন। ৪৩ হাজার ১৮১ ভোট পেয়ে ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি শেখ নাজমুল ইসলাম (তালা)। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি উপজেলা যুবলীগের সাবেক আহ্বায়ক ও উজ্জীবনী ইনস্টিটিউটের প্রধান শিক্ষক ফিফা রেফারী শেখ ইকবাল আলম বাবলু (বই প্রতীক) পেয়েছেন ২৬ হাজার ৬২২ ভোট। এছাড়া সাবেক ডেপুটি কমান্ডার আব্দুল হাকিম (টিয়া পাখি) পেয়েছেন ১১ হাজার ৫৪৬ ভোট, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ডিএম সিরাজুল ইসলাম (মাইক) পেয়েছেন ২ হাজার ২৮৯ ভোট। উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের সাবেক সভাপতি গাজী জাহাঙ্গীর কবির (উড়োজাহাজ) পেয়েছেন ৩ হাজার ৫১৯ ভোট, সাবেক যুবলীগ নেতা আব্দুল কুদ্দুস (টিউবওয়েল) পেয়েছেন ১২ হাজার ৩৯১ ভোট এবং মাছ ব্যবসায়ী আব্দুল হামিদ সরদার (চশমা) পেয়েছেন ৫৭৫ ভোট।
মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন চার প্রার্থী। ধলবাড়িয়া ইউনিয়ন মহিলা যুবলীগের সভানেত্রী সাবেক ইউপি সদস্য দিপালী রাণী ঘোষ (ফুটবল) ৩৬ হাজার ৬৭৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছে। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি বিষ্ণুপর ইউপি’র সাবেক সদস্য ফারজানা আক্তার আফি (হাঁস) পেয়েছেন ৩৪ হাজার ১৫৯ ভোট। এছাড়া উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী সাবেক ইউপি সদস্য জেবুন্নাহার জেবু (পদ্মফুল) পেয়েছেন ১৬ হাজার ৯৯১ ভোট এবং মিসেস আফসানা বেগম (কলস) পেয়েছেন ১০ হাজার ৩৩১ ভোট।

কালিগঞ্জে খাবার পানির সরকারি পুকুর পূণঃ খননের সময় পাড়ের বৃক্ষ নিধনের অভিযোগ

পত্রদূত ডেস্ক: কালিগঞ্জ উপজেলার ১নং কৃষনগর ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের দক্ষিণ রঘুনাথপুর গ্রামের দিঘি খননের নামে পাড়ে অবস্থিত বড়বড় গাছগুলি কেটে ফেলছেন ঠিকাদারের লোকজন। এঘটনায় এলাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসী জানান, জেলা পরিষদের মাধ্যমে পূণঃখননের জন্য ঠিকাদার নিয়োগ করে কাজ শুরু হয়েছে। কিন্তু ঠিকাদার কাজ শুরুর সময়ে ড্রেজার মেশিন ব্যবহার করে পুকুরের পাড়ে অবস্থিত বিভিন্ন ফলজ এবং দৃষ্টি নন্দন ও সুগন্ধি ফুল এবং ছায়াদানকারী বটবৃক্ষের ও অন্যান্য বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষের ব্যাপক ক্ষতিসাধন করছে। এরপর আবার এসব গাছ-গাছালি কেটে ফেলা হচ্ছে এবং স্থানীয় দু-একজন কুচক্রী মহলের সহযোগিতায় আত্মসাৎ করার চেষ্টা করছে। এখানে উল্লেখ্য যে, এসব গাছ-গাছালি বিভিন্ন সময়ে অত্র মহল্লার বৃক্ষ প্রেমিক এবং গরীব মানুষেরা রোপন করে। প্রান্তিক এলাকার মানুষ, লেখা-পড়ায় পিছিয়ে থাকার কারণে এবং সচেতনতার অভাবে মানষিকভাবে অসহায়বোধ করছে। সংশ্লিষ্ট স্বার্থান্বেষী এবং কুচক্রী মহল সেই সুযোগটাই গ্রহণ করছে।

জেলা প্রশাসকের নির্দেশে কালিগঞ্জের ধুলিয়াপুর হাইস্কুলের নির্বাচন স্থগিত

বিশেষ প্রতিনিধি: জেলা প্রশাসকের নির্দেশে অবশেষে স্থগিত হলো কালিগঞ্জের ধলবাড়িয়া ইউনিয়নে অবস্থিত ধুলিয়াপুর আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অভিভাবক সদস্য নির্বাচন। নতুন ম্যানেজিং কমিটি গঠনের লক্ষ্যে অভিভাবক প্রতিনিধি নির্বাচনের জন্য ২১ মার্চ বৃহস্পতিবার উক্ত নির্বাচনের দিন ধার্য ছিল। একটি মহল বিশেষ সুবিধা নেয়ার লক্ষ্যে আগামী ২৪ মার্চ অনুষ্ঠিতব্য উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের মাত্র দু’দিন আগে এই নির্বাচন অনুষ্ঠানের পায়তারা চালাতে থাকে। নির্বাচনের দিন পরিবর্তনে জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সংশ্লিষ্ট প্রিজাইডিং অফিসার বরাবর আবেদন জানানো হলেও নির্বাচনের দিন পরিবর্তনের ব্যাপারে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় বর্তমান ম্যানেজিং কমিটির বিদ্যুৎসাহী সদস্য এড. হাবিব ফেরদাউস শিমুল জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত আবেদন জানান। তার আবেদনের প্রেক্ষিতে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কালিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে নির্দেশনা প্রদান করেন। সে অনুযায়ী কালিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার সরদার মোস্তফা শাহিন ৫ম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের কারণ দেখিয়ে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ধুলিয়াপুর আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি গঠনের নিমিত্তে নির্বাচন কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা করেন। এবিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্বাচনের প্রিজাইডিং অফিসার ও উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মনোজিত কুমার মন্ডলকে গত ১৮ মার্চ ০৫.৪৪.৮৭৪৭.০০০.২২.০১/১৮-৩৫৯ নং স্মারকে নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

কালিগঞ্জে তাঁতীলীগের ১৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

বিশেষ প্রতিনিধি: কালিগঞ্জে তাঁতীলীগের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে কেক কাটা ও আলোচনা সভা মঙ্গলবার (১৯ মার্চ) বিকেল ৫ টায় উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ তাঁতী লীগের ১৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কেক কাটা ও আলোচনা সভায় তাঁতীলীগের আহ্বায়ক জাহিদ হাসানের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব জাকির হোসাইনের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন ধলবাড়িয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সজল মুখার্জী, কুশুলিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি কাজী কাহফিল অরা সজল, উপজেলা তাঁতী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক সুকান্ত দাস, রতনপুর ইউনিয়ন তাঁতী লীগের সদস্য সচিব মুন্না, মথুরেশপুরের সদস্য সচিব ওমর আলী প্রমুখ। এসময় উপজেলা ও ইউনিয়ন তাঁতী লীগের বিভিন্ন পর্যয়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

কালিগঞ্জে তুলার গুদামে অগ্নিকা-: লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি

বিশেষ প্রতিনিধি: কালিগঞ্জে তুলার গুদামে আগুন লেগে লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার মৌতলা ইউনিয়নের পূর্ব পানিয়া গ্রামে। কালিগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্স এর স্টেশন অফিসার আতিয়ার রহমান জানান, বিকেল ৫টার দিকে পূর্ব পানিয়া গ্রামের মৃত আব্দুল গাজীর ছেলে আব্দুল গফ্ফার গাজীর মালিকানাধীন তুলার গুদামে আগুন লাগে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে যেয়ে প্রায় ২ ঘন্টা চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। ভুক্তভোগী আব্দুল গফ্ফার গাজী জানান, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে তুলার গুদামে আগুন দেওয়া হয়েছে বলে তিনি ধারণা করেছেন।

কালিগঞ্জে ডিবি’র অভিযানে ৮৫৮ বস্তা সরকারি চাল উদ্ধার

বিশেষ প্রতিনিধি: কালিগঞ্জে ডিবি পুলিশের অভিযানে দুস্থদের জন্য বরাদ্দকৃত ভিজিডি’র ৮৫৮ বস্তা চাল আটক হয়েছে। এঘটনায় অসাধু ব্যবসায়ী পালিয়ে গেলেও আটক হয়েছে চার কর্মচারী।
জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সাতক্ষীরা ডিবি পুলিশের উপ-পরিদর্শক বিপ্লবের নেতৃত্বে সঙ্গীয় ফোর্স মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উপজেলার তারালী ইউনিয়নের জাফরপুর গ্রামের মৃত কালু গাজীর ছেলে আব্দুস সাত্তারের (৪৬) গোডাউনে অভিযান পরিচালনা করেন। তারালী বাজার সংলগ্ন ওই গোডাউন থেকে জব্দ করা হয় ৮৫৮ বস্তা ভিজিডি কার্ডের আওতায় বরাদ্দকৃত সরকারি চাল। খাদ্য অধিদপ্তরের উদ্যোগে ‘শেখ হাসিনার বাংলাদেশ ক্ষুধা হবে নিরুদ্দেশ’ স্লোগানে সরকারিভাবে দুস্থদের সহায়তার জন্য বরাদ্দকৃত এসব চাল সাধারণ বস্তায় ঢুকানোর সময় হাতেনাতে আটক করা হয় চার কর্মচারীকে। আটককৃতরা হলো উপজেলার তারালী ইউনিয়নের পাইকাড়া গ্রামের জাফর আলী সরদারের ছেলে মিজানুর রহমান (৩০), একই গ্রামের মোনাজাত আলী গাজীর ছেলে ডাবলু গাজী (২৮), মৃত মোহর আলী গাজীর ছেলে মোনাজাত আলী গাজী (৫৫) ও জাফরপুর গ্রামের মফেল মোল্যার ছেলে সাদ্দাম হোসেন (২৮)। ৩০ কেজি ওজনের ৫শ’ বস্তা, সাধারণ বস্তায় ঢুকানো ৫৮ বস্তা চাল ও খোলা অবস্থায় ৩শ’ বস্তা পরিমাণ চাল জব্দ করা হয়। এসব চাল খুলনার কয়রা থেকে একটি ট্রাকে করে সোমবার সকাল ৭টার দিকে এলাকার চিহিৃত চোরাকারবারী, মাদক ব্যবসায়ী ও অবৈধ মজুতদার আব্দুস সাত্তারের গোডাউনে ঢোকানো হয়। জব্দকৃত চাল তারালী ইউপি চেয়ারম্যানে জিম্মায় প্রদান করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছিল।