শ্যামনগরের আলোচিত নুর হোসেন হত্যা মামলা হিমাগারে যাওয়ার অভিযোগ


প্রকাশিত : এপ্রিল ১২, ২০১২ ||

শ্যামনগর প্রতিনিধি : শ্যামনগরের তরুন ব্যবসায়ী নুর হোসেন হত্যা মামলাটি হিমাগারে চলে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। হত্যাকান্ডের শিকার নুর হোসেনের পিতা গতকাল শ্যামনগর উপজেলা প্রেসক্লাবে এসে অভিযোগ করেন তার পক্ষ থেকে কোন ধরনের আবেদন না জানানোর পরও আলোচিত এই মামলাটি ডিবি’র হাতে ন্যস্ত করার আয়োজন চলছে। এদিকে পুলিশ জানিয়েছে মামলার আসামীরা ও হত্যাকান্ডের শিকার যুবকের বাড়ি এক স্থানে এবং পুলিশের কার্য এলাকা অন্য স্থানে হওয়ায় তদন্তের সুবিধার্থে এমনটাই করা হয়েছে।

নিহত নুর হোসেনের পিতা শেখ নুর আমিন অভিযোগ করে জানান, তার সন্তান নুর হোসেনকে টাকার জন্য তার বন্ধুরা মিলে খুন করলেও পুলিশ আড়াই মাসে মাত্র একজনকে আটক করতে সক্ষম হয়েছে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, মাত্র দশ বার দিন পুর্বে তার সন্তানকে খুনের সাথে জড়িতদের একজনকে গ্রেফতারের পরপরই পুলিশ তড়িগড়ি করে মামলাটির তদন্তভার ডিবি’র হাতে ছেড়ে দিতে জোর চেষ্টার চালাচ্ছে। তিনি আরও অভিযোগ করে বলেন আসামীরা অত্যন্ত প্রভাবশালী এবং তাদের আগ্রহেই মামলাটি ডিবিতে ন্যস্ত হতে যাচ্ছে।

এসব ঘঘটনার প্রেক্ষিতে নিহতের পরিবার নুর হোসেন হত্যার বিচার পাওয়া নিয়ে সংশয়ে ভুগছে বলে তিনি জানান। শেখ নুর আমিন বলেন, বেশকিছুদিন পুর্বে তার ছেলেকে হত্যার সাথে জড়িতেদের কয়েকজন এসে তাকে কিছু টাকা নিয়ে মামলা নিয়ে গাটাঘাটি করতে নিষেধ করে। এসময় তিনি সবকিছুর বিনিময়ে চেলে হত্যার দাবী ছাড়বে না বলে জানিয়ে দেয়ার পর সন্ধিগ্ধ আসামীদের স্বজনরা বেশ দম্ভ করে হুমকি দিয়েছিলো যে তারা সে করেই হোক মামলাটি ডিবিতে নিয়ে যাবে। অগত্যা তারা তাদেও চ্যালেঞ্জ রেখেছে জানিয়ে শেখ নুর আমিন বলেন, তিনি কোন আবেদন করেন নি, অথচ মামলাটি গোপনে ডিবিতে চলে গেছে। এসব ঘটনার পর তিনি তার সন্তান হত্যার বিচার নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন।

এবিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কালিগঞ্জ থানার এস আই আজগর আলী জানান, মামলাটি হয়েছে কালিগঞ্জ থানায়। আর আসামী ও বাদীদের বাড়ি শ্যামনগর থানায়। স্বাভাবিকভাবেই মামলাটি তদন্ত করতে বেশ বিড়ম্বনার মুখোমুখি হতে হবে বলেই কালিগঞ্জ সার্কেল এসপি সৈয়দ নজরুল ইসলাম নিজ ক্ষমতাবলে মামলাটি ডিবিতে পাঠিয়েছেন।

একজন আসামীকে আটক করেছেন দাবী করে উক্ত পুলিশ অফিসার জানান, ডিবি গোটা জেলার কাজ করার অধিকার রাখে, তাই নানা সমস্যার কারনে মামলাটি ডিবিতে ন্যস্ত হয়েছে।

উল্লেখ্য গত ৫ ফেব্র“য়ারী রাতে শ্যামনগর উপজেলা সদরের হায়বাদপুর গ্রামের শেখ নুর আমিনের ছেলে নুর হোসেন (২৭) নামের এক যুবককে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে দুবৃর্ত্তরা শ্বাষরোধ করে হত্যা করে দুবৃর্ত্ত্বরা।

পরদিন সকালে কালিগঞ্জ পেট্রোল পাম্প এলাকা থেকে তার মটর সাইকেল এবং রতনপুর ইউনিয়নের রঘুরামপুর গ্রামের মুল সড়কের পার্শ্ববর্তী জনৈক কার্তিক মন্ডলের বাগান থেকে তার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। ঐঘটনায় তার পিতা বাদী হয়ে অজ্ঞাত নাম-পরিচয়ের ৫/৭ জনকে অভিযুক্ত করে একটি মামলা দায়ের করে। পরে পুলিশ নিশ্চিত হয় তার বন্ধুরা নারীঘটিত একটি বিষয় এবং টাকা লেনদেন সংক্রান্ত বিষয়ে বিরোধের জের ধরে কৌশলে ডেকে নিয়ে যমোর থেকে আনা ভাড়াটে খুনি দিয়ে নুর হোসেনকে হত্যা করে।

নুর হোসেন হথ্যার পরপরই তার কয়েক বন্ধু গা-ঢাকা দিলেও পুলিশ কৌশলে সোহাগ নামের একজনকে আটক করে হত্যাকারীদের সনাক্ত করতে সক্ষম হলেও তড়িগড়ি করে মামলাটি ডিবিতে হস্তান্তর মামলার ভবিষ্যতকে অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে দিয়েছে বলে নিহতের পিতার অভিযোগ।

ছবিঃ নিহত ব্যবসায়ী নুর হোসেন।