কলারোয়ায় চোরাচালানানের ঢল


প্রকাশিত : জুলাই ১৫, ২০১২ ||

ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি : বর্ষা মৌসুমের শুরুতে কলারোয়া সীমান্তে চোরাচালানের ঢল নেমেছে। প্রতিদিন প্রকাশ্য দিবালোকে কোটি কোটি টাকা মূল্যের ভারতীয় পণ্য সামগ্রী পাচার হয়ে আসছে। ফলে দক্ষিণ ও দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের হাটবাজার ভারতীয় পণ্যে সয়লাব হয়ে গেছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, বর্ষা মৌসুমের শুরুতে সীমান্তের অলিগলির রাস্তাগুলো ছাড়াও উপজেলা সদরের সংগে সংযোগ রক্ষাকারী বেশীর ভাগ সড়ক ভেঙ্গে চুরে কাদামাটিতে ভরে গেছে। ফলে বিজিবি কর্তৃপক্ষের গ্রাম-গঞ্জের অভ্যন্তরে চলাচলে মারাত্মক সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। এতে অসাধু বিজিবি ও পুলিশ কর্মকর্তাদের সাথে চুক্তিতে কলারোয়া সীমান্ত দিয়ে বেপরোয়াভাবে চোরাচালান শুরু হয়েছে। সীমান্তের চোরাচালান ঘাটগুলো দৈনিক, সাপ্তাহিক কোথাও বা মাসিক চুক্তিতে ডাক দেয়া হয়েছে। কাকডাকা ভোর থেকে গভীর রাত অবধি একেবারে কোন প্রকার রাখঢাক ছাড়াই বেপরোয়া গতিতে চোরাচালান অব্যাহত রয়েছে। সোনাই নদী সীমান্তে কেঁড়াগাছি, গাড়াখালী, দক্ষিণ ভাদিয়ালী, উত্তর ভাদিয়ালী, রাজপুর, চান্দা, বড়ালী এবং ইছামতী নদী সীমান্তে চান্দুড়িয়া, কাদপুর, গোয়ালপাড়ায় রাত দিন নৌকা যোগে চোরাকারবারী চলছে। আর হিজলদী, সুলতানপুর এবং গোয়ালপাড়ার একাংশের ডাঙ্গা সীমান্তে বিশেষ বিশেষ সময়ে সীমান্ত গলিয়ে ভারতীয় পণ্য পাচারের ঢল নামে। নদী সীমান্তে এসব ভারতীয় পণ্য পাচারের জন্য কয়েক শত নৌকা মজুদ রাখা হয়েছে। আর তারকাটার বেড়া দেয়া এলাকায় বিএসএফ এর সহযোগিতায় ভারতীয় পণ্য পাচার হয়ে আসছে। নদী সীমান্তের দুই দেশের তীরবর্তী এলাকায় গড়ে উঠা সুবিস্তৃত জনপদে সারা রাত চোরাচালানী পণ্য এনে মজুদ করে রাখা হয়। সারা দিন রাত সীমান্তে মজুত চোরাচালানী পণ্য দেশের অভ্যন্তরে নেওয়ার কাজ অব্যাহত থাকছে। সীমান্ত থেকে শিশু, কিশোর, কিশোরী, যুবক, যুবতী, বৃদ্ধ, বৃদ্ধা, গৃহিনীরা পর্যন্ত চোরাচালানী পণ্য বহনের কাজে জড়িয়ে পড়েছে। মাথায় করে, সাইকেলে, ভ্যানে, নসিমন, করিমন, পাওয়ার টিলার, মটর সাইকেলে ভারতীয় পণ্য দেশের অভ্যন্তরে নিয়ে যাওয়া হয়। এছাড়া কখনো কখনো সীমান্ত থেকে মাইক্রো, প্রাইভেট, পিকআপ, বিভিন্ন কোম্পানির মালামাল সরবরাহের কাভার্ড ভ্যানে ভারতীয় পণ্য পরিবহন করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সূত্র মতে, চোরাচালানীরা বর্তমানে এতই বেপরোয়া হয়ে উঠেছে যে, মন্ত্রীদের চলার পথে যেভাবে বাঁশি বাজিয়ে রাস্তায় মানুষ, যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করে, সেভাবেই বাঁশি বাজিয়ে রাস্তা ফাঁকা করে চোরাচালানের ২০/৩০ মোটর সাইকেলের বা নসিমন, করিমনের বহর বেপরোয়া গতিতে চলাচল করছে। বিকট বাঁশীর শব্দ আর বেপরোয়া গতি দেখে ভয়ে সাধারণ মানুষ বিশেষ করে স্কুলগামী শিশুরা রাস্তার পাশে যেয়ে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়। এমনকি কলারোয়া পুলিশ স্টেশনের পার্শ্ববর্তী সড়কগুলো দিয়েও একই কায়দায় বাঁশি বাজিয়ে মন্ত্রীদের কায়দায় রাস্তা ফাঁকা করে চোরাচালানী পণ্যবাহী মোটর সাইকেল বহর হরহামেশা চলাচল করতে দেখা যায় বলে নাম প্রকাশে অনেচ্ছুক কয়েকজন দায়িত্বশীল সরকারি কর্মকর্তা জানান। বর্তমানে ঢাকা-সাতক্ষীরা মহাসড়কের পশ্চিম পাশে মাঠঘাট, রাস্তা, অলিগলির দিকে দু’চোখ দিলে প্রায় সব সময় চোরাচালানীর দেখা মেলে। আর উপজেলা সদরের ও দেশের অভ্যন্তর ভাগের সংগে যোগাযোগ রক্ষাকারী প্রধান সড়কগুলো দিয়ে প্রায়শ চোরাচালানী পণ্যবাহী বহর চলাচল করতে দেখা যায়। এসব ভারতীয় পণ্যে কলারোয়া সদরসহ পার্শ¦বর্তী উপজেলা, গ্রামগঞ্জের হাটবাজার সয়লাব হয়ে গেছে।  এছাড়াও যশোর, খুলনা, বাগেরহাট, পিরোজপুর, বরিশাল, নড়াইল, মাগুরা, ঝিনাইদহ, ফরিদপুরসহ রাজধানী ঢাকার দোকানপাটে চলে যাচ্ছে। কম মূল্যের চাকচিক্যময় ভারতীয় পণ্যের কারণে দেশীয় পণ্য অবিক্রিত হয়ে পড়ছে। লোকসানের মুখে পড়ছে দেশীয় শিল্প কারখানাগুলো। লোকসানের কারণে কর্মচারী ছাটাই হচ্ছে। বহু কলকারখানা বন্ধ হয়ে কর্মসংস্থান হারাচ্ছে লাখ লাখ মানুষ। আর এর ফলে খাবি খাওয়া দেশীয় পণ্যের বাজার সংকুচিত হওয়ায় জাতীয় অর্থনীতি মারাত্মক সংকটের মুখে পড়ছে।