রাজার বাগানে রাস্তার নির্মাণ কাজ শেষ, দুর্ভোগ শুরু

ডেস্ক রিপোর্ট : সাতক্ষীরা পৌরসভার রাজার বাগানে রাস্তা নির্মাণে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। রাস্তার কাজ শেষ হওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যেই উঠে গেছে পিচ ও পাথর। রাস্তা নির্মাণ করতে যে দুই মাস সময় লেগেছে, এলাকাবাসী সে সময়টুকুও রাস্তা ব্যবহার করতে পারে নি। আবারও শুরু হয়েছে দুর্ভোগ। সরজমিনে দেখা গেছে, রাজার বাগান এলাকার জবের আলীর মিল থেকে জিন্নার বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা তৈরি হয়েছে। রাস্তার পাশে ব্যবহৃত ইটের সোলিং কোথাও কোথাও বসে গেছে। কাজ শেষ হওয়ার এক সপ্তাহর মধ্যে বৃষ্টিতে পিচ ও পাথর উঠে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।

রাজার বাগান কমিউনিটি বেইজড অরগানাইজেশনের সভাপতি আব্দুল ওয়াজেদ কচি জানান, সিডিউল অনুযায়ী রাস্তা নির্মাণ করা হয়নি। নির্মাণ কাজে নিম্ন মানের ইট, বালি ও খোয়া দেওয়া হয়েছে। পিচ দেয়া হয়েছে দায়সারাভাবে। এ জন্য পাথর উঠে যাচ্ছে। রাস্তা নির্মাণ নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তিনি রাস্তা পুনর্নির্মাণের দাবি জানান। এ ব্যাপারে পৌর মেয়রের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।

আশাশুনি উপজেলা এলজিইডি’র প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে ঠিকাদারদের বিস্তর অভিযোগ!

নিজস্ব প্রতিনিধি : মন্ত্রী সাহেব আমার বাড়ির মানুষ। আমি তার ছোট ভাই, তাই আমাকে সব কিছুই দেখার দায়িত্ব দিয়ে রেখেছেন। অনেক কিছুই সামলাতে হয়, দেখতেও হয় অনেক সমস্যা। এসব কথা বলে আর মন্ত্রীর নাম ব্যবহার করে যেমনি নিজের আখের গুছিয়ে চলেছেন তেমনি তিনি অফিস স্টাফদের উপর খবরদারি করার পাশাপাশি উর্দ্ধতন কর্মকর্তাকেও নীরবে শাসিয়ে থাকেন। এমন অভিযোগ আশাশুনি উপজেলা এলজিইডি অফিসের প্রকৌশলী শেখ শামসুল আলমের বিরুদ্ধে। জেলার তালা উপজেলা এলজিইডি অফিসে কর্মরত থাকাকালীন বহু অপকর্মের পর জনতার পিটুনি খেয়ে সেখান থেকে বিদায় নেন তিনি। সেখানেও ছিল একই অবস্থা। অনিয়ম দুর্নীতি আর স্বজনপ্রীতিসহ স্বেচ্ছাচারিতার ভরপুর অভিযোগ। কিন্তু মন্ত্রীর ছোট ভাই সেজে অদম্য গতিতে চলায় তারই উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা থাকেন তটস্থ। দুর্নীতির অভিযোগে শামসুল আলমের বিরুদ্ধে স্বোচ্ছার এখন আশাশুনিবাসী। এরই মধ্যে বঞ্চিত আর নির্যাতিত ঠিকাদাররা তার বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ তুলে ধরেছেন প্রধান প্রকৌশলীর কাছে।

প্রাপ্ততথ্যে জানাগেছে, প্রকৌশলী শামসুল আলমের কমিশন বাণিজ্য, সাইডে গেলেই নগদ নারায়ন আর ফাইল সই করতে আগে পকেট কনট্যাক্ট অনুযায়ী পরিশোধ, তারপর কাজ। এসমস্ত অভিযোগ দীর্ঘদিনের হলেও জেলার প্রধান প্রকৌশলী আনোয়ারুল ইসলাম মন্ত্রীর ছোট ভাই বলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারেন নি। অভিযোগ রয়েছে, ২০১১-১২ অর্থ বছরে আশাশুনি উপজেলার বরাদ্ধকৃত অর্থের যে টেণ্ডার হয়েছে তার কাজ সমাপ্ত হয়েছে অর্ধেক। তবে অধিকাংশ টেণ্ডারে ঠিকাদাররা কমিশন বাণিজ্যের কারণে অংশ নিতে ভয় পান। ফলে পড়ে থাকা কাজের অর্থ ফেরত নিয়ে ইতিমধ্যে টানা হেচড়া শুরু হয়েছে। উপজেলা প্রকৌশলী শামসুল আলমের দুর্নীতির কারণে আশাশুনি উপজেলায় বরাদ্ধ থাকলেও কাক্সিক্ষত কাজ সমাপ্ত না হওয়ায় আগামী নির্বাচনে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর উপর এ প্রভাব পড়বে বলে মনের করেন উপজেলাবাসী। অভিযোগ এখানেই শেষ নয়। প্রায় এক যুগ ধরে তিনি ঘুরে ফিরে সাতক্ষীরায় চাকুরি করছেন। অথচ নিজ এলাকায় চাকুরি করার বিধান স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী বিভাগে নেই বলে সূত্র জানায়। এর আগে তিনি মংলা, পাইকগাছা, বরিশাল ও ঝিকরগাছা উপজেলায় বদলি হলেও সেসব জায়গায় যোগদান করেন নি। সূত্র মতে, বর্তমানে যশোর জেলার ঝিকরগাছা উপজেলায় বদলি হলেও তিনি আশাশুনিতে থেকে জেলা হিসাব রক্ষণ অফিসকে ম্যানেজ করে বেতন ভাতা উত্তোলন করছেন।

এদিকে এলজিইডির সাতক্ষীরা অফিস জানায়, বিগত ২০০৮ সালের ২৮ ফেব্র“য়ারি তালা উপজেলার ৩০ মাইল ধানদিয়া এলাকার রাস্তায় রক্ষণাবেক্ষণ প্রকল্পের (গ্র“প নং ২৩) কাজ দেখার জন্য তালা উপজেলা এলজিইডির সহকারি প্রকৌশলী মনজুরুল আলম সিদ্দিকি যান। সেখানে কাজের ব্যাপক অনিয়ম দেখে তিনি ঠিকাদার মেসার্স শিউলি এন্টার প্রাইজের কাজ বন্ধ করে দেন। এতেই তেলে বেগুনে জ্বলে উঠেন শামসুল আলম। তিনি সহকারি প্রকৌশলীকে গালিগালাজ করা ছাড়াও লাঞ্ছিত করেন। বষয়টি নিয়ে তিনি প্রধান প্রকৌশলী বরাবর অভিযোগ করলে উর্দ্ধতন কর্মকর্তার নির্দেশে তৎকালিন সাতক্ষীরা এলজিইডি’র প্রকৌশলী খন্দকার মোঃ আব্দুল্যাহ আদ-দাদ ৩ সদস্যের তদন্ত টিম গঠন করেন। গঠিত টিমের প্রধান সহকারি প্রকৌশলী জিএম মুজিবর রহমান তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গছে মর্মে প্রতিবেদন দাখিল করলে পটুয়াখালিতে শাস্তিমূলক বদলি করা হয় শামসুল আলমকে। কিছুদিন পর ঘুরে ফিরেই ক্ষমতার দাপটে তিনি চলে আসেন আশাশুনি উপজেলায়। শেখ শামসুল আলম এখন আশাশুনির জমিদার বনেছে এমনটি মন্তব্য স্থানীয় সচেতন মহলের। অফিসে তিনি যা বলবেন, তাই হবে। না হলে সংশ্লিষ্ট স্টাফকে বদলি করার হুমকি দেন তিনি। মন্ত্রীর ছোট ভাই, তাই তিনি সবার উপর ছড়ি ঘুরিয়ে চলেন। এমনকি তিনি জেলা কর্মকর্তাকেও শ্বাসিয়ে থাকেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের অনেকেই জানিয়েছেন। বছরের পর বছর তিনি ঠিকাদারদের উপর ছড়ি ঘুরিয়ে কামিয়েছেন কোটি কোটি টাকা। গড়ে তুলেছেন শহরের মুন্সিপাড়া এলাকায় বিলাস বহুল অট্টালিকা। সেখানে তিনি ২১ কাটা জমি ক্রয় করে ৫ তলার প্রস্তুতি নিয়ে ইতিমধ্যে ২ তলা বিল্ডিং এর কাজ শেষ করেছেন। টাইলসও লাগানো হয়েছে। যার বর্তমান মূল্য কমপক্ষে ৫ কোটি টাকা। একমাত্র মেয়েকে অর্ধ কোটি টাকা খরচ করে মেডিকেলে ভর্তি করিয়েছেন। কালিগঞ্জ উপজেলার নলতার নিজ বাড়ি এলাকায় জমি কিনেছেন ৩০ বিঘার মত। রয়েছে বিশাল মৎস্য ঘের। কাটিয়া এলাকায় আরও একটি বন্দে জমি কিনেছেন বলে স্থানীয়ভাবে জনশ্র“তি রয়েছে। এতসব অপকর্মের সঙ্গী হিসেবে উক্ত অফিসের দশরাতকে সঙ্গেই রেখেছেন। ওই অফিসের বাকি অপর দু’কর্মকর্তাকে রাখা হয়েছে অথর্ব করে। তারা শব্দ করলেই বদলি করার হুমকি। বেতন কাঠামো অনুযায়ী আয় ব্যয়ের হিসাব কসলেই শামসুল আলম এর গোমর ফাঁস হয়ে পড়বে। বেরিয়ে যাবে থলের বিড়াল।

এদিকে নানাবিধও অনিয়ম দুর্নীতি আর স্বজনপ্রীতির কারণে কয়েক দফা তিনি ঠিকাদারদের হাতে পিটুনি খেয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়। সার্বিক ঘটনায় অতিষ্ট হয়ে সুলতানপুর এলাকার প্রথম শ্রেণির জনৈক ঠিকাদার গত বুধবার আশাশুনি উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী শেখ শামসুল আলমের  বিরুদ্ধে প্রধান প্রকৌশলী বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন। জানাগেছে, উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য এলজিইডি’র খুলনা বিভাগীয় প্রকৌশলী রোকন উদ্দীন মাহমুদকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানাগেছে।

এদিকে এসব বিস্তর অভিযোগের প্রেক্ষিতে শামসুল আলম বলেন, ঠিকাদার রুহুল আমীন দুটি রাস্তার কাজ ৪০% করে হাতা গুটিয়ে ভয় দেখিয়ে বিল নিতে চায়। আমি বিল ছাড় না করার কারণে এ অভিযোগ খাড়া করেছে। অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত। তিনি বলেন, চাকুরি জীবনের ২৯ বছরের মধ্যে কাজে অনিয়ম হলে আমি ছাড় দেইনি। আর না দেওয়ার কারণেই অনেকেই আমাকে হয়রানি করার চেষ্টা করেছে। অভিযোগকারী এর আগে লিগ্যাল নোটিশ দিয়ে তাকে অনেকবার হাই কোর্ট দেখানোর হুমকি দিয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। তবে সাতক্ষীরা এলজিইডির প্রকৌশলী আনোয়ারুল ইসলাম বলেছেন, তার কাজের মান যতেষ্ট ভাল। ঠিকাদারদের কাজের মান খারাপ হলে বিল ছাড় না করার কারণে কিছু ঠিকাদার তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে পারে। অভিযোগ হলে তদন্তেই প্রমাণিত হয় কে দোষী। এছাড়াও মন্ত্রীর নিকট জন দাবি করলেও আলাদা সুযোগ সুবিধা নেওয়ার কোন সুযোগ নেই বলে তিনি জানান।

 

নিজেকে বাঁচাতে দেবহাটা স্যানিটারি ইন্সপেক্টরের দৌড়-ঝাপ

দেবহাটা প্রতিনিধি : দেবহাটা উপজেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর অমল বাবু’র বিরুদ্ধে মৎস্য সেড ও শত শত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে রশিদ ছাড়াই লক্ষ লক্ষ অর্থ আদায় করে আত্মসাতের ঘটনায়

সংবাদ প্রকাশের পর নিজেকে বাঁচাতে পকেট ভর্তি টাকা নিয়ে বিভিন্ন মহলে দৌড় ঝাপ শুরু করেছেন।

গতকাল বেলা ১১টায় সখিপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তার অফিসে গিয়ে দেখা যায়, চেয়ারটি খালি অবস্থায় পড়ে আছে। এসময় হাসপাতালের অন্যান্য কর্মচারীদের কাছে অমল বাবুর কথা জানতে চাইলে তিনি সোমবার থেকে অফিসে আসেন নি বলে তারা জানায়। হাসপাতল ঘুরে অন্যান্য ডাক্তার ও কর্মকর্তাদের কক্ষগুলোতে বে-আইনীভাবে অর্থ আদায়ের ঘটনায় অমল বাবুর বিরুদ্ধে প্রকাশিত খবর পড়তে রীতিমত মানুষের ভীড় পড়ে যায়। কিছুক্ষণের মধ্যেই স্যানিটারি ইন্সপেক্টর অমল বাবুর অফিসে ইপিআই প্রকল্পের একটি কর্মশালা অনুষ্ঠিত হতে দেখা যায়। যেখানে তার উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও তিনি উপস্থিত ছিলেন না। এদিকে ২০১১-১২ সালের জন্য নবায়নকৃত নামমাত্র লাইসেন্সগুলোতে সাতক্ষীরা সিভিল সার্জনের স্বাক্ষর ‘জাল’ বলে জনমনে গুঞ্জন দেখা দিয়েছে। সকলের ধারণা এই প্রতারক চক্রটি একটি লাইসেন্স ফটোকপি করে সাতক্ষীরা সিভিল সার্জনের স্বাক্ষর ও অফিসের সিল মোহর নকল করে ব্যবসায়ীদের সাথে দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণা করে অর্থ আদায় করে আসছে। এ ব্যাপারে সাতক্ষীরা সিভিল সার্জনের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, এ ঘটনার সাথে আমার কোন সম্পৃক্ততা নেই। অর্থ আদায়ের বিষয়ে আমি অবগত নই। তবে লাইসেন্স নবায়নের কোন ফি আছে কিনা এবং তা কত টাকা জানতে চাইলে তিনি বলেন, লাইসেন্স এর জন্য কত টাকা করে নিতে হবে তা আমার জানা নাই। শুধু তাই নয় লাইসেন্সে তার স্বাক্ষরের বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, সব সময় তো আর সবার সই করা হয়না, ডিসি’র (জেলা প্রশাসক) সই কি সব সময় ডিসি করেন? অফিসের পিয়নও তো করতে পারে। এরপর তিনি বিস্তারিত তথ্য পাওয়ার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ শেখ আকছেদুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করতে পরামর্শ দেন। পরবর্তীতে কথা বলা হয় ডাঃ আকছেদুর রহমানের সাথে। বিষয়টি সম্পর্কে তার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, টাকা আদায়ের ব্যাপারে আমি কিছুই জানি না, তবে যদি বে-আইনীভাবে অর্থ আদায়ের কোন ঘটনা ঘটে থাকলে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এদিকে উপজেলার কুলিয়া, পারুলিয়া, গাজীরহাটসহ অন্যান্য স্থানের ব্যবসায়ীরা একত্রিত হয়ে স্ব-স্ব ইউপি চেয়ারম্যানদের অবহিত করে প্রতারণা করে অর্থ আদায়ের অভিযোগে টাকা আদায়কারী ও ঘটনার মূল নায়কের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি নিয়েছে বলে অপর এক সূত্রে জানা গেছে।

বৈকারী ইউনিয়নে নির্বাচন কমিশনের অতিরিক্ত সচিবের ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ

বৈকারী প্রতিনিধি : গতকাল বিকাল ৪টায় সদর উপজেলার ৩নং বৈকারী মডেল ইউনিয়নের ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রম পর্যোবেক্ষণ করেছেন নির্বাচন কমিশন সচিবলায়ের অতিরিক্ত সচিব মোঃ সিরাজুল ইসলাম। এসময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মূকেশ চন্দ্র বিশ্বাস, আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মোঃ মুজিবুর রহমান, জেলা নির্বাচন অফিসার মোঃ আবুল হোসেন, সদর উপজেলার নির্বচন অফিসার মোঃ মাসুদুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। পর্যোবেক্ষণকালে অতিরিক্ত সচিব মোঃ সিরাজুল ইসলাম বলেন, জাতিয় পরিচয় পত্রের গুরুত্ব অপারিসীম। জাতীয় পরিচয় পত্র না থাকলে বিবাহ, লাইসেন্স, পাসপোর্টসহ যাবতীয় কাজ থেকে বঞ্চিত হতে হবে। এজন্য তথ্য সংগ্রহকারীকে খেয়াল রাখতে হবে যেন কোন প্রাপ্ত বয়স্ক পুরুষ, মহিল এ থেকে বাদ না পড়ে এবং ভারতের তথা অন্য কোন দেশের ব্যক্তি যেন এদেশের নাগরিক না হতে পারে। অতিথিবৃন্দ এ সময় ইউনিয়ন তথ্য সেবা কেন্দ্র ও কৃষি অফিস পরিদর্শন করেন। এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে আরো  উপস্থিত ছিলেন ১নং বাঁশদহা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ নাসিমুল হক খোকা, বৈকারী মডেল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ শহীদ হাসান, অত্র ইউনিয়নের সচিব মোঃ তবিবুর রহমান, শফিকুল ইসলাম, উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা মোঃ আঃ গফফার, অত্র ইউনিয়নের তথ্য সেবা কেন্দ্রের উদ্যোক্তা মোঃ রেজওয়ানুল্লাহ রাজু এবং ইউপি সদস্যবৃন্দ। পর্যবেক্ষণ শেষে অতিরিক্ত সচিব মোঃ সিরাজুল ইসলাম অত্র ইউনিয়নের আঙিনায় একটি আম রুপালী আম গাছ রোপন করেন।

 

সখিপুরে ৩ ছিনতাইকারী আটক

দেবহাটা প্রতিনিধি : দেবহাটায় মোটর সাইকেল আরোহীর গতিরোধ করে ছিনতাইকালে তিন ছিনতাইকারীকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে জনতা। এসময় আরো ৬ ছিনতাইকারীরা পালিয়ে যায় বলে জানিয়েছে প্রত্যক্ষদর্শীরা। এদিকে ছিনতাইকারীদের মারপিটে আহত কালিগঞ্জ উপজেলার লুৎফর রহমানের পুত্র আব্দুর রহমানকে গুরুতর আহত অবস্থায় সখিপুর স্বাস্থ্য কমপে¬ক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আব্দুর রহমান জানান, গতকাল রাত সাড়ে ৮টার দিকে সাতক্ষীরা থেকে প্রয়োজনীয় কাজ সেরে ফেরার পথে উপজেলার পারুলিয়া ব্রীজ পার হলে তিনটি মোটর সাইকেলে মোট নয় জন তার পিছু নেয়। পরে সখিপুর ইউনিয়ন পরিষদ সংলঘœ এলাকায় আসলে ছিনতাইকারীরা মোটর সাইকেল নিয়ে তার গতিরোধ করে ব্যাপক মারপিট শুরু করে। এসময় তার গলার চেইন, মোবাইল ফোন ও কাছে থাকা নগদ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে দ্রুত গতিতে দুটি মোটর সাইকেলযোগে ৬ জন ছিনতাইকারী পালিয়ে যায়। তার চিৎকার চেচামেচিতে স্থানীয়রা ছুটে এসে একটি অনটেস্ট মোটর সাইকেল (হিরো হোন্ডা-সিডি ডন) সহ তিন ছিনতাইকারীকে আটক করে। এক পর্যায়ে উত্তম মাধ্যম দিয়ে পুলিশে খবর দিলে দেবহাটা থানার ওসি কাজী দাউদ হোসেন ঘটনাস্থলে এসে তিন ছিনতাইকারীকে থানায় নিয়ে যান। আটককৃতরা হলো দেবহাটা উপজেলার পারুলিয়া ইউনিয়নের কোমরপুর গ্রামের আবুল কাশেম ওরওফ ওমাটা ছট্টু’র পুত্র ইমরান হোসেন (২২), সদর উপজেলার শাঁখরা কোমরপুর গ্রামের অজিহার রহমানের পুত্র সুমন হোসেন (২৩) এবং কালিগঞ্জ উপজেলার কাজলা ইউনিয়নের ইন্দ্রনগর গ্রামের আহম্মদ আলীর পুত্র সাইফুল ইসলাম (২৫)।

 

ডা. অঞ্জনা খানের মৃত্যু নিয়ে গুঞ্জন, হত্যা না কি আত্মহত্যা?

ডেস্ক রিপোর্ট : স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. অঞ্জনা খান (৩৮) কি আত্মহত্যা করেছেন? নাকি তাকে হত্যা করে লাশ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল? শহরে এ প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে।

ডা. অঞ্জনার স্বজনরা বলছেন, অঞ্জনা খান সোমবার দুপুর পৌনে দু’টোয় সাতক্ষীরার ইসলামী ব্যাংক কমিউনিটি হাসপাতাল থেকে বাসায় ফিরে আসেন। এরপর স্বামী অলোক সরকারের সঙ্গে একটি বিষয় নিয়ে অঞ্জনার বচসা শুরু হয়। একপর্যায়ে বিরোধ তুঙ্গে উঠলে তাকে মারপিট করার পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। পরে তার মরদেহ সিলিং ফ্যানের সাথে ঝুলিয়ে রেখে আত্মহত্যার প্রচার দেওয়া হয়। তার ডান পায়ে পোড়া দাগ এবং দেহে আরও কিছু আঘাতজনিত চিহ্নের কথা উলে¬খ করে এ মৃত্যু সম্পর্কে তার এক নিকট আত্মীয় বলেন, এই হত্যাকে ধামাচাপা দেওয়ার জন্য লাশ ঝুলিয়ে রেখে আত্মহত্যা বলে প্রচার দেওয়া হয়।

এদিকে অঞ্জনা খানের শ্বশুরকূলের লোকজন বলছেন ভিন্ন কথা। তাদের দাবি অঞ্জনা খান আত্মহত্যা করেছেন। সম্প্রতি বিসিএস পরীক্ষায় পাশ না করতে পারা, উচ্চ শিক্ষার্থে বিদেশে যেতে দিতে স্বামী দ্বিমত পোষণ করা ছাড়াও গত বৈশাখ মাসে মা মারা যাওয়ার পর অঞ্জনা খান মানসিক দুশ্চিন্তায় ভুগছিলেন বলে তারা জানান। এ কারণে তিনি শিরায় নেশা জাতীয় ইনজেকশান (ডরমিকাম- আইভি) নিতেন। তার সাতক্ষীরা শহরের আমতলা মোড় এলাকার আশরাফুল হকের ভাড়া বাসা ও অফিসে যেয়ে এমনকি প্রতিবেশীদের সাথে আলাপ করেও তেমন কোন তথ্য মেলানো যায়নি। বেশীরভাগ ক্ষেত্রে তারা নীরবতা পালন করেছেন।

গত সোমবার বিকেল পাঁচটা ১৭ মিনিটে অঞ্জনা খানকে তার বাসায় সিলিং ফ্যানের সাথে শাড়ি পেচিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সাড়ে ৫টায় জরুরী বিভাগের কর্তব্যরত ডাক্তার রুকসানা কাদির তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

এদিকে সোমবার সন্ধ্যায় ময়না তদন্ত ছাড়াই অঞ্জনা খানের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন করার ব্যাপারে তোড়জোড় চলতে থাকে। কয়েকজন সাংবাদিক মৃতের ছবি তুলতে গেলে কয়েকজন বাধা দেন।  অঞ্জনার এক সহোদরমহ কয়েকজন ডাক্তার বাধ সাধলে ও পুলিশের সম্মতি না মেলায় শেষ পর্যন্ত লাশের ময়না তদন্ত হয়। মঙ্গলবার সকাল ৮টায় সাংবাদিকদের উপস্থিতির আগেই তড়িঘড়ি করে এই ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হয়। তবে লাশের সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুতকারী সদর থানার উপ-পরিদর্শক আকরাম হোসেন জানান,  লাশ মহিলার বিধায় একজন মহিলা সিপাহীক দিয়ে দেহ পরীক্ষা করা হয়েছে। লাশের ডান পায়ে কালো দাগ ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে পোশাক পরাজনিত কয়েকটি দাগ রয়েছে। তবে জিহবা মুখ দিয়ে বেরিয়ে আসেনি বলে তিনি জানান।

জানা গেছে, ডা. অঞ্জনা খানের স্বামী যশোরের মনিরামপুর উপজেলার রেঙ্গুলা গ্রামের রামদয়াল সরকারের ছেলে অলোক সরকার। অলোক সরকার নিজেও সাতক্ষীরা হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার (চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ)। অপরদিকে ডা. অঞ্জনা খান কালিগঞ্জ উপজেলার চাম্পাফুল গ্রামের সাধুরঞ্জন খাঁর মেয়ে। ২০০০ সালে তাদের বিয়ে হয়। তিনি সাতক্ষীরার বনফুল ক্লিনিকের মেডিকেল অফিসার ছিলেন। চুক্তিবদ্ধ চিকিৎসক ছিলেন সাতক্ষীরা ইসলামী ব্যাংক  কমিউনিটি হাসপাতালের। অর্ঘ নামের একমাত্র ছেলে বর্তমানে মামার বাড়িতে থেকে চম্পাফুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণীতে পড়ে। মায়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে সে কান্নায় ভেঙে পড়ে।

স্থানীয়রা বলছেন, পারিবারিক কারণে ডা. অঞ্জনা ও ডা. অলোকের মধ্যে প্রায়ই বচসা হত। ডা. অলোক অনেক সময় তাকে মারধর করতেন এমন অভিযোগও রয়েছে। এছাড়া একটি পরকীয়ার কথাও চাউর হয়েছে। ধারনা করা হচ্ছে এসব কারণেই তাকে হত্যা করা হয়েছে। যদিও সাতক্ষীরা সদর থানায় এ ঘটনায় সোমবার রাতে একটি অপমৃত্যু মামলা (৬৭নং) হয়েছে। তারা জানান, যে ডাক্তাররা ময়না তদন্ত ছাড়া অঞ্জনা খানের লাশ সৎকার করতে চেয়েছিল তারাই ময়না তদন্তের প্রতিবেদন দিলে ফলাফল আত্মহত্যা ছাড়া আর কিছু মিলবে না। এ ছাড়া লাশ যেহেতু পুড়িয়ে ফেলা হচ্ছে তাই পরবর্তীতে আদালতে আবেদন করেও দ্বিতীয়বার ময়নাতদন্ত করা যাবে না। এসব কথা ভেবেই অঞ্জনার ভাই ও স্বজনরা থানায় কোন অভিযোগ দিতে রাজী হননি। মঙ্গলবার বিকেল তিনটায় কালিগঞ্জের হাবড়া নদীর তীরে উজিরপুর সুরেন্দ্রনাথ দাস মহাশ্মশানে অঞ্জনার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়।

 

জাতীয় মূসক দিবস উপলক্ষ্যে শহরে র্যালী ও পথ সভা

‘সবাই মিলে ভ্যাট দিবো, দেশ গড়ায় অংশ নিবো’ এ স্লে¬াগানকে সামনে রেখে জাতীয় মূসক দিবস উপলক্ষ্যে বর্ণাঢ্য র‌্যালী ও পথ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বেলা ১১টায় এ উপলক্ষ্যে জেলা কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট বিভাগীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে বর্ণাঢ্য র‌্যালী বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এ সময় তারা শহরের নিউ মার্কেট মোড়, প্রেস ক্লাব চত্বর ও সঙ্গীতা মোড়ে মানুষকে ভ্যাট প্রদানে উৎসাহিত করার জন্য সংক্ষিপ্ত পথ সভা করে। পথসভায় বক্তব্য রাখেন সহকারি কমিশনার আল-আমিন, কাস্টমস ইন্সপেক্টর শফিয়ার রহমান, সাতক্ষীরা চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি আব্দুল মান্নান, সহ-সভাপতি নাছিম ফারুক খান মিঠু প্রমুখ। প্রেস বিজ্ঞপ্তি

দেশের উন্নয়নকে এগিয়ে নিতে শক্ত হাতে ষড়যন্ত্রকারীদের মোকাবেলা করতে হবে : কেসিসি মেয়র

খুলনা ব্যুরো : খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগ’র সভাপতি ও সিটি মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক বলেছেন, বিএনপি-জামায়াতের ষড়যন্ত্র থেকে দেশকে রক্ষা করতে হবে। তারা দেশের উন্নতি চায়না। তারা দেশকে পিছিয়ে রেখে নিজেদের ভাগ্যের পরিবর্তনে সব সময় ব্যস্ত। দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিকে এগিয়ে নিতে জননেত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করতে শক্ত হাতে ষড়যন্ত্রকারীদের মোকাবেলা করতে হবে। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দলীয় কার্যালয়ে ২২নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ ও মহিলা আওয়ামী লীগের নব নির্বাচিত কমিটির নেতৃবৃন্দের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে মাল্যদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আওয়ামী লীগ নেতা মল্লিক আবিদ হোসেন কবির, এমডিএ বাবুল রানা, এ্যাড. আইয়ুব আলী শেখ, রোকেয়া রহমানসহ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

দিন বদলের প্রতিচ্ছবি একটি বাড়ি একটি খামার : নজরুল ইসলাম

নিজস্ব প্রতিনিধি : জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম বলেন, গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর আর্থ সামাজিক উন্নয়নে সরকার বিআরডিবির মাধ্যমে ক্ষুদ্র ঋণ বিতরণ অব্যাহত রেখেছে। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে মানব সম্পদে পরিণত করতে বিআরডিবির সদস্যরা দিনবদলের সৈনিক হিসেবে কাজ করছে। ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সঞ্চয়ের মাধ্যমে গ্রামের দরিদ্রদের পরিবারে আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে বিআরডিবি। বিআরডিবির ইউসিসিএ সদস্যরা সুফলভোগী হিসেবে নিজেদের ভাগ্য বদল করছে। যার প্রতিচ্ছবি একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প। সরকার স্বল্প সুদে সহজ শর্তে ইউসিসিএ’র সমবায়ীদের মাঝে ঋণ বিতরণ করে আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টির নবদিগন্ত উন্মোচন করেছে। অল্প আয় স্বল্প জমার মাধ্যমে গ্রামের খেটে খাওয়া মানুষ আজ সুখের পরশ পেয়েছে। তিনি ইউসিসিএ’র সমবায়ীদের সততা ও নিষ্ঠার সাথে সঞ্চয়ী মনোভাব নিয়ে ২০২১ সালের ভিশন বাস্তবায়নে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।

সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান গতকাল মঙ্গলবার ইউসিসিএ’র হল রুমে আয়োজিত ২৯তম বার্ষিক সাধারণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। সদর উপজেলা ইউসিসিএ’র সভাপতি আব্দুর রশিদের সভাপতিত্বে সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ইউসিসিএ’র ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ ছফেদ আলী, পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন, সাবেক প্রধান পরিদর্শক স্বপন কুমার অধিকারী প্রমুখ। এসময় উপস্থিত ছিলেন পরিদর্শক সোহেল উদ্দীন, কুতুবুদ্দীন, রাজিবুল ইসলাম, আবু ছালেক. গোপাল চ্যাটার্জী, শাহাদত হোসেন, আবু বক্কর। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সহকারি পল্লী উন্নয়ন অফিসার (চলতি দায়িত্ব) মোঃ মোসলেম উদ্দীন।

 

শ্যামনগরে ধর্ষণ মামলার আসামি পক্ষের লোকজনের হামলায় আহত ৩, থানায় ফের মামলা

শ্যামনগর অফিস : শ্যামনগরে ধর্ষণ মামলার আসামি গ্রেপ্তারের ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে আসামি পক্ষের লোকজনের হামলায় এক মহিলাসহ ৩ জন আহত হয়েছে। এঘটনায় শ্যামনগর থানায় ৬ জনকে আসামি করে আরো একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, শ্যামনগর উপজেলার খোসালপুর গ্রামের তাসের আলরি পুত্র গোলাম রব্বানী একই গ্রামের আঙ্গুর সরদারের স্ত্রী মোমেনা খাতুনকে জোর পূর্বক ধর্ষণের চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে দা দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। এ ঘটনায় মোমেনা বাদী হয়ে গত ২৫ মে থানায় ৩৩ নং মামলা করেন। পুলিশ আসামিকে গ্রেপ্তার করে জেল হাজতে প্রেরণ করে। গোলাম রব্বানী গ্রেপ্তার হওয়ায় তার পুত্র বাবু, ইসমাইল, খায়ের, ফারুক ও তাদের সহযোগী তাছের আলীর পুত্র শাহাজাহান, আকবরের পুত্র লিয়াকত দলবদ্ধ হয়ে গত ৬ জুলাই বিকাল ৩টায় বাদীনি মোমেনার উপর হামলা করে। এ সময় মোমেনার আত্মীয় মোস্তাফিজুর ঠেকাতে গেলে হামলাকারীদের ধারালো দায়ের কোপে গুরুতর জখম হয়। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। এ ঘটনায় মোমেনার স্বামী বাদী হয়ে শ্যামনগর থানায় ৬ জনের নামে মামলা দায়ের করেছেন। বর্তমানে আসামি পক্ষ মামলা তুলে নেওয়ার জন্য বাদীকে ভয়-ভীতি সহ জীবণ নাশের হুমকি দিচ্ছে।

 

 

কোন ভারতীয় নাগরিক যেন ভোটার তালিকায় নাম লিখাতে না পারে সে ব্যাপারে সজাগ থাকতে হবে : সিরাজুল ইসলাম

ডেস্ক রিপোর্ট : নির্বাচন কমিশনের অতিরিক্ত সচিব মোঃ সিরাজুল ইসলাম বলেছেন, কোন ভারতীয় নাগরিক যেন বাংলাদেশের ভোটার তালিকায় নাম লিখতে না পারে সে দিকে সকলকে সজাগ থাকতে হবে। আগামী সংসদ নির্বাচন এই ভোটার তালিকায় অনুষ্ঠিত হবে। দেশের ১৮ বছর বয়স থেকে শুরু করে সকল নাগরিককে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। তিনি মঙ্গলবার দুপুরে তালা উপজেলার কুমিরা ইউনিয়ন পরিষদে ছবিসহ ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রম পরিদর্শনকালে এসব কথা বলেন। এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মুজিবুর রহমান জলা নির্বাচন অফিসার আবুল হোসেন, উপজেলা নির্বাচন অফিসার মাহবুবুর রহমান প্রমুখ।

জালে ইলিশ নেই! কুয়াকাটার জেলেরা মানবেতর জীবনযাপন করছে

আহম্মদ আলী বাচা, কুয়াকাটা থেকে ফিরে : ইলিশের ভরা মৌসুমেও পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া উপজেলার মহিপুর আলীপুর চাপলী কুয়াকাটা সামুদ্রিক মৎস্য বন্দরে জেলেদের জালে ধরা পড়ঝে না ইলিশ। এতে সেখানকার প্রায় ত্রিশ হাজার জেলে মানবতর জীবন যাপন করছে।

জানা গেছে, চলতি ইলিশ মৌসুমের তিন মাস পার হলেও জেলেদের জালে দেখা মেলেনি ইলিশের। একেক জন সাবাড় মালিক বন্দর আড়ৎ মালিক থেকে ৫ লক্ষেরও অধিক টাকা দাদন নিয়ে একটি ট্রলার, মাঝি ভাড়াসহ বিশজন বেতনভুক্ত কর্মচারী নিয়োগ করে গভীর সাগরে মাছ ধরতে পাঠায়। এতে সব মিলিয়ে প্রতি টিপে ৭৫/৮০ হাজার টাকা খরচ হয়। কিন্তু আশা অনুরুপ মাছ না পেয়ে ফিরে আসছে জেলেরা। এতে বন্দর এলাকায় হাহাকার দেখা দিয়েছে। মহিপুর মৎস্য আড়ৎ বন্দরে রজিন ফিসের আড়ৎদার আব্দুল হক হাওলাদার জানান, তার আড়ৎ থেকে ৪৬টি ট্রলার। প্রত্যক ট্রলারে ৩/৪ লক্ষ টাকা দাদন নিয়েছে। প্রায় তিন মাস পার হলেও এখনও কোনো আড়ৎ এ ইলিশের দেখা নেই। তারপরও প্রতিটা আড়ৎ ঘরে বেতভুক্ত কর্মচারীদের বেতন না দিতে পারায় অনেকে চলে গেছে।

তিনি আরও বলেন, লক্ষ লক্ষ টাকা ইলিশ ফিশিং ট্রলারে অগ্রিম দিয়ে তীর্থের কাকের মত অলস বসে আছি। উপকূলের মহিপুর মৎস্য আড়ৎ ঘুরে দেখা যায়, জনসমাগমহীন মৎস্য ঘাটগুলো খা খা করছে। পাঁচ শতাধিক বেকার শ্রমিক ঘাটে শুয়ে বসে অলস সময় কাটাচ্ছে। ভরা মৌসুমে ইলিশ না পড়ায় মহিপুর আলীপুর ঘাটের ৩৫/৩৬ টি বরফ কলের উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। এর পরও মড়ার পরে খাড়ার ঘাঁ হয়ে এ যাবৎকাল বহু ফিশিং ট্রলার গভীর সমুদ্রে ডাকাতি হয়েছে। মুক্তিপণও দিতে হয়েছে।

কালিগঞ্জে বিজিবি’র অভিযানে ফেনসিডিলসহ মোটর সাইকেল আটক

বিশেষ প্রতিনিধি : বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) অভিযান চালিয়ে একটি মোটর সাইকেলসহ ভারতীয় ফেনসিডিল আটক করেছে। গতকাল বিকেল ৪টার দিকে কালিগঞ্জ উপজেলার ভাড়াশিমলা ইউনিয়নের শুইলপুর সীমান্ত এলাকা থেকে ওই ফেনসিডিল আটক করা হয়।

নীলডুমুর ৩৪ বিজিবি ব্যাটালিয়নের শুইলপুর ক্যাম্পের সুবেদার ওয়াচকুরুনি জানান, উপজেলার ভাড়াশিমলা ইউনিয়নের ব্রজপাটুলিয়া গ্রামের আবু বক্করের ছেলে সবির (২৮) মোটর সাইকেলে ফেনসিডিল নিয়ে আসছে এমন সংবাদের ভিত্তিতে নায়েক মোশারাফের নেতৃত্বে টহলরত বিজিবি সদস্যরা শুইলপুর এলাকায় তাকে চ্যালেঞ্জ করেন। এসময় সবির তার ডায়াং ৫০ সিসি মোটরসাইকেল ফেলে পালিয়ে যায়। বিজিবি সদস্যরা মোটরসাইকেলে তল্লাশি চালিয়ে এর টুলবক্সের মধ্য থেকে এক বোতল ভারতীয় ফেনসিডিল উদ্ধার করে। আটককৃত মোটর সাইকেল ও ফেনসিডিল আজ বুধবার কাস্টমসে জমা দেয়া হবে বলে বিজিবি জানিয়েছে। এদিকে অপর একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, সবির একজন পেশাদার মাদক ব্যবসায়ী। সে দীর্ঘদিন যাবত পানের বরজের ব্যবসার আড়ালে ফেনসিডিলসহ বিভিন্ন প্রকার মাদক দ্রব্যের ব্যবসা করে আসছে। গতকাল ফেনসিডিল বহন করার সময় সে বিজিবি’র হাতে আটক হওয়ার পর তাকে দীর্ঘক্ষণ শুইলপুর ক্যাম্পে আটক রাখা হয়। পরবর্তীতে মোটর সাইকেল ও এক বোতল ফেনসিডিল আটক দেখিয়ে সবিরকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

আলিপুরে গুটি ইউরিয়া ব্যবহারের উপর কৃষক প্রশিক্ষণ

আলিপুর প্রতিনিধি : গুটি ইউরিয়া ব্যবহারের উপর এক প্রশিক্ষণ গতকাল সদর উপজেলার আলিপুর ইউনিয়ন পরিষদের মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়। প্রশিক্ষণের উদ্বোধন করেন ৭নং আলিপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান। এতে প্রশিক্ষণ প্রদান করেন ফিল্ড মনিটরিং অফিসার রাশেদ খান মেনন, উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা শওকত হায়দার ও ফজিলাতুন্নেছা। এ সময় প্রশিক্ষকরা জমিতে গুটি ইউরিয়া সার প্রয়োগে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করে বলেন, এটি ব্যবহারের ফলে ইউরিয়া সারের সাশ্রয় হবে, জমির আগাছা কম হবে, বিচলীর মান ভাল হবে। সর্বোপরি ফলন বৃদ্ধি পাবে।

 

খুলনায় মূসক সপ্তাহ উদ্বোধন

খুলনা ব্যুরো : মূল্য সংযোজন কর (মূসক) সপ্তাহ ২০১২ উদযাপন উপলক্ষ্যে গতকাল খুলনা নগরীতে আলোচনা সভা ও বর্ণাঢ্য র‌্যালী বের করা হয়।  খুলনা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট এসব অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। দুপুরে কাস্টম হাউজে মূসক সপ্তাহ উপলক্ষ্যে আলোচনা সভায় আয়োজন করা হয়। খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় বলেন, দেশের অর্থনৈাতিক কাঠামোকে মজবুত করতে এবং জাতি হিসেবে বিদেশের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে সংশ্লি¬ষ্টদের মূল্য সংযোজন কর পরিশোধে আন্তরিক হতে হবে। তিনি মূসক প্রদানকারীদের দেশের সম্মানীয় নাগরিক হিসেবে অবিহিত করেন। আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন, কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনার এস এম হুমায়ূন কবীর। বিশেষ অতিথি ছিলেন কর কমিশনার মোঃ দবির উদ্দিন। স্বাগত বক্তৃতা করেন যুগ্ম কমিশনার সৈয়দ আতিকুর রহমান। আলোচনা শেষে সিটি মেয়র ২০১০-১১ অর্থ বছরে গত অর্থ বছরের চেয়ে সর্বোচ্চ ১০% ভ্যাট  প্রদানকারী ২৫ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন। মূসক ফাঁকির প্রবণতা রোধ এবং দেশের সার্বিক উন্নয়নে বৈদেশিক সাহায্য কমে যাওয়ায় দেশের অভ্যন্তর সম্পদ হতে রাজস্ব বৃদ্ধির লক্ষ্যেই মূসক সপ্তাহ পালন করা হচ্ছে। এর আগে সকালে খালিশপুর খুলনা কাস্টমস অফিস হতে কাস্টমস, এক্সাইজ এবং ভ্যাট কমিশনার এস এম হুমায়ূক কবীর-এর নেতৃত্বে র‌্যালী বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে খুলনা প্রেসক্লাবে এসে শেষ হয়।