কালিগঞ্জে ইছামতি নদীর বেড়িবাঁধে ফাঁটল, বিস্তীর্ণ অঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা

পত্রদূত রিপোর্ট : কালিগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী ইছামতি নদীর খারহাট নামকস্থানে বেড়িবাঁধে ৩০০ মিটার ফাটল দেখা দিয়েছে। শনিবার রাতে এ ফাটল দেখা দেওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।

কালিগঞ্জ উপাজেলার সীমান্তবর্তী কামদেবপুর গ্রামের পিয়ার আলী গাজীর ছেলে জাহাঙ্গীর গাজীসহ কয়েকজন জানান, ২০০৯ সালের জুন মাসের প্রথম দিকে ইছামতি নদীর খারহাট নামক স্থানের স্লুইস গেট সংলগ্ন ১০০ ফুট বেড়িবাঁধে ফাঁটল দেখা দেয়। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী ডাঃ আ ফ ম রুহুল হক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করার পরপর উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বাঁধ সংস্কারের জন্য ১৮ লাখ ৭০ হাজার টাকা বরাদ্দ করা হয়। তিনি অভিযোগ করে বলেন, বাঁধ সংস্কারের জন্য বরাদ্দকৃত টাকার সিংহভাগ লুটপাট হওয়ায় যেন তেন করে বাঁধ সংস্কার করা হয়। ফলে নুতন করে বাঁধে ফাটলের আশঙ্কা দেখা দেয়।

সীমান্ত গ্রামবাসী জানান, ২০১১ সালের জানুয়ারি মাসে খারহাট স্লুইস গেটের পাশ থেকে ভাঙন কবলিত ৩০০ মিটার বাঁধ সংস্কারের জন্য দু’কোটি ৮৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। সাতক্ষীরার ঠিকাদার শফিকুল ইসলাম বরাদ্দ পেয়ে ২০১১ সালের ১৫ এপ্রিল বাঁধ সংস্কারের জন্য স্লাব নির্মাণের কাজ শুরু করেন। ওই বছরের ২৮ জুলাইয়ের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা থাকলেও ঠিকাদারের আবেদনের প্রেক্ষিতে আবারো তিন মাস সময় বাড়ানো হয়। দ্বিতীয় বর্ধিত সময়ের পরে ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও বাঁধ সংস্কারের কাজ এগোয়নি। ফলে বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই গত শনিবার রাত ৮টার দিকে ভাটার সময় খারহাটের বেড়িবাঁধে নতুন করে ফাটল দেখা দিয়েছে। ফলে নদী বাঁধের কোন কোন স্থানে একফুট চওড়া রয়েছে। যে কোন মুহুর্তে ওই বাঁধ ভেঙে জোয়ারের পানি ঢুকে পড়লে খারহাট, কামদেবপুর, শুইলপুর, বাগবাটি, দাদপুর ভাড়াসিমলা, কারবালা, সাদপুর, সেহেরা, নারায়নপুর, দেবহাটা উপজেলার খাঞ্জিয়া, বসন্তপুর, নাংলা, টাউন শ্রীপর, খেজুরবাড়িয়া, নওয়াপাড়াসহ আশাশুনি উপজেলার বিস্তীর্ণ অঞ্চল প্লাবিত হবে। ফলে ভেসে যাবে কয়েক হাজার একর ফসলের খেত, চিংড়ি ঘের ও পুকুর। এছাড়া বিপন্ন হবে কয়েক হাজার পরিবারের ঘরবাড়ি। তারা সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

সীমান্ত গ্রামবাসী আরো জানান, ইছামতি নদীর বাংলাদেশের পারে স্রোতের টানে দীর্ঘদিন ধরে নতুন নতুন গ্রাম প্লাবিত হয়ে নদীগর্ভে চলে গেছে। তেমনি ভারতের পারে নদীর চর জেগে উঠছে। বাংলাদেশের পারে নদীর মধ্যবর্তী এলাকায় জেগে ওঠা চরের বালি বিজিবি’র পক্ষে কাটতে বাধা দেওয়ায় নদীর স্রোতের গতিপথ পরিবর্তিত হচ্ছে না। ফলে বাংলাদেশের পারে ভাঙনের প্রবণতা রোধ করা যাচ্ছে না। এ অবস্থা চলতে থাকলে তাদের এলাকার অনেককেই কৃষি জমি ও ঘরবাড়ি হারিয়ে রাস্তার পাশে বসবাস করা ছাড়া কোন উপায় থাকবে না। ভাড়াসিমলা ইউপি চেয়ারম্যান নূর মোহাম্মদ জানান, খারহাট এলাকার বাঁধ সংস্কারে বিলম্বের বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ড-এর সাতক্ষীরার কর্মকর্তাদের অবহিত করা হলেও আজো পর্যন্ত কোন ব্যবস্থা গৃহীত হয়নি।

সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ড-৩ এর কালিগঞ্জ সেকশন অফিসার আজাদ হোসেন জানান, ২০১১ সালের এপ্রিল মাসে শুরু হওয়া স্লাব নির্মাণের কাজ ৬০ শতাংশ শেষ হয়েছে। বর্তমানে এ বাঁধের অবস্থা এতই খারাপ যে জেয়ারের সময় বাতাস উঠলে বাঁধ ভেঙে যেতে সময় লাগবে না। বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ডের উর্দ্ধতন কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়েছে। ঠিকাদার শফিকুল ইসলামের সঙ্গে এ ব্যাপারে তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

 

 

 

অপশক্তিকে রুখে দাঁড়ানোর আহবানের মধ্যদিয়ে বাংলা নববর্ষ উদযাপন

পত্রদূত রিপোর্ট : মৌলবাদ ও সাম্প্রদায়িক অপশক্তিকে পিছনে ফেলে দেশ ও জাতির সুখ সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করে বর্ণাঢ্য আয়োজনে শনিবার জেলায় বর্ষবরণ উৎসব পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষ্যে জেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, স্বেচ্ছাসেবী, সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠন বিস্তারিত কর্মসূচি পালন করেছে। বর্ষবরণ উপলক্ষ্যে শনিবার সকাল সাড়ে ৬টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্ত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে জেলা প্রশাসক ড.মু. আনোয়ার হোসেন হাওলাদার বর্ষবরণ উপলক্ষ্যে গৃহীত সকল কর্মসূচির উদ্বোধন ঘোষণা করেন। এসময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মূকেশ চন্দ্র বিশ্বাস, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) প্রনব কুমার রায়, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট শেখ হামিম হাসান, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম, পৌর মেয়র এমএ জলিল, সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান এড. শাহনাজ পারভীন মিলিসহ বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এর আগে শোভাযাত্রায় প্রশাসনের উর্দ্ধতন কর্মকর্তাবৃন্দ, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের সদস্যরা অংশগ্রহণ করে। শোভাযাত্রায় বাঙালির ঐতিহ্য ফুটিয়ে তুলতে বিশেষ অবদান রাখায় উদীচীকে প্রথম, সনাক সাতক্ষীরাকে ২য় ও ঋশিল্পীকে ৩য় ঘোষণা করে পুরস্কৃত করা হয়। এদিকে বর্ষবরণ উপলক্ষ্যে শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কে আয়োজিত বৈশাখী মেলায় মানুষের উপচেপড়া ভীড় পরিলক্ষিত হয়। যা চলবে আগামীকাল পর্যন্ত। মেলায় প্রতিদিনি সাংস্কতিক অনুষ্ঠান নতুন মাত্রা যোগ করছে। এছাড়া তরুণ তরুণীরা বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্যদিয়ে দিনভর গান বাজনা করে বর্ষবরণ করেছে। সমগ্র জেলাও এ নিয়ে আয়োজনের কমতি ছিল না।

সরকারি কলেজ ও মহিলা কলেজ

শহর প্রতিনিধি :  উৎসবমুখর পরিবেশে শনিবার সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ এবং সাতক্ষীরা সরকারি মহিলা কলেজে পালিত হয়েছে পহেলা বৈখাশ। এ উপলক্ষ্যে আয়োজন করা হয় বিভিন্ন প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের। সাতক্ষীরা সরকারি কলেজে অনুষ্ঠিত বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে অধ্যক্ষ প্রফেসর এসএএম আব্দুল ওয়াহেদ, উপাধ্যক্ষ নিমাই চন্দ্র মন্ডলসহ অন্যান্য শিক্ষক ও ছাত্র-ছাত্রীরা অংশগ্রহণ করে। অপরদিকে সাতক্ষীরা সরকারি মহিলা কলেজের অনুষ্ঠানে অধ্যক্ষ ড. দিলারা বেগম, উপাধ্যক্ষ এসএম আনোয়ারুজ্জামানসহ অন্যান্য শিক্ষক ও ছাত্র-ছাত্রীরা অংশগ্রহণ করে।

খুলনা মহানগর আ.লীগ

শনিবার সকাল ১০টায় খুলনা মহানগর আ.লীগের কার্যালয়ে বর্ষবরণ উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সিটি মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেকের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মিজানের পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগ নেতা শেখ হায়দার আলী, কাজী এনায়েত হোসেন, মল্লিক আবিদ হোসেন কবির প্রমুখ। সমাবেশ শেষে এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

রূপান্তর ও বর্ষবরণ পর্ষদ

শনিবার সকালে খুলনা শহীদ মিলন চত্ত্বরে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও পান্তা পর্ব এবং বৈশাখী দেয়ালিকা “খেরো খাতা” উন্মোচনের মধ্য দিয়ে রূপান্তর ও বর্ষবরণ পর্ষদের যৌথ উদ্যোগে ১৪১৯ বঙ্গাব্দকে বরণ করে নেওয়া হয়েছে। আলোচনা সভায় রূপান্তর-এর নির্বাহী পরিচালক স্বপন গুহ’র সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তৃতা করেন বর্ষবরণ পর্ষদের আহ্বায়ক এ্যাডভোকেট এমদাদুল হক হাসিব। আলোচনায় অংশ নেন সুন্দরবন একাডেমীর নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক আনোয়ারুল কাদির, রূপান্তর-এর রফিকুল ইসলাম খোকন ও অসীম আনন্দ দাস।

কলারোয়া উপজেলা প্রশাসন

কলারোয়া প্রতিনিধি : বর্ণাঢ্য উৎসব ও আয়োজনের মধ্য দিয়ে কলারোয়ায় উদযাপিত হয়েছে বাংলা বর্ষবরণ। বাংলা ১৪১৯ বঙ্গাব্দকে স্বাগত জানাতে কলারোয়ার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নেওয়া হয় নানা কর্মসূচি। নিকট অতীতের ছোট খাটো দু:খ, কষ্ট ও গ্লানি থুয়ে-মুছে ফেলে সুন্দর আগামীর প্রত্যাশায় সারা জাতির সাথে কলারোয়াবাসীও উদযাপন করেছে শুভ বাংলা নববর্ষ। দিনটি উপলক্ষ্যে গত শনিবার উপজেলা প্রশাসনের সাথে এমআর ফাউন্ডেশন ও ক.পা.ই যৌথভাবে কর্মসূচি পালন করে। অনুষ্ঠানমালার মধ্য ছিলো, সকাল ৬টায় প্রভাতী সঙ্গীত, সাড়ে ৬টায় মঙ্গল শোভাযাত্রা, সাড়ে ৭টায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অংশ গ্রহণে নজরকাঁড়া ডিসপ্লে, সাড়ে ৮টায় ক.পা.ই চত্ত্বরে পান্তাভাত ভোজন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান বিএম নজরুল ইসলাম। নতুন বর্ষবরণের সকল অনুষ্ঠানের মূল ভেন্যু কলারোয়া ফুটবল ময়দান সকাল থেকে ছিলো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নানান সাজে সজ্জিত ছাত্র-ছাত্রীদের পদচারণায় মুখরিত। উপজেলা নির্বাহী অফিসার আ ন ম তরিকুল ইসলামের নেতৃত্বে ফুটবল ময়দান থেকে বের হওয়া মঙ্গল শোভাযাত্রায় উপস্থিত ছিলেন কলারোয়া সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অহিদুল আলম মন্টু, শেখ আমানুল¬াহ ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ রইছ উদ্দীন, বেগম খালেদা জিয়া কলেজের অধ্যক্ষ আবু বক্কর ছিদ্দীক, উপাধ্যক্ষ রেজাউল ইসলাম, ক.পা.ই সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার হোসেন, ক.পা.ই সম্পাদক এ্যাড শেখ কামাল রেজা, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমাণ্ড’র কমাণ্ডার গোলাম মোস্তফাসহ সরকারি, বে-সরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক-সামাজিক প্রতিষ্ঠানের নেতৃবৃন্দ, শিক্ষকবৃন্দ, বিপুল সংখ্যক ছাত্র-ছাত্রী এবং সর্বস্তরের জনতা। এছাড়া শোভাযাত্রা শেষে ওই মাঠে অনুষ্ঠিত হয় চিত্তাকর্ষক ডিসপ্লে। এতে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে। এদিকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আ ন ম তরিকুল ইসলামের আমন্ত্রণে উপজেলা পরিষদের আবাসিক এলাকার পার্কে আয়োজন করা হয় সুধিজনদের জন্য পান্তা-ইলিশ ভোজনের। এছাড়া বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ইউনিয়নে এ উপলক্ষ্যে ১ থেকে ৩ দিনব্যাপি বৈশাখী মেলাসহ নানা অনুষ্ঠান চলছে।

পাটকেলঘাটা লোকনাথ নার্সিং হোম

পাটকেলঘাটা প্রতিনিধি : পাটকেলঘাটা লোকনাথ নার্সিং হোম এর বর্ষপূর্তি ও নববর্ষ পালন উপলক্ষ্যে দিনব্যাপি বিভিন্ন কর্মসূচীর আয়োজন করা। কর্মসূচির মধ্যে ছিল জাতীয় পতাকা উত্তোলন, আলোচনা সভা, পুরষ্কার বিতরণ ও সাং®কৃতিক অনুষ্ঠান। সকাল ১০টায় কেক কেটে ও কবুতর উড়িয়ে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি জেলা কৃষকলীগের সভাপতি বিশ্বজিৎ সাধু। এরপর বেলা ১২টায় আলোচনা সভা ডাঃ প্রবীর কুমার দাশের সভাপতি প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বিশ্বজিৎ সাধু। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, পাটকেলঘাটা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আক্তারুজ্জামান, লোকনাথ নার্সিং হোমের চেয়ারম্যান অসীম কুমার মন্ডল, সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডাঃ আসিফ কাওছার, আওয়ামী লীগ নেতা মঞ্জুরুল ইসলাম, আমিরুন্নেছা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বাবলুর রহমান। অনুষ্ঠানে সঞ্চালকের দায়িত্ব পালন করেন, লোকনাথ নার্সিং হোমের পরিচালক পূলক কুমার পাল। এছাড়া পাটকেলঘাটা জাতীয় রবীন্দ্র সঙ্গীত সম্মেলন পরিষদ সাতক্ষীরা জেলা শাখার উদ্যোগে বর্ণাঢ্য র‌্যালি পাটকেলঘাটা বাজারের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে সম্মিলন পরিষদে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

খুলনায় বর্ষবরণ

পহেলা বৈশাখকে রবণ করে নিতে শনিবার সরকারিভাবে খুলনা নগরীতে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। শোভাযাত্রা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আলোচনা সভাসহ অন্যান্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে ১৪১৯ বঙ্গাব্দকে স্বাগত জানানো হয়। পহেলা বৈশাখ সকাল সাড়ে সাতটায় সার্কিট হাউজ হতে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়ে শহর প্রদক্ষিণ করে। শোভাযাত্রাটি ডিসি অফিসে এসে শেষ হয়। শোভাযাত্রার নেতৃত্ব দেন সিটি মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক। বিকেলে শিল্পকলা একাডেমীতে আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এছাড়া শিশু একাডেমী, পাবলিক লাইব্রেরি ও সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পহেলা বৈশাখ উপলক্ষ্যে আবৃত্তি, রচনা ও চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। স্থানীয় সংবাদপত্রগুলো বিশেষ সংখ্যা প্রকাশ ও খুলনা বেতার  বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচার করে। জেলা কারাগার, হাসপাতাল ও এতিমখানায় বাঙালি খাবার পরিবেশনসহ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

খুলনা হাদিস পার্কে বৈশাখী মেলা

খুলনা মহানগর সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের উদ্যোগে বাংলালিংক এর সহযোগতিায় ৩ দিনব্যাপি বৈশাখী উৎসব ও বর্ষবরণ ১৪১৯ উপলক্ষ্যে ১ বৈশাখ প্রথম প্রহরে বিভিন্ন গ্রাম বাংলার সাদৃশ্য সম্বলিত বর্ণাঢ্য র‌্যালির আয়োজন করা হয়। র‌্যালি শেষে শিশু চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা, লাঠি খেলা, সাইকেল মহড়া, বল¬ম নিক্ষেপ, ঘুড়ি উড়ানো প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। বর্ণাঢ্য র‌্যালিতে অংশ গ্রহণ করেন খুলনা সিটি কর্পোরেশন এর মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক, সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম মঞ্জু, আজমল আহমেদ তপন, শেখ আশরাফ-উজ্জ-জামান, মোল¬া মারুফ রশিদ, সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান রহিম প্রমুখ। বৈশাখের দ্বিতীয় দিনে দড়াটানা প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। বৈশাখের প্রথম দিন থেকে ৩ দিনব্যাপি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, লোকনৃত্য, বাউল সঙ্গিত, পল্লী গীতি, ব্যান্ড সংগীত পরিবেশিত হবে।

খুলনা সাংবাদিক ইউনিয়ন

বাংলা নববর্ষ-১৪১৯ উপলক্ষ্যে খুলনা সাংবাদিক ইউনিয়ন (কেইউজে) শনিবার সকাল ৯টায় খুলনা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও প্রীতিভোজের আয়োজন করে। আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন খুলনা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মকবুল হোসেন মিন্টু। প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন খুলনা সিটি কর্পোরশেনের মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক। বিশেষ অতিথির বতৃতা করেন সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম মঞ্জু, খুলনা জেলা পরিষদের প্রশাসক শেখ হারুনুর রশীদ, বিভাগীয় কমিশনার মোঃ মসিউর রহমান, জেলা প্রশাসক মোঃ জমসের আহাম্মদ খন্দকার, খুলনা বিভাগীয় প্রেস ক্লাব ফেডারেশনের চেয়ারপারসন লিয়াকত আলী, খুলনা প্রেসক্লাবের সভাপতি বেগম ফেরদৌসী আলী ও সাধারণ সম্পাদক এসএম হাবিব। সভা পরিচালনা করেন খুলনা সাংবাদিক ইউনিয়ননের সাধারণ সম্পাদক সুবীর রায়। পরে সাংস্কৃুতক অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন বিশিষ্ট কবি, শিল্পী ও সাংবাদিক অমিয় কান্তি পাল।

শ্যামনগর জাতীয় মহিলা সংস্থা

সুন্দরবনাঞ্চল প্রতিনিধি : অতীতের ভুল ত্র“টি ও ব্যর্থতার গ্লানি মুছে নতুন করে সুখ শান্তি ও সমৃদ্ধির কামনায় আনন্দঘন পরিবেশে শ্যামনগর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে জাতীয় মহিলা সংস্থার সহযোগিতায় পহেলা বৈশাখ উপলক্ষ্যে র‌্যালী, আলোচনা সভা, পান্তাভোজন সহ অন্যান্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। জাতীয় মহিলা সংস্থার সদস্যবৃন্দ, প্রশিক্ষণার্থীবৃন্দ ও অন্যান্যদের অংশগ্রহণে র‌্যালিটি শ্যামনগরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয় মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যান অধ্যাপক শাহানা হামিদ।

নলতায় বিভিন্ন কর্মসূচি পালন

নলতা প্রতিনিধি : এসো হে বৈশাখ এসো। বাঙ্গালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ। নববর্ষ বরণ করে নিতে শনিবার নলতা জুড়ে চলে নানা আয়োজন। ভোরের সূর্য উঠার সঙ্গে সঙ্গে নলতা টাউন পাড়া সবুজ সংঘ ক্লাব ময়দানে শুরু হয় বর্ষ বরণের বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠান। এসময় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী ডাঃ আ ফ ম রুহুল হক টেলিফোনে সকলকে বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা জানান। এ উপলক্ষ্যে আয়োজিত তিন দিনব্যাপি অনুষ্ঠানমালার প্রথম দিনের কর্মসূচির মধ্যে ছিল পান্তা ভাত ভোজন ও শোভাযাত্রা।

সচেতন নাগরিক কমিটি

শহর প্রতিনিধি : সাতক্ষীরাবাসীর সাথে একাত্ম হয়ে সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) জেলা প্রশাসনের সাথে যৌথভাবে পহেলা বৈশাখ উদ্যাপন করেছে। বর্ষবরণ উপলক্ষ্যে সনাক, সাতক্ষীরা দুর্নীতি বিরোধী গণস্বাক্ষর কর্মসূচির আয়োজন করে। এ কর্মসূচি উদ্বোধন করেন সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক ড. মু. আনোয়ার হোসেন হাওলাদার। এছাড়া সনাক মেলা চলাকালীন তথ্য ও পরামর্শ ডেস্ক, দুর্নীতি বিরোধী জারীগান এবং গণনাটক এর আয়োজন করেছে।

দেবহাটা উপজেলা প্রশাসন

দেবহাটা প্রতিনিধি : দেবহাটায় বর্ণাঢ্য আয়োজনে পহেলা বৈশাখ উদযাপিত হয়েছে। এ উপলক্ষ্যে সকাল ৮টায় উপজেলা চত্ত্বর থেকে বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের হয়ে দেবহাটার ঐতিহাসিক বটমূলে এসে শেষ হয়। পরে পান্তা-ইঁলিশ খাওয়া, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এর আয়োজন করা হয়। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে পল্লীগীতি, বাউল গান, জারি গানসহ যৌতুক বিহীন বিষয় পুটে ওঠে। বটমূলে অনুষ্ঠিত বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ সাখাওয়াত হোসেনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্য্না এড. সম গোলাম মোস্তফা। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ সিরাজুল ইসলাম ও আমেনা রহমান, উপজেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনি। অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা বদরুজ্জামান, অসিত বরণ রায়, দেবহাটা প্রেসক্লাবের আহবায়ক আঃ ওহাব প্রমুখ। সমগ্র অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নাজমুন্নাহার ও হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা আঃ সামাদ।

কপিলমুনিতে বর্ষবরণ

কপিলমুনি প্রতিনিধি : কপিলমুনিতে ধুমধামের সাথে উদ্যাপিত হল পহেলা বৈশাখ ১৪১৯। কপিলমুনি সম্মিলিত বর্ষবরণ উদ্যাপন কমিটির পরিচলনায় ও কেকেএসপি’র আয়োজনে এ বছর কপিলমুনিবাসী বর্ষবরণ করেছে।

“লাল পেড়ে সাদা শাড়ি, বৈশাখে বাঙ্গালি  নারী” এ সেøাগানকে সামনে রেখে শত শত নারী লাল পেড়ে সাদা শাড়ি পরে কপিলমুনি সহচরী বিদ্যা মন্দির প্রাঙ্গণ থেকে বর্ণাঢ্য র‌্যালী বের করে। এতে কপিলমুনির বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক, শিক্ষা, ব্যবসায়ী ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ও অত্রাঞ্চলের তরুণরা অংশ নেয়। এরপর বাঙ্গালির ঐতিহ্য পান্তা, ডাল ও আলু ভত্তা ভোজনের পর্ব চলে। এছাড়া প্রতাপকাটী, বারুইডাঙ্গা ও আগড়ঘাটায় পৃথক পৃথক ভাবে বর্ষবরণ উৎসব উদ্যাপনে পাইকগাছা উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ রশীদুজ্জামান প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেন। এদিকে কপিলমুনির বালুর মাঠে ঐদিন সন্ধ্যায় সংগীতানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

কালিগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন

বিশেষ প্রতিনিধি : বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে কালিগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন ও বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে বাংলা নববর্ষকে ১৪১৯ বরণ করা হয়েছে। এ উপলক্ষ্যে গত শনিবার সকাল সাড়ে ৮টায় বর্ণিল সাজে সজ্জিত শোভাযাত্রা উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। শোভাযাত্রা শেষে উপজেলা লেডিস ক্লাবের উদ্যোগে পান্তানুষ্ঠান ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এছাড়াও উত্তর কালিগঞ্জ মোজাহার মেমোরিয়াল হাইস্কুল, পাইলট গার্লস হাইস্কুল, পাইলট কমিউনিটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কালিগঞ্জ কলেজ, রোকেয়া মনসুর ডিগ্রী মহিলা কলেজ, শিমু-রেজা এমপি কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বাংলা নববর্ষ বরণে বিভিন্ন অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করে। শনিবার বিকেলে বেসরকারী সংস্থা ‘সুশীলন’ কালিগঞ্জ কলেজ মাঠে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

ঝাউডাঙ্গা

নিজস্ব প্রতিনিধি : সদরের ঝাউডাঙ্গায় ১লা বৈশাখ জাকজমকপূর্ণ ভাবে পালিত হয়েছে। ঝাউডাঙ্গা বঙ্গবন্ধু স্মৃতি পাঠাগার ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের উদ্যোগে বিভিন্ন কর্মসুচি পালিত হয়। এ উপলক্ষ্যে আয়োজন করা হয় পান্তা ভাত আর ইলিশ মাছ। ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ অফিসের সামনে দিনব্যাপি চলে জারিগান। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও তালা কলারোয়া আসনের এমপি মুজিবুর রহমান, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম, জেলা আওয়ামী লীগের সহ- সভাপতি মহিদুল ইসলাম, ভাইস চেয়ারম্যান এসএম শওকাত হোসেন, আওয়ামী লীগ নেতা শাহাজান আলী, আবু সাইদ, হারুন উর রশিদ, ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম, অধ্যক্ষ খলিলুর রহমান, ইউনিয়ান আওয়ামী লীগের নেতা অমেরেন্দ্র নাথ অমর,যুবলীগ নেতা সোহারাব হোসেন, সাজু, আব্দুল খালেক, বাজার কমিটির সভাপতি আব্দুল হাই, সাধারন সম্পাদক জাহিদ হোসেন, সুনিল ঘোষ, ডা: মজনুর রহমান, প্রভাষক হাছান মাহমুদ রানা,শাহাজান সিরাজ, আব্দুর রশিদ প্রমুখ। জারিগান পরিবেশন করেন কাশেম বয়াতি ও আক্তার বয়াতি।

লাবসা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

নিজস্ব প্রতিনিধি : সদরের লাবসা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আয়োজনে এবার বর্ষবরণ পালন করা হয়েছে একটু অন্যভাবে। গান, নাচসহ ছিল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। ছিল আলাদা আয়োজন বাঙ্গালি সাংস্কৃতির অন্যাতম আকর্ষণ ঘুড়ি ও্ড়ানো প্রতিযোগিতা।

দিন শেষে বিকেলে অনুষ্ঠিত হয় পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান । এ অনুষ্ঠানে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: আছাদুজ্জামান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন। ম্যানেজিং কমিটিরি সভাপতি মুন্সি আমিরুল হকের সভাপতিত্বে এ অনুষ্টানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সদর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মিরাজ আশরেকিন, সহাকারি শিক্ষা কর্মকর্তা ফারুক হোসেন, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আছপিয়া খাতুন, সহকারি শিক্ষক আবুল আলম ফারহাদ, নিমাই চন্দ্র বিশ্বাস, রোজিনা খাতুন, তানিয়া খাতুন, শারমিন সুলতানা, তানজিলা খাতুন, মাহমুদা খাতুন, সাহানা আক্তার প্রমুখ।

 

রমজাননগর ইউনিয়ন ছাত্রদল

রমজাননগর (শ্যামনগর) প্রতিনিধি : রমজাননগর ইউনিয়ন ছাত্রদলের উদ্যোগে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে পহেলা বৈশাখ উদযাপন করা হয়। বাংলা বর্ষবরণের অংশ হিসেবে বর্ণাঢ্য র‌্যালি ও পান্তা চিংড়ির আয়োজন সকলের মাঝে খাঁটি বাঙালিপনার আমেজ সৃষ্টি করে।

র‌্যালিতে অংশ নেয় উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকদলের আহবায়ক এ্যাডঃ মাসুদুল আলম দোহা, খান আঃ সবুর, ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি শহীদুজ্জামান, উপজেলা ছাত্রদল সভাপতি নাজমুল হক, উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম-সম্পাদক নাজমুল হোসেন,  স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা রশিদ কয়াল, হাফিজুর রহমান, রমজাননগর ইউনিয়ন ছাত্রদল সভাপতি সেলিম খান, মাষ্টার শাহিনুর আলম প্রমুখ।

শ্যামনগর উপজেলা প্রশাসন

শ্যামনগর প্রতিনিধি : বাংলা বছরের দিন গণনা শুরু। তাই সবার মাঝেই আলাদা এক উম্মাদনা। কালের গহ্বরে হারিয়ে যেতে বসা বাঙালি সংস্কৃতির ষ্পর্শে আসতে তাই সবাই ছিল উদ্রগীব। পোশাক পরিচ্ছেদ থেকে শুরু করে খাদ্যসহ সবকিছুতেই আদি বাঙালিপনার ষ্পষ্ট উপস্থিতি বিমোহিত করে সব বয়সী আর সব পেশার মানুষকে।

গত শনিবার বাংলা নববর্ষ উদযাপনের অংশ হিসেবে শ্যামনর উপজেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ছাড়াও আরও অসংখ্য প্রতিষ্ঠান উপজেলা সদর এবং উপজেলাার বিভিন্ন অংশে দিনব্যাপী কর্মসুচি গ্রহন করে। তবে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সকাল আটটায় উপজেলা পরিষদ চত্ত্বর থেকে শুরু হওয়া র‌্যালীতে সকলেই ঐক্যবদ্ধভাবে অংশ নেয়।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ দৌলতুজ্জামান খানের নেতৃত্বে শুরু হওয়া বাংলা বর্ষবরণের বর্নাঢ্য র‌্যালীতে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষে ওসি (তদন্ত) দিলিপ কুমার সরকার, মহসীন কলেজের অধ্যক্ষ জি এম ওসমান গণি, আতরজান মহিলা মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ আশেক-ই এলাহী, মুক্তিযোদ্ধা সংসদের এস এম আফজালুর রহমান, ডাঃ মাহফুজুল হকসহ অন্যরা অংশ নেয়। উপজেলা সদরের বিভিন্ন সড়কে বাঙালী সাঁজের বর্নাঢ্য র‌্যালী নিয়ে পরিভ্রমনের শেষ পর্যায়ে উপজেলা পরিষদের ছাতিম তলায় যেয়ে র‌্যালীতে অংশ গ্রহনকারীরা পান্তা আর চিংড়ী ও আলু ভর্তার স্বাদ গ্রহন করে।

এদিকে মর্নিং ফুটবল একাদশের পক্ষে একটি র‌্যালী উপজেলা প্রশাসনের সাথে যোগদানশেষে শ্যামনগর কিন্ডার গার্ডেনের মাঠে যেয়ে পান্তা আর ইলিশের স্বাদ গ্রহন করে বাঙালী সুখ-স্মৃতিকে স্মরনের চেষ্টা চালায়। একইভাবে শ্যামনগর মহসীন কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা কলেজ ক্যাম্পাসে যেয়ে পান্তা আর চিংড়ী ভর্তা খেয়ে বাঙালী আমেজ ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করে। এদিকে বাংলা ১৪১৯ সালকে বরণের অংশ হিসেবে উপজেলা পরিষদ তিনদিনব্যাপী কর্মসুচি হাতে নিয়েছে। উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন ছাতিমতলায় জারী গান, মুখাভিনয়, হা-ডু-ডু খেলা, পানিতে দাড়িয়ে পুরুষদের মধ্যে বালিশ নিয়ে মারামারি, মেয়েদের চেয়ার দখলসহ সব বয়সীদের জন্য নানান ধরনের খেলার আয়োজন করা হয়।

এছাড়া ছাতিমতলায় বাংলা বর্ষবরণ উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এবং বাংলার লোকনাট্য ইনস্টিটিউট’র ব্যবস্থাপনায় মেলার আয়োজন করা হয়।

আজ মেলার তৃতীয় দিনে দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার সহায়তায় শিশুদের অংশগ্রহনে চিত্রাংকন ও কবিতা আবৃত্তি প্রতিযোগীতা অনুষ্ঠিত হবে।

সাতক্ষীরা জেলা ক্রীড়া সংস্থা

নিজস্ব প্রতিনিধি : বাংলা নববর্ষ ১৪১৯ কে স্বাগত জানিয়ে সাতক্ষীরা জেলা ক্রীড়া সংস্থায় উদদ্যাপিত হয়েছে বর্ষবরণ অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে সাতক্ষীরা জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড’র পরিচালক মোহাঃ সহিদুল ইসলাম সকলকে মিষ্টিমুখ করান। ইয়ং টাইগার্স অনুর্ধ-১৪ জাতীয় ক্রিকেট প্রতিযোগিতার ৫ম ম্যাচ চলাকালে অনাড়ম্বর এই অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সাজেক্রীসের সহ-সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মোমেন খান চৌধুরী সান্টু, বিশিষ্ট ক্রীড়া সংগঠক ও সাবেক ক্রিকেটার আল আমিন কবির চৌধুরি ডেভিড, সাজেক্রীস’র যুগ্ম সম্পাদক আহম্মদ আলী সরদার, কার্য নির্বাহী সদস্য রফিকুর রহমান লাল্টু, আনোয়ার হোসেন আনু, মাহমুদ হাসান মুক্তি, ক্রীড়া সংগঠক ও সাবেক জাতীয় ফুটবলার ইমাদুল হক খান, বাংলাদেশ ক্রিকেট আম্পায়ার্স অ্যান্ড স্কোরার্স এসোসিয়েশন, সাতক্ষীরা জেলা শাখার যুগ্ম সম্পাদক আব্দুস সামাদ, কোষাধ্যক্ষ লুৎফর রহমান সৈকত, সদস্য ফরহাদ হোসেন, জিহাদ হোসেন, দেবাশিস বসু শেখর, সামিউল ইমাম আযম মনির, সঞ্জীব ব্যানার্জী, বিসিবি’র সহকারি ক্রিকেট কোচ মোফাচ্ছেনুল ইসলাম তপু, সাজেক্রীসের অফিস সচিব সিরাজউদ্দিন খান, শেখ মোস্তাক আহমেদ বাবলু সহ বিভিন্নস্তরের কর্মকর্তা ও চট্টগ্রাম বিভাগ ও সিলেট বিভাগের কোচ, ম্যানেজারসহ কর্মকর্তাবৃন্দ।

আশাশুনি উপজেলা প্রশাসন

আশাশুনি প্রতিনিধি : আশাশুনিতে বাংলা নববর্ষ-১৪১৯ জাকজমকের সাথে উদযাপন করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসেেনর ব্যবস্থাপনায় দিবারাত্রব্যাপী অনুষ্ঠানমালায় হাজার হাজার দর্শকের উপস্থিতি ঘটে। শনিবার সকাল ৮টায় উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালী বের করা হয়। ঢোল-বাদ্য সহকারে মাটির কলস, কুলা, পালকি, লাঙ্গল রংতুািলর আল্পনায় সুসজ্জিত করে, বর্ণিল সাজে সজ্জিত শিশু-কিশোর, যুব-বয়স্ক মানুষের অংশ গ্রহণে বর্ণাঢ্য র‌্যালিটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে উপজেলা পরিষদ বটমুলে গিয়ে শেষ হয়। এরপর শুরু হয় পান্তা ভাত খাওয়ার আয়োজন। গ্রাম বাংলার মানুষের প্রিয় খাবার পান্তা ভাতের সাথে ডাল-আলু ভর্তা, চিংড়ী ও পুঁটি মাছের কোর্মা দিয়ে খাওয়ানো হয়। ৯.৩০টায় শুরু হয় উপজেলা পরিষদ চত্বরে বিশাল মঞ্চে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। ইউআরসি ইন্সট্রাক্টর অপূর্ব মণ্ডলের উপাস্থানায় অনুষ্ঠানে সংগীত, নৃত্য, কবিতা আবৃত্তি নিয়ে আকর্ষনীয় অনুষ্ঠান দুপুর ১.৩০টা পর্যন্ত চলে। অনুষ্ঠানে উপজেলা চেয়ারম্যান আবু বাশার মুহাম্মদ মোস্তাকিম প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন। বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ও বক্তব্য রাখেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গিয়াস উদ্দিন, শ্রীউলা ইউপি চেয়ারম্যান আবু হেনা সাকিল, মুক্তিযোদ্ধা কমাণ্ডার আব্দুল হান্নান, সকল সরকারি কর্মকর্তা, সাংবাদিক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ অনুষ্ঠানে অংশ নেন। রাতে অনুষ্ঠিত হয় খুলনা থেকে আগত শাপলা শিল্পী গোষ্ঠির শিল্পীদের অংশ গ্রহণে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও নন্দিত নৃত্য শিল্পীদের নৃত্য প্রদর্শন।

 

কালিগঞ্জের ঘটনায় এসপি-ওসিকে হাইকোর্টে তলব, কেন সাসপেন্ড করা হবে না তার ব্যাখ্যা দিতে হবে ২৩ এপ্রিল

পত্রদূত ডেস্ক : সংখ্যালঘুদের সম্পদ রক্ষায় ব্যর্থতার অভিযোগে সাতক্ষীরার প্রত্যাহার হয়ে যাওয়া পুলিশ সুপার (এসপি) ও কালিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) তলব করেছেন হাইকোর্ট। আগামী ২৩ এপ্রিল আদালতে হাজির হয়ে ব্যর্থতার অভিযোগে তাদের কেন সাসপেন্ড করা হবে না তার ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।

বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী ও বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ স্বপ্রণোদিত হয়ে রোববার এ আদেশ দেন। ৩১ মার্চ এবং ১ এপ্রিল সাতক্ষীরার ঘটনার বিবরণ সম্বলিত কয়েকটি জাতীয় দৈনিক রোববার আদালতে দাখিল করেন বাংলাদেশ মাইনরিটি ওয়াচের প্রেসিডেন্ট এ্যাডভোকেট রবীন্দ্র ঘোষ। আদালত বিষয়টি আমলে নিয়ে রুল জারি করেন এবং সাতক্ষীরার এসপি ও কালিগঞ্জের ওসিকে তলব করেন।

 

 

শ্যামনগরে রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রের অভিযোগে সাবেক এমপিসহ জামাতের ২৭ নেতাকর্মী গ্রেপ্তার

শ্যামনগর প্রতিনিধি : জামায়াত দলীয় সাবেক সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামসহ ২৭ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে শ্যামনগর থানা পুলিশ। সরকার ও রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রের অভিযোগে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ আলমগীর হোসেনের নেতৃত্বে শনিবার দুপুরে ও রাতে পুলিশ উপজেলার সোরা গ্রামের ডাঃ আব্দুল জলিলের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে প্রথমে ২৬ জনকে আটক করে। এছাড়া শনিবার রাত দুইটার দিকে সাবেক সংসদ সদস্যকে পুলিশ তার শ্যামনগর সদরের বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে।

পুলিশ জানায়, শনিবার রাত দুইটার দিকে সাবেক এমপি গাজী নজরুল ইসলামকে তার শ্যামনগর সদরের বাসা থেকে আটক করা হয়। একই দিন দুপুরে উপজেলার রমজাননগর ইউনিয়নের সোরা গ্রাম থেকে আটক জামায়াত দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে দুপুরের বৈঠকে উপস্থিত হওয়ার কারণে আটককৃতদের তথ্যের ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ আরও জানায়, উপজেলা জামায়াত ইসলামীর নেতৃবৃন্দ রমজাননগর ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর ডাঃ আব্দুল জলিলের বাড়িতে বৈঠক করছিল বলে পুলিশ জানতে পারে। এক পর্যায়ে শনিবার বিকাল তিনটার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে শ্যামনগর উপজেলা জামায়াত ইসলামীর নায়েবে আমীর মাওঃ ওয়াহিদুজ্জামানসহ মোট ২৬ জন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়। আটককৃতরা হলো রমজাননগর ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর ডাঃ আব্দুল জলিল, রমজাননগর ফয়সালাবাদ মাদ্রাসার সুপার মাওঃ আবুল কালাম আজাদ, ভেটখালী গ্রামের হোসেন কয়ালের ছেলে ইশ্রাফিল কয়াল (২৮), বংশীপুর গ্রামের রহিম গাজীর ছেলে হাফিজুর রহমান (৩০), মুন্সীগঞ্জ গ্রামের আবু তালেবের ছেলে আবুল কালাম (৩০), কালিঞ্চি গ্রামের আলিম বক্সের ছেলে আঃ আজিজ (৪৫), একই গ্রামের মোবারক গাজীর ছেলে আঃ মান্নান (৪৫), যতিন্দ্র নগর গ্রামের এসএম লোকমানের ছেলে আনিছুর রহমান (৩০), জয়াখালী গ্রামের মতিউল¬াহ সরদারের ছেলে আঃ আজিজ (৪৫), হরিনগর গ্রামের সোবহান গাইনের ছেলে হাফিজুর রহমান (২৫), যতিন্দ্রনগর গ্রামের এন্তাজ সরদারের ছেলে ইমাম হোসেন (৪২), মুন্সীগঞ্জ গ্রামের মনির উদ্দীনের ছেলে মোফাজ্জল (৪২), বংশীপুর গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে রফিকুল ইসলাম (৩২), শ্রীফল কাঠি গ্রামের দাউদ গাজীর ছেলে আব্দুল¬াহ (৪৫), মুন্সীগঞ্জ গ্রামের গোলাম রহমানের ছেলে আমিনুর রহমান (৩৫), হরিনগর গ্রামের সৈয়দ গাজীর ছেলে লৎফর (৩৫), একই গ্রামের সবুর মোল¬ার ছেলে আরাফাত (৩০), গোলাখালী গ্রামের ইয়াকুব আলীর ছেলে বনি আমিন (৪৮), কৈখালী গ্রামের মহব্বত মোড়লের ছেলে আবুল কালাম (৩০), খাগড়া ঘাটের আহম্মদ আলী মোড়লের ছেলে আলমগীর (৪৫) শ্রীফলকাঠি গ্রামের এফাজতুল¬াহর ছেলে মোতালেব (৩৫), মুন্সিগঞ্জ গ্রামের বাবলুর রহমান (২৫), আলমগীরের ছেলে আঃ মান্নান, কাশেম গাজীর ছেলে সিদ্দিক গাজী, সাতুল¬াহর ছেলে আবুবক্কর (৪৫)। এসময় পুলিশ সেখানে উপস্থিত জামায়াত ইসলামীর কেন্দ্রীয় সূরা সদস্য সাবেক এমপি নজরুল ইসলাম, উপজেলা চেয়ারম্যান মাওঃ আব্দুল বারীসহ উপজেলা জামায়াতের কয়েকজন শীর্ষ নেতাকে কৌশলে চলে যাওয়ার সুযোগ করে দেয় বলে জানা যায়। শ্যামনগর থানার ওসি জানিয়েছেন, আটক নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে পুলিশ বাদী হয়ে রাষ্ট্রোদোহীতার একটি মামলা করেছে।

 

ইয়ং টাইগার্স অনুর্ধ-১৪ জাতীয় ক্রিকেট প্রতিযোগিতা ২০১১-১২ পৃথক দুটি উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচে চট্টগ্রাম বিভাগ ও ঢাকা মেট্রো’র জয়লাভ

নিজস্ব প্রতিনিধি : ইয়ং টাইগার্স অনুর্ধ-১৪ জাতীয় ক্রিকেট প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্বের পৃথক দুটি ম্যাচে জয় পেয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগ ও ঢাকা বিভাগ। গত শনিবার চট্টগ্রাম বিভাগ সিলেট বিভাগকে ৫ উইকেটে এবং রবিবার ঢাকা মেট্রো রংপুর বিভাগকে পরাজিত করে প্রত্যেকে ৪ পয়েন্ট অর্জন করে।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)’র আয়োজনে ও সাতক্ষীরা জেলা ক্রীড়া সংস্থা (সাজেক্রীস)’র ব্যবস্থাপনায় সাতক্ষীরা স্টেডিয়ামে চ’ড়ান্ত পর্বের ৫ম ম্যাচে শনিবার সকালে মুদ্রা নিক্ষেপনে জয়লাভ করে সিলেট বিভাগের অধিনায়ক আসাদুল্লাহ আল গালিব চট্টগ্রাম বিভাগের অধিনায়ক শাহনেওয়াজ তুর্জকে ফিল্ডিং এ আমন্ত্রন জানান। নির্ধারিত ৫০ ওভারের খেলায় প্রথমে ব্যাট করতে নেমে সিলেট বিভাগ ৪৬ ওভার ২ বল খেলে সবকটি উইকেট হারিয়ে ১৬৫ রানের বিশাল স্কোর গড়ে তোলে। দলের পক্ষে শফিকুল ইসলাম ৩৮, অরিত্রিক অর্পণ ৩৩, মামুন আহমেদ ২৩ রান সংগ্রহ করেন। চট্টগ্রাম বিভাগের বাহাতি স্পিনার মনিরুল ইসলাম ১০ ওভার বল করে ২ মেডিনসহ ২০ রান দিয়ে ৩টি উইকেট, ওহিদুর রহমান ৩১ রানে ২টি এবং সুজন মজুমদার ৩২ রানে প্রতিপক্ষের ২টি উইকেট দখল করেন।

১৬৬ রানের লক্ষ মাত্রায় খেলতে নেমে শফিকুল ইসলাম রাজুর আক্রমনাত্মক ব্যাটিং এবং মনিরুল ইসলামের দায়িত্বশীল ব্যাটিং এ ৪৮ ওভার খেলেই ৫ উইকেট হারিয়ে ১৬৭ রান তুলে জয় নিশ্চিত করে চট্টগ্রাম বিভাগ। দলের পক্ষে শফিকুল অপরাজিত ৪৮, মিনরুল অপরাজিত ৩৫, তানভির ৩২ এবং তুর্জ ১৭ রান সংগ্রহ করেন। সিলেটের মজিবুল, ইসহাক, অর্পণ ও নবাব প্রত্যেকে ১টি করে উইকেট দখল করেন। ফলে চট্টগ্রাম বিভাগ ৫ উইকেটে জয়লাভ করে। শনিবারের ম্যাচ পরিচালনা করেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড’র নিয়োগকৃত দুই আম্পায়ার মোঃ জিহাদ হোসেন ও দেবাশিস বসু শেখর, স্কোরার ছিলেন আব্দুস সামাদ।

ম্যাচ শেষে পুরস্কার বিতরনী অনুষ্ঠানে শনিবারের ম্যাচ সেরা অলারাউন্ডার মনিরুল ইসলামের হাতে ক্রেস্ট তুলে দেন জেলার ক্রীড়া সংগঠক ও সাবেক ক্রিকেটার একরামুল হক লালু। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সাজেক্রীস নির্বাহী সদস্য আনোয়ার হোসেন আনু, বাংলাদেশ ক্রিকেট আম্পায়ার্স অ্যান্ড স্কোরার্স এসোসিয়েশন, সাতক্ষীরা জেলা শাখার সহ-সভাপতি রফিকুর রহমান লাল্টু, সদস্য মোঃ ফরহাদ হোসেন, বিসিবি’র সহকারি ক্রিকেট কোচ মোফাচ্ছেনুল ইসলাম তপু, সাজেক্রীসের সচিব সিরাজউদ্দিন খান, অফিস সহকারি মোস্তাক আহমেদ বাবলু প্রমুখ।

এদিকে গতকাল চূড়ান্ত পর্বের ৬ষ্ঠ ম্যাচে ঢাকা মেট্রো ৩ উইকেটে রংপুর বিভাগকে পরাজিত করেছে। গতকাল সকালে টসে জয়লাভ করে রংপুর বিভাগ ব্যাটিং এর সিদ্ধানত নেয়। ৪৯ ওভার ৩ বল খেলে সবকটি উইকেট হারিয়ে রংপুর বিভাগ ১৯৪ রানের বিশাল স্কোর গড়ে তোলে। দলের পক্ষে সাগর ৪২ রানে অপরাজিত থাকেন। ঢাকা মেট্রোর হামিম হায়দার ৪১ রান দিয়ে ৩টি উইকেট দখল করেন। ১৯৫ রানের লক্ষমাত্রায় খেলতে নেমে ঢাকা মেট্রো ৪৮ ওভার ১ বল খেলে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৯৭ রান তুলে নেয়। ওমর ফারুকের ব্যাট থেকে আসে ৫৪ রান। রংপুর বিভাগের আবু হাম্মাম ১১ রানে ২টি এবং রাব্বি ৩১ রানে ২টি উইকেট দখল করেন। ফলে ঢাকা মেট্রো ৩ উইকেটে জয়লাভ করে। গতকালের ম্যাচ পরিচালনা করেন বিসিবি’র নিয়োগকৃত দুই আস্পায়ার মাহবুবুর রহমান ও লুৎফর রহমান সৈকত, স্কোরার ছিলেন আব্দুস সামাদ।

ম্যাচ শেষে পুরস্কার বিতরনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ম্যান অফ দা ম্যাচ ঢাকা মেট্রো’র ওমর ফারুকের হাতে ক্রেস্ট তুলে দেন সাজেক্রীসের নির্বাহী সদস্য ও বাংলাদেশ ক্রিকেট আম্পায়ার্স অ্যান্ড স্কোরার্স এসোসিয়েশন, সাতক্ষীরা জেলা শাখার সহ-সভাপতি রফিকুর রহমান লাল্টু। এ সময় সাজেক্রীসের বিভিন্ন কর্মকর্তা ও উভয় দলের কোচ ও টিম ম্যানেজারসহ বিসিবি’র প্রতিনিধিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। আজকের খেলা- রংপুর বিভাগ বনাম সিলেট বিভাগ।

দুষ্টু বলদের চেয়ে শূন্য গোয়াল অনেক ভালো

জহুরুল কবীর

প্রিয় পাঠক, সাতক্ষীরার একটি পত্রিকা গত বৃহস্পতিবার বন্ধ হয়ে গেছে। একটা পত্রিকা বন্ধ হওয়া একজন পাঠকের কাছে বেশ দুঃখজনক। একটা সংবাদপত্র বন্ধ করে দেওয়া সরকারের জন্য খুবই বদনামের বিষয়। গণতান্ত্রিক সরকারের দ্বারা পত্রিকা বন্ধ করাটা মোটেও সমীচীন নয়। এটা যথেষ্ঠ নিন্দনীয়। আর এই কথাগুলো আমি যেমন বুঝেছি, তেমনি বুঝেছেন সরকার ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাবৃন্দ। তারা ভালোভাবেই জানেন, একটা খবরের কাগজ একজন পাঠকের প্রাণ। তারপরও সাতক্ষীরার স্থানীয় পর্যায়ে প্রচার সংখ্যায় বেশ ভালো অবস্থানে থাকা একটি সংবাদপত্র বন্ধ করে দিতে প্রশাসন বাধ্য হয়েছে। প্রশ্ন, কিন্তু কেন? কি কারণে প্রশাসন এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমরা সবাই চাই সংবাদপত্রের স্বাধীনতা। আমরা চাই স্বাধীন গণমাধ্যম। তাই বলে এমন স্বাধীন গণমাধ্যম নয়, যা একটি জাতি, সম্প্রদায় বা রাষ্ট্রের জন্য হুমকি হয়ে দাড়ায়। সাতক্ষীরা একটি শান্ত জেলা। এখানে প্রায় অধিকাংশ মানুষ ধর্মভীরু। আর এই ধর্মভীরুতাকে পুজি করে অনেকেই তাদের ফায়দা লুটেছে। ধর্মকে ব্যবহার করে জামাত বিএনপির সাথে একবার ক্ষমতায় এসেছে। ২০০৪ সালের ১৭ আগষ্ট দেশব্যাপি সিরিজ বোমা হামলার পরিকল্পনা সাতক্ষীরা থেকে হয়েছে। আর এই সুযোগকে পুজি করে একটি পত্রিকা মানুষের ধর্ম বিশ্বাসকে ব্যবহার করে প্রচার সংখ্যা বাড়াতে সক্ষম হয়েছে। এ ক্ষেত্রে যেভাবে ধর্মকে ব্যবহার করা হয়েছে, তেমনি সন্ত্রাসী গডফাদারদের সাহায্য নেওয়া হয়েছে। ২০০২ সালে জন্ম নেওয়া গডফাদারের তেমনই একটি পত্রিকার নাম দৃষ্টিপাত। এই পত্রিকাটি সর্বক্ষণই ধর্মকে সামনে এনে গ্রাহক সংখ্যা বাড়িয়েছে। ইরাক, কুয়েত, আফগানিস্থান, ইরান, সিরিয়া, মিশর, সিরিয়াসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সহিংসতার খবর নিজেদের ইচ্ছামত লিখে ফলাও করে সামনে এনে সব সময় পাঠকদের মন মাতিয়ে রেখেছে। আর মাঝেমধ্যেই কিছু আজগবি খবর ছেপে পাঠকদের গুলিয়ে দিয়েছে। এরকমই একটি খবর রং লাগিয়ে ছাপা হয় গত ২৯ মার্চ। কালিগঞ্জের ফতেপুরের একটি স্কুলের স্বাধীনতা দিবসের নাটককে কেন্দ্র করে বিকৃত খবর প্রকাশ করে। স্থানীয় প্রতিবেশী থেকে শুরু করে দুই দিনে মানুষের মধ্যে ব্যাপক সহিংসতার সৃষ্টি করে। পরপর দুইদিনে দুই গ্রামের হিন্দুদের বাড়ি ঘরে আগুন দিয়ে, লুটপাত করে মধ্যযুগীয় তাণ্ডব চালায়। এতে দুই গ্রামের প্রায় ২০টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্থ হয়। যার প্রায় সবাই হিন্দু সম্প্রদায়ের। সাতক্ষীরা জেলাটি বাংলাদেশ-ভারতের একটি সীমান্তবর্তী জেলা। আর বসন্তপুর আরও সীমান্ত ঘেরা। এই গ্রামের প্রায় এক কিলোমিটার দুরেই ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত। একটি উগ্রপন্থী ভারত বিরোধী গোষ্ঠী সুপরিকল্পিতভাবে এই সীমান্ত গ্রামে সাম্প্রদায়িক ডাঙ্গা সৃষ্টির লক্ষ্যে হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর হামলা চালিয়ে মারাত্মক ভাবে যানমালের ক্ষতিসাধন করে। আর এর মিডিয়া পার্টনারের দায়িত্ব পালন করে খুনি গডফাদারদের মুখপাত্র দৈনিক দৃষ্টিপাত ও আলোর পরশ। তারা সীমান্তবর্তী গ্রাম বসন্তপুর ও ফতেপুরকে বেছে নেয় সুদূর প্রসারী পরিকল্পনা নিয়ে। তারা চেয়েছিল সীমান্ত হিন্দুদের উপর হামলা নির্যাতন চালালে এটা খুব অল্প সময়ে সীমান্ত পার হয়ে যাবে ভারতে। এতে করে ভারতীয় হিন্দুরা সেদেশের মুসলমানদের উপর চালাবে নির্যাতন হামলা। এতে করে ভারত বাংলাদেশের মধ্যকার সম্পর্কের অবনতি হবে। বেড়ে যাবে বাংলাদেশির প্রতি বিএসএফের নির্যাতন। ব্যর্থ হবে সীমান্ত শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সৃষ্ট ভারত বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় মিশন।

কিন্তু আমাদের স্থানীয় প্রশাসন খুবই দক্ষতার পরিচয় দিয়ে তাদের এই মিশনকে ব্যর্থ করে দেয়। আর প্রশাসনকে সহযোগিতা করে কয়েকটি স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের প্রিণ্ট মিডিয়া। তারা স্বচক্ষে উপলব্ধি করে কিভাবে একটি পত্রিকা সুপরিকল্পিতভাবে সাম্প্রদায়িকতা উস্কে দিচ্ছে। তারাও বোঝে এটাকে রাখতে হবে। তাই তারা দেরি না করে গত ৪ এপ্রিল কেন পত্রিকার ডিক্লিয়ারেশন বাতিল করা হবে না, এ মর্মে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করে। নোটিশে ৮টি স্পর্ককাতর বিষয় উল্লেখ করে জবাব চাওয়া হয়। কিন্তু পত্রিকা কর্তৃপক্ষ ঐ চিঠির যথাযথ জবাব না দিয়ে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও অধিকার বিষয়ে প্রশ্ন তোলে। সাথে সাথে চিঠির স্পর্শকাতর ৮টি বিষয়কে অবজ্ঞা করে। এমনকি গত ১০ এপ্রিল দৈনিক দৃষ্টিপাতের লিড নিউজে সম্পাদক নূর ইসলাম বলেন, আমার পত্রিকা বন্ধ করে দেওয়ার ষড়যন্ত্র হচ্ছে। বিষয়টি আমি সুযোগ্য স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী ডাঃ আ ফ ম রুহুল হক মহোদয়কে জানিয়েছি। এতে সম্পাদক নূর ইসলাম অপ্রকাশ্যভাবে মন্ত্রীকে জানিয়েছেন বলে প্রশাসনকে শাসালেন। কিন্তু প্রশাসন তার এই চালাকিকে কোন প্রকার মূল্যয়ান না করে ভারত বাংলাদেশ, হিন্দু-মুসলমান, স্থানীয় প্রতিবেশীদের পারস্পারিক সম্পর্কের অবনতির কথা চিন্তা করে অতি মার্জিত ভাষায় গত বুধবার এক পত্রের মাধ্যমে দৈনিক দৃষ্টিপাতের প্রমাণিকরণ বাতিল করতে বাধ্য হয়। বন্ধ হয়ে যায় দৈনিক দৃষ্টিপাত।

এখন প্রিয় পাঠক, আপনারাই বিবেচনা করে বলেন, দৈনিক দৃষ্টিপাত বন্ধ থাকবে না আবার প্রচারে এসে উগ্র মৌলবাদী জঙ্গীর জন্ম দিয়ে, হিন্দু মুসলমানদের মধ্যে দাঙ্গা সৃষ্টি করবে, ভারত বাংলাদেশের সম্পর্কের অবনতি ঘটাবে, সৃষ্ট ভারত বাংলাদেশের সম্পর্কে অবনতির কারণে বাংলাদেশি সীমান্ত ব্যবসায়ীদের প্রতি ভারতীয় বিএসএফের নির্যাতন বাড়িয়ে দিবে ? তাই আমার মনে হয়- দুষ্ট বলদের চেয়ে শূন্য গোয়াল অনেক ভালো। আমরা জানি একজন পাঠক পত্রিকাকে তার প্রিয় জিনিসের মত ভালবাসে। কিন্তু অপ্রিয় হলেও সত্য ভালবাসা চিরকাল বেঁচে থাকে না। একদিন না একদিন তাকে বিদায় দিতে হয়।

 

 

 

ইংল্যান্ডে ছেলের এডুকেশন সিরিমনিতে পিতা

কলারোয়া প্রতিনিধি : সম্প্রতি ইংল্যান্ডের ইউনিভার্সিটি অব বেডফোর্সিয়ায় গ্র্যাজুয়েশন ডিগ্রীধারীদের এক এডুকেশন সিরিমনি ভার্সিটি’র মেইন হল রুমে অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশের অনেক স্টুডেণ্ট সেখানে গ্র্যাজুয়েশন ডিগ্রী লাভ করেছে। কলারোয়ার সীমান্তবর্তী কাদপুর গ্রামের আকবর আলি মোল্যার পৌত্র  ও বাগআঁচড়া হাইস্কুলের সিনিয়র শিক্ষক বজলুর রহমানের ছেলে মাহমুদুল হাসান ওই ইউনিভার্সিটি থেকে এ্যাকাউন্টিংএ অনার্স শেষ করে বর্তমানে এসিসিএ (মাস্টার্স) পড়ছেন। ইউনিভার্সিটি কর্তৃপক্ষের আমন্ত্রণে গত ২৫ মার্চ ওই শিক্ষা সিরিমনিতে যোগ দেন মাহমুদুল হাসানের অভিভাবক, অথৈ ইন্টারন্যাশন্যাল’র সত্ত্বাধিকারী সমাজসেবক মো: মশিউর রহমান। ইউনিভার্সিটিতে পড়–য়া একজন ছাত্রের অভিভাবক বাংলাদেশ থেকে ইংল্যান্ডে আগমন করায় কলারোয়ার কাদপুর গ্রামের কৃতি সন্তান মশিউর রহমানকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান ভার্সিটির এসিসিএ বিভাগের প্রধান মি: রব কারমান। ইউনিভার্সিটির অনুষ্ঠান শেষ করে মশিউর রহমান ইউরোপের ফ্রান্স, ডেনমার্ক, স্কটর‌্যান্ড ও আয়ারল্যান্ড ভ্রমণ করেন এবং ওই দেশে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সাথে তিনি শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। মশিউর রহমান জানান, ইউরোপের ওই সব দেশের প্রবাসী বাংলাদেশিদের অনেকেই অন্যান্য সংবাদপত্রের পাশাপাশি দৈনিক পত্রদূত অনলাইনে পড়েন। মশিউর রহমান গত সপ্তাহে দেশে ফিরে আসেন।

তালায় বাঁচতে শেখার প্রকল্প অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত

তালা প্রতিনিধি : বেসরকারি সংস্থা বাঁচতে শেখার উদ্যোগে তালা উপজেলার তালা সদর ও তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ বানভাসী ১ হাজার ৮৫টি পরিবারের জন্য ৯ কোটি ১৫ লাখ ৮৮ হাজার ১০৫ টাকা ব্যয়ে বসতঘর ও লেট্রিণ নির্মাণ এর কাজ শুরু করা হয়েছে। এজন্য গতকাল সকাল ১০টায় সংস্থার উদ্যোগে প্রকল্প অবহিতকরণ ও মতবিনিময় সভা তালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহবুবুর রহমানের সভাপতিত্বে উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়।

বাঁচতে শেখার কর্মকর্তা বাবুল কুমার বিশ্বাস এর পরিচালনায় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ঘোষ সনৎ কুমার। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন তালা সদর ইউপি চেয়ারম্যান এসএম নজরুল ইসলাম ও তেঁতুলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মো. মিয়াজান আলী মোড়ল। এসময় অন্যান্যের মধ্যে বাঁচতে শেখার সহকারি নির্বাহী পরিচালক প্রদীপ মার্সেল রোজারিও, কোষাধ্যক্ষ খন্দকার মকসুদুল হক, প্রকল্প ম্যানেজার গোলাম রব্বানী, অক্সফাম’র প্রকল্প ম্যানেজার মো: আব্দুর রউফ, প্রোগ্রাম অফিসার হিমেল সঞ্জিব কিচকু, ইঞ্জি. পরিতোষ সরকার, ইউপি সদস্য সৈয়দ খায়রুল ইসলাম মিঠু, আব্দুল গফুর সরদার, দেলোওয়ার হোসেন সোনা, মো. মোশাররফ হোসেন প্রমুখ বক্তৃতা করেন।

 

কুলিয়ায় চেয়ারম্যান বাজার উদ্বোধন

আলিপুর প্রতিনিধি : দেবহাটা উপজেলার কুলিয়ায় নববর্ষ উদযাপন ও চেয়ারম্যান বাজার উদ্বোধন করা হয়েছে। এসময় লাল ফিতা কেটে বাজারের উদ্বোধন করেন উপজেলা চেয়ারম্যান স ম এড. গোলাম মোস্তফা। আরো উপস্থিত ছিলেন কুলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আছাদুল হক, ইউপি সদস্য রওনাকুল ইসলাম রিপন, সেলিম রেজা সবুজ, আলাল হোসেন, অজয়মীল সরকার, কৃষ্ণপদ সরকার, বিকাশ চন্দ্র সরকার, ফতেমা খাতুন, ফরিদা খাতুন, উজালা রাণী সরদার, ইউপি সচিব ফারুক হোসেন, কালিপদ মিস্ত্রী, ইউনিয়ন সুপারভাইজার আছাদুজ্জামান টুকু ও বাজার কমিটির সভাপতি আবু ছালেক প্রমুখ। নতুন বর্ষের উদযাপন উপলক্ষ্যে ইউনিয়ন পরিষদে ৭০০ জনের ফ্রি পান্তা ও মাছ খাওয়ানোর আয়োজন করা হয়।

শ্যামনগরে সরকারি বই ও বিস্কুট বিক্রির অভিযোগে শিক্ষক আটক

শ্যামনগর অফিস : প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র ছাত্রীদের সরকারের দেওয়া বই ও বিস্কুট বিক্রিকালে শ্যামনগরে এক রেজিঃ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষককে আটক করা হয়েছে। আটককৃতের নাম হাফিজুর রহমান। তিনি শ্যামনগর উপজেলার নুরনগর ইউনিয়নের ২নং গোনা রেজিঃ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক।

জানা যায়, উপজেলাধীন ২নং গোনা রেজিঃ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হাফিজুর রহমান ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য সরকারের দেওয়া বই বিতরণ না করে কৌশলে বিক্রি করে আসছিলেন। তাছাড়া ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য দেয়া বি¯ু‹ট বিক্রির ঘটনা জানাজানি হলে অভিযোগের ভিত্তিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও শ্যামনগর থানা পুলিশ গতকাল ১৪ এপ্রিল সন্ধ্যা ৬টার সময় তাকে নিজও বাড়ি থেকে আটক করে। এ ঘটনায় তার বাড়িতে তল্ল¬াশি চালিয়ে ১ম হতে ৫ম শ্রেণির ২৮০টি বই ও ২৬৯ প্যাকেট বিস্কুট উদ্ধার করা হয়। সরকারের বই ও বিস্কুট আত্মসাতের অভিযোগে উপজেলা সহকারি প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আবুল কালাম বাদী হয়ে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ২৬ নং মামলা দায়ের করেছেন।

কলারোয়া উপজেলা স্কাউটস’র ত্রি-বার্ষিক কাউন্সিল সম্পন্ন

কলারোয়া প্রতিনিধি : বাংলাদেশ স্কাউটস কলারোয়া উপজেলার ত্রি-বার্ষিক কাউন্সিল অধিবেশন’১২ রোববার সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত হয়েছে। কলারোয়া ফুটবল মাঠে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও স্কাউটস’র সভাপতি আ ন ম তরিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে প্রধান অতিথি’র বক্তব্য দেন উপজেলা চেয়ারম্যান ও স্কাউটস’র প্রধান উপদেষ্টা বিএম নজরুল ইসলাম। এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফিরোজ আহমেদ, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (প্রাথমিক) এবিএম নাজমুল হক, জেলা স্কাউটস’র কমিশনার আশরাফ উদ্দীন, জেলা স্কাউটস’র সম্পাদক আবুল বাশার পল্টু প্রমুখ। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন, উপজেলা কমিশনার প্রধান শিক্ষক আজহারুল ইসলাম, সম্পাদক আখতারুজ্জামান প্রমুখ। আলোচনা শেষে সভাপতি আ ন ম তরিকুল ইসলাম পূর্বের কমিটি বিলুপ্ত করে আগামী ৩ বছরের জন্য নতুন কমিটি গঠনের প্রস্তাব করেন। এ সময় সাধারণ সম্পাদক পদে কলারোয়া পাইলট হাইস্কুল থেকে পূর্ব সম্পাদক আখতারুজ্জামান ও শিক্ষক মনিরুজ্জামান পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী হলে কমিটি গঠনে জটিলতা দেখা দেয়। সে কারণে কমিটি গঠন সম্ভব না হওয়ায় উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে আহ্বায়ক ও মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে সদস্য সচিব করে ৫ সদস্যের একটি এডহক কমিটি গঠন করার ঘোষণা দেয়া হয়। সমগ্র অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন প্রধান শিক্ষিকা তহমিনা পারভীন লিলি।

 

কালিগঞ্জ থানার নবাগত ওসি’র সাথে মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমাণ্ডের মতবিনিময়

বিশেষ প্রতিনিধি : কালিগঞ্জ থানার নবাগত অফিসার ইনচার্জ একেএম আলীনূর হোসেনের সাথে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমাণ্ডের মতবিনিময় সভা অনষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বেলা ২টার সময় একেএম আলীনূর হোসেন এর অফিস কক্ষে এ মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন কালিগঞ্জ মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমাণ্ডের সাবেক সভাপতি এসএম গোলাম রহমান, বর্তমান সভাপতি শেখ শাহিনুর রহমান শাহিন, সাধারণ সম্পাদক এসএম গোলাম ফারুক, কোষাধ্যক্ষ শেখ মাহিনুর রহমান শিমুল, সদস্য মোঃ আহছান উল্ল¬াহ প্রমুখ। এসময় নেতৃবৃন্দ কালিগঞ্জের ফতেপুর ও চাকদাহ গ্রামে সংঘটিত সহিংস ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেন এবং প্রকৃত দোষীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবি জানান। পাশাপাশি নির্দেশ ব্যক্তিরা যাতে অহেতুক হয়রানী ও ষড়যন্ত্রের স্বীকার না হয় সে বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহনের দাবী জানান। এ বিষয়ে অফিসার ইনচার্জ একেএম আলীনুর হোসেন নেতৃবৃন্দ কে আশ্বস্থ করেন ও সকলের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন।

 

 

শহরের বড় বাজারে আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা করে মহিলা ব্যবসায়ীকে উচ্ছেদের চেষ্টা

নিজস্ব প্রতিনিধি : শহরের বড় বাজারে আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা করে একুশ বছর পর এক মহিলা ব্যবসায়ীকে তার দোকান থেকে জোর পূর্বক উচ্ছেদ করার অভিযোগ উঠেছে। এলাকার ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসীরা জোরপূর্বক দোকানের কর্মচারীকে অন্য স্থানে আটকে রেখে কয়েক লাখ টাকার মালামাল লুটপাট করেছে বলে দোকান মালিক জানান। একই সময়ে নগদ টাকাও নেওয়া হয়েছে বলে তার অভিযোগ। থানা থেকে মাত্র হাফ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত দোকানে লুটপাটের সময় পুলিশকে জানানোর পরও নীরব দর্শকের ভূমিকায় ছিল তারা। ঘটনার পরপরই থানায় মামলা করতে গেলেও নির্যাতনের শিকার দোকান মালিকের এজাহারটি পুলিশ গ্রহণ করেনি। বৃহস্পতিবার দুপুরে ঘটনার পর থেকে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কোন মামলা হয়নি বলে পুলিশ জানিয়েছে। নির্যাতনের স্বীকার ওই দোকান মালিকের নাম রওশন আরা খাতুন (৪০) সে শহরের পলাশপোল জজকোর্ট এলাকার কেরামত আলীর স্ত্রী।

প্রাতথ্যে জানা যায়, বিগত ১৯৯১ সালের ১৩ মে কেরামত আলী তৎকালীন সময়ে ৮১ হাজার টাকা জামানত দিয়ে বড় বাজার মসজিদ কমিটির নিকট থেকে ১৭ ফুট বাই ১৩ ফুট জায়গায় নির্মিত দোকান ঘর মাসিক ৩০০ টাকা ভাড়ার চুক্তিতে ঘর নিয়ে ব্যবসা শুরু করে। চুক্তি অনুযায়ী প্রতি বছর ১০ টাকা করে বৃদ্ধিতে বর্তমানে ৪৩০ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। জানাগেছে, এ চুক্তিপত্র আজীবনের জন্য এবং অফেরত  যোগ্য হিসেবে উল্লে¬খ করা আছে। চুক্তিপত্র প্রস্তুত করার পর সেখানে সে “আল-আমীন সিড হাউজ” নামের ওই ঘরে বিভিন্ন বীজ বিক্রির পাশাপাশি জাল সুতা ও দড়ি বিক্রির ব্যবসা করে আসছিল। ব্যবসায়ীক কাজে মালামাল আনার জন্য বিগত ২০০২ সালের ১১ মে ঢাকায় যাওয়ার পর নিখোঁজ হয় কেরামত আলী। এরপর থেকে অদ্যবদি আর সন্ধান মেলেনি তার। এ ব্যাপারে সদর থানায় একটি জিডি হয় নং ১০৩ তাং ২১.০৭.২০০২। জানাগেছে স্বামী কেরামত আলী নিখোঁজ হওয়ার পর একমাত্র কন্যা সন্তান তাহনিয়াকে নিয়ে নিরুপায় হয়ে পড়ে স্ত্রী রওশন আরা। সূত্র মতে ৩ বছর বয়সী তাহনিয়া ফেরদৌসকে অপহরণ করে ভারতে নিয়ে যায় একটি কুচক্রী মহল। ভারত থেকে তাকে উদ্ধার করা হলেও ওই কুচক্রী মহলটি তার স্বামীকে গুম করেছে এমন অভিযোগ ভুক্তভোগী রওশন আরার। এক পর্যায়ে জীবিকা নির্বাহ করার তাগিদে রওশন আরা নিজেই ওই দোকান ঘর কর্মচারী দিয়ে পরিচালনা করতে থাকে। এরপর রওশন আরা দোকান পরিচালনা করায় স্থানীয় অন্যান্য দোকান মালিকসহ কমিটির লোকজন নানান ষড়যন্ত্র করতে থাকে। নানাভাবে উত্যক্ত করা ছাড়াও সমস্যা সৃষ্টি করতে থাকে তার ব্যবসায়ীক কাজে। অতিষ্ঠ হয়ে খাস জমি থাকায় রওশন আরা ওই জায়গাটি সরকারের কাছ থেকে বন্দোবস্ত নেওয়ার চেষ্টা করলে প্রতিপক্ষদের বাধার মুখে বন্দোবস্ত কাযক্রম স্থগিত হওয়ার পর জোরালোভাবে উচ্ছেদের পরিকল্পনা করছিল প্রতিপক্ষ। উক্ত দোকানের দাবিদার কমিটির নেতৃবৃন্দ ভাড়ার টাকা বাকি দেখিয়ে ঝামেলা করার পরিকল্পনা করলে রওশন আরা গত বছরের ২৯ সেপ্টেম্বর ৭৬২৫ ও ৭৬২৬ নং সিরিয়ালে যথাক্রমে ৫৪৮০ টাকা ও ১০ হাজার টাকা পোষ্ট অফিসের মাধ্যমে মানি ওয়ার্ডার যোগে প্রেরণ করলেও প্রতিপক্ষরা ভাড়ার টাকা উত্তোলন করেনি। অবশেষে কোন পথ না পেয়ে  গত ২৯.০৪.১০ তারিখে ৩২৮৮ নং সিরিয়ালে নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে কেরামত আলীর এফিউডেভিট টি ক্যানসিল করেন কমিটির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল গফুর। কিন্তু নামমাত্র চুক্তিপত্র ক্যানসিল করলেও তার জামানতের কোন টাকা ফেরত দেয়নি। আবার ক্যানসিলের এই এফিউডেভিট কাউকে না দেখিয়ে বা দোকান ব্যবহার কারিকে না দিয়ে শুধুমাত্র আদালতের কার্যক্রমে ব্যবহার করে থাকেন। এ সমস্ত নানাবিধও ঘটনার জেরধরে রওশন আরা সম্প্রতি আদালতে ১০৭ ও ১৪৫ ধারার অভিযোগ এনে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করে। এ মামলায় বিবাদী করা হয় একই এলাকার ব্যবসায়ী ও তাদের সঙ্গীরা হাফিজুর রহমান, রমজান আলী, আনার আলী, মজিবর রহমান, মিজানুর রহমান, ছালাম সরদার, গুড় মিজান, হোসেন আলী, মাসুম হোসেন, শফিকুর ওরফে ঘের খোকনসহ কয়েক জনকে। চলতি মাসের ১৫ মার্চ বিবাদীরা আর কোন সমস্যা সৃষ্টি করবে না মর্মে আদালতে কঠোর ভাবে মুছলেকা দিয়ে ১০৭ ধারার মামলা থেকে রেহাই পায়। একই ভাবে ১৪৫ ধারার মামলায় চলতি মাসের ১১ এপ্রিল উভয় পক্ষকে যে যে অবস্থায় আছে তাকে সেই অবস্থায় থাকার জন্য বিজ্ঞ আদালত নির্দেশ দেন। জানাগেছে, আদালতে তেমন কোন সুবিধা করতে না পেরে গত বৃহস্পতিবার দুপুর ৩ টার দিকে উক্ত বিবাদীরা একত্রিত হয়ে আল-আমীন সীড হাউজের কর্মচারী মোজাম্মেল হককে ধরে জোর পূর্বক অন্য একটি দোকান ঘরে আটকে রেখে দোকানে হামলা চালায়। এসময় দোকানের মালামাল বাইরে ফেলে দেওয়া ছাড়াও ইচ্ছামত টাকা পয়সাসহ অন্যান্য মালামাল ও জিনিসপত্র নিয়ে যায়। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা দু একজন এ ঘটনার প্রতিবাদ করলেও তারা হামলাকারিদের কাছে টিকে থাকতে পারেনি। বিষয়টি নিয়ে তাৎক্ষনিক ভাবে পুলিশের হস্তক্ষেপ চাইলেও পুলিশ কোন সহযোগিতা করেনি বলে তিনি অভিযোগ করেন। রাতে মামলা করতে গেলে ওসি জানান আপনি আদালতে যান।

এব্যাপারে বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল গফুর জানান, দোকান ঘর ভাড়া নেওয়ার পর তিনি ডিসিআর কাটার চেষ্টা করেন। বিষয়টি জানার পর আমরা সেটি বন্ধ করে দিয়ে ঘর ছেড়ে দিতে বলি। কিন্তু তিনি ঘর ছেড়ে দিতে রাজি হননি। এখন মসজিদের প্রয়োজনে ঘর দরকার তাই তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

 

শ্যামনগরে মাদক ব্যবসায়ীর ৬ মাসের কারাদণ্ড

শ্যামনগর প্রতিনিধি : গাঁজা রাখার অপরাধে ভ্রাম্যমাণ আদালত হযরত আলী গাজী (৪৩) নামের এক মাদক ব্যবসায়ীকে ৬ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছে। সে শ্যামনগর উপজেলার পদ্মপুকুর ইউনিয়নের গড়কোমরপুর গ্রামের এন্তাজ গাজীর ছেলে। গতকাল দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ দৌলতুজ্জামান খান নিজে হাতেনাতে গড়কোমরপুর এলাকা থেকে তাকে আটক করে। এসময় তার নিকট থেকে তিনশ পঞ্চাশ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ দৌলতুজ্জামান খান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গড়কোমরপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে নিজ বাড়ি থেকে মাদক বিক্রেতা হযরত আলীকে আটক করা হয়। এসময় সে নিজ দোষ স্বীকার করায় তাকে ৬ মাসের সশ্রম কারাদন্ড দেয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, “একটি সিন্ডিকেট গড়কোমরপুরের হযরত আলী গাজীর মত উপজেলার আরও বিভিন্ন জনপদে মদ, ফেনসিডিল ও গাঁজাসহ মাদকদ্রব্য পৌছে দিচ্ছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। এখন স্থানীয়দের সহায়তা পেলে স্বল্প সময়ের মধ্যেই  শ্যামনগরকে মাদকমুক্ত করার সর্বোত চেষ্টা চালাবো”।

এদিকে শ্যামনগরের পাশাপাশি নুরনগর, ঈশ্বরীপুর, সোনারমোড়, মুন্সিগঞ্জ, কাশিমাড়ী, বুড়িগোয়ালীনিসহ বিভিন্ন এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে শতাধিক ছোট বড় মাদক ব্যবসায়ীর আত্মপ্রকাশ ঘটলেও দীর্ঘদিন ধরে এসব এলাকায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তরের কোন তৎপরতা না থাকায় এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। উল্লেখ্য পুলিশ বা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তরের কোন তৎপরতা না থাকা সত্ত্বেও গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমান আদালত দু’জন মাদক ব্যবসায়ীকে হাতেনাতে আটক করে কারাদন্ড দিয়েছে।

মুন্সীগঞ্জে জেলেদের মধ্যে ভিজিএফ’র চাল বিতরণ

উপকূলীয় অঞ্চল প্রতিনিধি : শ্যামনগর উপজেলার মুন্সীগঞ্জ ইউনিয়নে জাটকা আহরণকারী মৎস্যজীবী জেলেদের মধ্যে ভি,জি,এফ এর চাল বিতরণ করা হয়েছে। ১৫ এপ্রিল সকাল ১০টায় সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলার ৭নং মুন্সীগঞ্জ ইউনিয়নে জাটকা মৌসুমে সুফল ভোগী মৎস্যজীবি জেলেদের মধ্যে ভি,জি,এফ এর চাল বিতরন করা হয়। ইউনিয়ন টাস্কফোর্স কমিটির সভাপতি ও ইউ,পি, চেয়ারম্যান জনাব আবুল কাশেম মোড়ল, মৎস্যজীবি জেলে সমিতি প্রতিনিধি আয়ুব আলী ও আবুল হোসেন বাংলাদেশ ক্ষুদ্র মৎস্যজীবি জেলে সমিতির জেলা প্রতিনিধি ডাঃ আলী আশরাফ ট্যাগ অফিসার সহকারী মৎস্যকর্মকর্তা মোঃ হাফিজুর রহমান উপস্থিত থেকে জাটকা আহরনকারী তিনশত তিরাশী জনের মধ্যে ফ্রেব্রুয়ারী মার্চ মাসের ৬০কেজি করে চাল বিতরন করেন। এছাড়াও চাল বিতরনের  সময় উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা  বাবু রাজ কুমার বিশ্বাস ও  প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা জাফর রানা, ইউপি সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বকুল। রফিউল ইসলাম টুটুল, আঃ ছালাম, মহিলা সদস্য রাফিজা, সংবাদিক মুনছুর আলমসহ এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।