জেলায় ডেসটিনির গ্রাহকরা চরম হতশায়


প্রকাশিত : এপ্রিল ২, ২০১২ ||

আহাদুজ্জামান আহাদ, নলতা : ডেসটিনির গ্রাহকরা রয়েছেন চরম হতাশার মধ্যে। গ্রাহকদের মাঝে উদ্বেগ -উৎকন্ঠা বেড়েছে। আর গ্রাহকদের চাপে হোল্ডাররাও রয়েছে চাপের ভিতরে। প্রাপ্ত সূত্রে জানা যায়, গত কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে ডেসটিনি সমন্ধে দূর্নীতির সংবাদ প্রকাশ হওয়ায় নলতায় বিনিয়োগকারীরা ভেঙ্গে পড়েছেন। ট্রি প্লান্টেশনের নামে গ্রাহকদের বাদ দিয়ে পরিচালকদের নামে জমি কেনার খবরে সংশয় প্রকাশ করেছেন গ্রাহকরা। নলতার বাগবাটী গ্রামের আনারুল ইসলাম জানান, ডেসটিনির ট্রি প্লান্টেশনের জন্য সদস্য হয়েছে। কথা ছিল গ্রাহকদের নামে জমি কেনা হবে। কিন্তু পত্রিকার খবরে জানলাম পরিচালকদের নামেই বিভিন্ন জেলায় জমি কেনা হয়েছে। এখন মনে হচ্ছে প্রতারণার ফাঁদে পা দিয়েছে। এখন আসল টাকা ফেরত পাবো কিনা সেজন্য দুশ্চিন্তায় আছি। এ কথা নলতার আরও অনেকে জানান। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডেসটিনি মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি সমবায় অধিদফতর থেকে নিবন্ধন নেয়া। এ প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন ছাড়াই আমানত সংগ্রহ করেছে। একইভাবে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত না হয়েও শেয়ার বিক্রি করে এক হাজার ৪০০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। বর্তমানে ব্যাংক খাতের তারল্য সংকটের জন্য ডেসটিনির মতো মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটিগুলোর যোগসূত্র থাকতে পারে বলেও আশংকা করা হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের ওই প্রতিবেদনে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি ব্যাংকের মতো চলতি, স্থায়ী, সাড়ে পাঁচ বছরে দ্বিগুণ, মাসিক মুনাফা, শেয়ার মূলধন ইত্যাদি প্রকল্পের মাধ্যমে সদস্য সংগ্রহ করছে। এর জন্য কমিশন এজেন্টদের ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে শহরের আনাচে-কানাচে ও গ্রাম-গঞ্জে। উলে¬খ্য, ২০০১ সালে সমবায় সমিতি আইনে অনুমোদন নেয় প্রতিষ্ঠানটি। এরপর থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত সংগ্রহ করেছে দুই হাজার কোটি টাকা। সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ও কর্মচারীর সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির যোগসূত্র থাকায় অনেক সাধারণ মানুষ এর প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০০৯-১০ অর্থবছরের শাখাওয়ারি সঞ্চয় সংগ্রহ, শেয়ার মূলধন, আয়-ব্যয়ের কোন হিসাব নেই। ওই বছর অনুমোদনবিহীন ব্যয় হয়েছে ২১২ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। সঞ্চয় ও শেয়ার মূলধন আহরণে কমিশন বাবদ ব্যয় হওয়া ২০০ কোটি টাকাকে গবেষণা ও উন্নয়ন ব্যয় দেখানো হয়েছে। এছাড়া স্থিতিপত্রে প্রাপ্তি ও প্রদানে কোন মিল নেই এবং প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত চিত্র এতে প্রতিফলিত হয় না। এমনকি প্রতিষ্ঠানটি জনগণের কাছ থেকে যে পরিমাণ সঞ্চয় ও শেয়ার মূলধন সংগ্রহ করেছে বলে নিরীক্ষা দলকে জানিয়েছে, তা-ও সঠিক নয়। এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে জানিয়েছেন, ডেসটিনির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। ডেসটিনিসহ মাল্টি লেভেল মার্কেটিং (এমএলএম) কোম্পানিগুলোর কার্যক্রম সম্পর্কে অর্থমন্ত্রী বলেন, এদের কার্যক্রম এখন যেন আমাদের কালচার হয়ে গেছে। এসব কালচার অবশ্যই বন্ধ করতে হবে। অর্থ মন্ত্রীর এমন কথাতে মিডিয়াসহ পত্র পত্রিকায় গত কয়েকদিন ধরে লেখালেখি শুরু হলে গ্রাহকদের মাঝে হতাশা সৃষ্টি হয়েছে। এব্যাপারে নলতার কয়েকজন ডেসটিনির গ্রাহক জানান, এব্যাপারে নলতায় অবস্থিত ডেসটিনি অফিসে যোগাযোগ করা হলে ফিল্ড অফিসাররা পূর্বের ন্যায় একই কথা বলছে। তারা বলছে একটি মহল আমাদের কার্জক্রমকে বাধাগ্রস্থ কারার জন্য উঠে পড়ে লেগে গেছে। এ জন্য মিডিয়াসহ বিভিন্ন পত্র পত্রিকা অফিসে কর্মরত লোককে ম্যানেজ করে এই মহলটি বিভিন্ন সময় ডেসটিনির বিরুদ্ধে লিখে যাচ্ছে। ডেসটিনিকে কেউ কিছু করতে পারবেনা এমন কথা বলে থাকছে। কিন্তু এই কথায় সাধারান গ্রাহকরা সহজে মেনে নিতে পারছেনা। বর্তমানে নলতার চায়ের দোকানসহ সর্বত্ররে ডেসটিনির প্রতারণার কথা আলোচনা হওয়ায় গ্রাহকদের হতাশা বেড়ে গেছে। অনেকে জমিজমা বিক্রি করে ডেসটিনিতে টাকা বিনিয়োগ করায় দুশচিন্তায় পড়েছেন।