ঝাউডাঙ্গায় আলোচনা সভায় বক্তারা: আগামী এক বছরের মধ্যে স ম আলাউদ্দিন হত্যার বিচার দেখতে চায় সাতক্ষীরাবাসী

শহীদুল ইসলাম/মনিরুল ইসলাম : আধুনিক সাতক্ষীরার রূপকার, মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের লড়াকু সৈনিক, ভোমরা স্থল বন্দরের প্রতিষ্ঠাতা, সাতক্ষীরা চেম্বার অব কমার্সের প্রতিষ্ঠাতা, সাবেক এমএলএ ও দৈনিক পত্রদূতের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক শহীদ আলাউদ্দিন ছিলেন বহুমূখী প্রতিভার অধিকারী। অবহেলিত সাতক্ষীরাকে তিনি অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গণকে ঢেলে সাজাতে চেয়েছিলেন। সাতক্ষীরাকে শিল্পনগরীতে পরিণত করাই ছিলো তার স্বপ্ন। আজীবন বিপ্লবী এ নেতার স্বপ্ন ছিলো কর্মমূখী শিক্ষার মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে শিল্প বান্ধব সমাজ বিনির্মাণ করা। গণমানুষের এই প্রিয় নেতাকে ১৯৯৬ সালের ১৯ জুন রাতে সাতক্ষীরার চোরাকারবারী গডফাদারচক্র গুলি করে হত্যা করে। ১৬ বছর পেরিয়ে গেলেও খুনীদের বিচার হয়নি। তবে বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। খুনীরা আতঙ্কিত। শংকিত। সামাজিকভাবে নিন্দিত, ঘৃণিত হয়েছে। ২০১৩ সালের ১৯ জুনের মধ্যে বিচার শেষ হবে বলে আশাবাদী সাতক্ষীরাবাসী। শুক্রবার বিকালে সদর উপজেলার ঝাউডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদে দৈনিক পত্রদূতের ঝাউডাঙ্গা অফিস আয়োজিত শহীদ স ম আলাউদ্দিনের ১৬তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক, দৈনিক পত্রদূতের সহকারি সম্পাদক ও মানবজমিনের সাতক্ষীরা প্রতিনিধি ইয়ারব হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম, জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি শেখ আজাহার হোসেন, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক ও দৈনিক কালের চিত্রের সম্পাদক অধ্যক্ষ আবু আহমেদ, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান এসএম শওকত হোসেন, জেলা শ্রমিকলীগের সভাপতি ও জেলা মিনিবাস বাস মালিক সমিতির সভাপতি ছাইফুল করিম সাবু, সিবিএ নেতা শেখ হারুন-উর-রশিদ, প্রথম আলোর স্টাফ রিপোর্টার কল্যাণ ব্যানার্জি, সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সভাপতি, চ্যালেন আই’র সাতক্ষীরা প্রতিনিধি ও দৈনিক পত্রদূতের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক এড. আবুল কালাম আজাদ, ঝাউডাঙ্গা ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম, ঝাউডাঙ্গা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ খলিলুর রহমান, দৈনিক পত্রদূতের শেখ জাভিদ হাসান, শিক্ষক ও মুক্তিযোদ্ধা আনিসুর রহমান এবং মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেন প্রমুখ। অনুষ্ঠানের শুরতেই পবিত্র কোরান থেকে তেলোয়াত করেন মোমতাজুল ইসলাম। সভা পরিচালনা করেন ঝাউডাঙ্গা বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক জাহিদ হোসেন। আলোচনা সভায় স ম আলাউদ্দিনের স্মৃতিচরণ করে নজরুল ইসলাম বলেন, শহীদ স ম আলাউদ্দিন ছিলেন বহুমূখী প্রতিভার অধিকারী এবং দূরদর্শী একজন গুনী ব্যক্তি। সাতক্ষীরাকে তিনি শিল্প নগরীতে পরিণত করতে চেয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধু পেশাভিত্তিক স্কুল প্রতিষ্ঠা করে তিনি কর্মমূখী শিক্ষার মাধ্যমে বেকারত্ব ও দারিদ্র্য বিমোচনের স্বপ্ন দেখেছিলেন। ব্যবসা বাণিজ্যের প্রসারে তিনি বাণিজ্যিকভাবে সাতক্ষীরায় হেলিকপ্টার সার্ভিস চালু করার দাবি তুলেছিলেন। ভোমরা স্থল বন্দর ও চেম্বার অব কমার্স তার হাতেই প্রতিষ্ঠিত। তাকে খুন করে খুনীরা সুখে নেই। খুনীরাও আজ আতংকিত। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার হয়েছে ৩৪ বছর পর। শহীদ স ম আলাউদ্দিন হত্যার বিচারও আগামী এক বছরের মধ্যে সম্পন্ন হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

শেখ আজাহার হোসেন বলেন, স ম আলাউদ্দিনের সাথে আমার ব্যবসা জগতের সম্পর্ক ছিলো। খুনীরা তাকে ব্যক্তি স্বার্থে খুন করেছিলো। আলাউদ্দিন বেঁচে থাকলে সাতক্ষীরার রূপ-চেহারা পাল্টে যেতো। জেলা জাতীয় পার্টি খুনীদের ফাঁসি চায়। ন্যায্য বিচার দেখতে চায়।

অধ্যক্ষ আবু আহমেদ বলেন, আলোকিত সাতক্ষীরা গড়াই ছিলো আলাউদ্দিনের স্বপ্ন। তাকে যারা হত্যা করেছে তারা কালফিট। সাতক্ষীরার ইতিহাসকে কলঙ্কিত করেছে খুনীরা। তাদের বিচার সাতক্ষীরার মাটিতেই হবেই।

ভাইস চেয়ারম্যান এসএম শওকত হোসেন বলেন, স ম আলাউদ্দিনকে কারা হত্যা করেছে তা সাতক্ষীরাবাসীসহ দেশবাসী জানে। ঘাতক ছাইফুল, মোহন, গডফাদার সবুর, ঝড়–সহ অনেকেই আলাউদ্দিনকে হত্যা করে সেদিন তার জানাযায়, মিলাদ মাহফিলে এমনকি শোক র‌্যালীতেও অংশ নিয়েছিলো। কত বড় জঘন্য ও নির্মম হলে তারা এসব করতে পেরেছিল। মহামান্য হাইকোর্ট থেকে স ম আলাউদ্দিন হত্যা মামলা কোয়াশমেন্ট করে বিচার কার্যক্রম রুদ্ধ করে রেখেছিল খুনীরা। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি খুনীদের। তারা ভোমরা থেকে বিতাড়িত হয়েছে। বাস টার্মিনাল থেকে বিতাড়িত হয়েছে। সামাজিক ভাবে ঘৃণিত হয়েছে।

শ্রমিকলীগের সভাপতি ছাইফুল করিম সাবু বলেন, জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমানকে যারা হত্যা করেছিলো তাদের বিচারের রায় কার্যকর করে বর্তমান সরকার জাতিকে কলঙ্কমুক্ত করেছে। স ম আলাউদ্দিন হত্যার বিচারের রায় কার্যকর করে সরকার সাতক্ষীরাকে কলঙ্কমুক্ত করবে এ প্রত্যাশা সাতক্ষীরাবাসীর।

সাংবাদিক কল্যাণ ব্যানার্জি বলেন, ১৯৯৬ সালের ১৯ জুনের সেই কালোরাতে হত্যাকান্ড নিশ্চিত করতে গডফাদার সবুর প্রাইভেট কার নিয়ে টহল দিচ্ছিল। সাক্ষীরা জানে, তারা জবানবন্দি দিয়েছে। বর্তমানে আদালতে সাক্ষীরা যাতে সাক্ষ্য দিতে না পারে সেজন্য খুনীরা সর্বশক্তি নিয়োগ করছে। ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। এতে সাক্ষীরা স্বাচ্ছন্দে সাক্ষ্য দিতে পারছে না। সাক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।

প্রেসক্লাবের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ বলেন, এ পর্যন্ত যতগুলো সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছে তাতে খুনীদের পক্ষে একজন সাক্ষীও কথা বলেনি। কিন্তু জেরার সময় তাদের হাজির করানো যাচ্ছে না। খুনীরা ভয় দেখাচ্ছে সাক্ষীদের। এমনকি আলাউদ্দিনের পরিবার-পরিজনকেও খুনীরা ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। তবুও থেমে নেই মামলার বিচার কাজ। আগামী বছর ১৯ জুনের মধ্যে স ম আলাউদ্দিন হত্যার বিচার দেখবে সাতক্ষীরাবাসী এমন প্রত্যাশা আমাদের।

চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বলেন, স ম আলাউদ্দিন হত্যার বিচার হলে দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলসহ দেশে কোন সাংবাদিককে হত্যা করার সাহস পেতো না খুনীরা। বিচার বিলম্বিত হওয়ায় খুনীরা উৎসাহিত হয়।

অধ্যক্ষ খলিলুর রহমান বলেন, আগামী ১ বছরের মধ্যেই খুনীদের বিচার দেখতে চাই। সিবিএ নেতা শেখ হারুন-উর-রশিদ বলেন, খুনীদের বিচার হলে সাতক্ষীরাবাসী স্বস্তি পাবে। স ম আলাউদ্দিনের আদর্শ ও চেতনা নিয়ে নতুন করে উজ্জীবিত হবে সাতক্ষীরাবাসী। শেখ জাভিদ হাসান বলেন, আলাউদ্দিনরা মরে না। তারা বেঁচে থাকে সৃষ্টির মাঝে। কর্মের মাঝে। কিন্তু খুনীরা মরে বার বার। সামাজিকভাবে মরে। রাজনৈতিকভাবে মরে, বিচারের কাঠ গোড়ায় মরে। শিক্ষক আনিসুর রহমান বলেন, আলাউদ্দিন ছিলেন আপোষহীন। অন্যায়-দুর্নীতির কাছে তিনি কখনো মাথা নত করেন নি। তাকে আমি ছাত্র জীবন থেকেই চিনিও  জানি।

মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেন বলেন, আলাউদ্দিন আমার রণাঙ্গনের সাথী, তাকে আমি ভালো ভাবেই চিনি। তার খুনীদের আমি ফাঁসি চাই। অনুষ্ঠানে কৃষক-শ্রমিক, চাকুরীজীবী, ব্যবসায়ী, শিক্ষক, মুক্তিযোদ্ধাসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

 

৪র্থ মাইকেল মধুসূধন সাহিত্য সম্মেলন ২০১২ অনুষ্ঠিত

ডেস্ক রিপোর্ট : বাংলা সাহিত্যের কাল জয়ী পুরুষ মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের ১৩৯তম মৃত্যুবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষ্যে মাইকেল মধুসূধন সাহিত্য পরিষদ সাতক্ষীরার আয়োজনে গতকাল শুক্রবার সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সম্মেলনকক্ষে ৪র্থ মাইকেল মধুসূধন সাহিত্য সম্মেলন ২০১২ অনুষ্ঠিত হয়।

সকাল ৯টায় সম্মেলনের উদ্বোধন করেন জেলা পরিষদের প্রশাসক মুনসুর আহমেদ। গাজী শাহাজাহান সিরাজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কলামিস্ট সরদার রুহুল আমিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কলিকাতার কফি হাউজের সম্পাদক অষোক রায় চোধূরী, প্রফেসর আবু নসর, ড. ভারতী বঙ্গোপাধ্যায়, ভারতীয় কবি অধ্যাপক অরুপ পান্তী, কাজী মুহাম্মদ অলিউল্লাহ, খান আখতার হোসেন, কবি সুদীপ্ত মিত্র, সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ ও অধ্যাপক আবুল হোসেন। অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ দেলেওয়ার হায়দার। বক্তব্য রাখেন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বকি সোবহান আমিন। এছাড়া অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন খসরু পারভেজ, অধ্যাপক নূর মোহাম্মদ পাড়, তৃপ্তি মোহন মল্লিক, আবু হেনা আলম, সুভ্র আহমেদ, কবি সালেহা আকতার, নিসি কান্ত ব্যানার্জি প্রমুখ।  অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মাইকেল মধুসুধন সাহিত্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক কবি সোবহান আমিন, অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম ও লিপা পাপিয়া।

কলারোয়ায় পাচার হওয়ার দু’মাস পর বিচারের দাবিতে লিখিত অভিযোগ করেছে এক গৃহবধূ

কলারোয়া প্রতিনিধি : কলারোয়ায় পাচার হওয়ার দু’মাস পর ভারত থেকে পালিয়ে এসে বিচারের দাবিতে ইউপি চেয়ারম্যানের নিকট লিখিত অভিযোগ করেছে এক গৃহবধূ (২০)। পাচারের শিকার উপজেলার কেঁড়াগাছি গ্রামের শফিকুল ইসলামের মেয়ে (২০) কেঁড়াগাছি ইউপি চেয়ারম্যান ভুট্টোলাল গাইনকে জানান, গত ২০০৭ সালের ১১ জুন পার্শ্ববর্তী গয়ড়া গ্রামের আব্দুর রহমানের ছেলে শরিফ হোসেন লাল্টুর সাথে তার বিয়ে হয়। বিয়ের এক বছর পর তার স্বামী মাদকাসক্ত হয়ে পড়লে দ্বিতীয় বিয়ে করার হুমকি দিয়ে মমতাজ পারভীনকে তার পিতার বাড়ি থেকে ১ লাখ টাকা যৌতুক আনতে পাঠায়। এ সময় মেয়ের সুখের কথা ভেবে পিতা ২ দফায় ৫০ হাজারের মতো টাকা দেন। এতে সে খুশি হতে না পেরে প্রায় সময়ই লাল্টু তার স্ত্রীকে নির্যাতন করতো। গত ২ মাস আগে লাল্টু তার স্ত্রীকে বেড়াতে যাওয়ার কথা বলে ভারতের গুজরাট প্রদেশে নিয়ে যায়। সেখানে একটি  নিষিদ্ধ এলাকায় তার স্ত্রীকে রেখে কৌশলে পালিয়ে আসে লাল্টু। ওই কদার্য জীবন যাপনের এক পর্যায়ে গত ২০ জুন এক বাঙালি যুবকের সহায়তায় পালিয়ে দেশে চলে আসে ওই গৃহবধূ। এ বিষয়ে গত ২৬ জুন ওই গৃহবধূ বাদী হয়ে কেঁড়াগাছি ইউনিয়ন পরিষদে একটি অভিযোগ প্রদান করে। ইউপি চেয়ারম্যান ভূট্টোলাল গাইন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

কালিগঞ্জে বজ্রপাতের কালিগঞ্জে বজ্রপাতের শব্দে মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যু

বিশেষ প্রতিনিধি : কালিগঞ্জে বজ্রপাতের শব্দে আদর আলী (৬০) নামের এক মুক্তিযোদ্ধা মৃত্যুবরণ করেছেন। তিনি উপজেলার মথুরেশপুর ইউনিয়নের বসন্তপুর গ্রামের মৃত আব্দুল মাজেদের ছেলে।

জানা যায়, বৃহস্পতিবার বিকেলে আদর আলী গাজী উপজেলা সদরের নাজিমগঞ্জ বাজারে একটি দোকানে বসে ছিলেন। বিকেল ৫টার দিকে পাশ্ববর্তী এলাকায় আকস্মিক বজ্রপাত হলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়ে মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, ৬ ছেলে ১ মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহীরেখে গেছেন। শুক্রবার বাদ জুম’আ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় মরহুমের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। কালিগঞ্জ থানার এসআই জসিম উদ্দীনের নেতৃত্বে পুলিশ তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করেন। কালিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ তৌফিক-ই-লাহী চৌধুরী, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কালিগঞ্জ ইউনিটের কমাণ্ডার শেখ নাসির উদ্দীন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কালিগঞ্জ উপজেলা শাখার সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ ওয়াহেদুজ্জামানসহ মুক্তিযোদ্ধা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ মরহুমের জানাযায় অংশগ্রহণ করেন।

সাতক্ষীরায় মহা ধুমধামে উল্টোরথ উৎসব পালিত

ডেস্ক রিপোর্ট : মেঘাচ্ছন্ন আকাশ থাকার পরও মহা ধুমধামে ও পূর্ণ ধর্মীয় মর্যাদায় সাতক্ষীরায় পালিত হয়েছে হিন্দু সম্প্রদায়ের শ্রী শ্রী জগন্নাথদেবের উল্টো রথযাত্রা উৎসব। গতকাল শুক্রবার বিকেল ৫টায় শহরের কাটিয়া  সার্বজনীন মন্দির প্রাঙ্গণে এ উৎসবের আয়োজন করা হয়। এ উপলক্ষ্যে মন্দির প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন কাটিয়া মন্দির সমিতির সভাপতি দুলাল চন্দ্র দে। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন জেলা মন্দির সমিতি ও জয়মহাপ্রভু সেবক সংঘের সভাপতি বিশ্বনাথ ঘোষ, অনীত মুখার্জি, মঙ্গল কুমার পাল, অ্যাড. সোমনাথ ব্যাণার্জি, গোষ্ট বিহারী মণ্ডল, ধীরু ব্যাণার্জি, স্বপন কুমার শীল, নয়ন সানা, রঘুজিৎ গুহ, নিত্যানন্দ আমিন, পৌর কমিশনার মাসুম বিল্লাহ শাহীন, তপন হালদার প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, দুষ্টের দমন আর সৃষ্টের পালনে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বারে বারে মর্তে অবতীর্ণ হয়েছেন। যে গৌর, সেই কৃষ্ণ সেই জগন্নাথ। ভগবান শ্রীকৃষ্ণ শুধুমাত্র সনাতন ধর্মালম্বীদের মঙ্গল বার্তা বয়ে আনেননি। তার বাণীতে বিশ্ব মানবতার কথা বলা হয়েছে। ধরাধামে সকল জীবের মঙ্গল কামনা করা হয়েছে। তাই সনাতন ধর্মালম্বীদের অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বিশ্বাসী হয়ে অন্যের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ না করার জন্য আহবান জানান।

পরে বিশ্ব মানবতার মঙ্গল কামনায় শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে সন্ধ্যায় শ্রী শ্রী জগন্নাথ দেবের রথ পুরাতন সাতক্ষীরা মায়ের বাড়ি পৌঁছায় । রথ টানতে দড়ি হাতে কয়েক হাজার নারী পুরুষ ও শিশু শরীক হয়। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস মতে কাটিয়া মন্দির তার মাসির বাড়ি। গত ২১ জুন মায়ের বাড়ি থেকে অনুষ্ঠিত হয রথযাত্রা ।

নলতাসহ এর আশপাশের বাজারে ভেজাল বীজ ও কীটনাশকে ছেয়ে গেছে

আহাদুজ্জামান আহাদ, নলতা : আমন মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই নলতাসহ এর আশপাশের বাজারে ভেজাল বীজ ও কীটনাশকে ছেয়ে গেছে। এছাড়া কৃষক নামসর্বস্ব বিভিন্ন কোম্পানির ধানের বীজ ও কীটনাশক ক্রয় করে প্রতারণার শিকার হচ্ছে। সরকারিভাবে এসব বীজ কোম্পানির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় ভূয়া কোম্পানির দৌরাত্ম্য দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। সূত্র জানায়, প্রতি বছর আমন মৌসুমের সময় বাজারে বিভিন্ন কোম্পানির ধানের বীজ ও কীটনাশক স্থানীয় ব্যবসায়ীরা দোকানে তুলে রাখে। পরে ওইসব কোম্পানির বীজ ভালো বলে কৃষকদের ক্রয় করতে বাধ্য করে। কৃষক দোকানদারের কথামতো বীজ কিনে চারা উঠানোর জন্য প্রয়োজনীয় কার্যবলী সম্পন্ন করার পর যখন বীজ না গজায় তখন বাধ্য হয়ে ওই দোকানদারদের কাছে কৃষককে ধরণা দিতে হয়। মাসের পর মাস ঘুরিয়ে বিভিন্ন কথা বলে ক্রয়কৃত বীজ ফেরত না নিয়ে তাদের বিদায় করে। কোনো কোনো কোম্পানির ধানের বীজ ৬০% থেকে ৭০% গজালে কৃষক তা মেনে নিতে বাধ্য হয়। আবার অনেক কোম্পানির ধানের বীজ ৪০% থেকে ৫০% ভাগ গজালে কৃষক ছুটে আসে দোকানদারের কাছে। দোকানদার কৃষককে বীজের ক্ষতিপূরণ দেয়ার বাণী শুনিয়ে বিদায় করলেও পরবর্তীতে আর ওই বীজের টাকা ফেরত বা বীজ পাল্টিয়ে দেয় না। এভাবে দিন দিন কৃষক ধানের বীজ কিনে প্রতারণার শিকার হয়ে মাসের পর মাস দোকানদারের কাছে ঘুরে ঘুরে অবশেষে বীজ ফেরতের আশা ছেড়ে দিয়ে বাড়তি টাকা দিয়ে পুনরায় বীজ কিনে তা জমিতে রোপণ করেন। কাজলা গ্রামের কৃষক জমাত আলি জানান, গত বছর ঝলক ধানের বীজ রোপণ করে আমি সর্বস্বান্ত হয়েছি। সঠিক সময় বীজ রোপন করলেও ফল ভাল পাইনি। এমনিভাবে প্রতি বছর নলতার কৃষকরা বিভিন্ন জাতের ধানের বীজ ও বিভিন্ন কোম্পানির কীটনাশক ব্যবহার করে প্রতারণার শিকার হয়েছেন। তাই প্রতিবছরের ন্যায় এবছরও নলতার চাষীরা ধানের বীজ কিনতেন হিমশিম খেয়ে যাচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি জানান, কৃষি অফিসের কতিপয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগসাজশে কোম্পানিগুলো তাদের উৎপাদিত বীজ ও কীটনাশক কৃষককে ক্রয় করতে উৎসাহিত করেছে। সচেতন কৃষকরা জানান, সরকারিভাবে সঠিক মনিটরিং, উপজেলা পর্যায়ের কৃষি অফিসগুলোর অনিহা, সঠিকভাবে বীজ ও কীটনাশক উৎপাদনের ক্ষেত্রে কোম্পানিগুলোর মনিটরিং না থাকায় কৃষকসমাজ বার বার প্রতারণার শিকার হচ্ছে।

 

পাটকেলঘাটায় চলছে কোচিং বাণিজ্য

পাটকেলঘাটা প্রতিনিধি : সরকারের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে পাটকেলঘাটায় চলছে কোচিং বাণিজ্য। এক শ্রেণির সুবিধাভোগী শিক্ষকরা আইনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গলী প্রদর্শন করে দেদারসে কোচিং বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হলেও আমলে নিচ্ছে না তারা। সরকারের নীতিমালা অনুযায়ী সরকারি-বেসরকারি, নিম্ন মাধ্যমিক, মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষকরা শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের পাশাপাশি ছাত্র-ছাত্রীদের কোচিং বা প্রাইভেট পড়াতে পারবে না। উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ঘুরে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, সংশ্লিষ্ট মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজের গণিত, ইংরেজি, হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের অধিকাংশ শিক্ষাকরাই সম্পূর্ণ ব্যবসায়িক মনোভাব নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন ভয়ভীতি আর পরীক্ষায় বেশি নম্বর দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এ কোচিং বাণিজ্য চালিয়ে আসছে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত স্কুল-কলেজের বিভিন্ন শ্রেণিকক্ষে অথবা শিক্ষকদের বাহারি রংয়ের প্রাইভেট কোচিং এ এ ব্যবসা চালিয়ে আসছে। ডাক্তারদের মতো এসব কোচিং সেন্টারের শিক্ষকদের মোটা অংকের ভিজিট নিতে হয়। ফলে গরীব, অসহায় শিক্ষার্থীরা শিক্ষা সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। যেসব শিক্ষার্থীরা এসব কোচিং সেন্টারে অসম্মতি জানায়, প্রতিদিন শ্রেণিকক্ষে নানা অজুহাতে তাদের প্রতি দুর্ব্যবহার করা হয়। এমনকি কোচিং এ আসতে না পারা শিক্ষার্থীরা ভয়ভীতির কারণে স্কুলে অনুপস্থিত থাকে। ডিজিটাল দেশ গড়তে সুশিক্ষার কোন বিকল্প নেই। সরকার শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরো ছাত্র-ছাত্রীদের নিকট যুগযোপযোগী করে গড়তে তুলতে সৃজনশীল পদ্ধতি অবলম্বন করছে। ইতিমধ্যে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে এ পদ্ধতির ব্যবহার শুরু হয়েছে। বর্তমান সরকারও মান সম্মত শিক্ষা ব্যবস্থার উপর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে চলেছেন। কিন্তু তালা উপজেলার শিক্ষা ব্যবস্থা নানা সমস্যায় জর্জরিত হয়ে পড়েছে। ব্যাঙের ছাতার মত গড়ে ওঠা প্রাইভেট ও কোচিং ব্যবসার ফাঁদে আটকা পড়েছে উপজেলার শিক্ষা ব্যবস্থা। সাধারণ শিক্ষার্থীরা আর্থিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এদিকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোর অবকাঠামোগত উন্নয়ন হলেও প্রকৃতপক্ষে শিক্ষার মানন্নয়ন হয়নি। নাম প্রকাশে  অনিচ্ছুক একাধিক ছাত্র-ছাত্রী ও অভিভাবকেরা জানায়, প্রায় সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এক শ্রেণির শিক্ষকরা রাজনীতির জন্য দায়ী বলে সচেতন মহলের ধারণা । সূত্র মতে, তালা উপজেলার ১২টি ইউনিয়নে অবস্থিত ডিগ্রী , ইন্টার মিডিয়েট, কারিগরি ও কলেজিয়েট কলেজের সংখ্যা (সরকারি-বেসরকারি) ১৩টি। মাধ্যমিক ও নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় ৭০টি এবং মাদ্রাসা রয়েছে ৩৭টি। এ সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যায়নরত শিক্ষার্থীদের সংখ্যা প্রায় ৪১ হাজার। স্ব স্ব স্কুল কলেজের অংক ইংরেজি শিক্ষকের কাছে   প্রাইভেট না পড়লে তাদের পরীক্ষার খাতায় নম্বর কম দেওয়ার কথা বলে তাদেরকে চাপের মুখে পড়তে বাধ্য করানো হয়ে থাকে। বিশেষ করে মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজে অনিয়মতান্ত্রিকভাবে শিক্ষক নিয়োগ পূর্বক শিক্ষার্থীদের পাঠ দান করানোর ফলে শিক্ষার মান উন্নয়ন ঘটছে না। বর্তমানে এ উপজেলার অলিতে গলিতে গড়ে উঠেছে কোচিং সেন্টার। উপজেলা শিক্ষা অফিসার জয়নাল আবেদীন বলেন, এমপিওভুক্ত শুধু নয়, শিক্ষাকতা পেশায় কোন শিক্ষক কোচিং ব্যবসা চালাতে পারবেন না। সরকার এ ব্যাপারে কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলে তিনি জানান। এ ব্যাপারে  স্থানীয় সচেতন মহল শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশি¬ষ্ট দপ্তরের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।

জেলা ট্রাক ট্রাংকলরি কাভার্ডভ্যান ইউনিয়নের আলোচনা সভা

আলিপুর প্রতিনিধি : জেলা ট্রাক ট্রাংকলরি কাভার্ডভ্যান ইউনিয়নের নব নির্বাচিত কমিটির আয়োজনে গতকাল ইটাগাছা ভিআইপি মোড়স্থ সংগঠনের কার্যালয়ে এক দোয়া ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় কমিটির নবনির্বাচিত সভাপতি আব্দুল আজিজের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন সাধারণ সম্পাদক শাহাঙ্গীর হোসেন শাহীন এবং দোয়া পরিচালনা করেন অবদা মসজিদের ইমাম হাফেজ মাওঃ মইনউদ্দীন। আলোচনা সভায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, রফিকুল ইসলাম, শহীদ, রবিউল ইসলাম, রফিকুল ইসলাম, নুর আলী গাইন, মিজানুর রহমান, বাবলুর রহমান, আব্দুল মান্নান প্রমুখ।

আশাশুনিতে জমিজমা নিয়ে সংঘর্ষে উভয়পক্ষের আহত ১২

আহসান হাবিব, আশাশুনি : আশাশুনির পল্লীতে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে উভয় পক্ষের ১২ জন আহত হয়েছে। শুক্রবার বিকালে উপজেলার আনুলিয়া ইউনিয়নে কাকবাসিয়া গ্রামে একটি বিরোধপূর্ণ জমিতে জালাল গাজী গংরা দখল নিতে যায়। এখবর পেয়ে বিরোধীয় জলিল সানা গংরা ১০/১৫ জন লাঠি সোটা নিয়ে তাদের উপর হামলা চালায়। এক পর্যায়ে ধস্তাধস্তিও মারপিটে উভয়পক্ষের ১২ জন আহত হয়। আহতরা হচ্ছেন কাকবাসিয়া গ্রামের নছিমুদ্দীন গাজীর পুত্র জালাল গাজী (৪৫), হাকিম গাজী (৪৫), সালাম গাজীর পুত্র হাসান গাজী (৩০), শাহিন (২৫), জালাল গাজীর পুত্র মামুন (২২), অপর পক্ষে জলিল সানা (৫৫), ওমর আলী সানা (৫২) ও জাকির হোসেন (৩০)।  আহতদের আশাশুনি হাসপাতালে ও অন্যান্য ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে। এদের মধ্যে জালাল গাজী ও হাকিম গাজীর অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় তাদেরকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছিল।

কুলিয়ায় প্রতারণা করে অর্থ আদায়ের অভিযোগে গ্রাম পুলিশ আটক

পত্রদূত রিপোর্ট : দেবহাটার কুলিয়ায় প্রতারণা পূর্বক অর্থ আদায়কারী কুলিয়া ইউনিয়নের গাংআটি গ্রামের খালেক গাজীর ছেলে ও ৪নং ওয়ার্ডের গ্রামপুলিশ মনজুর (২৮) কে হাতে নাতে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে জনগণ।

সূত্র মতে, কুলিয়া ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের চৌকিদার মনজুর ও তার সহযোগী আহম্মদ শিবলীর পুত্র আনারুল একই এলাকার বাবু’র স্ত্রী এক সন্তানের জননী হিরা (৩২)’র সাথে চুক্তি করে এলাকার মানুষকে বিভিন্ন অজুহাতে ডেকে এনে তার ঘরে ঢুকিয়ে আটকের নাটক করত। এবং বিভিন্ন ভয়ভীতি দেখিয়ে সাদা কাগজে সই করিয়ে নিয়ে মোটা অংকের টাকা আদায় করে আসছিল।

গতকাল একই ঘটনার পুনারাবৃত্তি হলে স্থানীয়রা তাদের হাতে নাতে আটক করে উত্তম-মাধ্যম দিয়ে পুলিশের সোপর্দ করে। এদিকে চৌকিদার মনজুরের কাছে জানতে চাইলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, এভাবে প্রতারণার মাধ্যমে আদায়কৃত টাকা সে নিজে, তার সহযোগী আনারুল এবং ওই মহিলা ভাগাভাগি করে নিত।

ব্রহ্মরাজপুরে মোটর সাইকেল চুরি করে পালানোর সময় এক ব্যক্তি আটক

সাদ্দাম হোসেন, ব্রহ্মরাজপুর : গতকাল শুক্রবার জুম্মার নামাজের সময় মোটর সাইকেল চুরি করে পালাতে গিয়ে এক ব্যক্তি হাতে নাতে আটক হয়েছে। সদর উপজেলার ব্রহ্মরাজপুর বাজার জামে মসজিদে এ ঘটনা ঘটে। আটককৃতের নাম আব্দুল আজিজ (২৭)। সে খুলনা জেলার পাইকগাছা থানার চাঁদখালী গ্রামের ওয়াজেদ আলীর পুত্র। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, ধুলিহর গ্রামের মোঃ আকের আলী সরদারের পুত্র আব্দুল বারেক ব্রহ্মরাজপুর বাজার জামে মসজিদে নামাজ পড়তে যায়। এ সময় জুম্মার নামাজের খুৎবা চলছিল। খুৎবার সময় আব্দুল বারেক এর ছোট ছেলে মসজিদের দ্বিতীয় তলায় উঠার সময় দেখতে পায় তার পিতার লাল রংয়ের হিরোহোন্ডা স্পেলেন্ডোর মোটর সাইকেল চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে। এ সময় সে চোর চোর বলে চিৎকার দিলে ব্রহ্মরাজপুর তরকারী বাজারের কয়েকজন ধাওয়া করে মোটর সাইকেলসহ আব্দুল আজিজকে হাতে-নাতে আটক করে গণধোলাই দিয়ে ব্রহ্মরাজপুর পুলিশ ক্যাম্পে সোপর্দ করে। পুলিশ তার কাছ থেকে মোটর সাইকেলের চারটি চাবি উদ্ধার করেছে। এ ঘটনায় সাতক্ষীরা সদর থানায় একটি মামলা হয়েছে।

 

খুলনায় সায়েন্টিফিক সেমিনার

ঢাকা ইউনাইটেড হসপিটালের উদ্যোগে গতকাল শুক্রবার খুলনা নগরীর হোটেল সিটি-ইন এ ‘রিসেন্ট এ্যাডভান্সেস ইন কার্ডিওলজি, নেফ্রোলজি, অনকোলজি, এন্ড নিউক্লিয়ার মেডিসিনে’র ওপর এক বিশেষ সায়েন্টিফিক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। সেমিনারে প্রধান অতিথি  ছিলেন খুলনা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ডা. আব্দুল¬াহ-আল মাহবুব। বিশেষ অতিথি ছিলেন শহীদ শেখ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতালের প্রফেসর কাম পরিচালক ডা. মনি মোহন সাহা, সেন্টার ফর নিউক্লিয়ার মেডিসিন আল্ট্রাসাউন্ড এর  পরিচালক প্রফেসর ডা. অশোক কুমার পাল ও খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. পরিতোষ কুমার কুন্ডু। সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন খুলনা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের প্রধান প্রফেসর ডা. মোঃ আবু বকর। স্বাগত বক্তৃতা করেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও ইউনাইটেড হসপিটালের ডিরেক্টর, ক্লিনিক্যাল অপারেশনস্ ডাঃ দবির উদ্দিন আহ্মেদ । সেমিনারে সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ও নির্ভরযোগ্য ক্যান্সার চিকিৎসার যন্ত্রপাতি- পেটসিটি, সাইক্লোট্রন এবং লিনিয়ার এক্রাসিলেরেটর এর সাথে আইজিআরটি, আইএমআরটি, রেসপিরেটরী গ্যাইটিং ও র‌্যাপিডআর্কসহ ২৪ চ্যানেল ইন্টিগ্রেটেড ব্রাকিথেরাপী ইউনিট এবং ক্যান্সার ডায়াগনোসিসে’র সর্বাধুনিক প্রযুক্তি পেট-সিটি স্ক্যানের সুবিধা সম্পর্কে আলোচনা করা হয়। তথ্য বিবরণী

বিজিবি’র অভিযানে ১ কেজি গাঁজা ও ৫০ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার

আলিপুর প্রতিনিধি : সদর উপজেলার কুশখালী সীমান্তে বিজিবির অভিযানে গতকাল রাত ৮টার দিকে ভারত থেকে অবৈধ পথে আসা ৫৩ কেজি স্টীল ও ১ কেজি গাঁজা উদ্ধার হয়েছে। অভিযানে নেতৃত্ব দেন সুবেদার গিয়াস উদ্দীন। উদ্ধার হওয়া মালামালের মূল্য ৩৬ হাজার টাকা।

সদর উপজেলার পদ্ম শাখরা ও দেবহাটা উপজেলার ভাঁতশালা বিজিবি ক্যাম্পের জওয়ানরা গতকাল রাতে পৃথক অভিযান চালিয়ে ভারতীয় অবৈধ প্যালন মদ ২৯ বোতল ও ৫০ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করেছে। পৃথক অভিযান দু’টি পরিচালনা করেন ভাতশালা বিজিবি ক্যাম্পের নায়েব সুবেদার আব্দুল মান্নান ও পদ্ম শাখরা বিজিবি ক্যাম্পের নায়েব সুবেদার আব্দুল মান্নান। তবে কোথাও কোন চোরাকারবারী আটকের খবর পাওয়া যায়নি।

সদরের বাশঘাটায় সদরের বাশঘাটায় ধান বীজ বিতরণ

আন্তজাতিক ধান গবেষণা কেন্দ্র ইরি’র উদ্যোগে গত ২৭ জুন ও ২৮ জুন সাতক্ষীরা সদর ও কলারোয়া উপজেলার ১৬৭ জন কৃষকের মধ্যে ৫ কেজি করে উন্নত মানের ধান বীজ বিতরণ করা হয়েছে। গত ২৭ জুন সদর উপজেলার বাশঘাটা গ্রামে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এ বীজ বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। অব্দুর রাজ্জাকের সঞ্চালনায় উক্ত বীজ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সিসা- ইরি প্রকল্পের ক্রপিং সিসটেম এগ্রোনমিস্ট ড. হারুন-অর রশিদ। প্রেস বিজ্ঞপ্তি

কলারোয়ায় ২শ কলারোয়ায় ২শ কৃষকের মাঝে বীজ ধান বিতরণ

কলারোয়া প্রতিনিধি : গতকাল শুক্রবার সকাল ১০টায় কলারোয়া পৌরসভার মেয়র গাজী আকতারুল ইসলাম বিনা মূল্যে কৃষকদের মাঝে ধানের বীজ বিতরণ করেন। জানা গেছে, পৌর এলাকার দু’শ দরিদ্র কৃষককে মাথা পিছু ১০ কেজি করে বীজ প্রদান করা হয়। উন্নতমানের (ব্রি-ধান-৪৯) এ ধান বীজ বিতরণকালে উপস্থিত ছিলেন প্যানেল মেয়র রফিকুল ইসলাম, কাউন্সিলর মাগফুর রহমান রাজু, শেখ জামিল হোসেন, মাস্টার মনিরুজ্জামান বুলবুল, আকবার হোসেন, শেখ ইমাদ হোসেন, মহিলা কাউন্সিলর ফারহানা হোসেন ও সেলিনা আক্তার প্রমুখ। বীজ বিতরণকালে মেয়র আকতারুল ইসলাম এলাকার কৃষকদের ধানসহ সবধরনের ফসল উৎপাদনে কৃষি জমি ফেলে না রাখার জন্য আহবান জানান।