জলাবদ্ধ সাতক্ষীরায় আমন চাষে সুখবর নিয়ে এলো ব্রি-ধান ৫১ ও ব্রি-ধান ৫২


প্রকাশিত : July 7, 2012 ||

শহীদুল ইসলাম : হঠাৎ বন্যা! জলাবদ্ধতা! আমন চাষে অনিশ্চয়তা! কৃষকদের সকল অনিশ্চয়তা দূর করে চলতি আমন মৌসুমে সুখবর নিয়ে এলো ব্রি-ধান ৫১ ও ব্রি-ধান ৫২ জাতের ধান। ১৫ থেকে ২০ দিন পর্যন্ত সম্পূর্ণ পানিতে ডুবে থাকলেও এ জাতের ধান গাছ মরে যায় না। ব্রি-ধান ৫১ ও স্বর্ণা জাতের ধান মূলত একই এবং ব্রি-ধান ৫২ ও বি আর ১১ জাতের ধান মূলত একই। স্বর্ণা ও বি আর ১১ এর সাথে বিশেষ নিয়ামক (জীন) সন্নিবেশন করে ব্রি-ধান ৫১ ও ব্রি-ধান ৫২ আবিস্কার করেছেন বিজ্ঞানীরা। স্বর্ণা ও বি আর ১১ বন্যার পানি সহ্য করতে পারে না। ব্রি-ধান ৫১ ও ব্রি-ধান ৫২ বন্যা ও জলাবদ্ধতা সহ্য করতে পারে। কৃষক বন্যা মুক্ত অঞ্চলেও এ ধান চাষ করে অধিক ফলন পেতে পারেন। কৃষক নিজেই এ ধানের বীজ উৎপাদন সংরক্ষণ ও ব্যবহার করতে পারবেন। তবে ২০ দিনের বেশি সময় পানির নিচে থাকলে এ জাতের ধান গাছ মরে যায়। শুক্রবার সাতক্ষীরা শহরের চৌরঙ্গীর মোড় সুশীলন অফিসে কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে ধান বীজ বিতরণ অনুষ্ঠানে এ তথ্য উপস্থাপন করেছেন, অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ইউনাইটেড স্টেটস এজেন্সি ফর ইন্টারন্যাশন্যাল ডেভেলপমেন্ট (ইউএসএআইডি) সীড প্রজেক্টের কনসালটেন্ট ড. এম জি নিয়োগি। সাতক্ষীরা পৌরসভার প্যানেল মেয়র শেখ শফিক-উদ-দৌলা সাগরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আহম্মদ আলী সরদার, পৌর সচিব সাইফুল ইসলাম, পৌরসভার প্রশাসনিক কর্মকর্তা আনিছুর রহমান, উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা রঘুজিৎ গুহ, ইরি-সাতক্ষীরা অঞ্চলের কৃষি উন্নয়ন কর্মকর্তা সুব্রত কুমার দাস, সুশীলনের সিনিয়র কর্মকর্তা উজির হোসেন, আকমল হুদা বাবলু, মাহাবুবুল আলম মিন্টু প্রমুখ। সাতক্ষীরা পৌরসভার ২০০ জন কৃষকের প্রত্যেককে ৫ কেজি করে ব্রি-ধান ৫১ ও ব্রি-ধান ৫২ জাতের ভিত্তিবীজ ধান বিতরণ করা হয়। প্রত্যেক কৃষক এ বীজ ব্যবহার করে ৫ বিঘা জমি চাষ করতে পারবেন বলে বক্তারা জানান। প্রকল্পের আওতায় সারাদেশে ৭ লক্ষ কৃষকের মাঝে এই ধান বীজ বিতরণ করা হচ্ছে। কৃষকরা এই ধান বীজ ব্যবহার করলে জলাবদ্ধতার শিকার দেশের দক্ষিণ অঞ্চলে কৃষি বিপ্লব দেখা দিতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।