প্রেসক্লাবে হয়রানি থেকে মুক্তি ও নিরাপত্তার দাবিতে এক ব্যক্তির সংবাদ সম্মেলন


প্রকাশিত : July 14, 2012 ||

নিজস্ব প্রতিনিধি : হয়রানি থেকে মুক্তি ও নিরাপত্তার দাবিতে শুক্রবার বেলা ১১টায় সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করে তালা উপজেলার পাটকেলঘাটা থানার মিঠাবাড়ি গ্রামের মৃত আকবর আলীর ছেলে স ম হায়দার আলী। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, আমার জ্ঞাতি ভাই মুনতাজ উদ্দীন ও তার ৮ ছেলে, ২ ভাইপো ও আট পুত্রবধূদের অত্যাচার ও অন্যায়ভাবে জমি দখলের কারণে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। আমার দাদারা ৩ ভাই ছিল। যথাক্রমে মতিউল্লাহ সরদার, সদুল্লা সরদার, ও জোমাদ্দার সরদার। তাদের ৩ জনের নামে সিএস খতিয়ানে প্রায় ১শ বিঘা জমি ছিল। পরবর্তীতে এসএ খতিয়ান ঐ ব্যক্তির ওয়ারেশদের নামে রেকর্ড হয়। কিন্তু সমঝোতার ভিত্তিতে জমি ভাগবাটোয়ারা করে নেয়ায় একজনের নামীয় জমি অন্যজন চাষাবাদ করে ভোগ দখল করছে প্রায় ১শ বছর যাবৎ। ইতোমধ্যে আমাদের দৌলতপুর মৌজার বর্তমান খতিয়ান-৩৯, দাগ নং-৩১৮, জমির পরিমাণ-৮৬ শতক বর্তমানে আমার পিতার নামে চূড়ান্ত প্রিন্ট হয়ে বেরিয়ে এসেছে। যে অনুযায়ী বর্তমানে জমি বেচাকেনা ও হচ্ছে। অথচ আমার ছোট দাদার ছেলের ছেলে মুনতাজ উদ্দীন পূর্বেকার আপোষের ভাগ পরিবর্তন করতে উঠে পড়ে লেগেছে। কারণ মুনতাজ উদ্দীনের জমির প্রায় অর্ধেক জমি ইতোমধ্যে বিক্রি হয়ে গেছে। তাই এখন আমাদের জমি দখল করে নিয়ে নিজেরা আর্থিকভাবে স্বচ্ছল হতে চাচ্ছে। মুনতাজ উদ্দীনের ছেলে মনিরুল ইসলাম গত ইউপি নির্বাচনে মেম্বর পদে নির্বাচন স ম হায়দার আলীর সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হয়। মনিরুল উক্ত নির্বাচনে ৪/৫ লাখ টাকা খরচ করে এখন প্রায় নিঃস্ব হয়ে গেছে। এরই সূত্র ধরে তার ভাই, ভাই-বৌ ও অন্যান্যদের নিয়ে আমাদের জমি দখলে নেবার চেষ্টা করছে। উক্ত জমি নিয়ে বছর খানেক আগে শালিস হয়। সে শালিসের রায় হায়দার আলীর পক্ষে আসে। এরপর মুনতাজ উদ্দীন গং পাটকেলঘাটা থানায় অভিযোগ দিলে অন্তত ৩ বার সেখানে বিচার হয়। সে বিচার তারা থানা থেকে মেনে আসলেও পরে তা মানতে অস্বীকৃতি জানায়। অতঃপর আবারও নগরঘাটা ইউপির বর্তমান চেয়ারম্যান মহব্বত আলী ও সাবেক চেয়ারম্যান তোফাজ্জেল হোসেনের উপস্থিতিতে আরো ৩টি শালিস হয়। সে শালিসের রায় ও তাদের বিপক্ষে যায়। এঘটনা নিয়ে মুনতাজ উদ্দীন স্বাস্থ্যমন্ত্রী বরাবর অভিযোগ দিলে সাতক্ষীরা পুলিশ সুপারের কাছে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পাঠান। পুলিশ সুপার সরজমিনে তদন্ত পূর্বক রিপোর্ট প্রদানের জন্য এএসপি সার্কেল সাতক্ষীরাকে নির্দেশ দেন। এএসপি সার্কেল সরজমিনে তদন্ত পূর্বক রিপোর্ট তাদের বিপক্ষে দেন। পরে আবারও পাটকেলঘাটা থানায় গেলে থানা কর্তৃপক্ষ উভয়পক্ষকে থানায় হাজির হতে বলে। উভয় পক্ষ নির্দিষ্ট দিনে থানায় হাজির হলে ওসি নগরঘাটা ইউপি চেয়ারম্যানকে প্রধান করে ৭ সদস্য বিশিষ্ঠ একটি কমিটি গঠন করে দেন। ঐ কমিটির রায়ও হায়দার আলীর পক্ষে আসে। তখন ক্ষুদ্ধ হয়ে সাতক্ষীরা আদালতে ইউপি চেয়ারম্যানের নামে মিথ্যা মামলা দায়ের করে তারা। এরপরেও তারা থেমে নেই। তারা গত ৬ জুলাই শুক্রবার সকাল সাড়ে ১১টারা দিকে আমরা যখন আমাদের জমির কুল বাগান পরিচর্যা করছিলাম তখন লাঠিয়াল বাহিনী নিয়ে আমাদের উপর হামলা চালায় ও জমি দখলের চেষ্টা করে। এঘটনা থানাতে জানালে ওসি মীমাংসার জন্য আবারো উভয় পক্ষকে থানায় হাজির হতে বলে। কিন্তু তারা পরদিন থানায় হাজির না হয়ে আদালতে একটি মামলা দায়ের করে। মুনতাজ উদ্দীনের ৮ ছেলে ২ ভাইপো মোট ১০ ভাই এলাকার সন্ত্রাসী ও ভূমিদস্যু হিসাবে পরিচিত। সংবাদ সম্মেলনে হয়রানি থেকে মুক্তি ও নিরাপত্তা দাবি জানান তিনি।