তালায় বেসরকারি উদ্যোগে ৩০টি ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের গৃহ নির্মাণ সম্পন্ন


প্রকাশিত : এপ্রিল ৮, ২০১২ ||

তালা প্রতিনিধি : তালা উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের বিধ্বস্ত গ্রাম কানাইদিয়া। ঐ গ্রামের গৃহবধূ ছবিরন বিবি (৬০) ভিটের পাশে দাঁড়িয়ে বিড় বিড় করে বকছিল। কাছে গিয়ে জানা গেল দেড়মাস পূর্বে তার স্বামী মারা গেছে, যার বেদনা তার চোখের কোনায় রয়ে গেছে। গতকাল শনিবার সরেজমিনে গেলে তিনি বলেন, গত বছরের বন্যায় আমার বাড়ি ঘর পানির নীচে তলিয়ে যায়। আমরা সকলেই এ সময় রথখোলা বালিকা বিদ্যালয় আশ্রয় কেন্দ্রে অবস্থান করি। আমাদের বাড়ি ফেরার কোন উপায় ছিল না। বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা আমাদের বিধ্বস্ত ভিটার উপর নতুন ঘর করে সেখানে বসবাস করার আশ্রয় করে দিয়েছে। কিছুদিন আগে স্বামী নুরুদ্দীন বিশ্বাস মারা যাওয়ায় বর্তমানে পুত্র, পুত্রবধূ ও নাতীকে নিয়ে কোন রকমে দিন কাটছে তাদের। ঘরটি পেয়ে বড়ই খুশি ছবিরন বিবি।

খলিলগগর ইউনিয়নের ঘোষনগর গ্রামের সুনিল দেবনাথ (৫৮)। জলাবদ্ধতার পর থেকে চারিদিকে পানি আর পানি থাকলেও খাবার পানির অভাব তাকে কুরে কুরে খাচ্ছিল। সরকারি ও বেসরকারিভাবে বিভিন্ন ত্রাণ সামগ্রী পেলেও খাবার পানির ব্যবস্থা কেউ করেনি। পরে একটি বেসরকারি সংস্থা তাদেরক দিয়েছে আর্সেনিক ও আয়রনমুক্ত ফিল্টার টিউবওয়েল। উক্ত টিউবওয়েলের পানি পান করছে আশপাশের শত শত মানুষ। সুপেয় পানি পেয়ে এখন তারা বেজায় খুশী। এমন অনুভূতি নতুন ঘর ও টিউবওয়েল পাওয়া অনেক পরিবারের। জানা গেছে, বেসরকরি সংস্থা আশ্রয় ফাউন্ডেশন জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্থ তালা উপজেলার জালালপুর, খলিলনগর ও খেশরা ইউনিয়নের ৩০টি পরিবারকে নতুন ঘর তৈরী করে দিয়েছে। এছাড়া সুপেয় পানি নিশ্চিত করতে আর্সেনিক ও আয়রনমুক্ত ফিল্টার টিউবওয়েল প্রদান করা হয়েছে। সংস্থাটির পক্ষ থেকে ১৫০টি স্যানিটারি ল্যাট্রিন এবং ৯০০ কৃষক পরিবারের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে বিভিন্ন ধরনের সবজি বীজ। এছাড়া জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্থ খলিলনগর, তালা সদর ও জালালপুর ইউনিয়নের ৫৪০টি পরিবারের মাঝে প্যাকেজ ত্রাণ বিতরণ করে সংস্থাটি।