শ্যামনগরের মাদিয়া ভেড়িবাঁধ ধসে ৩০টি গ্রাম প্লাবিত হওয়ার আশংকা


প্রকাশিত : এপ্রিল ১২, ২০১২ ||

শ্যামনগর অফিস : শ্যামনগর উপজেলার ৫নং পোল্ডারের মাদিয়া গ্রামের ভেড়িবাঁধে ব্যাপক ভাঙ্গণ দেখা দিয়েছে। এতে আশপাশের ৩০ গ্রাম প্লাবিত হওয়ার আশংকা করা হচ্ছে। ভাঙ্গণ দেখা দেয়ায় স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে বিকল্প রাস্তার কাজ চলছে। ভাঙ্গণ কবলিত এলাকার মানুষের মধ্যে আতংক বিরাজ করছে।

সরেজমিনে জানা যায়, খোলপেটুয়া নদীর প্রবল জোয়ারে গত ৮ মার্চ রাতে মাদিয়া গ্রামের স্বপন কুমার গাতিদার এর চিংড়ি ঘেরের সামনে ও কারিতাসের মিনি স্লুইস গেটেরে দক্ষিণ পার্শ্বে প্রায় ৩০০ ফুট পানি উন্নয়ন বোর্ডের ভেড়িবাঁধ আকস্মিক ভাবে ভেঙ্গে নদী গর্ভে চলে যায়। পানি প্রবেশ করার আগেই স্থানীয় চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম, মেম্বর সুধাংশু এলাকার লোকজন দিয়ে স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে ভেড়িবাধের পাশ দিয়ে নতুন বাধ দেয়ার কাজ শুরু করে।

গত মঙ্গলবার ভাঙ্গণ কবলিত ভেড়িবাঁধের পার্শ্বে আবার ফাটল দেখা দিয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে বরাদ্দ না পেলে যে কোন মুহুর্তে ভেড়িবাঁধ ভেঙ্গে এলাকায় লবন পানি ঢুকে ৪টি ইউনিয়ন বুড়িগোয়ালিনী, আটুলিয়া, ঈশ্বরীপুর ও শ্যামনগর প্লাবিত হয়ে প্রায় ১৮ হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়তে পারে এবং ছোট বড় কয়েক শত চিংড়ি ঘের ভেসে কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে বলে আশংকা করা হচ্ছে। ভাঙ্গণ কবলিত এলাকা পরির্দশন করেছে উপজেলা চেয়ারম্যান মাওঃ আব্দুল বারী, নওয়াবেঁকী গণমুখি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক লুৎফর রহমান, লিডার্সের পিন্টু সহ বিভিন্ন এনজিও সংস্থার পরিচালক। পরিদর্শনকালে তারা ভেড়িবাঁধ সংস্কারে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন। শ্যামনগর পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহকারি প্রকৌশলী কৃষ্ণনেন্দু বিকাশ তাৎক্ষণিক ১০ হাজার টাকার বাশ, বস্তা, পেরেক সরবরাহর করেছে। ভাঙ্গণ কবলিত জায়গায় পানি বন্ধ হলেও পার্শ্বে বড় ধরনের ফাটল দেখা দিয়েছে।

এদিকে ৫, ১৪, ১৫নং পোল্ডারে পানি উন্নয়ন বোর্ডের শ্যামনগরের উপকূলীয় ১৯২ কিলোমিটার ভেড়িবাঁধের মধ্যে ১৩ কিলোমিটার ভেড়িবাঁধে ২৫টি স্পট মারাত্মক ঝূঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। বর্ষা শুরু হওয়ার আগেই বিভিন্ন নদ নদীর প্রবল জোয়ারের তোড়ে এসব ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধে ভাঙ্গণ ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। জরুরী ভিত্তিতে মেরামত না করা হলে যে কোন মুহুর্ত্বে এসব ভেড়িবাঁধ ভেঙ্গে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হতে পারে। নদী ভাঙ্গণের ভয়ে ভাঙ্গণ কবলিত এলাকার বসবাসকারী জনসাধারণের মধ্যে সব সময় আতংক বিরাজ করছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত এসডিও নাসির উদ্দীন, সহকারি প্রকৌশলী খলিলুর রহমান বলেন, মারাত্মক ঝূঁকিপূর্ণ ১৩ কিলোমিটার ভেড়িবাঁধ মেরামতের জন্য প্রয়োজনীয় বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে পর্যায়ক্রমে ভাঙ্গণ কবলিত এলাকার ভেড়িবাঁধগুলো মেরামত করা হবে।