দৃষ্টিপাত’র প্রকাশনা বন্ধে কালিগঞ্জের সচেতন পাঠকসহ ফতেপুর ও চাকদাহে ক্ষতিগ্রস্থদের সন্তোষ প্রকাশ


প্রকাশিত : এপ্রিল ১২, ২০১২ ||

পত্রদূত ডেস্ক : সাতক্ষীরা থেকে প্রকাশিত দৈনিক দৃষ্টিপাত পত্রিকার প্রকাশনা বন্ধের খবর পাওয়ার পর সচেতন পাঠকসহ কালিগঞ্জের ফতেপুর ও চাকদাহের ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের সদস্যদের মাঝে খুশির আমেজ সৃষ্টি হয়েছে। পত্রিকাটির বিতর্কিত কর্মকাণ্ড গণতন্ত্র ও সুষ্ঠু সমাজ ব্যবস্থার জন্য হুমকি হিসেবে মনে করেন তারা। ধর্মান্ধ গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষাকারী ‘দৃষ্টিপাত’ পত্রিকার অতীতের ভূমিকা বিশ্লেষণ করলে পত্রিকাটির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সহজেই প্রতীয়মান হয়। এরই ধারাবাহিকতায় তারা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট এবং সমাজ ও রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করার জন্য পরিকল্পিতভাবে কালিগঞ্জের ফতেপুর স্কুলের স্বাধীনতা দিবসের নাট্যানুষ্ঠান সম্পর্কে মিথ্যাচার করে সংবাদ প্রকাশ করে। মুসলমানদের প্রিয় নবী সম্পর্কে কটুক্তি করা হয়েছে মর্মে হাদিসের উদ্ধৃতি দিয়ে পত্রিকায় মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ করে ধর্মপ্রাণ মুসলমানকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে। তবে নবীর আদর্শে বিশ্বাসী মুসলমানদের বিভ্রান্ত করতে না পারলেও দৃষ্টিপাত পত্রিকার মিথ্যা সংবাদের ভিত্তিতে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী মৌলবাদী গোষ্ঠী হিংসার নগ্ন থাবা বিস্তার করে। মৌলবাদীদের সহযোগী হিসেবে চিহ্নিত দৃষ্টিপাত পত্রিকার প্রকাশনা বন্ধ করায় ধর্মান্ধদের হামলায় বাড়িঘর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান হারানো ফতেপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য ও বাঁশতলা বাজার কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আব্দুল হাকিম (৫৫) জেলা প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, এটা সত্যিই খুব খুশির খবর। দৃষ্টিপাত পত্রিকার কারণে কয়েকটি পরিবার সর্বশান্ত হয়েছে। তারা  মিথ্যা সংবাদ পরিবেশন না করলে এমনটি ঘটতো না। তিনি দৃষ্টিপাত বন্ধ হওয়ায় মানসিক ভাবে সুখী হয়েছে উল্লেখ করে বলেন, যারা অসাম্প্রদায়িক মনোভাবাপন্ন মানুষ তারা প্রত্যেকেই খুশি হয়েছে বলে মনে করি।

ফতেপুর গ্রামে অগ্নিসংযোগে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্থ লক্ষীপদ মন্ডলের ছেলে গোপাল মন্ডল (৩৮) বলেন, দৃষ্টিপাত পত্রিকা বন্ধের খবরটি এইমাত্র শুনলাম। খুব ভাল লাগছে। পত্রিকাটি বন্ধ হোক এই কামনা করছিলাম।

জঙ্গী মিছিল থেকে প্রথম ভাংচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ ঘটানো হয় ফতেপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য ও প্রাক্তন ইউপি সদস্য আনোয়ারুল ইসলাম আকুলের (৫২) বাড়িতে। দৃষ্টিপাত পত্রিকার প্রকাশনা বন্ধের প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, পত্রিকাটি বন্ধ হওয়ার প্রয়োজন ছিল। তা নাহলে এই ভাবে মিথ্যা অপপ্রচার চালিয়ে সবাকিছু লণ্ডভণ্ড করে দিলে দেশের মানুষ টেকবে কি করে। তিনি বলেন, খবরটা শোনার পর আমি খুব খুশী  হয়েছি।

চাকদাহে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্থ শ্যামাপদ সরদারের ছেলে জয়দেব সরদার বলেন, কি আর বলবো। আমাদের যা ক্ষতি হবার তাতো হয়ে গেছে। তবে দৃষ্টিপাত পত্রিকা ছাপানো বন্ধ করে সরকার ভাল কাজ করেছে। কৃষ্ণপদ সরদারের ছেলে পরেশ সরদার (২৬) বলেন, পত্রিকাটি বন্ধ হয়ে ভাল হয়েছে।

এদিকে দৃষ্টিপাত পত্রিকা বন্ধের খবরে কালিগঞ্জে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। অনেকে এমন খবরে মোটেও হতবাক হননি। এই বিতর্কিত পত্রিকাটির বিরুদ্ধে আরও আগে ব্যবস্থা নেয়া উচিত ছিল বলে তারা মন্তব্য করেন। পত্রিকাটি বন্ধে প্রশাসনের উদ্যোগকে সাধুবাদ জানানোর পাশাপাশি ভবিষ্যতে পত্রিকাটি যাতে সার্কুলেশনের অনুমতি না পায় সে ব্যাপারেও প্রশাসনকে সজাগ থাকার আহবান জানান সচেতন পাঠকসমাজ।