তালার মাগুরা ইউনিয়নে দেবাশিষ বাহিনীর অত্যাচারে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ


প্রকাশিত : জুলাই ১২, ২০১২ ||

পত্রদূত রিপোর্ট : তালা উপজেলার মাগুরা ইউনিয়নের দেবাশিষ বাহিনীর অত্যাচারে জনগণ অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। ক্ষমতাসীন দলের লোক হওয়ায় তার বিরুদ্ধে কেউ কথা বলতে সাহস পায় না।

সরেজমিন মাগুরা ইউনিয়ন ঘুরে জানাগেছে, সরকারি গাছ আত্মসাৎ, সরকারি খাস জমি দখল, সরকারি জলমহল দখল, সন্ত্রাসীদের সেল্টার দেওয়াসহ নানাবিধ অভিযোগ রয়েছে দেবাশিষের বিরুদ্ধে। মাগুরা বাজারে গেলে যুবলীগ নেতা আসাদুল জানান, বিএনপি সরকার ক্ষমতায় থাকাকালে দেবাশিষ কলারোয়ায় থাকতো। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসলে দেবাশিষ বাড়িতে এসে একটি শক্তিশালী বাহিনী গড়ে তোলে। ওই বাহিনী এলাকায় প্রতিনিধি অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড করে থাকে। এলাকা ঘুরে আরও জানা যায়, সম্প্রতি ফলেয়া গ্রামের শত বছরের একটি বট গাছ বিক্রয়ের অভিযোগে সংশ্লিষ্ট ভূমি কর্মকর্তা দেবাশিষসহ ৫ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। তালা থানার মামলা নম্বর ৩। এদিকে ফলেয়া গ্রামে গেলে অসহায় ভূমিহীন সমীর সরদার, নজরুল, শরি শেখ, আলাউদ্দিন সরদারের দখলকৃত সরকারি খাস জমি দেবাশিষ বাহিনী করে দখল করে নেয়। এদিকে খোঁজ নিয়ে আরও জানা যায়, ক্ষমতার জোরে মাগুরাডাঙ্গার সুদখালী জলমহল সরকারের কাছ থেকে ইজারা না নিয়েই দখল করেছে সে। এ ব্যাপারে খলিষখালী ইউনিয়ন ভূমি সহকারি কর্মকর্তা কান্তি লাল জানান, ইজারা তো সরকার বন্ধ করে দিয়েছে। তবে গত ২৬ এপ্রিল তালা উপজেলার নির্বাহীর কর্মকর্তার কার্যালয়ে এক জরুরী বৈঠকে জলমহলের ইজারা বিষয়ে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ঘোষ সনৎ কুমারকে উপদেষ্টা ও জলমহল ব্যবস্থাপনা কমিটির তালার সকল ইউপি চেয়ারম্যানের সরেজমিন পরিদর্শন করে তাদের মতামতের ভিত্তিতে ইজারার বিষয়ে সিদ্ধন্ত গ্রহণ করা হবে। সরেজমিন ঘুরে আরও জানাযায়, গত ৪ জুলাই থানার ফলেয়া গ্রামের দায়েম মোড়লের পুত্র হাকিম মোড়লের একমাত্র সহায় সম্বল নছিমন গাড়িটি চুরি করে এই বাহিনীর সদস্য চাদকাটি গ্রামের সোবহান শেখের পুত্র কালাম ও খোরশেদসহ ৩-৪ জন। পরবর্তীতে জানাজানি হলে যুবলীগ নেতা আসাদুলের নেতৃত্বে চুকনগর থেকে ঐ নছিমনটি উদ্ধার করে কালামকে তালা থানার পুলিশের হাতে তুলে দেন। পরের দিন কালাম পুলিশ ও সাংবাদিকদের সামনে তার সকল অপকর্ম স্বীকার করে বলেন, আমার সকল অপকর্মের টাকার ভাগ দেবাশিষকে দিতে হয়। শুধু তাই নয় তার স্বীকারোক্তি মোতাবেক মাগুরা গ্রামের লোকমান খাঁ ও রবিউল খাঁ বাড়ি থেকে ২টি স্যালোমেশিন উদ্ধার করে পুলিশ। এলাকাবাসী আরও জানায় বাহিনীর অন্যতম সদস্য চাদকাটি গ্রামের আছিরোদ্দিন শেখের পুত্র হায়দার আলী শেখ, একই গ্রামের শিক্ষক ওয়াজেদ আলীর বাড়ি থেকে একটি খাশি ছাগল চুরি করে চোর কালামের হাতে তুলে দেয়। এ ঘটনায় স্থানীয় মেম্বর জামির আলীর বাড়িতে একটি শালিশী বৈঠকে মূলহোতা হায়দারের নাম বেরিয়ে আসে। এ ঘটনায় মেম্বর জামির আলী সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে ছাগলের দাম হিসেবে ১০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করে। স্থানীয় মেম্বর জামির আলী জানান, এই দেবাশিষ বাহিনীর অত্যাচারে মাগুরা ইউনিয়নবাসী অশান্তিতে ভুগছে। এ ব্যাপারে পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে এলাকাবাসী।