পাটকেলঘাটায় সড়ক দূর্ঘটনায় নিহত ১, আহত ২০

মুজিবুর রহমান, পাটকেলঘাটা : সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটায় এক সড়ক দূর্ঘটনায় এক জন ইজিবাইক চালক নিহত হয়েছে। নিহতের নাম আব্দুল্লা মোড়ল(২৫)। এ সময় অন্তত: ২০ জন আহত হযেছে। আহতদের মধ্যে ৩ জনের অবস্থা আশংখাজনক। আজ বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার সময় সাতক্ষীরা-খুলনা মহাসড়কের পাটকেলঘাটার বাইগুনী নামকস্থলে যাত্রীবাহী বাস-ইজিবাইকের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষের ফলে এ দূর্ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দূর্ঘটনার সময় সাতক্ষীরাগামী বাস (নাম্বর-ঢাকা-চ-২৪৫৬) পাটকেলঘাটা কলেজের অদুরে বাইগুনি নামকস্থলে পৌছালে আব্দুস সোবহান মোল্যা মোটর সাইকেল চালককে বাঁচাতে গিয়ে গিয়ে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ইজিবাইককে চাপা দিয়ে নিয়ন্ত্রন হারিয়ে পাশ্ববর্তী গাছে লেগে উল্টে যায়। এ সময় ঘটনাস্থলে ইজিবাইক চালক আব্দুল্লাহ মোড়ল নিহত হয়। সে পাটকেলঘাটাথানার যুগিপুকুরিয়া গ্রামের আব্দুল গফ্ফার মোড়লের ছেলে। স্থানীয়রা এসময় বাসের ভিতর থেকে আহত অবস্থায় অন্তত:২০ জনকে উদ্ধার করে স্থানীয় ক্লিনিকসহ সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। আহতরা হলেন- পাটকেলঘাটা থানার মিঠাবাড়ী গ্রামের মুন্না(১৩), নোয়াকাটি গ্রামের আসমা(২৭), মিজান(১০), খোরশেদ খাঁ(৬৫), হাশিয়া(৭), ফারুক হোসেন(৪২), শ্যামনগর উপজেলার সোবহান মোল্যা(২৮), প্রতাপ নগরের আনারুল(৩২), কালীগঞ্জের শফিকুল(২৫) ও লাইলী(২৫) সহ মোট ২০ জন।

পাটকেলঘাটা থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) আক্তারুজ্জামান জানান, লাশ উদ্ধার করে থানায় রাখা হয়েছে। তিনি জানান, সকাল থেকে অতিরিক্ত বর্ষনের কারনে যাত্রীবাস নিয়ন্ত্রন হারালে এই দূর্ঘটনা ঘটে।

অবৈধ পিটিসি ও এমএলএম কোম্পানির নামে ১৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ রাবি শিক্ষক ড. জুলফিকার দিনভর অবরুদ্ধ

ডেস্ক রিপোর্ট : ইন্টারনেটের মাধ্যমে ক্লিক করলেই টাকা সাধারণ মানুষকে এই কথিত প্রলোভন দেখিয়ে কোয়া-ল্যান্সার নামে অবৈধ পিটিসি কোম্পানির মাধ্যমে সাতক্ষীরা থেকে প্রায় ১০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের শিক্ষক ড. জুলফিকার আহম্মেদ। অধিক লাভের আশা দেখিয়ে প্রতারণার ফাঁদে ফেলে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে গতকাল মঙ্গলবার কোয়া-ল্যান্সার নামের অবৈধ ওই পিটিসি কোম্পানির এমডি ড. জুলফিকার আহম্মেদ কে তার অফিসে উত্তেজিত জনতা দিনভর অবরুদ্ধ করে রাখে। এসময় জনতা শহরের রসুলপুর এলাকাস্থ কোয়া-ল্যান্সার অফিস ভাংচুর করে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সেখানে ম্যাজিস্ট্রেট ও অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়ের করা হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বঞ্চিত গ্রাহকদের যাবতীয় টাকা আজ বুধবার সকাল ১০টায় পরিশোধ করার অঙ্গিকার করায় পুলিশ ড. জুলফিকারকে ছেড়ে দিয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকরা জানান, বেশ কিছুদিন আগে সাতক্ষীরায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. জুলফিকার আহম্মেদ কোয়া-টাইমেট কোয়ালিটি (ইন্টা:) লিমিটেড নামের একটি জয়েন্টস্টোক কোম্পানির কার্যক্রম শুরু করেন। এই কোম্পানির এমডি তিনি নিজেই এবং চেয়ারম্যান তার স্ত্রী মর্জিনা রহমান ও তার পিতা আব্দুল খালেক জোনাল অফিসার। কোয়া টাইমেট কোয়ালিটি (ইন্টা:) লিমিটেড নামের ওই জয়েন্টস্টোক কোম্পানির অন্তরালে ৬ মাস পূর্ব থেকে তিনি সরকারি অনুমোদন ছাড়ায় এমএলএম এবং কোয়া-ল্যান্সার পিটিসি কার্যক্রম চালু করেন। অবৈধ পিটিসি ও এমএলএম কোম্পানিতে সাতক্ষীরার প্রায় ১০ হাজার গ্রাহক আইডি (ড্যান) খোলেন। আইডি প্রতি এক বছর মেয়াদের জন্য ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকা করে ১০ হাজার গ্রাহকের কাছ থেকে প্রায় ১৫ কোটি টাকা হাতিয়ে নেন। বিনিময়ে তিনি প্রতিটি আইডিতে মাসে ৩ হাজার ২০০ টাকা দেয়ার ঘোষণা দেন। শর্ত অনুযায়ী প্রতিদিন প্রতিটি আইডিতে ১২৫টি এ্যাড ভিউ করতে হবে। কিছু কিছু গ্রাহককে তিনি উপরিউক্ত শর্তে স্ট্যাস্পে লিখিত (দলিল) দেন। ড. জুলফিকার আহম্মেদ তার কোম্পানির লোকসান দেখিয়ে হঠাৎ করে গত ২৮ জুন পিটিসির সার্ভারে ঘোষণা দেন, এখন থেকে তিনি মাসে আইডি প্রতি ১ হাজার টাকা করে কেটে নেবেন। এ ঘটনার পর গ্রাহকরা অফিসে ভীড় জমাতে শুরু করে। এক পর্যায়ে গত ১ জুলাই তিনি একই অজুহাত দেখিয়ে আইড প্রতি মাসে দেড় হাজার টাকা কেটে নেয়ার ঘোষণা দিলে গ্রাহকরা আরও উত্তেজিত হয়ে ওঠে। এর জের ধরে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রহকরা তাদের বিনিয়োগকৃত টাকা ফেরত চাওয়ায় টালবাহানা শুরু করেন। গতকাল মঙ্গলবার সকালে ক্ষতিগ্রস্ত শত শত গ্রাহক ড. জুলফিকার আহম্মেদের সাতক্ষীরা শহরের রসুলপুরস্থ অফিসের সামনে জড়ো হয়ে তারা তাদের সমুদয় টাকা ফেরত চান। বেলা ১১টায় জুলফিকার আহম্মেদ তার অফিসে আসলে গ্রাহকরা তাকে অফিসে অবরুদ্ধ করে রাখেন। বেলা ১১টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত তিনি অফিসের মধ্যে অবরুদ্ধ ছিলেন। উত্তেজিত জনতা এ সময় তার অফিসের একটি কক্ষ ভাংচুর করে। পরে খবর পেয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাসরুবা ফেরদৌস এর নের্তৃত্বে সদর থানার পুলিশ সেখানে উপস্থিত হন। এ সময় উপস্থিত শত শত গ্রাহকের দাবির মুখে ড. জুলফিকার আহম্মেদ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে বুধবার সকাল ১০টায় গ্রাহকদের যাবতীয় টাকা ফেরত দেয়ার অঙ্গিকার করেন। টাকা ফেরত দেয়ার প্রতিশ্র“তি দেয়ার পর পুলিশ তাকে ছেড়ে দেয়।

গ্রাহকরা জানায়, প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেয়া ওই টাকা দিয়ে গত ১৯ জুন ও ২৪ জুন সাতক্ষীরা সদর সাব রেজিস্ট্রি অফিস থেকে পৃথক দুটি দলিলের মাধ্যমে ১ কোটি ১০ লাখ টাকার সম্পত্তি ক্রয় করেছেন ড. জুলফিকার আহম্মেদ। যার রেজিস্ট্রিকৃত দলিল নং ৪১০৪ ও ৪২৭৪। সদর উপজেলার আগরদাঁড়ি মৌজায় এই জমি ক্রয় করা হয়েছে। যার দাতা ছিলেন ওই গ্রামের আব্দুস সোবহান গাজী গং। অভিযোগের ব্যাপারে ড. ফুলফিকার আহম্মেদ জানান, আউটসোর্সসিং-এর মাধ্যমে আমি বিদেশ থেকে ইন্টারনেটের মাধ্যমে ক্লিক করে টাকা আয় করে থাকি। বিদেশ থেকে পাওয়া ওই টাকা গ্রাহকদেরকে দিয়ে থাকি। পিটিসি কোম্পানির কোন বৈধ অনুমোদন রয়েছে কি-না তা দেখতে চাইলে তিনি তা দেখাতে পারেন নি। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি গ্রাহকদের কাছ থেকে ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা নিয়েছি। প্রয়োজনে ওই টাকা ফেরত দেয়া হবে।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাসরুবা ফেরদৌস বলেন, ড. জুলফিকার আহম্মেদ কোয়া-ল্যান্সার নামের পিটিসি কোম্পানির স্বপক্ষে কোন বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেন নি। বিষয়টি যথাযথ তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আশাশুনিতে উধাও হওয়া গৃহবধূ জ্যোৎস্না স্বামীগৃহে ফিরে এসেছে. উদ্ধারকৃত লাশ তার নয়

আহসান হাবিব, আশাশুনি : আশাশুনির বেতনা নদী থেকে উদ্ধারকৃত বস্তাবন্দি অজ্ঞাত মহিলার লাশ উধাও হওয়া গৃহবধূ জ্যোৎস্নার বলে শনাক্ত করা হলেও তিনি স্বশরীরে স্বামীগৃহে ফিরে এসেছেন। গত ২২ মে দুপুর ১টার দিকে আশাশুনি সদরের বাক প্রতিবন্ধী আব্দুল্লাহর স্ত্রী ২ সন্তানের জননী জ্যোৎস্না (২৬) খাতুন স্বামীগৃহ থেকে উধাও হয়ে যায়। এ ব্যাপারে গৃহবধুর শ্বশুর দাউদ গাজী বাদী হয়ে আশাশুনি থানায় ২৭ মে ১১৩৫নং একটি জিডি করেন। এরপর গত ৪ জুন বুধহাটা ইউনিয়নের মহেশ্বরকাটি গেটের কাছে বেতনা নদীর চরে ওড়না দিয়ে গলায় কলস বাঁধা বস্তাবন্দি এক অজ্ঞাত মহিলার লাশ পুলিশ উদ্ধার করে মর্গে প্রেরণ করে। সেখানে ওই লাশ জ্যোৎস্নার বলে তার ভগ্নিপতি ইশার আলী দাবি করে।

এবং মামলার প্রস্তুতি নেয়। কিন্তু পুলিশ উক্ত মামলা এজাহারভূক্ত না করে অজ্ঞানামা একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। এরপর তার শ্বশুর বাড়ির লোকজন পালিয়ে বেড়ায় এবং উধাও হওয়া গৃহবধূকে হন্নে হয়ে খুজতে থাকে। কারণ উধাও হওয়া ২ সন্তানের জননী গৃহবধূর পরণে ছিল শাড়ি এবং অজ্ঞাত মহিলার লাশের পরণে ছিল স্যালোর কামিজ। এ নিয়ে তার শ্বশুর বাড়ির সকলের মনে সন্দেহের দানা বাঁধে। পরে জ্যোৎস্নাকে হত্যা করা হয়েছে এ অভিযোগের পর জোৎস্নার শ্বশুর দাউদ আলি গাজীকে কে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ৫৪ ধারায় কোর্ট হাজতে প্রেরণ করা হয়। লাশটি আদৌও জোৎস্নার কিনা এবং হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে কিনা এ নিয়ে ছিল নানান গুঞ্জন চলতে থাকে। এমনকি জ্যোৎস্নার পিতার বাড়ির লোকজন ও সনাক্তকারী ভগ্নিপতি শ্বশুরকূলের লোকজনদের বেকায়দায় ফেলার জন্য দৌড়ঝাপ চালাতে থাকে। অবশেষে সকল জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে উধাও হওয়ার ১ মাস ৯দিন পর সোমবার সন্ধ্যায় গৃহবধূ জোৎস্না স্বশরীরে তার স্বামী গৃহে ফিরে এসেছে। পুলিশ তাকে থানায় নিয়ে বিস্তারিত জবানবন্ধি নিয়েছে। সে জানায়, বাক প্রতিবন্ধী স্বামীর অত্যাচারে মনের ক্ষোভে স্বামী সন্তান রেখে অজানার উদ্দেশ্যে রওনা হয়। পথে এক মহিলার সাথে পরিচয় হলে ওই মহিলার ভাই বাগাচড়া এলাকায় জনৈক কবির ড্রাইভারের বাড়িতে আশ্রয় নেয়। পরে খোজ পেয়ে তার মা পারুল ও জামাই সবুর ওই বাড়ি থেকে উদ্ধার করে সাতক্ষীরা নিয়ে আসে এবং বলে তোকে অন্য কোন জায়গায় সেরে রাখব। গৃহবধূ জ্যোৎস্না বিষয়টি আচ করতে পেরে তার স্বামী সন্তানের দরদে সাতক্ষীরা বাস টার্মিনাল থেকে খাবার কেনার নাম করে পালিয়ে স্বামী গৃহে চলে আসে। তদন্তকারী কর্মকর্তা ভিকটিমকে জিডির বাদী শ্বশুর দাউদ গাজীর হাতে তার পিতা খানজু মোল্যা মাধ্যমে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তুলে দেয়।

দৃষ্টিপাতের নুর ইসলামকে খুজে পাচ্ছে না পুলিশ

নিজস্ব প্রতিনিধি : কালিগঞ্জের ফতেপুর ও চাকদাহে সহিংসতার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার আসামী দৈনিক দৃষ্টিপাতের নুর ইসলামকে খুজে পাচ্ছেনা পুলিশ। গত ৫ এপ্রিল কালিগঞ্জ থানায় খলিল উদ্দীন সরদার বাদী হয়ে দায়েরকৃত মামলায় পরে তাকে আসামী ভূক্ত করা হয়।

কালিগঞ্জ থানার পুলিশ জানায়, আসামী নুর ইসলামকে গ্রেপ্তারের জন্য ইতোপূর্বে সাতক্ষীরা শহরে অভিযান চালালেও তাকে খুজে পাওয়া যাইনি। পরে সাতক্ষীরা থানায় নুর ইসলামকে গ্রেপ্তারের জন্য রিকুইজেশন পাঠানো হয়। মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা এসআই জসিম উদ্দীন জানান, ৫ এপ্রিল কালিগঞ্জ থানায় দায়েরকৃত মামলার এজাহারে নুর ইসলামের নাম ছিলনা। পরবর্তিতে কালিগঞ্জের মৌতলা গ্রামের আখতার হোসেন খান একই ঘটনা উল্লেখ করে দৈনিক দৃষ্টিপাতের নুর ইসলাম ও মিজানুর রহমানকে আসামী করে কালিগঞ্জ থানায় একটি লিথিত অভিযোগ দায়ের করে। অভিযোগটি জিডি হিসেবে রেকর্ড করে ইতোপূর্বে দায়েরকৃত ৫ নং মামলায় সম্পৃক্ত করে নুর ইসলামকে আসামী করা হয়। তিনি জানান, এজাহারে নুর ইসলামের ঠিকানা সাতক্ষীরা সদর থানায় হওয়ায় তাকে গ্রেপ্তারের জন্য সাতক্ষীরা থানার পুলিশের সহয়তায় তার অফিস ও মেহেদিবাগস্থ বাসভবনে অভিযান চালানো হয়। কিন্তু তাকে খুজে পাওয়া যাইনি।

এদিকে সাতক্ষীরা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ আসলাম খান জানান, নুর ইসলাম দীর্ঘদিন পলাতক ছিল। তাকে গ্রেপ্তারে কালিগঞ্জ থানার পুলিশের অভিযানে সহয়তা করা হয়। তবে রিকুইজেশন পাঠিয়েছে কি না তাৎক্ষনিক সেটি তিনি জানাতে পারেননি। উল্লেখ্য, গত ২৯ মার্চ দৈনিক দৃষ্টিপাতে একটি মিথ্যা উদ্দেশ্য প্রণোদিত সংবাদ প্রকাশের ঘটনাকে কেন্দ্র করে কালিগঞ্জের ফতেপুর এবং চাকদাহে ব্যাপক সহিংসতার সৃষ্টি হয়। এঘটনায় জেলা প্রশাসন দৈনিক দৃষ্টিপাতের ডিক্লারেশন বাতিল করে। সম্প্রতি হাইকোর্ট জেলা প্রশাসনের ওই আদেশ স্থগীত করার পর নুর ইসলাম সাতক্ষীরা শহরে প্রকাশ্য ঘুরে বেড়াচ্ছে। এমনকি তার ব্যক্তিগত মুখোপত্র দৈনিক দৃষ্টিপাতে প্রতিদিন ফুল নেওয়ার ছবিও প্রকাশিত হচ্ছে। প্রেসক্লাবের নাম ব্যবহার করে দৃষ্টিপাতে প্রকাশিত খবরেও তার ছবি রয়েছে।

 

শ্যামনগরে ছোট ভাইয়ের গুলিতে বড় ভাই আহত

শ্যামনগর প্রতিনিধি : তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শ্যামনগরে ছোট ভাই রাসেলের ছোড়া বন্দুকের গুলিতে বড় ভাই সাইফুল্লাহ আহত হয়েছে। গতকাল রাত আটটার দিকে উপজেলা সদরের নকিপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত শ্যামনগর হাসপাতালে আহতের চিকিৎসা চলছিল। উভয়ই আওয়ামী লীগ নেতা এসএম খাজা নাজিম উদ্দীনের ছেলে। তবে তারা পৃথক বাড়িতে বসবাস করে আসছিল।

আহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল রাত আটটার দিকে সাইফুল্লাহ তার পিতার সাথে কথা বলার জন্য নকিপুর বাজার সংলগ্ন বাড়িতে আসে। এসময় বাড়ির দোতলায় ওঠার পূর্ব মুহুর্তে সামনে অবস্থানরত ছোট ভাই রাসেলের সাথে তার চিংড়িঘেরের জমির হারি নিয়ে বাদানুবাদ হয়। এক পর্যায়ে তারা দু’জন হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কয়েক মুহুর্তের মধ্যে রাসেল দ্রুত দোতলায় উঠে যেয়ে তার পিতার বৈধ বন্দুক নিয়ে এসে সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠতে থাকা সাইফুল্লাহর উপর গুলি ছোঁড়ে। এ সময় গুলি সাইফুল্লাহর মাথার উপরিভাগে লেগে লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। এঘটনায় সাইফুল্লাহ ঘটনাস্থলে পড়ে গেলে স্থানীয়রা তাকে নিয়ে দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছে দেয়। জানা গেছে সম্প্রতি দু’ভাইয়ের মধ্যে জায়গা জমি নিয়ে বিরোধ শুরু হয়।

কালিগঞ্জে আপত্তিকর অবস্থায় আটকের পর পুলিশ সদস্য ক্লোজড

বিশেষ প্রতিনিধি : কালিগঞ্জে আপত্তিকর অবস্থায় এক পুলিশ (এসএফ) সদস্যকে আটক করেছে জনতা। খবর পেয়ে বিচারের আশ্বাস দিয়ে সহকারি পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে পুলিশ তাকে উদ্ধার করেছে। আটককৃত পুলিশ সদস্যের নাম সেলিম হোসেন (৩৫)। সোমবার দিবাগত রাত সোয়া ১টার দিকে পুলিশ উপজেলার মৌতলা গ্রাম থেকে সেলিম হোসেন ও  গৃহবধূকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।

জানা যায়, উপজেলার মৌতলা গ্রামের কাজী সিরাজুল ইসলামের মেয়ে ও দুবাই প্রবাসী শেখ জাহিদের স্ত্রী ১ সন্তানের জননী শিরিনা পারভীনের (২৪) সাথে কনস্টেবল সেলিম হোসেনের পরকীয়ার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এরপর বিভিন্ন সময়ে কনস্টেবল সেলিম মৌতলায় শিরিনা পারভীনের বাড়িতে যাতায়াত করতে থাকে। এক পর্যায়ে গত সোমবার রাত ১০টার দিকে সেলিম হোসেনকে আপত্তিকর অবস্থায় এলাকাবাসী আটক করে থানায় খবর দেয়। খবর পেয়ে কালিগঞ্জ সার্কেলের সহকারি পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তাজুল ইসলামের নেতৃত্বে এসআই জসিম উদ্দীন, এসআই ইয়াসিন আলম, এএসআই জুলহাসসহ পুলিশ সদস্যরা রাত দেড়টার দিকে মৌতলা গ্রামে যান। এ সময় সহকারি পুলিশ সুপার দোষী পুলিশ সদস্যের বিচারের আশ্বাস দিয়ে উত্তেজিত জনতাকে শান্ত করে শিরিনা পারভীনের ঘরের ভিতরে অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে তাকে উদ্ধার করে। এসময় পুলিশ শিরিনা পারভীন, তার ছেলে সহজ (৫) ও তার মা নূরজাহান রিতাকে থানায় নিয়ে আসে। তবে এঘটনায় ওই গৃহবধূ বা তার পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

গৃহবধূ শিরিনা পারভীন তার সাথে কনস্টেবল সেলিম হোসেনের কোন অনৈতিক সম্পর্ক নেই বলে জানিয়েছেন। কনস্টেবল সেলিম হোসেন জানান, শিরিনা পারভীনের সাথে তার কোন অনৈতিক সম্পর্ক নেই। তার মায়ের দায়েরকৃত একটি মামলার সূত্র ধরে সোমবার রাত ১০টার দিকে তিনি শিরিনা পারভীনের বাড়িতে গিয়েছিলেন। এসময় মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি (মামলা নম্বর: ৭, তারিখ : ০৮/১২/১১) মৌতলা গ্রামের হাসান, খোকন, মিন্টু তাকে ওই বাড়ির একটি ঘরের ভিতরে ঢুকিয়ে দিয়ে বাইরে থেকে তালাবদ্ধ করে থানায় খবর দেয়। তবে মামলার সাথে কোন প্রকার সংশ্লি¬ষ্টতা না থাকা সত্ত্বেও ওই রাতে মৌতলায় গিয়েছিলেন কেন এমন প্রশ্নের সদুত্তর দিতে পারেন নি তিনি।

এ ব্যাপারে কালিগঞ্জ সার্কেলের সহকারি পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম জানান, কনস্টেবল সেলিম হোসেনকে সাতক্ষীরা পুলিশ লাইনে ক্লোজড করা হয়েছে। তদন্তপূর্বক তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

কে এই ড. জুলফিকার আহম্মেদ ?

জানাগেছে, ড. জুলফিকার আহম্মেদ সদর উপজেলার আগড়দাঁড়ী গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত মাদ্রাসা শিক্ষক আব্দুল খালেকের ছেলে। তার পিতা আব্দুল খালেক আগরদাঁড়ি ইউনিয়ন জামায়াতের সাবেক আমীর। জুলফিকার ছাত্র জীবনে ইসলামী ছাত্র শিবিরের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন। সাতক্ষীরার আগড়দাঁড়ি মাদ্রাসা থেকে তিনি ১৯৯১ সালে দাখিল পাশ করেন। পরে সাতক্ষীরা কলেজ থেকে এইচএসসি পাশের পর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিভাগে ভর্তি হন। দুই ভাই এক বোনের মধ্যে সে সবার বড়। তার বিরুদ্ধে একাধিক নারী কেলেংকারীর অভিযোগ রয়েছে।

ক্ষমতার মোহ ও প্রতিহিংসার রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে : পীর সাহেব চরমোনাই

শহীদুল ইসলাম : ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ’র অন্যতম সদস্য প্রেসিডিয়াম মাওলানা মুফতী সৈয়দ মোহাম্মাদ ফজলুল করিম সরকারের সমালোচনা করে বলেছেন, দেশ পরিচালনায় ব্যর্থ জনবিচ্ছিন্ন সরকার এখন পিছনের দরজা দিয়ে ক্ষমতায় যেতে চায়। ক্ষমতার মোহ ও প্রতিহিংসার রাজনীতির কবল থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। দেশ আজ দুর্বৃত্তায়নে নিপতিত হয়েছে। সন্ত্রাস, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, খুন, ধর্ষণ, জুলুম, নির্যাতন, মামলা, হামলা যেন মহামারি আকার ধারণ করেছে। এ অবস্থায় কোন স্বাধীন দেশ চলতে পারে না। আইন শৃঙ্খলার চরম অবনতিতে দেশময় আতঙ্ক বিরাজ করছে। ভারতের তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, ভারত আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে কাটা তারের বেড়া নির্মাণ করছে। ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বিএসএফ পাখির মত গুলি করে মারছে বাঙ্গালিদের। শুষ্ক মৌসুমের পরিবর্তে বর্ষা মৌসুমে পানি দেওয়ার কথা বলেছে। সরকার ভারতের তাবেদারীতে ব্যস্ত। ভারত আমাদের কাছ থেকে ট্রানজিট নিয়ে উপহার দিচ্ছে লাশ। তারপরও সরকারের পক্ষ থেকে কোন পদক্ষেপ নেওয়া হয় না। এটা এ জাতির জন্য দুর্ভাগ্যজনক।

তিনি মঙ্গলবার বিকালে শহরের শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কে অনুষ্ঠিত এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ সাতক্ষীরা জেলা শাখার সভাপতি মাওলানা একে এম রেজাউল করিমের সভাপতিত্বে জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য ডাক্তার মোক্তার হোসেন, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক সৈয়দ বেলায়েত হোসেন, সাতক্ষীরা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক শেখ আব্দুর রাজ্জাক, সহ-সভাপতি মাওলানা আফসার উদ্দীন, মুহাদ্দিস মোস্তফা শামসুজ্জামান, মাওলানা ওসমান গণি, নুরুজ্জামান, মীর শাফায়াত আলী, আসাদুজ্জামান, খলিলুর রহমান, আব্দুল হাই প্রমুখ।

কালিগঞ্জে পুলিশের অভিযানে চার জুয়াড়ি আটক

বিশেষ প্রতিনিধি : কালিগঞ্জ থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে চার জুয়াড়িকে হাতেনাতে আটক করেছে। আটককৃতরা হলো উপজেলার কুশলিয়া গ্রামের আকবর আলীর ছেলে রফিকুল ইসলাম (৩৫), ছাকাত আলীর ছেলে আব্দুল খালেক (৩২), দক্ষিণশ্রীপুর গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে আব্দুল আজিজ (৩৮) ও পশ্চিম মৌতলা গ্রামের মৃত মদন গাজীর ছেলে মোকছেদ আলী গাজী (৪০)।

গত সোমবার দিবাগত রাত ১০টার দিকে উপজেলার জিরণগাছায় আব্দুল গফফারের দোকানে চলমান জুয়ার আসরে হানা দিয়ে তাদেরকে আটক করা হয়। এসময় জুয়ার আসর থেকে নগদ ১ হাজার ৬২১ টাকা ও দু’জোড়া তাস উদ্ধার করা হয়। কালিগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আশরাফুল ইসলাম বাদি হয়ে কালিগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলা নম্বর: ২। আটককৃতদের গতকাল জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

 

মটর সাইকেল দুর্ঘটনায় ৮ বছরের শিশু মৃত্যুমুখে

শ্যামনগর প্রতিনিধি : সড়ক দুর্ঘটনায় আতাউল¬াহ নামের ৮ বছর বয়সী এক শিশুসহ ৩ জন মারাত্মক আহত হয়েছে। গতকাল বিকাল তিনটার দিকে উপজেলার মুন্সিগঞ্জ গ্যারেজ সংলগ্ন বকুলতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। রাতেই সঙ্গাহীন অবস্থায় আতাউল¬াহকে শ্যামনগর স্বাস্থ্য কমপে¬ক্স থেকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। সে শ্যামনগর উপজেলার হরিনগর গ্রামের আব্দুস সালামের ছেলে। এসময় তার সাথে থাকা বড় ভাই মোঃ সাইফুল ইসলাম (১৩) এবং সহপাঠী ফজর আলী (৯) আহত হয়।

জানা গেছে, বৈশখালী মাদ্রাসায় অধ্যায়নরত আহত তিনজন গতকাল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছুটি পেয়ে বাড়ি ফিরছিল। বেলা তিনটার দিকে তাদের বহনকারী মোটর সাইকেলটি একটি কুকুরের সাথে ধাক্কা খায়। এসময় সামনে থাকা আতাউল¬াহসহ অন্যরা মারাত্মক আহত হয়। স্থানীয়রা জানান, দুর্ঘটনপার পরপরই জেলেখালী এলাকার উক্ত মোটর সাইকেল চালক আহতদের ফেলে পালিয়ে যায়। এসময় স্থানীয়রা তাদেরকে উদ্ধার করে মুন্সিগঞ্জের একটি ক্লিনিকে নেয়। কিন্তু সন্ধ্যা পর্যন্ত তাদের স্বজনরা কেউ না আসায় আহতদের কর্তৃপক্ষ কোন চিকিৎসা না দিয়ে অপেক্ষা করে। এক পর্যায়ে তাদের পরিবারের সদস্যরা এসে তিনজনকে হাসপাতালে নেয়।

হাসপাতালের জরুরী বিভাগে কর্মরত চিকিৎসক ডাঃ পলাশ রায় জানান, অন্য দু’জনের আঘাত মারাত্মক না হলেও ৮ বছরের আতাউল¬াহর অবস্থা সংকটাপন্ন। তিনি আরও জানান তার মাথায় ইন্টারনাল বি¬ডিং হওয়ায় তাকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

 

আওয়ামী লীগ খেটে খাওয়া দরিদ্র মানুষের দল : কেসিসি মেয়র

খুলনা ব্যুরো : খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগ’র সভাপতি ও সিটি মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক বলেছেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সব সময়ই খেটে খাওয়া দরিদ্র মানুষের দল। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যেমন এদেশের খেটে খাওয়া মানুষের কথা বলতেন, তেমনি তার যোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনাও জীবনবাজি রেখে এদেশের মানুষের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি আরো বলেন, বাংলার শ্রমিক, যারা নিজেদের মাথার ঘাম পায়ে ফেলে সমাজ ও সভ্যতাকে সাজিয়ে তোলে তাদেরকে বঞ্চিত রেখে নয়, বরং অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে একটি শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছে দিতে পারলে দেশ ও জাতি সমৃদ্ধিশালী হিসেবে আর্ন্তজাতিক পর্যায়ে পরিচিতি লাভ করবে। সেজন্যে তিনি সকলকে সততা, একনিষ্ঠতা ও দক্ষতার সাথে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে যাওয়ার জন্য আহবান জানান।

গতকাল মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে ৫টায় খুলনা জেলা দর্জি কর্মচারী ইউনিয়নের বিশেষ সাধারণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ সভায় সংগঠনের সভাপতি রণজিত কুমার ঘোষের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, মহানগর আওয়ামী লীগ’র সাংগঠনিক সম্পাদক এমডিএ বাবুল রানা, উপ-দপ্তর সম্পাদক মোঃ মাহবুব আলম সোহাগ, প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন, মহানগর শ্রমিক লীগের সভাপতি আলাউদ্দিন আল আজাদ মিলন প্রমুখ। সভায় প্রধান অতিথি বজ্রপাতে নিহত জেলা দর্জি কর্মচারী ইউনিয়নের সদস্য এনাম হোসেনের পরিবারকে ২৩ হাজার টাকা প্রদান করেন।

 

তালায় দৈনিক সময়ের খবর’র প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন

তালা প্রতিনিধি : গতকাল তালায় দৈনিক সময়ের খবর’র প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে স্থানীয় রিপোটার্স ক্লাবে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে তালার বর্ষীয়ান রাজনীতিকবিদ প্রদীপ মজুমদার কেক কেটে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তালা মহিলা ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ ও বাংলাদেশ কলেজ শিক্ষক সমিতির সাতক্ষীরা জেলা সভাপতি আব্দুর রহমান। এ সময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তালা রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি মীর জাকির হোসেন, সাধারণ সম্পাদক গাজী জাহিদুর রহমান, সহ-সভাপতি নজরুল ইসলাম, সময়ের খবর প্রতিনিধি এমএ ফয়সাল, দৈনিক পত্রদূত ও মানব জমিন’র তালা প্রতিনিধি মোঃ আব্দুল জব্বার সরদার, দৈনিক জনতা ও দক্ষিাঞ্চল প্রতিদিন’র তালা প্রতিনিধি অর্জুন বিশ্বাস, স্পন্দন ও সকালের খবর’র তালা প্রতিনিধি তপন চক্রবর্ত্তী, দৈনিক লোকসমাজ’র তালা প্রতিনিধি ফিরোজা রহমান শিমু, রিপোটার্স ক্লাবের সাবেক সহ-সভাপতি পিএম গোলাম মোস্তফা, তালা বাজার বণিক সমিতির সদস্য সৈয়দ মিজান, আওয়ামী লীগ নেতা নজরুল ইসলাম প্রমুখ।

কলারোয়ায় বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা ফুটবল টুর্ণামেন্টের উদ্বোধন

কলারোয়া প্রতিনিধি : কলারোয়ায় গতকাল মঙ্গলবার উপজেলা পর্যায়ে বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা গোল্ডকাপ প্রাথমিক বিদ্যালয় ফুটবল টণর্নামেন্ট আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। কলারোয়া ফুটবল ময়দানে অনুষ্ঠিত এ টুর্ণামেন্টের উদ্বোধন করেন উপজেলা চেয়ারম্যান বিএম নজরুল ইসলাম। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার আ ন ম তরিকুল ইসলাম। প্রথম দিনের খেলায় বঙ্গবন্ধু টুর্ণামেন্টে হেলাতলা ২-১ গোলে জালালাবাদ ইউনিয়নকে, চন্দনপুর টাইব্রেকারে ৪-৩ গোলে জয়নগরকে  ও কেড়াগাছি ১-০ গোলে দেয়াড়া ইউনিয়নকে হরিয়ে পরবর্তী রাউণ্ডে উন্নীত হয়। অপরদিকে একই ভেন্যুতে বঙ্গমাতা টুর্ণামেন্টে কয়লা ১-০ গোলে লাঙ্গলঝাড়া ইউনিয়নকে, কলারোয়া পৌরসভা ২-০ গোলে যুগিখালি ইউনিয়নকে ও কুশোডাঙ্গা ২-০ গোলে কেরালকাতা ইউনিয়নকে হরিয়ে পরবর্তী রাউণ্ডে উন্নীত হয়। ম্যাচগুলো পরিচালনা করেন রেফারি মাসউদ পারভেজ মিলন, ফারুক হোসেন স্বপন, মোশাররফ হোসেন, নিয়াজ আহমেদ খান ও সাজু হাওলাদার। ধারাভাষ্যে ছিলেন মান্টার শেখ শাহাজাহান আলি শাহিন, আছাদুর রহমান সেন্টু ও বিএম নাজমুল হোসেন।

বৈকারীতে জেলেদের নিবন্ধন ও পরিচয় পত্র প্রদান প্রকল্পের আলোচনা সভা

সদর উপজেলার বৈকারী ইউনিয়ন পরিষদে মৎস্য অধিদপ্তরের উদ্যোগে জেলেদের নিবন্ধন ও পরিচয় পত্র প্রদান প্রকল্পে আওতায় এক আলোচনা ও মতবিনিময় সভা গতকাল মঙ্গলবার সকাল ১০টায় ইউনিয়ন পরিষদের হলরুমে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বৈকারী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ শহিদ হাসান। প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আছাদুজ্জামান। বক্তব্য রাখেন সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার শেখ মিরাজুল আশরেকীন ও সদর উপজেলার মৎস্য কর্মকর্তা শেখ ইয়াকুব আলী। সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মেম্বার জালালউদ্দীন, মহিলা মেম্বার মাহমুদা ছামাদ, সাবেক মেম্বার অজিহার রহামান। এছাড়া কাথন্ডা সীমান্ত কারিগরি কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ আল-আমিনুর রশিদ, ক্ষেত্র সহকর্মী তপেস কুমার সরকার, ইউপি সচিব মোঃ তবিবুর রহমান, মাস্টার নির্মল কুমার সরদার, খালেকুজ্জামান, স্থানীয় মৎস্য সম্প্রসারণ প্রতিনিধি (লীফ) মোঃ আমিনুর রহমান, বৈকারী ইউনিয়ন পরিষদের প্রাণিসম্পদ প্রতিনিধি মোঃ আবু মুছা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। সভা পরিচালনা করেন মৎস্য সম্প্রসারন কর্মকর্তা নির্মল কুমার। প্রেস বিজ্ঞপ্তি

চলে গেলেন কলারোয়ার প্রিয় মুখ প্রভাষ ঘোষ

কলারোয়া প্রতিনিধি : সবাইকে কাঁদিয়ে চলে গেলেন কলারোয়ার অতি পরিচিত প্রিয় মুখ প্রভাষ চন্দ্র ঘোষ (৪৬)। কলারোয়ার প্রসিদ্ধ মিষ্টির দোকান ‘কেকা সুইটস’র প্রভাষকে চেনেন না বা দেখেন নি, এমন মানুষ কলারোয়া বাজারে খুব কম এসেছেন। মিষ্টভাষী ও বন্ধুবৎসল এই মানুষটির মৃত্যুর খবরে চোখের  দু’কোন ভিজে গেছে কলারোয়া বাজারের প্রতিটি মানুষের। নিজ গ্রাম বামনখালির প্রতিটি মানুষের মধ্যে গতকাল থেকে ছড়িয়ে পড়ে-প্রভাষ আর নেই। অশ্র“জলে বুক ভাসিয়েছেন সহধর্মিনী, ২ পুত্র সন্তান ও প্রভাষের ভাই-বোন ও নিকট স্বজনেরা। সব সময়ে মুখে হাসি লেগে থাকা এই মানুষটিকে অবশেষে হেরে যেতে হলো রোগ-ব্যাধির কাছে। ঢাকা ও কলকাতার হাসপাতালে চিকিৎসা দিয়েও বাঁচানো যায়নি প্রভাষকে। তার হার্ট, কিডনী ও লিভারে বড় ধরনের ডিসঅর্ডার থাকায় জীবনের দিনগুলো তার ক্রমান্বয়েই ফুরিয়ে যেতে থাকে। গতকাল মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে বামনখালি গ্রামের নিজ বাড়িতে মৃত্যুবরণ করেন প্রভাষ ঘোষ। তার বাবার নাম নিরাপদ ঘোষ। প্রভাষ চন্দ্র কলারোয়ার বিভিন্ন সামাজিক প্রতিষ্ঠানের সাথে দীর্ঘদিন ধরে জড়িত ছিলেন। তিনি কলারোয়া বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাবেক সহ-সভাপতি ও কলারোয়া পাবলিক ইনস্টিটিউট’র সাবেক নির্বাহী সদস্য ছিলেন। এছাড়া তিনি ক্রীড়া প্রতিষ্ঠান ও পূজা উদযাপন কমিটির সাথে জড়িত ছিলেন। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত ২ মাস আগে প্রভাষের শরীরে রোগের নানা উপসর্গ দেখা দেয়। এরপর গত দেড় মাস ধরে প্রথমে কলকাতা ও পরে ঢাকায় চিকিৎসা সেবা নিয়েও তার শরীরে উন্নতি হয়নি। এক সময়ে চিকিৎসকরা তাকে বাড়ি ফিরিয়ে নেয়ার পরামর্শ দেন। বাড়ি ফিরিয়ে আনার একদিন পর তিমি মারা গেলেন। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে বামনখালি মহাশ্মশানে তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। তার এই অকাল মৃত্যুতে গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন কলারোয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের আহবায়ক সাজেদুর রহমান খান চৌধুরী, যুগ্ম আহবায়ক ফিরোজ আহমেদ স্বপন, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম লাল্টু, কলারোয়া পাবলিক ইনস্টিটিউট’র সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার হোসেন হোসেন, সাধারণ সম্পাদক ্এ্যাড: শেখ কামাল রেজা, কলারোয়া বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আরাফাত হোসেন, সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা ফারুকুজ্জামান, ব্র্যাক ব্যাংকের গুলশান শাখার সিনিয়র কর্মকর্তা কাজী আসাদুজ্জামান, কলারোয়া ফ্রেন্ডস স্পোর্টিং ক্লাবের সভাপতি আব্দুর রশিদ কচি, সাধারণ সম্পাদক জাহিদুর রহমান খান চৌধুরী, মোস্তফা অহিদুজ্জামান, রমজান আহমেদ, আজিজুল হাসান, রবিউল হাসান, আজহারুল হাসান, আশরাফ হোসেন, হেলাল হক, ইয়াছিন আলি, শেখ জাহাঙ্গীর হোসেন, মাস্টার উৎপল কুমার সাহা, স্বপন কুমার দে, লাঙ্গলঝাড়া ইউপি চেয়ারম্যান অধ্যাপক এমএ কালাম, কয়লা ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রকিব মোল্যা, সোনাবাড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান এসএম শহিদুল ইসলাম, সাংবাদিক আজাদুর রহমান খান চৌধুরী, মাস্টার দীপক শেঠ, অধ্যাপক শেখ জাভিদ হাসান, শেখ জুলফিকারুজ্জামান জিল¬ু, মোশাররফ হোসেন, মাস্টার রাশেদুল হাসান কামরুল, মাস্টার আলাউদ্দিন, ব্যাংকার আব্দুল কুদ্দুছ, প্রভাষক জাকির হোসেন মাহমুদ, মাস্টা মনিরুজ্জামান প্রমুখ।