সুন্দরবনের ত্রাস জলদুস্য করিম বাহিনীর প্রধান গ্রেপ্তার

আব্দুল হালিম, বুড়িগোয়ালিনী: সুন্দরবনের ত্রাস, জলদস্যু করিম বাহিনীর প্রধান আব্দুল করিম (৩০) কে গ্রেপ্তার করেছে বনবাহিনী। রোববার দুপুরে তাকে শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের নাপিতখালি এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত জলদস্যু আব্দুল করিম শ্যামনগরের চাদনিমুখা গ্রামের এলাহী বক্সের ছেলে। তার বিরুদ্ধে সুন্দরবনে চাঁদাবাজি অপহরণ, জেলে ও মৌয়ালহত্যাসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে বলে জানান, পশ্চিম সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের আংটিহারা ক্যাম্পের ওয়ারেন্ট অফিসার আজাদ।

আটুলিয়ায় ওয়ার্ড উন্নয়ন কমিটির প্রশিক্ষণ

মোস্তাফিজুর রহমান, আটুলিয়া (শ্যামনগর): আটুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদে ইউনিসেফের অর্থায়নে এবং রূপান্তরের বাস্তবায়নে ৪, ৫ ও ৬ নং ওয়ার্ড উন্নয়ন কমিটির ২ দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মসূচি রোববার শেষ হয়েছে।
এতে সভাপতিত্ব করেন ১০নং আটুলিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ডা. এ কে এম আব্দুল হামিদ। উপস্থিত ছিলেন ইউপি সদস্য মমতাজ উদ্দীন, হাবিবুর রহমান ও রিতা রানী। প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করেন ওয়ার্ডের বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ। প্রশিক্ষণে সহায়ক হিসাবে কাজ করেন ইউসি মাহি মোহন সরকার এবং ইউসি দেবদাস বর্মন, ওয়ার্ড প্রোগামার নার্গিছ, দিপক, শামসুর নাহার প্রমুখ।

কোস্ট গার্ডের অভিযানে বনদস্যু আমজাদ বাহিনীর এক সদস্য আটক

আছাদুল ইসলাম, গাবুরা (শ্যামনগর): শ্যামনগর উপজেলার সুন্দরবন সংলগ্ন গাবুরা এলাকা থেকে আব্দুর রহিম (২৮) নামের এক বনদস্যুকে কোস্ট গার্ডের সদস্যরা আটক করেছে। রোববার সকাল সাড়ে আটটার দিকে নাপিতখালী গ্রামের আজিজ হাওলাদারের বাড়ি থেকে আংটিহারা ক্যাম্পের ইনচার্জ ও ওয়ারেন্ট অফিসার আজাদের নেতৃত্বে তাকে আটক করা হয়। আটককৃত বনদস্যু গাবুরা ইউনিয়নের চাঁদনীমুখা গ্রামের এলাই গাজীর ছেলে।
কোস্টগার্ডের আংটিহারা ক্যাম্পের ইনচার্জ আজাদ জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আমজাদ বাহিনীর সদস্য আব্দুর রহিমকে আটক করা হয়েছে। সে তার কাছে ১টা এয়ারগান ও ২টা পাইপ গান থাকার কথা স্বীকার করেছে। তাকে শ্যামনগর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে কোস্টগার্ড সূত্র জানিয়েছে।
আটককৃত আব্দুর রহিম তার সহযোগী হিসেবে একই এলাকার মুজিবর, আদম আলী ও ফরহাদের নাম উল্লেখ করেছে বলেও কোস্টগার্ড সূত্র নিশ্চিত করেছে।

শ্যামনগরে যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূকে পিটিয়ে জখম, মরে গেছে গর্ভের শিশু

নিজস্ব প্রতিনিধি: যৌতুকের দাবি পূরণ করতে ব্যর্থ হওয়ায় ৫ মাসের অন্তঃসত্তা গৃহবধূকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করেছে যৌতুকলোভী পাষণ্ডরা। মারপিটের কারণে নষ্ট হয়েছে ওই গৃহবধূর গর্ভের শিশু। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে সারা শরীরে আঘাতের চিহ্ন নিয়ে যন্ত্রণায় ছটফট করছেন সেই হতভাগ্য ওই গৃহবধূ। নাম তার খাদিজা খাতুন (২৩)।
খাদিজা খাতুনের পিতা জেলার শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের চকবারা গ্রামে আবু তালেব শেখ ডুকরে কেঁদে উঠে চোখ মুছতে মুছতে বলেন, বছর খানেক আগে পার্শ্ববর্তী মধ্য খলসেবুনিয়া গ্রামের আবুল মোড়লের ছেলে রফিকুল ইসলামের (২৮) সাথে খাদিজা খাতুনের বিয়ে হয়। বিয়ের পর বিভিন্ন সময়ে একলক্ষ টাকা যৌতুকের দাবিতে নির্যাতন করে আসছিল সে। মেয়ের সুখ শান্তির কথা ভেবে গরু-ছাগল, হাঁস-মুরগি ও একটি নৌকা বিক্রি করে ৬০ হাজার টাকাও দিয়েছিলেন জামাই রফিকুল ইসলামের হাতে। তাতেও শেষ রক্ষা হয়নি। যৌতুকের পুরো টাকা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় গত মঙ্গলবার দুপুরে ৫ মাসের অন্তঃসত্তা খাদিজা খাতুনকে তার স্বামী রফিকুল ইসলাম, ভাসুর আমিনুর রহমান, শ্বশুর আবুল মোড়ল ও শ্বাশুড়ি মনোয়ারা বেগম বেধড়ক পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। আহত খাদিজা খাতুন নির্যাতনের শিকার হয়ে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকলে রাত ৮টার দিকে তার জ্ঞান ফিরলে প্রতিবেশিরা জানতে পারে। পরদিন বুধবার এ অবস্থায় স্বামীর বাড়ি থেকে বের করে দেয়া হয় মারাত্মক অসুস্থ খাদিজা খাতুনকে। গ্রামবাসীর সহযোগিতায় খাদিজা খাতুনকে ভর্তি করা হয় শ্যামনগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। সেখানে তার গর্ভের সন্তান মরা অবস্থায় প্রসব হয়। এ সময় তার শরীর থেকে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হতে থাকে। ক্রমে অবস্থার অবনতি হতে থাকলে শুক্রবার গুরুতর অসুস্থ খাদিজা খাতুনকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। বর্তমানে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে শরীরে অসংখ্য স্থানে আঘাত ক্ষতচিহ্ন নিয়ে যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে অসহায় খাদিজা খাতুন। এ ব্যাপারে শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ জানান, এ ব্যাপারে কেউ লিখিত কমপ্লেন করেনি। তবে কমপ্লেন পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেব।

আটুলিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি নির্বাচিত হলেন মোস্তফা মাহমুদ

মোস্তাফিজুর রহমান, আটুলিয়া (শ্যামনগর): উপজেলার ৩৯নং আটুলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচনে সভাপতি পদে মোস্তফা মাহমুদ ৭ জন সদস্যের ভোট পেয়ে আগামী তিন বছরের জন্য বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হন। পরিচালনা কমিটির এগারজন সদস্য নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।

শ্যামনগর উপজেলা ভূমি কমিটির সভা

সুন্দরবনাঞ্চল (শ্যামনগর) প্রতিনিধি: বৃহস্পতিবার শ্যামনগর উত্তরণ কার্যালয়ে উপজেলা ভূমি কমিটির এক সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় উপজেলা ভূমি কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করে অধ্যক্ষ আশেক ই-এলাহীকে আহবায়ক ও বদরুজ্জামানকে সদস্য সচিব করে ২৫ সদস্য বিশিষ্ট আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়।
কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক শেখ হারুনর রশিদ, মাস্টার নজরুল ইসলাম, মুক্তিযোদ্ধা এমএ মজিদ, অধ্যাপক শাহানা হামিদ, অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল ফারুক, অধ্যাপক জাফরুল আলম বাবু, অধ্যাপক আবু সাইদ, রিপোর্টার রনজিৎ বর্মন, ইউপি সদস্য এস কে সিরাজ, এড.জি এম মুনসুর রহমান, হাফেজ আব্দুর রশিদ, মুক্তিযোদ্ধা নুরুউদ্দীন, স ম মাহবুব এলাহী, মুক্তিযোদ্ধা হাবিবুর রহমান, ডা. আলী আশরাফ, ছফুরা বেগম, সোহেলী পারভীন ঝর্ণা, সফুরা বেগম প্রমুখ।
সভায় শ্যামনগর উপজেলার জলাবদ্ধতা নিরসনে এমপি বরাবর স্মারকলিপি প্রদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণসহ এ বিষয়ে ৫ সদস্য বিশিষ্ট একটি আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়। এ ছাড়া বিগত চার বছরে ভূমি কমিটির কার্যক্রম বিষয়ক প্রতিবেদন পেশ করেন উত্তরণ শ্যামনগর কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক বদরুজ্জামান।

কৈখালীতে বিশ্ব শিশু শ্রম নিরোধ দিবস পালিত

ফারুক হোসেন (কৈখালী): শ্যামনগর উপজেলার কৈখালী ইউনিয়নের ৮নং ওযার্ডের নিদয়া রেজিস্টার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক শিশুশ্রম নিরোধ দিবস উপলক্ষে গত বুধবার সকাল ১০টায় এক বর্ণাঢ্য র্যালী ও আলোচনা সভা উনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, প্রতিটি শিশুরই সুরক্ষা পাওয়ার এবং বিকাশ লাভের অধিকার রয়েছে। দেশের সংবিধান, শিশু অধিকার সনদসহ সকল ক্ষেত্রে শিশুর মৌলিক অধিকারের বিষয়ে জোর দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এ প্রক্রিয়া নানাভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ঝুকিপূর্ণ সব ধরণের কাজ থেকে শিশুদের দূরে রাখতে হবে। কাজের জন্য তাদের স্কুলে যাওয়া ব্যাহত হলে চলবে না। শিশুদের যৌন ব্যবসা, মাদক তৈরি ও পাচার, মৃত্যু বা অঙ্গহানির ঝুঁকি আছে এমন কোন কাজে ব্যবহার করা যাবে না।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রূপান্তরের সিফোরডি প্রকল্পের ম্যানেজার আমজাদ হোসেন বিশ্বাস। বিশেষ অতিথি ছিলেন শ্যামনগর উপজেলার এরিয়া ম্যানেজার কবিতা সানা, কৈখালী ইউনিয়ন কো-অর্ডিনেটর মনিমোহন সরকার, ওয়ার্ড প্রমোটর মাফুজা খাতুন, লুৎফর রহমান, মহিবুল্লাহ প্রমুখ। অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে কৈখালী ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ড উন্নয়ন কমিটি।

শ্যামনগরে চিংড়ি ডিপোতে অভিযান, লক্ষাধিক টাকা জরিমানা আদায়

সুন্দরবনাঞ্চল (শ্যামনগর) প্রতিনিধি: মঙ্গলবার শ্যামনগর উপজেলা মৎস্য দপ্তরের উদ্যোগে খুলনা মৎস্য পণ্য পরিদর্শন ও মান নিয়ন্ত্রণ মৎস্য অধিদপ্তর উপজেলার বংশীপুর বাজারে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেছে।

উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা কৃষিবিদ রাজ কুমার বিশ্বাস জানান, চিংড়ি পণ্যের গুণগত মান বজায় না রাখার জন্য বংশীপুর ৮টি চিংড়ি ডিপোতে অভিযান পরিচালনা করে মোট ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় ও ২০০ কেজি চিংড়ি নষ্ট করা হয়।

অভিযান পরিচালনাকালে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য পণ্য ও মান নিয়ন্ত্রণ মৎস্য অধিদপ্তর, খুলনার পরিদর্শক আবুল হাসান,  মনিরুল মামুন, আস-ওয়াদুল আলম, র‌্যাব-৬ এর ডিএডি আলী আহম্মেদ, শ্যামনগর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা রাজ কুমার বিশ্বাস, উপজেলা কোয়ালিটি এ্যাসুরেন্স কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম, শ্যামনগর চিংড়ি বণিক সমিতির সভাপতি এসএম হাবিবুর রহমান, সম্পাদক জিএম মুনসুর আলম প্রমুখ।

 

ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের স্কুলমুখি করতে মঞ্চ নাটক

কাশিমাড়ী (শ্যামনগর) প্রতিনিধি: ঝরেপড়া শিশুদের বিদ্যালয়মুখি করার জন্য শিশু ও অভিভাবকদের সচেতন ও আগ্রহী করে তুলতে কাশিমাড়ীতে মঞ্চ নাটকের আয়োজন করা হয়। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে গোবিন্দপুর গ্রামের মাস্টার মোস্তফা মোহম্মাদ আলীর বাড়িতে মঙ্গলবার বিকাল তিনটায় মতিন মিঞার সংসার নামের ওই নাটকটি মঞ্চস্থ হয়।

জাগরণী চক্রের প্রোগাম অর্গানাইজার আছাফুর রহমানের পরিচালনায় বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত শতাধিক ছেলেমেয়ে ও নারী পুরুষের উপস্থিতিতে জাগরণী চক্রের নাট্য গোষ্ঠী নাটকটি মঞ্চস্থ করে। নাটক পরবর্তীতে উপস্থিত ব্যক্তিরা তাদের ঝরেপড়া শিশুদের বিদ্যালয়ে পাঠানোর বিষয়ে সম্মত হয়।

 

৭১’এ গোলা বারুদ বহন করা কাঁধে ভিক্ষার ঝুলি টানছেন মুক্তিযোদ্ধা বরকত গাজী

রবিউল ইসলাম (শ্যামনগর): পাকবাহিনীর গুলি শরীরে বিদ্ধ হতেই মাটিতে লুটিয়ে পড়েন সুবেদার ইলিয়াস হোসেন খান। গোলা বারুদের বস্তা কাঁধে ইলিয়াসকে অনুসরণ করা বরকত গাজী দৌড়ে এসে গুলিবিদ্ধ ইলিয়াসের মাথা নিজের কোলে উঠিয়ে নেন। মৃত্যুপুরীর যাত্রী হতে চলা সুবেদার ইলিয়াস এসময় বরকতের কোলে শুয়ে দু’হাত উচিয়ে বরকতের মাথাটা জাপটে ধরে। এক মুহূর্তের জন্য বরকতের গলায় একটা চুুমু দিতেই নিস্তেজ হয়ে যায় তার দেহ। বরকতের গগণ বিদারী চিৎকারে সহযোদ্ধারা এগিয়ে এসে উদ্ধার করেন আরও তিন সহযোদ্ধার লাশের সাথে ইলিয়াস খানের মৃতদেহ।

১৯৭১ সালের ২১ নভেম্বর শুক্রবার কাক ডাকা সকালের এ ঘটনা বর্ণনা করতেই বরকত গাজীর দু’চোখ ভরে যায় অশ্রুতে। চোখ মুছেই তিনি আবার জানালেন, এমন অনেক ঘটনাই রয়েছে তার স্মৃতিতে। কিন্তু ঐসব ঘটনা মনে করলে নুতন করে কাঁদতে হয় বলে তিনি আর সেসব কথা মনে করতে চান না। আক্ষেপ ভরা কণ্ঠে তিনি বলেন, যে কাঁধে এক সময় দেশের শত্রুদের ধ্বংস করতে গোলা বারুদ টেনেছি, আজ সে কাঁধে ভিক্ষার ঝুলি।

শ্যামনগর উপজেলা পরিষদের ক্যাম্পাসের সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের বারান্দায় দেখা যায় মুক্তিযোদ্ধা বরকত গাজীকে। অসহায় ভঙ্গিতে ডান হাত বাড়িয়ে দিলে তার হাতে সেখানকার এক কর্মচারী দশ টাকার একটা নোট ধরিয়ে দেন। তাতেই বেজায় খুশি মুক্তিযোদ্ধা বরকত হাস্যোজ্জ্বল হয়ে ঐ অফিস থেকে বের হয়ে চলে যান আর এক অফিসে। কেউ দিচ্ছে আবার অনেকেই দিচ্ছে না।

সবাই বরকত গাজীকে চিনছে একজন ভিক্ষুক হিসেবে। কিন্তু তিনি যে আজকের স্বাধীন বাংলাদেশের জন্মদাতাদের একজন, সে কথা অনেকেরই অজানা। অভাবের তাড়নায় আজ সংসার চালাতে মানুষের কাছে হাত পাততে হচ্ছে মুক্তিযেদ্ধা বরকতের।

ভিক্ষুক বনে যাওয়া মুক্তিযোদ্ধা বরকত গাজীর সাথে আলাপচারিতায় জানা যায়, ছয় মেয়ে আর তিন ছেলের পিতা বরকত গাজীকে আজও এগার সদস্যের খোরাক যোগাতে হচ্ছে। আক্ষেপ করে তিনি জানান, মাছ-তরকারি দরকার নেই। অন্তত দৈনিক তিন/সাড়ে তিন কেজি চাল না হলে তার বাড়ি ফেরা হয় না। বয়স পেরিয়ে গেলেও দুই মেয়েকে বিয়ে দিতে পারেনি যৌতুকের অভাবে। আর বিবাহিত দু’মেয়ে স্বামী পরিত্যক্তা হয়ে পিতৃগৃহে ফিরেছে তিন সন্তানকে নিয়ে। ছেলেরা নিজেদের সংসার চালাতেই হিমশিম খাচ্ছে। বাধ্য হয়ে এই বৃদ্ধ বয়সেও তাকে সংসারে বোঝা বইতে হচ্ছে বলে জানালেন, আশি বছর বয়সী এই মুক্তিযোদ্ধা।

মুক্তিযোদ্ধা ভাতা হিসেবে মাসে দুই হাজার টাকা হলো স্থায়ী উপার্জন। তাই সংসারের বোঝা বইতে তাকে মানুষের দ্বারে দ্বারে হাত পাততে হচ্ছে বলে জানালেন বরকত গাজী।

বরকত গাজীর সাথে কথা বলে জানা যায়, শুরুতে তিনি ডাকাতির সাথে জড়িত ছিলেন। কিন্তু একটা পর্যায়ে এসে নিজ দেশের মানুষের উপর পাক বাহিনীর বর্বরতা তাকে ক্ষুব্ধ করে তোলে। ইতোমধ্যে ডাকাতরা তার বাড়িঘর জ্বালিয়ে দিলে তিনি আঞ্চলিক কমান্ডার এসএম মিজানুর রহমানের (অবসর প্রাপ্ত উপ-সচিব) ডাকে সাড়া দিয়ে তিনি চলে যান ভারতে, প্রশিক্ষণের জন্য।

পর্যায়ক্রমে বিহার, বিরভূম ও টাটা এলাকায় প্রশিক্ষণ নেন তিনি। কৌশলগত কারণে সেখানে সনাতনী নাম পরিচয় ধারণ করে দেশে ফিরে সংযুক্ত হন ৯নং সেক্টরের কমান্ডার মেজর জলিলের বাহিনীতে। সেক্টর কমান্ডারের নির্দেশে তিনি এসএম মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে শ্যামনগর ও সুন্দরবন এলাকায় শত্রু বাহিনীর বিরুদ্ধে দুর্বার প্রতিরোধ গড়ে তোলেন সহযোদ্ধাদের সাথে মিলে।

এক সময় দেশ স্বাধীন হয়। অনেকেরই ভাগ্য বদলায়। কিন্তু ববরকতদের ভাগ্য আজও বদলাইনি। দেশের জন্য জীবনবাজি রেখে যুদ্ধ করা বরকত গাজী আজ পরিচিত একজন ভিক্ষুক হিসেবে। সকালে দেওল গ্রামের বাড়ি থেকে বের হয়ে পায়ে হেঁটে শ্যামনগর সদরে আসেন তিনি। পরিচিতদের সন্ধানে বসে থাকার সময় যদি কেউ একটা বিস্কুট বা এক কাপ চা খেতে দেয় তবে সকালের নাস্তা কপালে জোটে। না হলে উপোষ থেকেই রোজগেরে অভিভাবকের মতই তাকে মানুষের কাছে হাত পেতে কয়েক কেজি চালের টাকা আদায় করে বাড়ি ফিরতে হয়। মুক্তিযোদ্ধার ভাতা বাবদ প্রাপ্ত দু’হাজার টাকায় কিছু হয় না উল্লেখ করে বরকত জানান, তার সংসার চালানোর জন্য একটা স্থায়ী উপার্জনের ব্যবস্থা কেউ করে দিলে মৃত্যুর আগে শান্তি পেয়ে মরতে পারতাম।

 

ঈশ্বরীপুরে জমজমাট জুয়ার আসর বসছে

ঈশ্বরীপুর (শ্যামনগর) প্রতিনিধি: শ্যামনগরের দক্ষিণ শ্রীফলকাটি নীল আকাশ যুব সংঘ ও তার আশপাশের বাগানে প্রতিদিন দুপুর থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত জমজমাট জুয়ার আসর বসছে। সেখানে উঠতি বয়সের যুবক থেকে শুরু করে অনেক বৃদ্ধ বয়সী মানুষ সারাক্ষণ জুয়া খেলায় মেতে থাকে। যার কারণে একদিকে যুবকদের নৈতিক অবক্ষয় হচ্ছে। অপরদিকে বৃদ্ধি পাচ্ছে চোরের উপদ্রব। প্রতিদিনই চুরি হচ্ছে কোন না কোন বাড়িতে। নিয়ে যাচ্ছে তাদের উপার্জনের একমাত্র সম্বলটি। এ কারণে মানুষ রাতের বেলা নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারছে না। শুধু জুয়া খেলা শুধু নয়, সেই সাথে বসে গাঁজার আসর। এ কারণে যুবক ছেলেদের নিয়ে খুবই চিন্তিত আভিভাবকরা। বাড়ির মেয়েদেরকে নিয়েও চিন্তিত পরিবারের লোকজন। এখানে যারা আসে তাদের অধিকাংশই দরিদ্র পরিবারের দিন আনে দিন খায়। কোন রকমে শরীরে খেটে চলে তাদের পরিবার, কিন্তু সর্বনাশা জুয়া তাদের সেই আয় টুকু ছিনিয়ে নিচ্ছে প্রতিদিন। ফলে সংসারের চাহিদা পূরণে বার্থ হচ্ছে, একারণে তাদের সংসারের পিছু ছাড়ছে না অশান্তি। টাকার জন্য কেউ আবার নির্যাতন চালাচ্ছে তার স্ত্রী’র উপর। এসব কারণে ভেঙে যাচ্ছে অনেকের সাজানো সংসার। তাই এই ভয়াল কালো অধ্যায়ের হাত থেকে যে কোন মূল্যে বাচতে চাইছে এ এলাকার শান্তি প্রিয় মানুষ। তাদের আশা খুব দ্রুত তাদেরকে এই ভয়াল অধ্যায়ের হাত থেকে বাঁচাতে এগিয়ে আসবে স্থানীয় প্রশাসন ও আইন শৃংখলা বাহিনী।

 

শ্রীফলকাটিতে দুঃসাহসিক চুরি

ঈশ্বরীপুর (শ্যামনগর) প্রতিনিধি: ঈশ্বরীপুর ইউনিয়নের শ্রীফলকাটি গ্রামে দুঃসাহসিক চুরি সংঘটিত হয়েছে।

সূত্র জানায়, গত সোমবার রাতে শ্রীফলকাটি গ্রামের ছোলায়মান গাজীর পুত্র আব্দুল জলিলের বাড়িতে প্রবেশ করে দুর্বৃত্তরা নগদ ২০ হাজার টাকা, ৩ জোড়া সোনার দুল, ২টি সোনার আংটি, ৫টি নাকের নোলক ও ১ জোড়া রুপার নুপুরসহ প্রায় ১ লক্ষ ৩০ হাজার টাকার মালামাল নিয়ে গেছে। এ সময় দুর্বৃত্তরা পাশের বাড়ি থেকে ৮ হাজার টাকা মূল্যের একটি নতুন বাই সাইকেল ও একটি মাছ ধরার জাল নিয়ে যায়।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, আব্দুল জলিল শ্রীফলকাটি কওমী মাদ্রাসার শিক্ষক। সোমবার রাতে স্ত্রীর অসুস্থতার কারণে তিনি স্ত্রীকে নিয়ে নার্সিং হোমে ছিলেন। এই সেই সুযোগে দুর্বৃত্তরা তার বাড়িতে চুরি করে। বিষয়টি ইতোমধ্যে স্থানীয় ইউপি সদস্য ও ইউপি চেয়ারম্যানকে অবহিত করা হয়েছে।

ইনুর বাড়িতে হামলা: শ্যামনগর উপজেলা জাসদের প্রতিবাদ

তথ্যমন্ত্রী ও জাসদ সভাপতি জননেতা হাসানুল হক ইনুর বাড়িতে ককটেল হামলার তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদ শ্যমনগর উপজেলা শাখার নেতৃবৃন্দ।

বিবৃতিদাতারা হলেন, শ্যামনগর উপজেলা জাসদের সভাপতি শেখ হারূন-আর-রশীদ, সাধারণ সম্পাদক বিমল কুমার মন্ডল, জেলা কমিটির সদস্য অধ্যক্ষ আশেক-ই-এলাহী, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সহকারি কমান্ডর হাবিবুর রহমান হাবিল, মুক্তিযোদ্ধা ইমতাজ আলী, নওশের, বেতার শিল্পি গাজী গোলাম মোস্তফা প্রমুখ। নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে আক্রমণকারীদের গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবি জানান।

 

শ্যামনগরে ঐতিহাসিক ঘোড় দৌড় প্রতিযোগিতা

 

 

রনজিৎ বর্মন, সুন্দরবনাঞ্চল: রাজা প্রতাপাদিত্যের ইতিহাস খ্যাত রাজধানী সুন্দরবন সংলগ্ন শ্যামনগর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ধুমঘাট বিলে রোববার বিকালে অনুষ্ঠিত হলে গেল আকর্ষণীয় ঘোড় দৌড় প্রতিযোগিতা।

এলাকার সমাজ সেবক রফিকুল ইসলামের আয়োজনে এ ঘোড় দৌড় প্রতিযোগিতায় নড়াইল, মাগুরা, তালা, কলারোয়াসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বাছাই করা ১২টি ঘোড়া অংশগ্রহণ করে। অনুষ্ঠানে রমজাননগর ইউপি চেয়ারম্যান জিএম আকবর আলী অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। ঘোড় দৌড় অনুষ্ঠানে এলাকার দর্শকদের উপচেপড়া ভীড় ছিল।

প্রতিযোগিতায় নড়াইলের ইমরান শেখের ঘোড়া পঙ্খীরাজ সর্বোচ্চ পয়েন্ট পেয়ে ১ম স্থান, মাগুরা জেলার সাহেব মোল্যার ঘোড়া দুলদুল ২য় স্থান এবং শ্যামনগরের শ্রীফলকাটী গ্রামের কবির গাজীর ঘোড়া তুফানমেল ৩য় স্থান  লাভ করে।

ঘোড় দৌড় শেষে ১ম স্থান অধিকারীকে একটি গরু, ২য় স্থান অধিকারী কে ২১ ইঞ্চি রঙ্গিন টিভি ও ৩য় স্থান অধিকারীকে ১টি ছাগল উপহার দেওয়া হয়। প্রতিযোগিতার আয়োজক রফিকুল ইসলাম ও অতিথি চেয়াম্যান জি এম আকবর আলী বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন।

শ্যামনগরে ছাত্রদলের মিছিল ও পথসভা

বিএনপি’র সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নামে দায়েরকৃত মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে শ্যামনগর উপজেলা ছাত্রদল বিক্ষোভ মিছিল ও পথসভা করেছে। রোববার সকালে উপজেলা ছাত্রদলের উদ্যোগে বের হওয়া মিছিলটি উপজেলা সদরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

পরবর্তীতে উপজেলা মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিস্থম্ভ চত্বরের পথসভায় ছাত্রদল সভাপতি নাজমুল হকের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন ছাত্রদল নেতা জুলফিকার সিদ্দিকী, তৈয়েবুর রহমান, ইয়াছিন আরাফাত, আরিফ, জিয়া পরিষদ সাধারন সম্পাদক প্রভাষক মোক্তার আলী, তোফাজ্জল হোসেন প্রমুখ।

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন কাদের, তৈমুর, সোহেল, অলি, হাবিবুর, ফয়েজ, সজল, মুনিম, রায়হান, রবিউল, বাপ্পী, মোস্তাফিজ, বক্কার, মেহেদী, মোহন, হাসানুর, রিয়াদ, আব্দুল্লাহ প্রমুখ। প্রেস বিজ্ঞপ্তি

 

ঈশ্বরীপুরে জমজমাট জুয়ার আসর বসছে

ঈশ্বরীপুর (শ্যামনগর) প্রতিনিধি: শ্যামনগরের দক্ষিণ শ্রীফলকাটি নীল আকাশ যুব সংঘ ও তার আশপাশের বাগানে প্রতিদিন দুপুর থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত জমজমাট জুয়ার আসর বসছে। সেখানে উঠতি বয়সের যুবক থেকে শুরু করে অনেক বৃদ্ধ বয়সী মানুষ সারাক্ষণ জুয়া খেলায় মেতে থাকে। যার কারণে একদিকে যুবকদের নৈতিক অবক্ষয় হচ্ছে। অপরদিকে বৃদ্ধি পাচ্ছে চোরের উপদ্রব। প্রতিদিনই চুরি হচ্ছে কোন না কোন বাড়িতে। নিয়ে যাচ্ছে তাদের উপার্জনের একমাত্র সম্বলটি। এ কারণে মানুষ রাতের বেলা নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারছে না। শুধু জুয়া খেলা শুধু নয়, সেই সাথে বসে গাঁজার আসর। এ কারণে যুবক ছেলেদের নিয়ে খুবই চিন্তিত আভিভাবকরা। বাড়ির মেয়েদেরকে নিয়েও চিন্তিত পরিবারের লোকজন। এখানে যারা আসে তাদের অধিকাংশই দরিদ্র পরিবারের দিন আনে দিন খায়। কোন রকমে শরীরে খেটে চলে তাদের পরিবার, কিন্তু সর্বনাশা জুয়া তাদের সেই আয় টুকু ছিনিয়ে নিচ্ছে প্রতিদিন। ফলে সংসারের চাহিদা পূরণে বার্থ হচ্ছে, একারণে তাদের সংসারের পিছু ছাড়ছে না অশান্তি। টাকার জন্য কেউ আবার নির্যাতন চালাচ্ছে তার স্ত্রী’র উপর। এসব কারণে ভেঙে যাচ্ছে অনেকের সাজানো সংসার। তাই এই ভয়াল কালো অধ্যায়ের হাত থেকে যে কোন মূল্যে বাচতে চাইছে এ এলাকার শান্তি প্রিয় মানুষ। তাদের আশা খুব দ্রুত তাদেরকে এই ভয়াল অধ্যায়ের হাত থেকে বাঁচাতে এগিয়ে আসবে স্থানীয় প্রশাসন ও আইন শৃংখলা বাহিনী।