জেলায় বিসিআইসি সার ডিলাররা ৩ মাস ধরে ইউরিয়া সার উত্তোলন করে নি: ভারতীয় সারে ছেয়ে গেছে বাজার, প্রতারিত হচ্ছে কৃষক


প্রকাশিত : July 14, 2012 ||

ইয়ারব হোসেন : জেলার সাতটি উপজেলায় বিসিআইসি সার ডিলাররা গত ৩ মাস ধরে ইউরিয়া সার উত্তোলন করছেন না। তিন মাসে ডিলাররা প্রায় ৪ হাজার ৮শ মেট্রিক টন সার উত্তোলন করেন নি। এ সুযোগে ডিলাররা বাজারে ভারতীয় সার বিক্রির পথ তৈরী করে দিচেছ বলে অভিযোগ উঠেছে। একই সাথে জেলার বিভিন্ন হাট বাজারে কীটনাশক ও সার ব্যবসায়ীরা ভেজাল ও নিম্নমানের ইউরিয়া সার বিক্রি করছে। এতে কৃষকরা বাধ্য হয়ে ভেজাল ও নিম্নমানের সার কিনে প্রতারিত হচ্ছে।

অভিযোগ রয়েছে, সংশ্লিষ্ট কৃষি কর্মকর্তরা এ ব্যাপারে কোন খোঁজ খবর রাখেন না। এ ছাড়া ডিলাররা ওই কর্মকর্তাদের সাথে সমঝোতা করে ভারতীয় সার বিক্রি করেন। এ বিষয়টি জানার পরও অভিযুক্ত ডিলার ও খুচরা বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না।

সংশ্লি¬ষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জেলায় ইউনিযন পর্যায়ে ৮০ জন সার ডিলার রয়েছে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ১৫ জন, কলারোয়া উপজেলায় ১৩ জন, তালা উপজেলায় ১২ জন, দেবহাটা উপজেলায় ৬ জন, কালিগঞ্জ উপজেলায় ১২ জন, আশাশুনি উপজেলায় ১১ জন ও শ্যামনগর উপজেলায় ১১ জন সার ডিলার রয়েছে। এ ছাড়া প্রতিটি ইউনিয়নে ৯ জন করে সাব ডিলার রয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রতি মাসে ইউনিয়ন পর্যায়ের সার ডিলারদের জন্য গড়ে প্রায় ২০ টন সার বরাদ্দ দেওয়া হয়। এ হিসেবে গত আউশ মৌসুমে (তিন মাস) ডিলাররা প্রায় ৪ হাজার ৮০০ মেট্রিক টন সার উত্তোলন করেন নি। এ মৌসুমে কৃষকরা কোন সার ব্যবহার করেছে তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ইউনিয়ন পর্যায়ের ও খুচরা বিক্রেতারা ভারতীয় সার কম দামে ক্রয় করছে। পরে ওই সার বাংলাদেশের ইউরিয়া সারের বস্তায় ভরে কৃষকদের কাছে বিক্রি করছে। এ ছাড়া খুচরা বিক্রেতারা প্রতিনিয়িত নকল ও ভেজাল সার বিক্রি করে। ফলে ভারতীয় ইউরিয়া সার জেলার বিভিন্ন বাজারে খোলামেলাভাবে বিক্রি হচ্ছে।

জেলা সার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি বিশ্বজিৎ সাধু জানান, গত তিন মাস ধরে ডিলাররা ইউরিয়া সার উত্তোলন করছেন না। ভারতীয় সারে জেলা ভরপুর হয়ে গেছে। হাত বাড়ালেই ভারতীয় সার কম দামে পাওয়া যাচেছ। কৃষকরা সারের মান না জেনে কম দামে সার কিনে প্রতারিত হচেছ। ভারতীয় সারের কারণে হয়তো সারের চাহিদা কম থাকতে পারে। তিনি বলেন, এ বিষয়টি কৃষি কর্মকর্তাসহ জেলা আইন শৃংখলা সভায় কয়েকবার উল্লেখ করা হয়েছে। এরপরও ভারতীয় সার আসা ও বিক্রি বন্ধ হচেছ না।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সোলাইমান হোসেন বলেন, কি কারণে ডিলারা সার উত্তোলন করছেন না তা এই মুর্হুত্বে বলা সম্ভব নয়। তবে জেলার ডিলাররা তিন মাস ধরে সার উত্তোলন করছে না এ কথা ঠিক নয়। কম বেশি সার ডিলাররা উত্তোলন করছেন। তিনি বলেন, বর্তমানে তিনি ছুটিতে আছেন। ফিরে এসে এ বিষয়টি তিনি খোঁজ খবর নেবেন।