চিংড়ি শিল্পে ধস: বাজারে দাম নেই, চাষীরা হতাশ


প্রকাশিত : July 14, 2012 ||

আহাদুজ্জামান আহাদ, নলতা : সাদা সোনা খ্যাত চিংড়ি শিল্প অর্থনৈতিকভাবে ভেঙ্গে পড়ছে। দেশের বৈদেশিক মুদ্রার একটি বড় অংশ আসে চিংড়ি রপ্তানি থেকে। কিন্তু গত কয়েক মাস ধরে বাজারে চিংড়ির দাম দফায় দফায় কমে যাওয়ায় কৃষকদের মাঝে দেখা দিয়েছে হতাশা। জানা গেছে, সরকার প্রতি বছর দেশ থেকে চিংড়ি রপ্তানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে থাকে যার একটি বড় অংশ রপ্তানি করা হয় সাতক্ষীরা জেলা থেকে। আর সাতক্ষীরা জেলার চিংড়ি চাষ অধ্যুষিত অন্যতম এলাকা হলো কালিগঞ্জ। এ অঞ্চলের বেশির ভাগ মানুষ চিংড়ি চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করে। চলতি মৌসুমের শুরুতে চিংড়ি ঘেরগুলোতে ব্যাপকহারে ভাইরাসের আক্রমণ দেখা দিলে চাষীরা দারুণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এছাড়া চিংড়ির দাম অর্ধেকে নেমে আসায় চাষীরা সর্বশান্ত হয়ে পড়েছে। অনেকে আবার ঋণের জালে জড়িয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। কালিগঞ্জের নলতার কাজলা গ্রামের চিংড়ি চাষী সিরাজুল ইসলাম জানান, মৌসুমের শুরু থেকে চিংড়ির দাম কমতে থাকে। আর তা এখন সর্ব নিম্ন পর্যায়ে নেমে গেছে। এখন বাজারে চিংড়ির বড় গ্রেড ছোট গ্রেড বলে কোন হিসাব নেই। সব চিংড়ির একই দাম। তা আবার বাকিতে বিক্রি না করলে বিক্রি হচ্ছে না। এ অবস্থায় কি করবো ভেবে পাচ্ছিনা। একই এলাকার আনার আলী জানান, বাজারে কতিপয় অসাধু ব্যবসায়ীদের জন্য চিংড়ির বাজারে ধস নেমেছে। ঘের থেকে চিংড়ি কিনে চিংড়িতে পুশ করার ফলে আন্তজার্তিক বাজারে বাংলাদেশের চিংড়ির চাহিদা কমে গেছে। আর এজন্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সাধারণ চিংড়ি চাষীরা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ডিপো মালিক জানান, চাষীরা যে অভিযোগ আমাদের বিরুদ্ধে দিচ্ছে তা সঠিক না। প্রকৃতপক্ষে বাজারে চিংড়ির দাম অর্ধেকে নেমে আসার প্রধান কারণ আন্তজার্তিক বাজারে চিংড়ির দাম কমে গেছে। একারণে চিংড়ি রপ্তানি কমে গেছে। এখন বাজার থেকে চিংড়ি কিনে ডিপোতে রাখতে হচ্ছে। এজন্য চাষীরা চিংড়ির সঠিক মূল্য পাচ্ছে না। এ ক্ষেত্রে রপ্তানিকারক কোম্পানিগুলোর কোন হাত নেই। তবে এ অবস্থা চলতে থাকলে চলতি বছরে চিংড়িসহ হিমায়িত রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ ব্যাপারে সরকারিভাবে মনিটরিং করে চিংড়ি চাষীদের বাঁচাতে সংশ্লিষ্টদের দ্রুত আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সচেতন মহল।