সাতক্ষীরাসহ ১৩ জেলায় পেট্রোল পাম্প ধর্মঘট পালিত

পত্রদূত রিপোর্ট : সাতক্ষীরাসহ খুলনা বিভাগের ১০ জেলা ও বৃহত্তর ফরিদপুরের ৩ জেলার ২০৫টি পেট্রোল পাম্পে মঙ্গলবার অর্ধদিবস ধর্মঘট পালিত হয়েছে। ৩ দফা দাবিতে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার্স ডিস্ট্রিবিউটরস এজেন্টস অ্যান্ড পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন ও বাংলাদেশ ট্যাঙ্কলরি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন খুলনা বিভাগীয় কমিটি এ ধর্মঘটের ডাক দেয়। মঙ্গলবার সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে এ ধর্মঘট পালিত হয়। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার্স ডিস্ট্রিবিউটরস এজেন্টস অ্যান্ড পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় মহাসচিব সৈয়দ সাজ্জাদুল করিম কাবুল জানান, ৩ দফা দাবিতে তারা এ ধর্মঘট পালন করেছেন।

তাদের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে, গত ২৯ এপ্রিল ছিনতাই হওয়া করিম গ্র“পের পেট্রোল পাম্পের জ্বালানি তেল বিক্রির ২৭ লাখ টাকা উদ্ধার, অ্যাসোসিয়েশনের যশোর ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক জাহিদ হাসান টুকুনের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা নথিভুক্ত করায় উপপরিদর্শক (এসআই) কামরুজ্জামানের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং পেট্রোল পাম্পের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ টহল জোরদারকরণ।

তিনি আরও জানান, ৩ দফা দাবিতে সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত আধাবেলা ধর্মঘট চলাকালে ২০৫টি পেট্রোল পাম্পে জ্বালানি তেল উত্তোলন ও বিপণন বন্ধ ছিল। বৃহস্পতিবার তাদের দাবি দাওয়া নিয়ে বিভাগীয় কমিশনারের সঙ্গে আলোচনায় বসার কথা রয়েছে। এ আলোচনার মাধ্যমে তাদের সমস্যা দূর হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

তালায় ইউনিয়ন বিএনপি নেতাকে গুলি করে হত্যার চেষ্টা, গ্রেফতার ২

পত্রদূত রিপোর্ট : সাতক্ষীরার তালা উপজেলার খেসরা ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি ও ইউপি সদস্য রাশেদ সানাকে গুলি করে হত্যার চেষ্টা চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। সোমবার দিবাগত রাতে এ ঘটনা ঘটে। আহত বিএনপি নেতাকে আশংকাজনক অবস্থায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্ত্তি করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, সোমবার রাতে রাশেদ তার সঙ্গিদের সাথে খেশরার এক বাড়িতে অবস্থান করছিল। এসময় সন্ত্রাসীরা তাকে জোর করে ধরে নিয়ে যায়। তাকে পাশ্ববর্তী বিলের মধ্যে নিয়ে দুই রাউন্ড গুলি করে এবং কুপিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত ভেবে ফেলে রেখে যায়।
পরে এলাকাবাসী তাকে উদ্ধার তালা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে খুলনায় মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
তালা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: রবিউল ইসলাম জানান, ঘের সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটেছে। সন্ত্রাসীরা সেখানে দু’রাউন্ড গুলি ও একটি বোমা বিষ্ফোরন ঘটায়। দুরাউন্ড গুলিই তার শরীরে বিদ্ধ হয় বলে ওসি জানান।
ঘটনার সাথে জড়িত থাাকার অভিযোগে একই গ্রামের সাদ্দাম হোসেন ও আব্দুল জলিল নামের দুইজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

আশাশুনির জেলেখালী-দয়ারঘাটে ভাঙ্গন কবলিত বেড়িবাঁধ পরিদর্শন করেছেন পাওবো’র তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী

আহসান হাবিব, আশাশুনি : আশাশুনি সদরের জেলেখালী-দয়ারঘাট এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের  ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধ পরিদর্শন করেছেন পাউবো’র তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (ডিজাইন সার্কেল) আব্দুল মান্নান। দৈনিক পত্রদূতসহ কয়েকটি দৈনিকে এ সম্পর্কে খবর প্রকাশিত হওয়ার পর গতকাল ভাঙ্গন এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন আসেন কর্মকর্তারা। সোমবার ভাঙ্গন কবলিত এলাকা পরিদর্শনকালে তার সঙ্গে ছিলেন নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম, পানি উন্নয়ন বোর্ডের অন্য কর্মকর্তাবৃন্দ, মুক্তিযোদ্ধা কমাণ্ডার, সাংবাদিক, ইউপি সদস্যবৃন্দ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। প্রসঙ্গত, ১৯৯৫ সালে ভয়াবহ জলোচ্ছ্বাসে উক্ত এলাকা থেকে হাফ কিঃ মিঃ দক্ষিণ সাইডে ৬ ব্যান্ডের স্লুইস গেট সংলগ্ন ও আইলায় উক্ত এলাকায় বাঁধ ভাঙ্গনের ফলে গোটা এলাকা দু-দু বার প্ল¬াবিত হয়েছিল। ফলে হাজার হাজার মানুষের ঘরবাড়ি, মৎস্য ঘের, আবাদী ফসলের জমি ও অফিস-আদালত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান লোনা পানিতে নিমজ্জিত হয়ে কোটি কোটি টাকার সম্পদ বিনষ্ট হয়। বর্তমানে উক্ত এলাকায় বাঁধের ৫ চেইনের মত এলাকায় ভাঙ্গন চলছে। এর মধ্যে ৩টি পয়েন্টের অবস্থা অত্যন্ত ভয়াবহ। মূল বাঁধের প্রায় ৪ ভাগের ৩ ভাগ অংশ নদী গর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। ১ ভাগের উপরে নদীর পানি উপছে পড়ার উপক্রম হওয়ায় সদর ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে তাৎক্ষণিক এক থেকে দেড় ফুট উঁচু করে একটি রিং বাঁধ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু মূল বাঁধের তলা নদীতে সরে যেয়ে বাঁধ টিকিয়ে রাখা কষ্ট সাধ্য হয়ে পড়েছে। আশাশুনি এলাকাকে বাঁচাতে হলে প্রয়োজন অধিক অর্থের যা একমাত্র পানি বোর্ড কর্তৃপক্ষ ছাড়া সম্ভব নয়। গতকাল পাউবো’র উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সরেজমিনে পরিদর্শনকালে এলাকাবাসী বুকে আশা বেঁধে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর কাছে জরুরী সহায়তার ভিত্তিতে বাঁধ রক্ষার জন্য কাজ শুরুর দাবি জানায়। এদিকে বাঁধের কাজের জন্য টেণ্ডার আহবান করা হলেও কোন ঠিকাদার অংশগ্রহণ না করায় কাজ বিলম্বিত হচ্ছে বলে কর্তৃপক্ষ জানান। ভূক্তভোগী এলাকাবাসী পাউবোর উক্ত কর্মকর্তাদের নিকট দাবি করে বলেন, দ্রুত বাঁধ রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নিয়ে আগামী পূর্ণিমায় উক্ত বাঁধ নদী গর্ভে বিলিন হয়ে আশাশুনি সদরের অফিস আদালতসহ বিস্তীর্ণ এলাকা পূর্বের ন্যায় প্ল¬াবিত হবে।

 

নুর ইসলামের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা এবং গ্রেফতারের দাবী জানিয়েছে ন্যাপ : প্রেসক্লাব এর নাম ব্যবহার করে দৃষ্টিপাতে প্রকাশিত খবর নতুন ষড়যন্ত্রের অংশ

গতকাল সাতক্ষীরার একটি পত্রিকায় সাতক্ষীরা প্রেসক্লাব এর নামে কথিত এক নিন্দা প্রস্তাবের ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করেছে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবসহ সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ। কালিগঞ্জের ফতেপুর ও চাকদাহর ঘটনার ৩মাস পর এধরণের বিবৃতি প্রকাশের ঘটনাকে উদ্দেশ্য প্রণোদিত এবং নতুন করে সহিংসতার উস্কানি হিসেবে উল্লেখ করেছেন নেতৃবৃন্দ। পত্রিকায় পাঠানো বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, ২৯ মার্চ ২০১২ সাতক্ষীরা থেকে প্রকাশিত দৈনিক দৃষ্টিপাত পত্রিকায় “কালিগঞ্জে নাটকের মাধ্যমে মহানবী (সাঃ) কে অসম্মান” তৌহিদি জনতার প্রতিরোধে নাটক অনুষ্ঠান ভণ্ডুল শীর্ষক খবরটি ছিল মিথ্যা ভিত্তিহীন এবং উদ্দেশ্য প্রণোদিত। দৃষ্টিপাতের ওই খবরে মহানবী (সাঃ) ব্যক্তিগত চরিত্র নিয়ে যেসব শব্দাবলি ব্যবহার করা হয়েছিল তার কোন বাস্তব ভিত্তি ছিলনা। হুজুরে কেবলা নামক গল্প অবলম্বনে নাটকটি প্রদর্শনের সময় কতিপয় দর্শকের আপত্তির কারণে ওই নাটকটি বন্ধ করে অন্য নাটক প্রদর্শন এবং সংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ওই অনুষ্ঠান শেষ হয়। সেখানে কথিত তৌহিদি জনতা নামক কোন জনতা উপস্থিত ছিলনা বা অনুষ্ঠান ভণ্ডলও করিনি। এমনকি দৃষ্টিপাতে খবর প্রকাশের পূর্বে এলাকার মানুষও এধরণের ঘটনা শোনেনি। যা কিছূ ঘটেছে তার সবটাই দৃষ্টিপাতে প্রকাশিত খবরকে কেন্দ্র করে। তদন্তে ঘটনা প্রমাণিত হওয়ায় জেলা প্রশাসন দৃষ্টিপাতের ডিক্লারেশন বাতিল করে। এই ঘটনার প্রায় ৩মাস পর প্রেসক্লাবের নাম ব্যবহার করে কথিত নিন্দা প্রস্তাব গ্রহণের ঘটনা নতুন করে ষড়যন্ত্রের অংশ বলে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাব মনে করে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ফতেপুর চাকদাহর ঘটনার আগেও কালিগঞ্জের নলতা, পাইকগাছার কপিলমনিসহ বিভিন্ন এলাকার কতিপয় ঘটনা নিয়ে দৈনিক দৃষ্টিপাত একই ধরণের খবর প্রকাশ করে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বাধানোর চেষ্টা করে। দৃষ্টিপাতের ওই সব খবরের কারণে একাধিক সংখ্যালঘু পরিবার এলাকা ত্যাগ করতে বাধ্য হয়। ধর্মীয় উস্কানি দিয়ে ধর্মপ্রাণ মানুষকে বিভ্রান্ত করে উগ্র জঙ্গীবাদীদের পৃষ্ঠপোষকতা করে আসছে পত্রিকাটি। এরপরও কালিগঞ্জের ঘটনার পর সাধারণ জনগনের প্রত্যাশা ছিল প্রশাসনসহ আইন প্রয়োগকারি সংস্থা সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। কিন্তু পত্রিকার ডিক্লারেশন বাতিল ছাড়া মিথ্যা খবর ছাপিয়ে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বাধানোর প্রচেষ্টার ঘটনায় অন্যকোন আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। প্রশাসনসহ আইন প্রয়োগকারি সংস্থার এই ব্যর্থতার কারণে নতুন করে আবার তারা মাঠে নামার সুযোগ পেয়েছে। বিবৃতিতে প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দ বলেন, আমরা সব সময় সংবাদপত্র এবং সাংবাদিকতার স্বাধীনতার পক্ষে। কিন্তু সেই স্বাধীনতার অপব্যবহার করে যদি কেউ সাংবাদিকতাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে, সমাজ সভ্যতার বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়, দাঙ্গা সংঘাতের সৃষ্টি করে আমরা কোন ক্রমেই তার পক্ষে অবস্থান নিতে পারিনা। বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, দৃষ্টিপাতের প্রকাশিত ওই খবরটি আরও বিভিন্ন পত্রিকায় ছাপা হয়েছে উল্লেখ করে মানুষের মধ্যে বিভ্রান্ত ছড়ানো হচ্ছে। কিন্তু একদিন পর দৃষ্টিপাতের স্ব-গোত্রিয় আলোর পরশ ছাড়া আর কোন পত্রিকা ওই খবর ছেপেছে এমন কোন তথ্য আমাদের কাছে নেই। যদিও আলোর পরশের প্রচার না থাকায় সেটি সাতক্ষীরাবাসীর নজরে আসেনি। যেসব পত্রিকার খবরের কাটিং দৃষ্টিপাতের পক্ষ থেকে বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হয়েছে সেগুলো দৃষ্টিপাতের খবরকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট ঘটনারই খবর। কিন্তু এগুলো ব্যবহার করে দৃষ্টিপাত সাধারণ মানুষকে আবারো বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। প্রেসক্লাবের বিবৃতিতে কথিত প্রেসক্লাব এর গতকাল প্রকাশিত বিবৃতিতে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য সর্বস্তরের জনগনের প্রতি আহবান জানানো হয়েছে। বিবৃতি দাতারা হলেন, সাতক্ষীরা প্রেসক্লাব এর সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল বারী, সাবেক সভাপতি ও দৈনিক কালের চিত্র সম্পাদক অধ্যক্ষ আবু আহমেদ প্রমুখ।  প্রেস বিজ্ঞপ্তি

নুর ইসলামের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা এবং গ্রেফতারের দাবী জানিয়েছে ন্যাপ

কালিগঞ্জের ফতেপুর ও চাকদাহ এর সহিংসতার নেপথ্য নায়ক এবং উস্কানিদাতা দৈনিক দৃষ্টিপাতের নুর ইসলামকে রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা ও গ্রেফতারের দাবী জানিয়েছেন ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি ন্যাপ সাতক্ষীরা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক কাজী সাইদুর রহমান।

গতকাল এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ঘটনার পর ৩মাস অতিবাহিত হলেও জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। এ কারণে এলাকার সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ এখনও নিরাপত্তাহিনতার মধ্যে বসবাস করছে। কাজী সাইদুর রহমান আরও বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে শুধুমাত্র দৈনিক দৃষ্টিপাতের ডিক্লারেশন বাতিল করা হয়েছে। কিন্তু পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদকের বিরুদ্ধে নূন্যতম পদক্ষেপ না নিয়ে তাদেরকে নতুন করে ষড়যন্ত্র করার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। কাজী সাইদুর রহমান এঘটনার জন্য গভীর ভাবে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। গতকাল স্থানীয় একটি পত্রিকায় জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে তথাকথিত নিন্দা প্রস্তাবের বিরুদ্ধেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। প্রেস বিজ্ঞপ্তি

 

গাবুরার মানুষ বিকল্প কর্মসংস্থান চায়

শেথ আব্দুল হাকিম, শ্যামনগর : শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়ন সুন্দরবনের গা ঘেঁষা একটি দ্বীপ। যার নদী দ্বারা বেষ্টিত। এখানের অধিবাসীরা অধিকাংশই দরিদ্র। জীবন-জীবিকার তাগিতে সকাল বেলায় ডিঙ্গি নিয়ে ছুটতে হয় সুন্দবনে। এখানকার শতকরা ৭০ ভাগ নর-নারী সুন্দরবনের উপর নির্ভরশীল। ফলে বন্যপ্রাণির হামলার শিকার হওয়ায় এ এলাকায় বাঘ বিধবার সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। বেসরকারি সংস্থা লিডার্স ও একশন এইড’র দেওয়া তথ্যানুযায়ী বিগত ২০০০ সাল থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত এক দশকে উপজেলার ৩টি ইউনিয়নে বাঘের আক্রমণের শিকার হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এমন পরিবারের সংখ্যা ৫১৩টি। এসব পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিটি সুন্দরবনে গিয়ে বাঘের আক্রমণের শিকার হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন। এর মধ্যে ৩৭ জন ব্যক্তি বাঘের কবল থেকে ভাগ্যক্রমে বেঁচে গেলেও পঙ্গুত্ব বরণ করে মানবেতর জীবন যাপন করছে। এ ইউনিয়নগুলোতে বিধবা নারীর সংখ্যা ৩১৩ জন। স্বামী মারা যাওয়ার পর অনেকেরই ঠাঁই হয়নি শ্বশুর বাড়িতে। সন্তান প্রতিপালন, অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থানের সমস্যা নিয়ে দুর্বিসহ জীবন যাপন করছে এসব ভাগ্যাহত নারীরা। ২০১০ সালের জুন মাস থেকে সরকার বন্যপ্রাণির আক্রমণে মৃত ব্যক্তিদের ক্ষতি পূরণ দিচ্ছে। তবে বৈধ পাশধারীদের পরিবার এই সুবিধা পান। প্রতিনিয়িত পদ্মপুকুর, আটুলিয়া, মুন্সিগঞ্জ, কৈখালী, কাঁশিমাড়ী ইউনিয়নের বহু বনজীবী বাঘের আক্রমণের শিকার হচ্ছে। দিন দিন এ সংখ্যা আরও বেড়ে চলেছে। এমতাবস্থায় বনজীবীদের বিকল্প কর্ম সংস্থানের ব্যবস্থা করলে এলাকার মানুষ উপকৃত হবে। একই সাথে সুন্দরবনের উপর বনজীবেিদর চাপ কমলে সুন্দরবন রক্ষা পাবে বলে সচেতন মহল মতামত ব্যক্ত করেছেন।

চাকুরী জাতীয়করণের দাবিতে ইউপি সচিবদের মানববন্ধন ও স্মারকলিপি পেশ

নিজস্ব প্রতিনিধি : সাতক্ষীরার ৭৮টি ইউনিয়নের সচিবরা চাকুরী জাতীয়করণ ও দ্বিতীয় শ্রেণির পদমর্যাদা, পেনশন ভাতা, গ্রাচুইটি, উৎসব ভাতা, ভবিষ্য তহবিলসহ বিভিন্ন দাবিতে মানববন্ধন, মৌন মিছিল ও স্মারকলিপি পেশসহ নানা কর্মসূচি পালন করেছে। সোমবার বাংলাদেশ ইউনিয়ন পরিষদ সেক্রেটারি সমিতি (বাপসা) এ কর্মসূচি পালন করে। এ উপলক্ষ্যে সকাল ১০টায় সাতক্ষীরা শহরের নিউ মার্কেটস্থ শহীদ আলাউদ্দিন চত্বরে পালন করা হয় মানবন্ধন কর্মসূচি। এতে অংশগ্রহণ করে জেলার ৭৮টি ইউনিয়নের কর্মরত সচিবগণ। মানবন্ধন কর্মসূচি চলাকালে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ইউনিয়ন পরিষদ সেক্রেটারি সমিতি (বাপসা) এর সাতক্ষীরা জেলা শাখার সভাপতি আব্দুর হাকিম, সাধারণ সম্পাদক মোঃ খালিদ হাসান খান, ফিংড়ি ইউপি সচিব আব্দুল হামিদ, অরবিন্দু সরকার, শ্যামনগর সদর ইউপি সচিব কাঞ্চন কুমার দে, ব্রহ্মরাজপুর ইউপি সচিব সিরাজুর রহমান, সখিপুর ইউপি সচিব নারায়ন চন্দ্র অধিকারী প্রমুখ। এতে বক্তারা বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে এবং রূপকল্প ২০২১ বাস্তবায়নে ইউপি সচিবরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে ইউনিয়ন তথ্য ও সেবা কেন্দ্র স্থাপন এবং গ্রাম আদালত আইন প্রকল্প বাস্তবায়ন করায় প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ঘরে সুফল পৌঁছে গেছে। বক্তারা বলেন, ইউপি সচিবরা সকল নাগরিকের জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত নানা মুখী সেবা দিয়ে থাকে। ইউপি সচিবরাই ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার সক্রিয় কর্মী। কিন্তু নানাভাবে বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন তারা। পেনশন ভাতা ও ভবিষ্যৎ তহবিল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ইউপি সচিবদের বেতনভাতা প্রাপ্তির ক্ষেত্রেও নানা জটিলতা রয়েছে। উৎসবভাতা ও গ্রাচুইটি পাওয়ার ক্ষেত্রে দুয়ারে দুয়ারে ধর্ণা দিতে হয় ইউপি সচিবদের। বক্তারা আরো বলেন, এইচএসসি বা ডিপ্লে¬ামা পাশ করেও অনেকেই দ্বিতীয় শ্রেণির পদমর্যাদায় সরকারি চাকুরী করে সুযোগ সুবিধা পাচ্ছেন। কিন্তু স্নাতক ডিগ্রী কিংবা মাস্টার্স পাশ করেও ইউপি সচিবরা তৃতীয় শ্রেণির পদ মর্যাদা নিয়ে চাকুরী করছেন।  যে চাকুরী আজও জাতীয়করণ করা হয়নি। বক্তারা ইউপি সচিবদের চাকুরী জাতীয়করণ ও দ্বিতীয় শ্রেণির পদমর্যাদার দাবি জানান।

মানববন্ধন শেষে ইউপি সচিবরা একটি মৌন মিছিল বের করে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে গিয়ে মিলিত হয়। সেখানে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি পেশ করেন সচিবরা।

পাটকেলঘাটায় সড়ক দুর্ঘটনায় এক শিশু নিহত, আহত ৩

পাটকেলঘাটা প্রতিনিধি : খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কের ভৈরবনগরে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় ১ শিশু নিহত হয়েছে। এতে আহত হয়েছে একই পরিবারের আরো ৩ জন। আহতদের সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় ঘাতক ট্রাক ড্রাইভার ও হেলপার কে পুলিশ আটক করেছে।

এলাকাবাসী জানায়, খুলনা থেকে ছেড়ে আসা সাতক্ষীরাগামী একটি ট্রাক (যশোর-ট-১১-১১৭০) গতকাল সোমবার সকাল ৭টার দিকে ঘুমের ঘোরে ড্রাইভার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ট্রাকটি ভৈরব নগর সড়কের পাশে খাদে নামিয়ে দেয়। এ সময় ট্রাকের চাকায় পিস্ট হয়ে পথচারী ভৈরব নগর গ্রামের আনিছুর রহমানের পুত্র রাকিবুল (১) ঘটনাস্থলেই নিহত হয়। নিহত শিশু রাকিবুল মুড়ি চানাচুর কেনার জন্য দোকানে যাচ্ছিল। এ সময় তার সাথে থাকা একই পরিবারের সাবিনা (৯) ও ওমর আলীর স্ত্রী ছাবিকুন্নাহার (৩০) ও পুত্র পলাশ (২) মারাত্মক আহত হয়। এলাকাবাসী তাদেরকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে ভর্তি করে।

এদিকে এ ঘটনায় পুলিশ ঘাতক ট্রাক ড্রাইভার ঝাউডাঙ্গা গ্রামের মোবারক শেখের পুত্র শেখ জামাল (৩৭), হেলপার গুনাকরকাটী গ্রামের আলাউদ্দীন মোড়লের পুত্র লুৎফর রহমান (৩০) কে আটক করেছে। এ সময় স্থানীয় জনতা খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কে যানচলাচন আধা ঘন্টা বন্ধ করে দেয়। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

শ্যামনগরে বীজ ধান বিতরণ

সুন্দরবনাঞ্চল (শ্যামনগর) প্রতিনিধি : গতকাল সোমবার শ্যামনগরে প্রগতির কার্যালয়ে কৃষক ও কৃষাণীদের মধ্যে বিনামূল্যে বীজধান বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রগতির বাস্তবায়নে ও সুশীলনের সহযোগিতায় এবং ইরির অর্থায়নে ৩০০ কৃষকের মধ্যে লবণ সহিষ্ণু বীজধান বিনা-৭, বি আর-৪৬, বি আর-৪৯, বি আর-৪৩, বি আর-৪৬ ও ৩৩ বিতরণ করা হয়।

বীজবিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আলি হোসেন, সভাপতিত্ব করেন প্রগতির সভাপতি সহকারি অধ্যাপক শাহানা হামিদ। সঞ্চালকের দায়িত্ব পালন করেন প্রগতির সম্পাদক অধ্যক্ষ আশেক-ই-এলাহী। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন মুক্তিযোদ্ধা শিক্ষক নজরুল ইসলাম, আইনজীবী জি এম মুনসুর রহমান, রনজিৎ বর্মন ও শেখ আফজাল হোসেন। অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আব্দুল্লাহ আল বাকী, অনিল কৃষ্ণ মন্ডল, আঃরশিদ, হারুনর রশিদ, সুপর্না  প্রমুখ। শ্যামনগর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের কৃষক ও কৃষাণীদের মধ্যে এ ধান বীজ বিতরণ করা হয়।

দুস্থ নারীদের মাঝে সেলাই মেশিন বিতরণ

আন্জুমান মফিদুল ইসলাম দুপুরে দুস্থ নারীদের মাঝে সেলাই মেশিন ও ২ হাজার টাকা করে অনুদান প্রদান করেছে। গতকাল দুপুরে জেলা প্রশাসক ড. মুহা: আনোয়ার হোসেন হাওলাদারের সম্মেলনকক্ষে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মূকেশ চন্দ্র বিশ্বাস এ সেলাই মেশিন বিতরণ করেন। এর আগে দীন আলীর সভাপতিত্বে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন সংগঠনের জেলা সাধারণ সম্পাদক খায়রুল ইসলাম, আবুল কালাম বাবলা, এমএম মজনু ও ঈদ্রিস আলী প্রমুখ। আলোচনা শেষে প্রধান অতিথি মূকেশ চন্দ্র বিশ্বাস ৪ জন দুস্থ নারীর মাঝে ৪টি সেলাই মেশিন ও ২ হাজার করে অনুদান তুলে দেন। প্রেস বিজ্ঞপ্তি

মহসীন কলেজে ছাত্রদলের নবীণ বরণ

শ্যামনগর প্রতিনিধি : শ্যামনগর মহসীন কলেজ ক্যাম্পাসে গতকাল ছাত্রদলের উদ্যোগে নবীণ বরণ অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সংগঠনের পক্ষ থেকে নবাগত শিক্ষার্থীদের ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আদর্শে অনুপ্রাণিত হওয়ার আহবান জানানো হয়। এ উপলক্ষ্যে বেলা দশটায় শ্যামনগর মহসীন কলেজ ছাত্রদলের উদ্যোগে শুভেচ্ছা মিছিল বের করা হয়। পরবর্তীতে শহীদ মিনারের পাদদেশে অনুষ্ঠিত সংক্ষিপ্ত সভায় উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি নাজমুল হক প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক জুলফিকার সিদ্দিকী, ছাত্রদল নেতা নাজমুল হোসেন, সাজ্জাদ হোসেন, মাসুদ, জহিরুল ইসলাম, বাপ্পী, খোকন, সুমন, শিমুল প্রমুখ।  এর আগে বেলা ন’টা থেকে ছাত্রদল নেতারা ক্যাম্পাসের প্রবেশ মুখে দাড়িয়ে কলেজে আগত নবাগতদের হাতে ফুলের তোড়া উঠিয়ে দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।

কাকডাঙ্গা ও বেনাপোল সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে দু’জন বাংলাদেশি নিহত

কলারোয়া সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে এক বাংলাদেশি নিহত, আহত-১, নিহতের লাশ ও আটক বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠাতে বিএসএফের অস্বীকৃতি

ইয়ারব হোসেন/শেখ জিল্লু: ভারতীয় বিএসএফ সদস্যরা এক বাংলাদেশি গরু রাখালকে গুলি করে হত্যা করেছে। গুলিতে এক বাংলাদেশি গরু রাখাল আহত হয়েছে। পরে তাকে আটক করা হয়েছে। আজ সোমবার ভোরে কলারোয়া উপজেলার কাকডাঙ্গা সীমান্তের বিপরীতে ভারতের বশিরহাট মহকুমার সরূপনগর থানার  হাকিমপুর ও তারালি এলাকার মাঠে এ ঘটনা ঘটে।

এদিতে এ ঘটনায় বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে কোম্পানি কমানন্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠাবে বিএসএফ সদস্যরা নিহত বাংলাদেশি গরু রাখালের লাশ ও আহত বাংলাদেশিকে ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। রবিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কলারোয়া উপজেলার কেঁড়াগাছি সীমান্তে এ পতাকা বৈঠাক অনুষ্ঠিত হয়।

নিহতের নাম মো: আলতাফ হোসেন(৩০)। তিনি কলারোয়া উপজেলার বোয়ারিয়া গ্রামের ফজলুর রহমানের ছেলে। বিএসএফের হাতে আটক বাংলাদেশির নাম পঞ্চায়েত আলী (৩২ )। তিনি একই উপজেলার বোয়ারিয়া গ্রামের শাকের আলীর ছেলে।

কলরোয়া উপজেলার কেঁড়াগাছি সীমান্তের গ্রামবাসিরা জানায়, রোববার সন্ধ্যায় ৩০-৪০ জন বাংলাদেশি গরু আনতে ভারতে যায়। সোমবার ভোরে গরু নিয়ে তারা ভারতের বশিরহাটা মহকুমার সরূপনগর থানার তারালি সীমান্ত এলাকা দিয়ে বাংলাদেশ ফিরছিল। পথিমধ্যে তারা হাকিমপুর ও তারালি এলাকার মাঠে পৌছালে তারালি বিএসএফ ক্যাম্পের সদস্যরা তাদের লক্ষ করে কয়েক রাউন্ড গুলি চালায়। গুলিতে আলতাফ হোসেন নিহত হয়। আহত হয় পঞ্চায়েত আলী। পরে তাকে বিএস এফ  সদস্যরা আটক করে ক্যাম্পে নিয়ে যায়।

একটি দায়িত্বশীল সুত্র জানিয়েছে বিএসএফ সদস্যরা খুব কাছ থেকে তাদের লক্ষ করে গুলি করে। মাথায় গুলিবৃদ্ধ হয়ে আলতাফ হোসেন ঘটনাস্থালে মারা যায়। আজ  সকাল ১০টা পর্যন্ত ঘটনাস্থালে লাশ পড়ে ছিল। নিহতের লাশ দেখতে শত শত ভারতীয় নাগরিক ভীড় করে। পরে সরূপনগর থানার পুলিশ এসে তার লাশ উদ্ধার করে নিয়ে যায়।

এদিতে এ ঘটনার প্রতিবাদ, নিহতের লাশ ও আটককৃত বাংলাদেশিকে ফেরত চেয়ে সাতক্ষীরা ৩৮ বিজিবি কাকডাঙ্গা  ক্যাম্পের পক্ষ বিএসএফের তারালি ক্যাম্পের চিঠি পাঠানো হয়। এনিয়ে সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে কলারোয়ার কেঁড়াগাছি সীমান্তের জিরো পয়েন্টে পতাকা বৈঠাক অনুষ্টিত হয়। আট সদস্য বিজিবি’র পক্ষে নেতৃত্ব দেন সাতক্ষীরা ৩৮ বিজিবি ব্যাটলিয়নের মাদরা কোম্পানি কমান্ডার সুলতান আহম্মেদ। আট সদস্য বিএসএফের নেতৃত্ব দেন ভারতের আমুদিয়া ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার ভিপি সিং। পতাকা বৈঠাকে বিএসএফের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে নিহতের লাশ ও আটককৃত বাংলাদেশিকে ইতিমধ্যে সে দেশের পুলিশের কাছে সর্পোদ করা হয়েছে। আইনে প্রক্রিয়া ছাড়া লাশ ও আটকৃতকে ফেরত দেওয়া সম্ভব নয়।

সাতক্ষীার ৩৮ বিজিবি ব্যাটলিয়নের মাদরা কোম্পিানি কমান্ডার সুলতান আহম্মেদ ঘটনা নিশ্চিত কেেছন। তিনি বলেন পতাকা বৈঠাকে বিএসএফ সদস্যরা নিহত বাংলাদেশির লাশ ও আহতকে ফেরত দিকে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

বেনাপোল সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে এক গরু ব্যবসায়ী নিহত

যশোর প্রতিনিধি : যশোরের দৌলতপুর সীমান্তের বিপরীতে ভারতের কালিয়ানী সীমান্তে সোমবার ভোর রাতে এক বাংলাদেশি গরু ব্যবসায়ীকে গুলি করে ও কুপিয়ে হত্যা করেছে বিএসএফ। এ ঘটনায় উভয় সীমান্তে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে। নিহতের লাশ সে দেশের পুলিশ উদ্ধার করে ভারতের বনগাঁ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।

বেনাপোল দৌলতপুর গ্রামের একাধিক ব্যক্তি জানান, সোমবার ভোর রাতে দৌলতপুর সীমান্তের বিপরীতে ভারতের কালিয়ানী সীমান্ত দিয়ে এক দল গরু ব্যবসায়ী ভারত থেকে গরু নিয়ে দেশে ফিরছিল। এ সময় টহলরত বিএসএফ সদস্যরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়। গুলির শব্দে গরু ব্যবসায়ীরা পালিয়ে দেশে ফিরে এলেও অজ্ঞাত পরিচয়ের এক ব্যক্তিকে ধরে ফেলে বিএসএফ। আটক গরু ব্যবসায়ীকে বিএসএফ সদস্যরা এলোপাতাড়ী পিটিয়ে, কুপিয়ে ও গুলি করে মৃত্যু নিশ্চিত করে ইছামতি নদীরতে ফেলে দেয়। পরে ভারতের বনগাঁ থানা পুলিশ খবর পেয়ে নদী থেকে লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য ভারতের বনগাঁ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

এ ব্যাপারে ২৬ বিজিবির দৌলতপুর ক্যাম্প কমাণ্ডার আব্দুল জলিল জানান, প্রথমে আমাদের সোর্সের মাধ্যমে বিএসএফ কর্তৃক বাংলাদেশি গরু ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে ও গুলি করে হত্যার খবর শুনেছি। সকালে বিএসএফ হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করে লাশ সনাক্তের জন্য আমাদের জানিয়েছেন। তবে নিহত ব্যক্তির পরিচয় এখনো পাওয়া যায়নি।

জেলা পরিষদের দর্জি বিজ্ঞান প্রশিক্ষণ উদ্বোধন

নিজস্ব প্রতিনিধি : শিক্ষিত বেকার যুব পুরুষ মহিলাদের তিন মাস মেয়াদী দর্জি বিজ্ঞান প্রশিক্ষণ কর্মসূচি সোমবার সকাল ১০টায় উদ্বোধন করা হয়েছে। জেলা পরিষদ প্রশাসক মুনসুর আহমেদ প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মূকেশ চন্দ্র বিশ্বাস। জেলা পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা এস এম মাহবুবুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সহকারি প্রকৌশলী আমিনুল ইসলাম, প্রশিক্ষক তানজিরা খাতুন প্রমুখ। আত্মকর্মসংস্থান, জীবন মান উন্নয়ন ও সচেতনতা বৃদ্ধি সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ কার্যক্রম প্রকল্পের ৭৯ এবং দারিদ্র্য নিরসন ও নারী উন্নয়ন মূলক প্রকল্পে ৬০ জন যুব পুরুষ ও মহিলা প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করেন। প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে ১৩৯ জন পুরুষ-মহিলা তিন মাস প্রশিক্ষণ শেষে প্রত্যেকে একটি করে সেলাই মেশিন পাবেন। অপরদিকে একই দিন বিকেলে গবাদিপশু, হাঁসমুরগী ও মৎস্য চাষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। তিনমাস মেয়াদী এ প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে ৭০জন নারী পুরুষ অংশগ্রহণ করেন। কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ওয়াদুদ আলম, সহকারি প্রকৌশলী আমিনুল ইসলাম, উপ-সহকারি শামসুল আলম প্রমুখ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা এস এম মাহবুবুর রহমান।

ফিংড়ীতে বিএনপি ও জামায়াতের ৫৭ নেতা-কর্মীর যুবলীগে যোগদান

নিজস্ব প্রতিনিধি : জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আর্দশে অনুপ্রাণিত হয়ে বিএনপি জামায়াত থেকে ৫৭ জন নেতা-কর্মী বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগে যোগদান করেছেন। যুবলীগ নেতারা এসময় বিএনপি-জামায়াত ছেড়ে যুবলীগে যোগদান করায় তাদেরকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়ে বরণ করে নেন। সোমবার বিকেলে সদর উপজেলার ফিংড়ী ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড যুবলীগ আয়োজিত সমুদ্র জয় শীর্ষক এক আলোচনা সভায় বিএনপি জামায়াতের নেতা-কর্মীরা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে যুবলীগে যোগদান করেন। যোগদানকারীদের মধ্যে বিএনপি নেতা আবু সাঈদের নেতৃত্বে ৯ জন নেতা-কর্মী এবং জামায়াত নেতা আকবর হোসেনের নেতৃত্বে ৪৮ জন জামায়াত শিবির নেতা কর্মী রয়েছেন।

ফিংড়ী ইউনিয়নের এল্লারচর মোড়ে যুবলীগ নেতা সোহাগ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের কৃষি বিষয়ক সম্পাদক শেখ আবুল হোসেন, ফিংড়ী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক শামসুর রহমান, ফিংড়ী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ আফজাল হোসেন মারুফ, আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল মাজেদ, আব্দুর রহিম, যুবলীগ নেতা মনিরুল ইসলাম, আরিফুল ইসলাম, বায়দুল ইসলাম, হাফিজুল ইসলাম, হারুন-উর-রশিদ প্রমুখ।

শরণখোলায় সিসিজি প্রকল্পের অবহিতকরণ সভায় বক্তারা: জনদুর্দশা লাঘবে কে কি করছেন তা জানার অধিকার জনগণের আছে

খুলনা ব্যুরো : জনঅংশগ্রহণের মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত কর্মসূচিসমূহে সুশাসন নিশ্চিতকরণ-সিসিজি প্রকল্পের অবহিতকরণ সভায় বক্তারা বলেছেন, উপকূলীয় অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট অভিঘাতসূমহ মোকাবেলার জন্য চলমান এবং ভবিষ্যৎ কার্যক্রম বা উদ্যোগসমূহে সুশাসন ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। জনগণের অধিকার আছে যে, তাদের দুর্দশা লাঘবে কে কি কাজ করছেন, এসব কাজে মানুষের কি ধরণের উপকার হবে তা’ জানার। গতকাল সোমবার সকালে শরণখোলার অফিসার্স ক্লাব মিলনায়তনে রূপান্তর-এর নির্বাহী পরিচালক স্বপন গুহ’র সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠিত সভায় বক্তরা এ কথা বলেন। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শরণখোলা উপজেলা চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন আকন। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কে এম মামুনউজ্জামান, দি এশিয়া ফাউন্ডেশনের সিনিয়র প্রোগ্রাম ডিরেক্টর এম শামীম সিদ্দিকী, রূপান্তরের পরামর্শক অধ্যাপক আনোয়ারুল কাদির। রূপান্তর-এর শরণখোলা এরিয়া ম্যানেজার আলমগীর হোসেন মিরুর পরিচালনায় অনুষ্ঠিত এ সভায় স্বাগত বক্তৃতা করেন জনঅংশগ্রহণের মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত কর্মসূচিসমূহে সুশাসন নিশ্চিতকরণ প্রকল্পের সমন্বয়কারী অসীম আনন্দ দাস। বক্তৃতা করেন উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম খোকন ও রীনা আক্তার সাগর, ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রশীদ আকন, ইউপি সদস্য লাইলী আকন, আকলিমা আক্তার, সাংবাদিক আব্দুল মালেক রেজা, উন্নয়নকর্মী আইয়ুব আলী প্রমুখ।

কালিগঞ্জে ইঞ্জিনভ্যানের ধাক্কায় আহত ৩, চালক গ্রেপ্তার

বিশেষ প্রতিনিধি : কালিগঞ্জে দ্রুতগামী ইঞ্জিন ভ্যানের ধাক্কায় ৩ জন গুরুতর আহত হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে রোববার দিবাগত রাত পৌনে ১০টার দিকে কালিগঞ্জ-সাতক্ষীরা মহাসড়কের ভাড়াশিমলা এলাকায়। পুলিশ ইঞ্জিন ভ্যানের চালককে গ্রেপ্তার করে জেল হাজতে প্রেরণ করেছে। থানা সূত্রে জানা যায়, ভাড়াশিমলার জনৈক ছাবিরুলের মালিকানাধীন রাইস মিলের সম্মুখে নড়াইলের মৃত মকবুল হোসেনের ছেলে জাকির হোসেনের (৪২) মোটর সাইকেলের সাথে কালিগঞ্জের পানিয়া গ্রামের মুনছুর আলীর ছেলে রফিকের (৩৫) ভ্যানের সংঘর্ষ হয়। খবর পেয়ে কালিগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সোহরাব হোসেনের নেতৃত্বে ডিউটিরত পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলের উপস্থিত হন। এসময় নলতা থেকে কালিগঞ্জগামী একটি ইঞ্জিন ভ্যান (নসিমন) বেপরোয়া গতিতে এসে সেখানে অবস্থানাকারী চৌবাড়িয়া গ্রামের আমজাদ হোসেনের ছেলে আলিম (২৭), নলতার মফিজ উদ্দীনের ছেলে রেজাউল (৩৫) ও ভ্যান চালক রফিককে চাপা দেয়। পুলিশ ইঞ্জিন ভ্যানের চালক কুশলিয়া ইউনিয়নের ভদ্রখালী গ্রামের ননী গোপাল অধিকারীর ছেলে প্রকাশ অধিকারীকে (২৩) গ্রেপ্তার করে এবং গুরুতর আহতদের উদ্ধার করে কালিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। এব্যাপারে কালিগঞ্জ থানায় মামলা হয়েছে।