কলারোয়ায় বোরা ধানের ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কা


প্রকাশিত : এপ্রিল ১২, ২০১২ ||

কলারোয়া প্রতিনিধি : কলারোয়ায় টানা এক সপ্তাহ ধরে হওয়া ঝড়-ঝঞ্ঝা ও শিলাবৃষ্টিতে বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। যে ফসল কৃষক পরিবারের মুখে হাসি ফোটায়, তা আজ দু:খের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কেড়ে নিয়েছে এই ফসলকে ঘিরে কৃষক পরিবারের সকল স্বপ্ন ও আশা-আকাক্সক্ষা। উপজেলার বেশিরভাগ এলাকার বোরো ক্ষেত ঝড়, শিলাবৃষ্টি ও হাওয়ার কবলে পড়ে এলামেলো ও লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। অনেক মেহনত ও অর্থ ব্যয়ের বোরো আবাদ বিপর্যয়ের মুখে পড়ায় কৃষক পরিবারগুলো ভীষণ হতাশ হয়ে পড়েছে। মাঠে যেয়ে দেখা যাচ্ছে, ধান গাছের আগা নষ্ট হয়ে গেছে। বিভিন্ন স্থানে ধানে চিটা দেখা দিয়েছে। ফলে আশানুরূপ ফলন থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন প্রতিটি কৃষক। বেশির ভাগ এলাকার কৃষকরা জানান, এর আগের বছরগুলোতে এ বিরূপ অবস্থার সৃষ্টি হয়নি। ঠিক যে সময় গাছে ফলন আসবে, ঠিক সে সময় প্রকৃতির বিরূপ থাবায় ভেঙে চুরমার হয়ে গেলো কৃষকের স্বপ্ন ও প্রত্যাশা। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এ বছর উপজেলাব্যাপি বোরো আবাদ অর্জিত হয় ১২,৪৩৫ হেক্টর জমিতে। প্রকৃতির বিরূপ আচরণের কারণে ৫৫ হেক্টর জমির বোরো আবাদ আক্রান্ত হয়েছে। গতকাল বুধবার পর্যন্ত উপজেলার সবগুলো ব্লক থেকে পাওয়া তথ্যানুযায়ী সম্পূর্ণ ক্ষতি হয়েছে ২.৭৫ হেক্টর জমির বোরো আবাদ। যদি প্রকৃতি সদয় আচরণ করে, তবে বোরো মৌসুম বড় ধরনের কোনো ক্ষতি ছাড়াই শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।  এ বিষয়ে আলাপকালে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মনোয়ার হোসেন গতকাল বুধবার জানান, জয়নগর, ছলিমপুর ও তরুলিয়া গ্রামের মাঠে শিলাবৃষ্টির কারণে বোরো আবাদের ক্ষতি হয়েছে। এ ছাড়া অন্যান্য এলাকার মাঠে লু হাওয়ার কারণেও ধানে চিটা হয়ে গেছে। সীমান্তবর্তী হিজলদি, সুলতানপুর, কাদপুর গ্রামের মাঠেও ধানে ব্যাপক চিটা হয়ে গেছে বলে কৃষকরা সাংবাদিকদের জানান। কাদপুর গ্রামের আনারুল, আতাউর, আ: রশিদ ও আল মামুন জানান, ঝড়-বৃষ্টিতে ধানের শীষ সাদা হয়ে গেছে। মাঠের বিভিন্ন স্থানে ধানে চিটা হয়ে গেছে। উপজেলার জয়নগর ইউনিয়নের উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা তাপস কুমার  সাংবাদিকদের জানান, বোরো ধানের ১শ’ ভাগ শীষ বের হওয়ার আগে যদি কোন কারণে ধান গাছ মাটিতে হেলে বা নুইয়ে পড়লে ধানে চিটা হয়ে ৫০ ভাগ ফলন কমে যেতে পারে। এ অবস্থায় ধানের ক্ষেতে সেচ দিতেও কৃষককে সমস্যায় পড়তে হয়। ক্ষেতে জমে থাকা পানি মাটিতে মিশে যাওয়া আধাপাকা ধানের শীষসহ গাছ পচে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। এছাড়া এবারের এই ঝড়-বৃষ্টিতে আমের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। কচি অবস্থায় বেশিরভাগ আম গাছ থেকে ঝরে গেছে। অনুরূপভাবে পটলসহ এ সময়ের সব ধরনের শাক-সবজি আবাদেও কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।