নুর ইসলামের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা এবং গ্রেফতারের দাবী জানিয়েছে ন্যাপ : প্রেসক্লাব এর নাম ব্যবহার করে দৃষ্টিপাতে প্রকাশিত খবর নতুন ষড়যন্ত্রের অংশ


প্রকাশিত : জুলাই ৩, ২০১২ ||

গতকাল সাতক্ষীরার একটি পত্রিকায় সাতক্ষীরা প্রেসক্লাব এর নামে কথিত এক নিন্দা প্রস্তাবের ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করেছে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবসহ সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ। কালিগঞ্জের ফতেপুর ও চাকদাহর ঘটনার ৩মাস পর এধরণের বিবৃতি প্রকাশের ঘটনাকে উদ্দেশ্য প্রণোদিত এবং নতুন করে সহিংসতার উস্কানি হিসেবে উল্লেখ করেছেন নেতৃবৃন্দ। পত্রিকায় পাঠানো বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, ২৯ মার্চ ২০১২ সাতক্ষীরা থেকে প্রকাশিত দৈনিক দৃষ্টিপাত পত্রিকায় “কালিগঞ্জে নাটকের মাধ্যমে মহানবী (সাঃ) কে অসম্মান” তৌহিদি জনতার প্রতিরোধে নাটক অনুষ্ঠান ভণ্ডুল শীর্ষক খবরটি ছিল মিথ্যা ভিত্তিহীন এবং উদ্দেশ্য প্রণোদিত। দৃষ্টিপাতের ওই খবরে মহানবী (সাঃ) ব্যক্তিগত চরিত্র নিয়ে যেসব শব্দাবলি ব্যবহার করা হয়েছিল তার কোন বাস্তব ভিত্তি ছিলনা। হুজুরে কেবলা নামক গল্প অবলম্বনে নাটকটি প্রদর্শনের সময় কতিপয় দর্শকের আপত্তির কারণে ওই নাটকটি বন্ধ করে অন্য নাটক প্রদর্শন এবং সংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ওই অনুষ্ঠান শেষ হয়। সেখানে কথিত তৌহিদি জনতা নামক কোন জনতা উপস্থিত ছিলনা বা অনুষ্ঠান ভণ্ডলও করিনি। এমনকি দৃষ্টিপাতে খবর প্রকাশের পূর্বে এলাকার মানুষও এধরণের ঘটনা শোনেনি। যা কিছূ ঘটেছে তার সবটাই দৃষ্টিপাতে প্রকাশিত খবরকে কেন্দ্র করে। তদন্তে ঘটনা প্রমাণিত হওয়ায় জেলা প্রশাসন দৃষ্টিপাতের ডিক্লারেশন বাতিল করে। এই ঘটনার প্রায় ৩মাস পর প্রেসক্লাবের নাম ব্যবহার করে কথিত নিন্দা প্রস্তাব গ্রহণের ঘটনা নতুন করে ষড়যন্ত্রের অংশ বলে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাব মনে করে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ফতেপুর চাকদাহর ঘটনার আগেও কালিগঞ্জের নলতা, পাইকগাছার কপিলমনিসহ বিভিন্ন এলাকার কতিপয় ঘটনা নিয়ে দৈনিক দৃষ্টিপাত একই ধরণের খবর প্রকাশ করে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বাধানোর চেষ্টা করে। দৃষ্টিপাতের ওই সব খবরের কারণে একাধিক সংখ্যালঘু পরিবার এলাকা ত্যাগ করতে বাধ্য হয়। ধর্মীয় উস্কানি দিয়ে ধর্মপ্রাণ মানুষকে বিভ্রান্ত করে উগ্র জঙ্গীবাদীদের পৃষ্ঠপোষকতা করে আসছে পত্রিকাটি। এরপরও কালিগঞ্জের ঘটনার পর সাধারণ জনগনের প্রত্যাশা ছিল প্রশাসনসহ আইন প্রয়োগকারি সংস্থা সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। কিন্তু পত্রিকার ডিক্লারেশন বাতিল ছাড়া মিথ্যা খবর ছাপিয়ে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বাধানোর প্রচেষ্টার ঘটনায় অন্যকোন আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। প্রশাসনসহ আইন প্রয়োগকারি সংস্থার এই ব্যর্থতার কারণে নতুন করে আবার তারা মাঠে নামার সুযোগ পেয়েছে। বিবৃতিতে প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দ বলেন, আমরা সব সময় সংবাদপত্র এবং সাংবাদিকতার স্বাধীনতার পক্ষে। কিন্তু সেই স্বাধীনতার অপব্যবহার করে যদি কেউ সাংবাদিকতাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে, সমাজ সভ্যতার বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়, দাঙ্গা সংঘাতের সৃষ্টি করে আমরা কোন ক্রমেই তার পক্ষে অবস্থান নিতে পারিনা। বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, দৃষ্টিপাতের প্রকাশিত ওই খবরটি আরও বিভিন্ন পত্রিকায় ছাপা হয়েছে উল্লেখ করে মানুষের মধ্যে বিভ্রান্ত ছড়ানো হচ্ছে। কিন্তু একদিন পর দৃষ্টিপাতের স্ব-গোত্রিয় আলোর পরশ ছাড়া আর কোন পত্রিকা ওই খবর ছেপেছে এমন কোন তথ্য আমাদের কাছে নেই। যদিও আলোর পরশের প্রচার না থাকায় সেটি সাতক্ষীরাবাসীর নজরে আসেনি। যেসব পত্রিকার খবরের কাটিং দৃষ্টিপাতের পক্ষ থেকে বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হয়েছে সেগুলো দৃষ্টিপাতের খবরকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট ঘটনারই খবর। কিন্তু এগুলো ব্যবহার করে দৃষ্টিপাত সাধারণ মানুষকে আবারো বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। প্রেসক্লাবের বিবৃতিতে কথিত প্রেসক্লাব এর গতকাল প্রকাশিত বিবৃতিতে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য সর্বস্তরের জনগনের প্রতি আহবান জানানো হয়েছে। বিবৃতি দাতারা হলেন, সাতক্ষীরা প্রেসক্লাব এর সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল বারী, সাবেক সভাপতি ও দৈনিক কালের চিত্র সম্পাদক অধ্যক্ষ আবু আহমেদ প্রমুখ।  প্রেস বিজ্ঞপ্তি

নুর ইসলামের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা এবং গ্রেফতারের দাবী জানিয়েছে ন্যাপ

কালিগঞ্জের ফতেপুর ও চাকদাহ এর সহিংসতার নেপথ্য নায়ক এবং উস্কানিদাতা দৈনিক দৃষ্টিপাতের নুর ইসলামকে রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা ও গ্রেফতারের দাবী জানিয়েছেন ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি ন্যাপ সাতক্ষীরা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক কাজী সাইদুর রহমান।

গতকাল এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ঘটনার পর ৩মাস অতিবাহিত হলেও জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। এ কারণে এলাকার সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ এখনও নিরাপত্তাহিনতার মধ্যে বসবাস করছে। কাজী সাইদুর রহমান আরও বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে শুধুমাত্র দৈনিক দৃষ্টিপাতের ডিক্লারেশন বাতিল করা হয়েছে। কিন্তু পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদকের বিরুদ্ধে নূন্যতম পদক্ষেপ না নিয়ে তাদেরকে নতুন করে ষড়যন্ত্র করার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। কাজী সাইদুর রহমান এঘটনার জন্য গভীর ভাবে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। গতকাল স্থানীয় একটি পত্রিকায় জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে তথাকথিত নিন্দা প্রস্তাবের বিরুদ্ধেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। প্রেস বিজ্ঞপ্তি