ড. জুলফিকারের বিরুদ্ধে তদন্ত করে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর: সাংবাদিকদের নামে চাঁদাবাজি মামলার হুমকি


প্রকাশিত : জুলাই ৭, ২০১২ ||

ডেস্ক রিপোর্ট : কোয়া-ল্যান্সার নামের ভূয়া এলএমএল ও পিটিসি কোম্পানির মাধ্যমে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের শিক্ষক ড. জুলফিকর আহম্মেদ কর্তৃক ১০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার বিষয়টি যথাযথ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী ডা: আ ফ ম রুহুল হক। গতকাল শুক্রবার স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরকারি সফরে সাতক্ষীরায় এসে জেলা প্রশাসককে ওই নির্দেশ দেন। স্বাস্থ্য মন্ত্রী বলেন, যারা অবৈধ ভাবে এমএলএম ও পিটিসি কোম্পানি খুলে মানুষের কাছ থেকে এভাবে প্রতারণার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা লুটে নিচ্ছেন তাদেরকে চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে এ ধরনের প্রতারণা দিন দিন বাড়বে।

গতকাল শুক্রবার সাতক্ষীরা পৌরসভা চত্বরে মাদকদ্রব্য ধবংসকরণ অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা: আ ফ ম রুহুল হক যোগদানের পর পৌরসভার সম্মেলনকক্ষে সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা কালে ভূয়া এমএলএম কোম্পানির মাধ্যমে ড. জুফিকরের প্রতারণার বিষয়টি উঠে আসে। মন্ত্রীকে জানানো হয়, কোয়া-ল্যান্সার নামের অবৈধ পিটিসি ও এমএলএম কোম্পানির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে রাবি শিক্ষক ড. জুলফিকার আহম্মেদ প্রায় ১০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। গত ১৯ ও ২৪ জুন তারিখে মানুষের কাছ থেকে হাতিয়ে নেয়া এসব টাকা দিয়ে পৃথক ২টি দলিলের মাধ্যমে (যার দলিল নং-৪১০৪ ও ৪২৭৪, জমির দাতা আগড়দাঁড়ি গ্রামের আব্দুস সোবহান গাজী, তার স্ত্রী ও বোন ) সাতক্ষীরা সদর উপজেলার আগড়দাঁড়ি মৌজায় ১ কোটি ১০ লাখ টাকা দিয়ে জমি কিনেছেন। তার এই টাকার উৎসহ খুজে বের করা দরকার। একাধিক জাতীয়, আঞ্চলিক ও স্থানীয় পত্রিকা এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় রাবি শিক্ষকের ওই প্রতারণার বিষয়টি প্রকাশের পর গত বুধবার ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের সমুদয় টাকা ফেরত দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও ৫ হাজার গ্রাহকের মধ্যে মাত্র ১৪২ জনের টাকা ফেরত দিয়েছেন। যাদের টাকা ফেরত দেয়া হয়েছে তাদের কাছ থেকে সার্ভার খরচ বাবদ মোটা অংকের টাকা কেটে নেয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, এদের কাছ থেকে সমুদয় পাওনা বুঝে পাওয়া গেছে এই মর্মে একটি কাগজে স্বাক্ষরও করিয়ে নেয়া হচ্ছে। টাকা ফুরিয়ে গেছে এই অজুহাত দেখিয়ে গত বুধবার বিকাল ৫টার দিকে টাকা দেয়া বন্ধ করে দেয়া হয়। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকরা টাকা না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরে গেছেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে আরো জানানো হয়, সম্প্রতি পেইড-টু ক্লিক নামের আরো একটি পিটিসি ও এমএলএম কোম্পানি সাতক্ষীরা থেকে ২১ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে কর্মকর্তারা পালিয়ে গেছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী এমএলএম কোম্পানির মাধ্যমে এভাবে সাধারণ মানুষের কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার বিষয়টি জানার পর হতবাক হন। বিশেষ করে একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এ ধরনের প্রতারণার সাথে জড়িত জেনে তিনি আরো বেশি ক্ষুব্ধ হন। সেখানে উপস্থিত সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক ড. মু: আনোয়ার হোসেন হাওলাদারকে বিষয়টি যথাযথ তদন্ত করে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন তিনি। এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদ প্রশাসক মনসুর আহম্মেদ, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো: নজরুল ইসলাম, পৌরসভার মেয়র এম এ জলিল, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মুকেশ চন্দ্র বিশ্বাস, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্টেট মনোয়ার হোসেন, সাবেক এমপি ডা: মোখলেছুর রহমান, সাতক্ষীরা সদর থানার ওসি আসলাম খানসহ প্রশাসনের উদ্ধর্তন কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নের্তৃবৃন্দ ও বিভিন্ন গনমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিক।

এদিকে, রাবি শিক্ষক ড. জুলফিকার আহম্মেদ সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি মামলা করার হুমকি দিয়ে বলেছেন, সাংবাদিকদের লেখালেখির কারণেই আজ তাকে টাকা ফেরত দিতে হচ্ছে। অথচ অন্য যেসব এমএলএম কোম্পানি ইতিপূর্বে টাকা আত্মসাৎ করে পালিয়েছে তাদেরকে এভাবে টাকা ফেরত দিতে হয়নি। তিনি কোয়া-র‌্যান্সার অফিসের এক মহিলা স্টাফকে দিয়ে সাংবাদিকদের নামে চাঁদাবাজি মামলা দেয়ার পায়তারা চালাচ্ছে বলে জানাগেছে। ওই মহিলা অফিস স্টাফ সাংবাদিকদের নামে মিথ্যে মামলা করতে রাজি না হওয়ায় তাকে সাফ জানিয়ে দেয়া হয়েছে, সাংবাদিকদের নামে চাঁদাবাজি মামলা করতে রাজি না হলে তার চাকুরী থাকবে না। ওই অফিসের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র এসব তথ্য জানিয়েছে। এর আগে গত বুধবার সাতক্ষীরায় কর্মরত কয়েকটি জাতীয় পত্রিকা ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিক কোয়া-ল্যান্সার নামের ভূয়া এমএলএম কোম্পানি অফিসে তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে ড. জুলফিকরের নির্দেশে তার অফিসের কর্মচারী ও ভারাটে সন্ত্রাসীরা সাংবাদিকদের উপর হামলা চালায়।