নুরনগরে পারিবারিক সংঘর্ষে ৩ জন আহত


প্রকাশিত : April 5, 2012 ||

শ্যামনগর প্রতিনিধি : বসত ঘরের দখল নিয়ে মনোমালিন্যের জের ধরে উপজেলার নুরনগরে দুই ভাই মিলে অপর ভাই ও তার স্ত্রীকে ছুরিকাঘাত করেছে। এঘটনার পর পরিবারের অপরাপর সদস্যদের হাতে হামলাকারী এক ভাই প্রহৃত হয়েছে। আহত তিনজনকে শ্যামনগর হাসপাতালে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

আহত দুই ভাইয়ের ছোট বোন সাবিনা বেগম জানান, তার ছোট বাই রেজাউল সম্পতি প্রবাস জীবন কাটিয়ে দেশে ফিরে পৈত্রিক জায়গা জমি নিয়ে অপরইতন ভাইয়ের সাথে বিবাদে জড়িয়ে পড়ে।

গত মঙ্গলবার রাতে তার ছোট ভাই রেজাউল ও বড় ভাই মাওলানা আব্দুল মজিদ ভাড়াটে গুন্ডাদের নিয়ে তার অপর ভাই মিজানুরের বসতঘরটি দখল করতে যায়। এসময় বাধা পেয়ে হামলাকারীরা মিজানুর ও তার স্ত্রী মাকসুদাকে ছুরিকাঘাতে আহত করে। খবর পেয়ে প্রতিবেশী এবং অপর ভাই আব্দুল গফ্ফার এসে েেরজাউলকে আটক করলেও বাকীরা পালিয়ে যায়।

আহত মিজানুর রহমান ও তার স্ত্রী মাকুসদা খাতুন জানান ৩ এপ্রিল মঙ্গলবার রাত এগারটার দিকে মাওলানা আব্দুল মজিদ ও রেজাউল ইসলাম  মুখে কাপ মোড়ানো ৭/৮ সহযোগীকে নিয়ে তাদের ঘরে ঢুকে তার মুখ চেপে ধরে বুকে ছুরি চালায় । এসময় মাকসুদার চিৎকার শুনে পাশের ঘের থেকে মিজানুর রহমান বাড়িতে ফিরে এলে রেজাউল ও মাওলানা আব্দুল মজিদ তাকে আটক করে কাঁধ, পেট ও উরুসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে ছুরিকাঘাত করে। ইতিমধ্যে তাদের ডাক-চিৎকারে আশপাশের লোকজন জড়ো হলে হামলাকারীরা পালিয়ে গেলেও তারা রেজাউল ইসলামকে আটক করে গনপিটুনি দেয়। এদিকে স্বজনরা রাতেই আহত মিজানুর রহমান ও তার স্ত্রী মাকুসদাকে শ্যামনগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।

মিজানুর রহমানের বোন সাবিনা আরও জানান, তার ছোট ভাই রেজাউল ইসলাম বিদেশে যায় মিজানুর রহমানের নিকট থেকে টাকা নিয়ে। সেখানে অবস্থানকালে তার পাঠানো টাকা নিয়ে তাদের বড় ভাই মাওলানা আব্দুল মজিদ জায়গা-জমি ক্রয় করে। সম্প্রতি রেজাউল দেশে ফিরে তার সম্পত্তি দাবি করলে তাদের পরিবারে মনোমালিন্য দেখা দেয়। তিনি আরও জানান আব্দুল মজিদের পরামর্শে রেজাউল বেশকিছুদিন ধরে মিজানুর রহমানের বসতঘরটি দখলের পায়তারা করছিল। সম্প্রতি রেজাউল ভাড়াটিয়া গুন্ডা দিয়ে নুরনগর বাজারে নিয়ে তার ভাইকে মারধর করে। এসবের অংশ হিসেবে মঙ্গলবার রাতে মিজানুর রহমানের বসতঘরটি দখল করতে রেজাউল ও আব্দুল মজিদ লোকজন নিয়ে হামলা চালিয়ে মিজানুর ও তার স্ত্রীকে ছুরিকাঘাতে আহত করে।

এবিষয়ে রেজাউল ইসলাম জানান তার শোবার ঘরের পাশে মিজানুরের স্ত্রী মশারী টানানোকে কেন্দ্র করে ভাই ও ভাবী মিলে তাকে মারধর করেছে। মিজানুরকে কারা ছুরিকাঘাত করেছে জানতে চাইলে রেজাউল ইসলাম জানান, তাকে ফাঁসাতে তার ভাই ও ভাবী নিজেরা ছুরি দিয়ে শরীর ক্ষতবিক্ষত করেছে।