শ্যামনগরের খোলপেটুয়া নদীর বাঁধে ভাঙন, ৩০টি গ্রাম প¬াবিত হওয়ার আশঙ্কা


প্রকাশিত : এপ্রিল ১২, ২০১২ ||

শ্যামনগর অফিস : শ্যামনগর উপজেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত খোলপেটুয়া নদীর মাদিয়া নামকস্থানে বেড়িবাঁধে ফাঁটল দেখা দিয়েছে। ফলে আটুলিয়া ও বুড়িগোয়ালিনি ইউনিয়নের ৩০টি গ্রাম হুমকির মুখে পড়েছে।

বুড়িগোয়ালিনি ইউনিয়নের দুর্গাবাটি গ্রামের প্রশান্ত মণ্ডলের স্ত্রী সবিতা মণ্ডল, দীনেশ মণ্ডলের স্ত্রী শিবানী মণ্ডল ও মাদিয়া গ্রামের গোবিন্দ মণ্ডলের স্ত্রী বাসন্তী মণ্ডল জানান, রোববার রাত সাড়ে সাতটার দিকে তারা খোলপেটুয়া নদীতে চিংড়ির রেনু পোনা ধরার জন্য জাল টানছিলেন। এমন সময় মাদিয়া নামকস্থানে দেড়’শ ফুট বেড়িবাঁধে ফাটল দেখা দেয়। ফাটল দিয়ে নদীর পানি ঢোকা শুরু করে। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে ইউপি সদস্য সুভাষ মিস্ত্রী ও ডালিম ঘরামীকে জানানো হয়। তাৎক্ষণিকভাবে সুভাষ মিস্ত্রী মাইকের সাহায্যে এলাকাবাসীকে অবহিত করেন। রাতেই ৬০/৭০ জন গ্রামবাসী প্রাথমিকভাবে বেড়িবাঁধ সংস্কারের কাজ শুরু করে। পরদিন সোমবার সকাল ১১টায় জোয়ার শুরু হওয়ার আগেই স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে বেড়িবাঁধ সংস্কারের কাজ প্রাথমিকভাবে শেষ করা হয়।

ইউপি সদস্য সুভাষ মিস্ত্রী ও ডালিম ঘরামী জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে বাঁশ ও পেরেক দিলেও প্রাথমিকভাবে বাঁধ সংস্কারের কাজ শেষ করে স্থানীয় গ্রামবাসী। তবে বাতাসের গতি বৃদ্ধি পাওয়ায় জোয়ারে নদীর ঢেউ বেড়িবাঁধের উপর আছড়ে পড়ছে। ফলে গতকাল বুধবার দুপুর পর্যন্ত দুর্গাবাটি থেকে কলবাড়ি ব্রীজ পর্যন্ত তিন কিলোমিটার বেড়িবাঁধের মধ্যে ১২টি স্থানে ফাঁটল দেখা দিয়েছে। যে কোন সময় ওইসব স্থান ভেঙে যেয়ে বুড়িগায়ালিনি ও আটুলিয়া ইউনিয়নের দুর্গাবাটি, মাদিয়া, আড়পাঙাশিয়া, বীরসিং, পোড়াকাটলা, ভামিয়া, দাতিনাখালি, বুড়িগোয়ালিনি, বড় কুপট, ছোট কুপট, কলবাড়িসহ কমপক্ষে ৩০টি গ্রাম প¬াবিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। অবিলম্বে পাউবো এ বাঁধ সংস্কার না করলে আগামি বর্ষা মৌসুমে কয়েক হাজার বিঘার চিংড়ি ঘের ও কয়েক’শ ঘরবাড়ি পানিতে তলিয়ে যাবে।

এ ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ড-২ এর শ্যামনগর শাখার সেকশান অফিসার বিকাশ মণ্ডল খোলপেটুয়া নদীর মাদিয়া নামক স্থানে ফাঁটল সৃষ্টির কথা স্বীকার করে বলেন, প্রাথমিকভাবে স্থানীয়দের সহায়তায় বাঁধটি মেরামত করা হয়েছে। আরো কয়েকটি স্থানের বেড়িবাঁধ দুর্বল হয়ে পড়ার বিষয়টি উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।