জেলার জনসংখ্যা ২০ লাখ ৬৩,৬১০ জন: পুরুষ ১০,২১,২২৭ জন ও মহিলা ১০,৪২,৩৮৩ জন

এম জিললুর রহমান : জেলার জনসংখ্যা এখন ২০ লাখ ৬৩ হাজার ৬১০ জন। এরমধ্যে পুরুষ ১০ লাখ ২১ হাজার ২২৭ জন এবং মহিলা ১০ লাখ ৪২ হাজার ৩৮৩ জন। পুরুষের চেয়ে জেলায় মহিলা জনসংখ্যা ২১ হাজার ১৫৬ জন বেশি। জেলায় জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার দশমিক ৬২ ভাগ। গতকাল সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে ২০১১ সালের ১৫ থেকে ১৯ মার্চ পর্যন্ত পরিচালিত আদম শুমারির পরিসংখ্যান অনুযায়ী এসব তথ্য প্রকাশ করা হয়। জেলার আদম শুমারির ফলাফল অবমুক্ত করেন জেলা প্রশাসক ড. মুহাঃ আনোয়ার হোসেন হাওলাদার। এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক রাজস্ব শেখ হামিম হাসান, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আ.ন.ম আহমদ আলী, পৌর মেয়র এম এ জলিল, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আছাদুজ্জামান, উপজেলা পরিসংখ্যান কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম প্রমুখ।

প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী ২০০১ সালে সাতক্ষীরা জেলার জনসংখ্যা ছিল ১৮ লাখ ৬৪ হাজার ৭০৪ জন। ২০১১ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১৯ লাখ ৮৫ হাজার ৯৫৯ জন। শহর এলাকায় জেলার বর্তমান জনসংখ্যা ১ লাখ ৪০ হাজার ৫৭২ জন। এছাড়াও অন্যান্য শহরে বসবাস করে আরও ৫৭ হাজার ৪৪ জন। গ্রামাঞ্চলে বসবাস করে ১৭ লাখ ৮৮ হাজার ৩৪৩ জন। জেলায় খানা (এক হাড়িতে যারা অন্য গ্রহণ করে) এর সংখ্যা ৪ লাখ ৬৯ হাজার ৮৯০। খানা প্রতি জনসংখ্যা ৪ দশমিক ২১। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী জেলায় জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার সবচেয়ে বেশি সদর উপজেলায় ১ দশমিক ১৫ ভাগ। অন্যদিকে সবচেয়ে কম বৃদ্ধির হার শ্যামনগর উপজেলায় দশমিক ১৪ ভাগ।

প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী আশাশুনি উপজেলায় বর্তমান জনসংখ্যা ২ লাখ ৬৮ হাজার ২৫৪ জন। এরমধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৩৩ হাজার ৯৯০ জন ও মহিলা ১ লাখ ৩৪ হাজার ৭৬৪ জন। বৃদ্ধির হার দশমিক ৭৪ ভাগ।

দেবহাটা উপজেলার মোট জনসংখ্যা ১ লাখ ২৫ হাজার ৩৫৮ জন। এরমধ্যে পুরুষ ৬২ হাজার ৪২৯ জন ও মহিলা ৬২ হাজার ৯২৯ জন। বৃদ্ধির হার দশমিক ৯২ ভাগ।

কলারোয়া উপজেলায় বর্তমান জনসংখ্যা ২ লাখ ৩৭ হাজার ৯৯২ জন। এরমধ্যে পুরুষ ১ লাখ ১৬ হাজার ৮১১ জন ও মহিলা ১ লাখ ২১ হাজার ১৮১ জন। বৃদ্ধির হার দশমিক ৭১ ভাগ।

কালিগঞ্জ উপজেলার বর্তমান জনসংখ্যা ২ লাখ ৭৪ হাজার ৮৮৯ জন। এরমধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৩৬ হাজার ৮৯ জন ও মহিলা ১ লাখ ৩৮ হাজার ৮০০ জন। বৃদ্ধিার হার দশমিক ৬৯ ভাগ।

সাতক্ষীরা সদর উপজেলায় জনসংখ্যা এখন ৪ লাখ ৬০ হাজার ৮৯২ জন। এরমধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৩০ হাজার ৬২৮ জন ও মহিলা ২ লাখ ৩০ হাজার ২৬৪ জন। বৃদ্ধির হার ১ দশমিক ১৫ ভাগ।

শ্যামনগর উপজেলার বর্তমান জনসংখ্যা ৩ লাখ ১৮ হাজার ২৫৪ জন। এরমধ্যে পরুষ ১ লাখ ৫৩ হাজার ৪৪১ জন ও মহিলা ১ লাখ ৬৪ হাজার ৮১৩ জন। বৃদ্ধির হার দশমিক ১৪ ভাগ।

তালা উপজেলার বর্তমান জনসংখ্যা ২ লাখ ৯৯ হাজার ৮২০ জন। এরমধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৪৯ হাজার ৩৮৯ জন ও মহিলা ১ লাখ ৫০ হাজার ৪৩১ জন। বৃদ্ধির হার দশমিক ১৮ ভাগ।

উল্লেখ্য, গতকাল একযোগে দেশের ৬৪টি জেলার আদম শুমারির রিপোর্ট অবমুক্ত করেন রাষ্ট্রপতি মোঃ জিললুর রহমান। দেশের বর্তমান জনসংখ্যা ১৫ কোটি ২৫ লাখ ১৮ হাজার ১৫ জন। দেশে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ১ দশমিক ৩৭ ভাগ। সেই হিসেবে সাতক্ষীরা জেলায় জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার বর্তমানে দশমিক ৬২ তে এসে দাড়িয়েছে। ২০০১ সালে জেলায় জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ছিল ১ দশমিক ৫৬ ভাগ।

 

নাগালের বাইরে নিত্যপণ্যের বাজার

আব্দুস সামাদ : উচ্চমূল্যের কারণে ক্রেতার নাগালের বাইরে চলে গেছে নিত্য পণ্যের বাজার। পবিত্র শবেব রাতের আগে থেকেই দাম বাড়ানোর এ প্রতিযোগিতা  শুরু হয়। রমজান যতই এগিয়ে আসছে, বাজার ততই অস্থিতিশীল হয়ে উঠছে। রমজানের আগেই দাম বাড়ানোর প্রক্রিয়াটি সেরে নেওয়ার কৌশলে এবারও সফল হয়েছে ব্যবসায়ীরা।

ছোলা, ভোজ্যতেল, ডাল, চিনি, পিঁয়াজ, রসুন, আদা, খেজুর, আলু, বেগুন, রুহু আফজা ও মরিচসহ রমজানে চাহিদা বাড়ে এমন পণ্যের দাম বাড়ার প্রতিযোগিতা চলছে। এক মাস আগে যে ছোলা ৬৫ থেকে ৭০ টাকা কেজি দরে পাওয়া গেছে, সেই ছোলা বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৭৪ থেকে ৭৬ টাকায়। অথচ এই হারে ছোলার দাম বাড়ার কোনো যৌক্তিক কারণ ব্যাখ্যা করতে পারছে না ব্যবসায়ীরা। ব্যবসায়ীরা বলেন, সব পণ্যেরই দাম বাড়ছে। এমনকি দেশে উৎপাদিত আলু, পেঁয়াজ, রসুনের দাম বাড়ছে সবচেয়ে বেশি। সেক্ষেত্রে ছোলার দাম বাড়লে তা অযৌক্তিক হবে কেন?

গতকাল সুলতানপুরের বড়বাজারে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে পণ্যমূল্য বাড়ার কোনো যৌক্তিক কারণ খুঁজে পাওয়া যায়নি। খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, বেশি দামে কেনার জন্য বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। পাইকারি ব্যবসায়ীরা বলছেন, সব পণ্যেরই দাম ঊর্ধ্বমুখী। তবে ভোক্তারা মনে করেন, ব্যবসায়ীরা কারসাজির মাধ্যমে দাম বাড়াচ্ছেন।

এ বিষয়ে রাজার বাগান থেকে বড়বাজারে বাজার করতে আসা সমির গাইন জানান, এক সপ্তাহ আগে আলু কিনেছি ১৮ থেকে ২০ টাকা দরে। আজ সেই আলু ২৫ টাকা দরে কিনতে হচ্ছে। এক সপ্তাহে এমন কী ঘটেছে যে আলুর দাম বেড়ে গেল! এসবই ব্যবসায়ীদের কারসাজি। শুধু আলু নয়, সব পণ্যের দামই এ রকম অযৌক্তিকভাবে বেড়েছে।

ভোজ্যতেলের দাম বৃদ্ধি প্রসঙ্গে বড়বাজারের এক ব্যবসায়ী বলেন, পরিশোধনকারী কোম্পানিগুলো পর্যাপ্ত আমদানি করলেও বাজারে চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ করছে না। ফলে চাহিদা ও সরবরাহে ঘাটতি থেকে যাচ্ছে। যে কারণে স্বাভাবিকভাবেই দাম বাড়ছে। তিনি বলেন, রমজান এলেই ভোজ্যতেল পরিশোধনকারী কোম্পানিগুলো এ কারসাজি করে থাকে।

গত এক সপ্তাহে সবচেয়ে বেশি দাম বেড়েছে রসুন, পেঁয়াজ, আলু, ছোলা, বিভিন্ন প্রকারের ডাল, শুকনা মরিচ, চিনি, রুহু আফজা ও ভোজ্যতেলের। গত সপ্তাহে রসুনের দাম ছিল পাইকারী ২৮ টাকা, খুচরা ৩২ টাকা, যা বর্তমানে বিক্রয় হচ্ছে পাইকারী ৩০ টাকা খুচরা ৩৪ টাকা, দাম বেড়েছে কেজি প্রতি ২ টাকা। গত সপ্তাহে পিঁয়াজের দাম ছিল পাইকারী ২৬ টাকা, খুচরা ২৮ টাকা, যা বর্তমানে বিক্রয় হচ্ছে পাইকারী ২৯ টাকা খুচরা ৩২ টাকা দাম বেড়েছে কেজি প্রতি ৩ টাকা। গত সপ্তাহে আলুর দাম ছিল পাইকারী ২০ টাকা, খুচরা ২২ টাকা, যা বর্তমানে বিক্রয় হচ্ছে পাইকারী ২২ টাকা, খুচরা ২৪ টাকা, দাম বেড়েছে কেজি প্রতি ২ টাকা। গত সপ্তাহে ভোজ্যতেলের (সয়াবিন) দাম ছিল পাইকারী ১২৬ টাকা, খুচরা ১২৮ টাকা, যা বর্তমানে বিক্রয় হচ্ছে পাইকারী ১৩০ টাকা, খুচরা ১৩২ টাকা, দাম বেড়েছে প্রতি লিটারে ৪ টাকা। এছাড়াও ৫ লিটার এর বোতল এর দাম ছিল পাইকারী ৬৬০ টাকা, খুচরা ৬৬৫ টাকা, যা বর্তমানে বিক্রয় হচ্ছে পাইকারী ৬৬৩ টাকা, খুচরা ৬৭০ টাকা, দাম বেড়েছে ৫ টাকা। গত সপ্তাহে চিনির দাম ছিল পাইকারী ৫০ টাকা, খুচরা ৫২ টাকা, যা বর্তমানে বিক্রয় হচ্ছে পাইকারী ৫২ টাকা, খুচরা ৫৪ টাকা, দাম বেড়েছে কেজি প্রতি ২ টাকা। গত সপ্তাহে ছোলার দাম ছিল পাইকারী ৬৫ টাকা, খুচরা ৭০ টাকা, যা বর্তমানে বিক্রয় হচ্ছে পাইকারী ৭০ টাকা, খুচরা ৭৫ টাকা, দাম বেড়েছে কেজি প্রতি ৫ টাকা। গত সপ্তাহে বুটের ডালের দাম ছিল পাইকারী ৪২ টাকা, খুচরা ৪৫ টাকা, যা বর্তমানে বিক্রয় হচ্ছে পাইকারী ৪৭ টাকা, খুচরা ৫০ টাকা, দাম বেড়েছে কেজি প্রতি ৩ টাকা। গত সপ্তাহে মুগ বিক্রি হয়েছে পাইকারী ৯০ টাকা, খুচরা ৯৫ টাকা, যা বর্তমানে বিক্রয় হচ্ছে পাইকারী ১০২ টাকা, খুচরা ১০৬ টাকা, দাম বেড়েছে কেজি প্রতি ৫ টাকা। গত সপ্তাহে শুকনা মরিচ দাম ছিল পাইকারী ১৪০ টাকা, খুচরা ১৫০ টাকা, যা বর্তমানে বিক্রয় হচ্ছে পাইকারী ১৫০ টাকা, খুচরা ১৬০ টাকা, দাম বেড়েছে কেজি প্রতি ১০ টাকা। গত সপ্তাহে রুহু আফজা দাম বেড়েছে প্রতি বোতলে ৭ টাকা।

তবে এগুলোর দাম বাড়লেও দাম কমেছে আদা, লবণ, আটা, ময়দা এবং ডিমের। আর দাম অপরির্বতিত রয়েছে গো মাংশ, খাশির মাংশ, মুরগির মাংশ, মসুরের ডাল ও কাঁচা মরিচের। কিন্তু আশাতিতভাবে কমে গেছে পোল্ট্রি মুরগির দাম।

এসব পণ্যের দাম বৃদ্ধি সম্পর্কে একজন ব্যবসায়ী বলেন, বাজারের চাহিদা মাফিক পণ্য আমদানি হচ্ছে, কিন্তু কিছু অসাধু ব্যবসায়ী পণ্য গুদামজাত করে বাজারে সরবারহ কম দেখাচ্ছে, ফলে স্বাভাবিকভাবেই রমজানে চাহিদা বেশি থাকায় দাম বেড়ে যাচ্ছে। এবিষয়ে কর্তৃপক্ষের সঠিক নজরদারী বাড়ানো প্রয়োজন। সবমিলিয়ে রোজা শুরুর আগ মূহুর্তের এ সময়টায় মানুষ সবচেয়ে বেশি উৎকণ্ঠিত দ্রব্যমূল্যে নিয়ে। এরই মধ্যে বাজার অনেকটা ব্যবসায়ীদের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে। প্রতি বছরই রোজার মৌসুমে মরিয়া হয়ে ওঠে কতিপয় ব্যবসায়ী, আমদানিকারক ও উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান। পণ্যের দাম বাড়িয়ে রমজানের সময় শত শত কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়। বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনি কাঠামোয় সরকারও কোন জোরালো পদক্ষেপ নিতে পারছে না।

 

সাতক্ষীরা পৌরসভার একটি রাস্তাও আস্ত নেই

শহীদুল ইসলাম : সাতক্ষীরা পৌরসভার একটি রাস্তাও আস্ত নেই। রাস্তাগুলোর ছাল-চামড়া উঠে গেছে। কোথাও কোথাও খানা-খন্দে পরিণত হয়েছে। দু’একটি রাস্তার সংস্কার হলেও অধিকাংশ রাস্তা সংস্কারের অভাবে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। এতে করে দুর্ভোগ বেড়েছে শহরবাসীর। ছাল-চামড়া ওঠা খানা খন্দে পরিণত এসব রাস্তায় যাতায়াত করতে হচ্ছে শহরবাসীর। গত বছর বন্যায় ধ্বংস প্রাপ্ত হলেও এসব রাস্তা সংস্কারে কোন উদ্যোগ নেয়া হয়নি বলে মনে করেন শহরবাসী। এবারও বর্ষা এসে গেছে। বন্যাও জলাবদ্ধতার আশংকা রয়েছে। গত বারের মতো এবার বন্যা হলে শহরের কোন রাস্তার অস্তিত্ব থাকবে কী না তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন সচেতন মহল।

শহর ঘুরে দেখা গেছে, বাঁকাল শেখ পাড়া মসজিদ হতে বাজুয়ার ডাঙ্গী বলফিল্ড, ইটাগাছা বাঙ্গালের মোড় থেকে খড়িবিলা, রইচপুর, কামালনগর এলাকার একটি রাস্তাও আস্ত নেই। বাটকেখালী গফুর সাহেবের ব্রিজ থেকে মিশন পর্যন্ত রাস্তাটির বেহাল দশা। গড়েরকান্দা ৩ রাস্তার মুখ হতে কুখরালী বল ফিল্ড পর্যন্ত রাস্তাটির ভাগ্যে এখনো পিচ জোটেনি। বাগান বাড়ি এলাকার আব্দুল খালেকের বাড়ি হতে মেহেদী ম্যানশন পর্যন্ত রাস্তাটির ছাল চামড়া নেই। পুরাতন সাতক্ষীরার মদিনা মসজিদ হতে ডাঙ্গীপাড়া রাস্তাটি পরিণত হয়েছে খানা খন্দে। একই চিত্র আলিয়া মাদ্রাসা থেকে ঘোষপাড়া রাস্তার। এবার আসা যাক, পুরাতন সাতক্ষীরা হাটখোলা থেকে সরকারি কলেজ হয়ে পোস্ট অফিস মোড়ে। রাস্তাটি এক প্রকার গলে গেছে। কোথাও কোথাও রাস্তাটি ইটের খোয়া ও ইটের গুড়া দিয়ে গর্ত ভরাট করা হয়েছে। রাজার বাগান সরকারি কলেজ মাঠ থেকে মাছখোলা গামী রাস্তাটি পরিণত হয়েছে মরণ ফাঁদে। সরকার পাড়া চৌধুরী স্যারের বাড়ি থেকে ধোপাপুকুর হয়ে কাটিয়া পর্যন্ত রাস্তাটি সড়কটির ছাল-চামড়া উঠে খানা খন্দে পরিণত হয়েছে। ভালো নেই মুনজিতপুর এলাকার একটি রাস্তাও। পাকা পুল থেকে উত্তরে পলাশপোলের ভিতরে প্রায় সবকটি রাস্তা যাতায়াতের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। প্রাণ সায়ের খালের পূর্বপাশে পাকা পুল থেকে নারকেল তলা পর্যন্ত রাস্তাটির কোথা গর্ত, কোথাও পিচ উঠে গেছে। সামান্য বৃষ্টিতে আবার পানি জমে যায়। জজকোর্টের সামনে পলাশপোলের ভিতরে বৃষ্টি হলে জমে হাটুপানি। নারকেলতলা থেকে থানা ঘাটা গামী রাস্তাটি জন দুর্ভোগের অন্যতম রুট। এভাবে শহরের প্রায় প্রত্যেকটি সড়কই ধ্বংসের দ্বারে পৌঁছে গেছে। ভালো নেই একটি রাস্তাও।

এলাকাবাসীর সাথে কথা বললে জানা যায়, গত বছর ভয়াবহ বন্যায় এসব রাস্তা ধ্বংস স্তুপে পরিণত হলেও তা সংস্কারে সংশি¬ষ্ট কর্তৃপক্ষ উলে¬খযোগ্য ভূমিকা নেয়নি। ফলে শহরের প্রত্যেকটি রাস্তা ধ্বংস প্রাপ্ত হয়েছে। এদিকে সাতক্ষীরা পৌরসভা সূত্র জানায়, পৌর সভার ৪৩টি সড়ক অধিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব সড়কগুলোর বেহাল অবস্থা। সড়কগুলো সংস্কারে ইতোমধ্যে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। সীমিত দরপত্র পদ্ধতির আওতায় জিওবি তহবিল ও পৌরসভার নিজস্ব তহবিল থেকে এসব রাস্তা মেরামত করা হবে। তবে দরপত্রে উলি¬খিত রাস্তাগুলোর সাথে উক্ত রাস্তাগুলোর কোন মিল নেই। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তার সংখ্যা শতাধিক।

এ ব্যাপারে সাতক্ষীরা পৌর মেয়র এমএ জলিল বলেন, গত বছর পৌরসভার মেইন রোডগুলো সংস্কারে তালিকা করা হয়েছে। মানুষ যাতে নিরাপদে নির্বিঘেœ চলাচল করতে পারে সেজন্য পৌরসভা কাজ করে যাচ্ছে। তবে বাজেট সীমিত। সমস্যা অনেক। তাই সীমিত বাজেট নিয়েই অসীম সমস্যা মোকাবেলা করতে  হচ্ছে। তারপরও যে সব প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে তাতে সরকারি বরাদ্দ পেলে এ বছরের মধ্যেই সকল রাস্তা সংস্কার করা যাবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ২০১২-১৩ অর্থ বছরে রাস্তা নির্মাণে পৌরসভার নিজস্ব তহবিল থেকে ৮০ লাখ টাকা বরাদ্দ হয়েছে। যা বিগত ২০১১-১২ অর্থ বছরে ছিলো মাত্র ৩৬ লাখ টাকা। এছাড়া রাস্তা সংস্কার বাবদ চলতি অর্থ বছরে ৬০ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। যা গত অর্থ বছরে ছিলো ৫০ লাখ টাকা। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দ্বিতীয় নগর পরিচালন ও অবকাঠামো উন্নতিকরণ (সেক্টর) প্রকল্পের আওতায় রাস্তা নির্মাণ ও পুনর্বাসন প্রকল্পে ৫ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। যা গত অর্থ বছরে বরাদ্দ ছিলো ১ কোটি ৯৬ লাখ টাকা। সুতরাং বরাদ্দকৃত অর্থের সাথে সরকারি সাহায্য পাওয়া গেলে সাতক্ষীরা শহরকে তিলোত্তমা নগরীতে পরিণত করা যাবে।

 

বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা ফুটবল টুর্ণামেণ্ট: কয়লা ও খোরদো কলারোয়া উপজেলা চ্যাম্পিয়ন

কলারোয়া প্রতিনিধি : বঙ্গবন্ধু প্রাথমিক বিদ্যালয় ফুটবল টুর্ণামেণ্টে কলারোয়া উপজেলা চ্যাম্পিয়ন হয়েছে কয়লা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। অপরদিকে বঙ্গমাতা প্রাথমিক বিদ্যালয় ফুটবল টুর্ণামেণ্টে উপজেলা চ্যাম্পিয়ন খোরদো সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। গতকাল সোমবার বিকেলে কলারোয়া ফুটবল মাঠে শিরোপা নির্ধারণী এ খেলা অনুষ্ঠিত হয়। প্রথমে বঙ্গমাতা টুর্ণামেণ্টে খোরদো সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ১-০ গোলে রাজপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে। পরে বঙ্গবন্ধু টুর্ণামেণ্টে গতবারের ন্যায় এবারও চ্যাম্পিয়ন হয়েছে কয়লা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। তারা প্রতিপক্ষ ইলিশপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় দলকে ৪-১ গোলের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত করে শিরোপা ধরে রাখে। উলে¬খ্য, কয়লা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় দল গত বার খুলনা বিভাগীয় চ্যাম্পিয়ন হয়ে জাতীয় পর্যায়ে চতুর্থ স্থান লাভ করেছিলো। খেলা দুটো পরিচালনা করেন মাস্টার মাসউদ পারভেজ মিলন, ফারুক হোসেন স্বপন, নিয়াজ আহমেদ খান ও সাজু হাওলাদার। খেলা শেষে বিজয়ী ও বিজিত দলের মাঝে ট্রফি বিতরণ করেন পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি জেলা প্রশাসক ড: মু: আনোয়ার হোসেন হাওলাদার। পুরস্কার বিতরণ কালে জেলা প্রশাসক বলেন, আমি আশা করছি এবারও কয়লা জাতীয় পর্যায়ে খেলার গৌরব অর্জন করবে। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান বিএম নজরুল ইসলাম। উপজেলা নির্বাহী অফিসার আ ন ম তরিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) এবিএম নাজমুল হক, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমাণ্ডার গোলাম মোস্তফা, কয়লা ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রকিব মোল্যা, উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক জাহিদুর রহমান খান চৌধুরী, কলারোয়া পাবলিক ইনস্টিটিউট’র সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. শেখ কামাল রেজা, প্রভাষক রফিকুল ইসলাম, শিক্ষক নেতা রবিউল ইসলাম, শেখ নুরুল্যাহ, সমাজসেবক কাজী আব্দুল ওহাব, সাংবাদিক মাস্টার দীপক শেঠ, শেখ জুলফিকারুজ্জামান, প্রভাষক আরিফ মাহমুদ প্রমুখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মাস্টার শেখ শাহাজাহান আলি শাহিন।

বিদ্যুৎ বাছাড় ও মোজাফ্ফর সানাকে ধরতে তালায় পুলিশের পুরস্কার ঘোষণা

তালা প্রতিনিধি : তালায় শীর্ষ সন্ত্রাসী বিদ্যুৎ বাছাড় ও মোজাফ্ফর সানাকে ধরতে তালা থানা পুলিশ ১০ হাজার টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছে। এদের বিরুদ্ধে হত্যাসহ একাধিক মামলা, এলাকায় চরমপন্থীদের সংগঠিত করা ও চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে। গতকাল সোমবার তালা থানার ওসি মোঃ রবিউল ইসলাম এ পুরস্কার ঘোষণা করেন।

পুলিশ জানায়, বিদ্যুৎ বাছাড়ের নামে তালা থানায় ১৯৯৮ সালের মার্চ মাসে অস্ত্র আইনে ২নং মামলা, একই সালের জুন মাসে হত্যা চেষ্টার ঘটনায় ১৫নং মামলা, ১৯৯৯ সালের মে মাসে চাঁদাবাজির অভিযোগে ৭নং মামলা, ২০১১ সালের জুন মাসে ছিনতাই-এর ২৪নং মামলা, একই সালের অক্টোবর মাসে চুরি ঘটনায় ২৪ নং মামলা,একই সালের মার্চ মাসে ডুমুরিয়া থানায় ডাকাতি’র ৩১নং মামলা হয়। এসব মামলায় বিদ্যুৎ বাছাড় চার্জশিটভুক্ত আসামি। সর্বশেষ বিদ্যুৎ ২০১১ সালের ১৫ ডিসেম্বর তালা থানা পুলিশের কাছে ছিনতাই মামলায় আটক হয়।

এদিকে সন্ত্রাসী মোজাফ্ফর সানার নামে ২০০৪ সালের ফেব্র“য়ারি মাসে হত্যা ঘটনায় ১৪নং মামলা, ২০০৫ সালের অক্টোবর মাসে হত্যা ঘটনায় ১নং মামলা, একই সালের সেপ্টেম্বর মাসে ডাকাতি’র ১১নং মামলা, ২০১০ সালের জুলাই মাসে ডাকাতি’র ৫নং মামলা হয়। এসব মামলায় মোজাফ্ফর চার্জশিটভুক্ত আসামি। এছাড়া তাদের দু’জনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় প্রায় দেড় ডজন মামলা রয়েছে। তারা দীর্ঘদিন কারাগারে বা আত্মগোপনে থাকার পর সম্প্রতি এলাকায় ফিরে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এলাকাবাসী জানায়, সম্প্রতি চিংড়ি ঘের এলাকায় বিদ্যুৎ বাছাড় ও মোজাফ্ফর সানা বাহিনী চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন স্থানে ডাকাতি, ছিনতাই এর মতো ঘটনা ঘটাচ্ছে। এদের দিনে দেখা না মিললেও রাত হলে বিদ্যুৎ বাছাড়সহ তার বাহিনীর আর্বিভাব ঘটে। যাতয়াতের অনুপযোগী এলাকায় এসব সন্ত্রাসীরা কর্মকাণ্ড চালায়। যে কারণে পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করতে পারে না। বর্তমানে ওই বাহিনীর অত্যাচারে মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে।

তালা থানার ওসি মোঃ রবিউল ইসলাম ১০ হাজার টাকা পুরস্কার ঘোষণার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এদের বিরুদ্ধে তালাসহ বিভিন্ন থানায় অস্ত্র, হত্যা, চাঁদাবাজি, ছিনতাই, ডাকাতিসহ প্রায় দুই ডজন মামলা রয়েছে। দীর্ঘদিন কারাভোগের পর সম্প্রতি তারা এলাকায় ফিরে আবারও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড শুরু করেছে। জীবনের ভয়ে তাদের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে পারেনা। এ কারণে তাদের ধরিয়ে দেয়ার জন্য ১০ হাজার টাকা পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে।

শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় চির নিদ্রায় সমাহিত হলেন সাংবাদিক রিকু সুলতান

কলারোয়া প্রতিনিধি : সকলকে কাঁদিয়ে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে গতকাল সোমবার পারিবারিক কবরস্থানে চির নিদ্রায় শায়িত হলেন কলারোয়ার সাংবাদিক রিকু সুলতান (৪০)। ৭ ভাই ও ২ বোনের মধ্যে সবার শেষে আসা মানুষটি চলে গেলেন সবার আগে। উপজেলার কাদপুর গ্রামের ছায়াসুনিবিড় পরিবেশে নব নির্মিত পারিবারিক কবরস্থানে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে তিনি প্রথম সমাহিত হলেন। সাংবাদিক রিকু সুলতান যে কত জনপ্রিয় ছিলেন তা তার নিজ গ্রাম কাদপুরে উপস্থিত হওয়া শত শত মানুষের ঢল দেখে সহজেই ধারণা করা যায়। তার একমাত্র সন্তান আকাশের (১৪) গগণ বিদারী কান্না গতকাল দিগন্তে যেন প্রতিধ্বনিত হচ্ছিলো বারবার। অষ্টম শ্রেণি পড়–য়া আকাশকে সান্ত্বনা দিতে যাওয়া লোকজন নিজেরাই চোখের জলে বুক ভাসাচ্ছিলেন। সমাহিত করার মুহুর্তটি ছিলো ভীষণ হৃদয়বিদারক। রিকু সুলতানের মায়ের বোবা কান্না ও উদাস চাহনি এবং পুত্র আকাশের অবিরত কান্না ও আহাজারি। ভাই-বোন, আত্মীয় ও সতীর্থদের নীরব চোখের জল যেন উপস্থিত শত শত মানুষকে শোকে মুহ্যমান করে তোলে। রিকু সুলতান প্রায় দু’দশক ধরে এই জনপদে সাংবাদিকতা করে গেছেন। তিনি মানুষের-এলাকার সমস্যা, সম্ভাবনা, সমৃদ্ধি ও উন্নয়নের কথা ভাবতেন। তা তার লেখনীতে প্রকাশ পেতো বারবার। জীবনের শেষ দিনগুলোতে সাংবাদিকতায় কিছুটা তার শিথিলতা দেখা দেয়। ব্যক্তি ও পরিবার জীবনের নানা অপূর্ণতা তাকে প্রতিনিয়ত ভাবিয়ে তুুুলতে থাকে। সম্প্রতি তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বিদেশ যাবার। এজন্য সবকিছু ঠিক হয়ে গিয়েছিলো। আগামী ১৮ জুলাই ছিলো তার মালয়েশিয়া যাবার ফ্লাইট। এজন্য শেষ মুহূর্তের গোছগাছ ও নানা প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছিলেন রিকু সুলতান। দু’একদিনের মধ্যেই তার ঢাকায় যেতে হতো। কিন্ত বাস্তবে তা আর হলো না। তাকে চলে যেতে হলো একবারে না ফেরার দেশে। গতকাল বেলা ১১টায় কাদপুর গ্রামের বাড়ির আঙিনায় নামাজে  জানাজা শেষে মরহুমের দাফন সম্পন্ন হয়। নামাজে জানাজায় শরিক হওয়া বিপুল সংখ্যক মানুষ অশ্র“সিক্ত নয়নে দু’হাত তুলে মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন। দাফন শেষে উপস্থিত সকলেই একবাক্যে স্বীকার করেছেন সাংবাদিক রিকু সুলতান ছিলেন প্রকৃতই ভালো মানুষ। তার শুন্যতা পূরণ হওয়ার নয়। রিকুকে চির বিদায় দেয়ার পর সবার কথায় যেন ফুটে উঠলো- তার অভাব তারা চিরকালই বোধ করবেন। জানাযায় উপস্থিত ছিলেন ইউপি চেয়ারম্যান ডা: রমজান আলি, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান হাসান আজিজ আহমেদ, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন, আকবর হোসেন মোল্যা, রুহুল কুদ্দুস মোল্যা, মাওলালা মোহাম্মদ আবদুল্যাহ, ইউপি সদস্য শাহাদাৎ হোসেন, আনোয়ার হোসেন, ডা: রেজাউল করিম, মনিরুল ইসলাম মনি, আব্দুল মজিদ, আওয়ামী লীগ নেতা হারুন-অর-রশিদ, সাংবাদিক আমিনুর রহমান, শেখ জুলফিকারুজ্জামান জিল্লু, আতাউর রহমান, শামসুর রহমান লাল্টু, প্রভাষক আরিফ মাহমুদ, ডা: এমএ মাসুদ রানা, বাবুল বাসার প্রমুখ। প্রসঙ্গত, গত রোবরার দুপুরে সাংবাদিক রিকু সুলতান নিজ বাড়িতে আকস্মিক মৃত্যুবরণ করেন।

 

তালায় আইডিয়াল মহিলা কলেজে নবীণ বরণ

তালা প্রতিনিধি : গতকাল সোমবার সকালে তালা উপজেলার মাগুরা আইডিয়াল মহিলা কলেজে একাদশ শ্রেণির নবাগত ছাত্রীদের নবীণ বরণ অনুষ্ঠান কলেজ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়।  গোপাল বসুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা-১ (তালা-কলারোয়া) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ইজ্ঞিনিয়ার শেখ মুজিবুর রহমান। স্বাগত বক্তব্য রাখেন কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ রাম প্রসাদ দাস। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এমএম ফজলুল হক, মোঃ আনোয়ার হোসেন, জেলা কৃষকলীগের সভাপতি বিশ্বজিৎ সাধু, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি মীর জাকির হোসেন, আওয়ামী লীগ নেতা অনিত মূখার্জী, আনছার মহলদার, গনেশ দেবনাথ, যুবলীগ নেতা মোঃ নুর ইসলাম, আতাউর রহমান এবং ছাত্রলীগ নেতা দেবাশীষ মূখার্জী। অনুষ্ঠানে কলেজ কর্তৃপক্ষ প্রধান অতিথির কাছে কলেজের শিক্ষা-কর্মচারীদের দুঃখ লাঘবের জন্য দ্রুত কলেজটির এমপিওভুক্ত করার দাবি জানান। পরে প্রধান অতিথি কলেজের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও কম্পিউটার ল্যাব দেয়ার ঘোষণা দেন।

অন্যদের জন্য অনুকরণীয় হতে পারে কুমিরা ইউনিয়নের উন্নয়নমুখি কার্যক্রম

পাটকেলঘাটা প্রতিনিধি : তালা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী কুমিরা একটি প্রক্রিয়াধীন সফল ইউনিয়ন। সকল বাধা বিপত্তি উপেক্ষা করে জনগণের সার্বিক সহায়তা এবং নির্বাচনী ওয়াদা পূরণের লক্ষ্যে সফলতা নিয়ে জেলায় মডেল ইউনিয়ন হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। ইউপি চেয়ারম্যান শেখ গোলাম মোস্তফার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ইউনিয়নের প্রতিটি নাগরিক স্বনির্ভর হতে চলেছে। উন্নয়ন মূলক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় অবদান, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতায় এ ইউনিয়নকে সুস্থ মাতৃত্ব বিকাশে বিশেষ অবদান রাখায় মডেল ঘোষণা হয়েছে। ২০১৫ সালের মধ্যে সকল নাগরিক অধিকার বাস্তবায়ন হবে বলে চেয়ারম্যান দৃঢ়তার সাথে ব্যক্ত করেছেন। ১৯ বর্গ মাইলের ১৬টি গ্রাম নিয়ে ১৯৬৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এ ইউনিয়ন পরিষদ। বিগত ২০০৩ সালে প্রথমবার বিপুল ভোটের ব্যবধানে গোলাম মোস্তফা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন। এরপর অবহেলিত ইউনিয়নের দায়িত্ব গ্রহণের মাধ্যমে দীর্ঘ ৮ বছর নানা প্রতিকূলতার মধ্যদিয়ে জনগণের দেয়া দায়িত্ব পালনে নিরলসভাবে কাজ করেছেন তিনি। গত ২০১১ সালের ৩ এপ্রিল পুনরায় ৫৫৫৮ ভোটে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। তিনি নির্বাচনী প্রাক্কালে ইউনিয়নকে মডেল হিসেবে গড়ে তোলার যে প্রতিশ্র“তি দিয়েছিলেন, তা বাস্তবায়ন হতে চলেছে। চেয়ারম্যান সকল বাধা বিপত্তি উপেক্ষা করে ইউনিয়নকে ধাপে ধাপে এগিয়ে নিতে সক্ষম হয়েছেন। তালা উপজেলার সদর থেকে উত্তর পশ্চিমে ১৫ কিলোমিটার দূরে ইতিহাস ঐতিহ্য নিয়ে ৪নং কুমিরা ইউনিয়নের অবস্থান। এ ইউনিয়নের অধিকাংশ মানুষ কৃষির উপর নির্ভরশীল। তাই কৃষি ক্ষেত্রে বিপ¬ব ঘটানোর লক্ষ্যে আধুনিক চাষাবাদে চাষীদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ফসলের পরিচর্যা, সময় মত সার ও ঔষধ প্রয়োগ, সচেতনতা বৃদ্ধিতে সার্বিকভাবে কৃষকদের সহায়তা প্রদান করে আসছেন। চলতি বছরের ২৭ জুন ২০১২-১৩ অর্থ বছরে ৫৪,৩২,২০০ টাকার বাজেট ঘোষণা করেন চেয়ারম্যান শেখ গোলাম মোস্তফা। ইতিমধ্যে তিনি ইউনিয়নকে মডেল ঘোষণার পাশাপাশি ১১ জুলাই বিশ্ব জনসংখ্যা দিবসে শ্রেষ্ঠ ইউনিয়ন হিসেবে স্বীকৃতি প্রাপ্ত হন। এছাড়া এফডবি¬উভি এবং এফডবি¬উসি প্রকল্পে অগ্রণী ভূমিকা রাখায় উপজেলার মধ্যে শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করেন। গত ২৬ এপ্রিল পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রণাালয় ও জাইকার উদ্যোগে সুস্থ মাতৃত্বে উপর বিশেষ অবদান রাখায় মডেল ইউনিয়ন হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। ইউনিয়নটিতে ভোটার সংখ্যা ১৫ হাজার ৩শ ৪৬ জন, এর মধ্যে পুরুষ ৭ হাজার, ৭শ ৫৫ জন এবং মহিলা ৭ হাজার ৫শ ৯১ জন।

ইউনিয়েনর পক্ষ থেকে যৌতুক ও বাল্যবিবাহ প্রথার বিরুদ্ধে বিভিন্নভাবে জনসচেতনতামূলক প্রচার অব্যাহত রয়েছে। প্রতিটি এলাকার ছেলে মেয়েদের স্কুল গমন নিশ্চিত করতে তাগিদ দেয়া, হতদরিদ্র মহিলাদের আত্মনির্ভরশীল হতে নানা মুখি প্রশিক্ষণ প্রদান, ইউপির সকল নাগরিকের কাছ থেকে শতভাগ ট্যাক্স আদায়, শতভাগ স্যানিটেশন কভারেজ, শতভাগ জন্ম নিবন্ধনসহ বেকার যুবকদের স্বাবলম্বী করতে প্রশিক্ষণ প্রদানের পাশাপাশি প্রতিটি বাড়িতে ফলজ ও বনজ গাছের চারা রোপনের তাগিদ, নারী নির্যাতন ও এসিড সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জনমত গঠনসহ জনসম্মুখে উন্নয়নমূলক কাজের জবাবদিহিতার প্রক্রিয়া চলছে। ইতোপূর্বে এ সকল সামাজিক আন্দোলন দেখতে দেশের খ্যাতিমান ব্যক্তি ও বিদেশি প্রতিনিধি দল ইউনিয়ন পরিষদ সফর করেছেন। সফরকারী প্রতিটি দল চেয়ারম্যানের অন্যান্য দৃষ্টান্তের ভূয়সী প্রসংশা করেছেন। ইউপি চেয়ারম্যান শালিস বিচারে কারো দ্বারা প্রভাবিত না হয়ে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠায় প্রশংসনীয় ভূমিকা রাখছেন। ইউনিয়নের বাস্তবভিত্তিক কর্মকাণ্ড দেখে গত ১০ জুলাই ছবিসহ ভোটার তালিকা হালনাগাদ প্রকল্প পরিদর্শনে আসা নির্বাচন কমিশনের অতিরিক্ত সচিব মোঃ সিরাজুল ইসলাম ইউপির পরিদর্শন বইয়ে প্রশংসনীয় কর্মকাণ্ডের কথা লিপিবদ্ধ করেন। এসকল বিষয়ে চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা বলেন, জনগণ উৎসাহিত হয়ে সার্বিক সহযোগিতা করায় তিনি দারুণ খুশি। তিনি আসা করেন, একটি কুমিরা হবে এশটি স্বপ্নের মডেল ইউপি। যেখানে থাকবে সুখ-শন্তি আর নাগরিক সুযোগ সুবিধা প্রাপ্তির পুরোপুরি সুযোগ।

 

খুলনায় এক দশকে জনসংখ্যা কমেছে ৬০ হাজার

খুলনা ব্যুরো : পঞ্চম আদমশুমারি অনুযায়ী খুলনা জেলার লোকসংখ্যা ২৩ লাখ ১৮ হাজার ৫২৭ জন। এর মধ্যে পুরুষের সংখ্যা ১১ লাখ ৭৫ হাজার ৬৮৬ এবং নারীর সংখ্যা ১১ লাখ ৪২ হাজার ৮৪১ জন। অর্থাৎ নারী ও পুরুষের অনুপাত         ১০০ ঃ ১০৩। খুলনার জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন গতকাল দুপুরে তাঁর সম্মেলনকক্ষে খুলনা জেলার জনসংখ্যা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন। ২০১১ সালের আদমশুমারির জেলাওয়ারী প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষ্যে ‘আদমশুমারি ও গৃহগণনা ২০১১’র চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশনা’ অনুষ্ঠানে এ ঘোষণা দেয়া হয়। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো, পরিসংখ্যান ও তথ্যব্যবস্থাপনা বিভাগ এবং জেলা প্রশাসন যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

২০১১ সালে অনুষ্ঠিত পঞ্চম আদমশুমারি অনুযায়ী দেখা যায় গত দশ বছরে খুলনা জেলায় ৬০ হাজারের অধিক লোকসংখ্যা কমেছে। ২০১১ সালে খুলনা জেলার লোকসংখ্যা ছিল ২৩ লাখ ৭৮ হাজার ৯৭১ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১২ লাখ ৪৪ হাজার এবং নারী ছিল ১১ লাখ ৩৪ হাজার। পঞ্চম আদমশুমারি প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, খুলনা জেলায় বার্ষিক জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার মাইনাস দশমিক দুইপাঁচ। ২০০১ সালে যা ছিল এক দশমিক সাত। জেলায় পরিবারের (খানা) সংখ্যা পাঁচ লাখ ৪৭ হাজার ৩৪৭টি এবং প্রতি পরিবারে গড়ে চার জন করে সদস্য রয়েছে। জেলায় শিক্ষার হার ৬০ শতাংশের অধিক। পাঁচ হতে ২৪ বছর বয়সীদের স্কুলে যাওয়ার হার ৫৮ শতাংশের অধিক। ফলাফল প্রকাশনা অনুষ্ঠানে স্বাগত জানান আঞ্চলিক পরিসংখ্যান কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান হাওলাদার। অনুষ্ঠানে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, জনপ্রতিনিধি ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। ফলাফল ঘোষণার পূর্বে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. জিল¬ুর রহমান দেশের জনসংখ্যা ঘোষণা করেন। রাষ্ট্রপতির এই ঘোষণাটি টেলিকনফারেন্সের মাধ্যমে অনুষ্ঠানে প্রদর্শন করা হয়। প্রসঙ্গত, পঞ্চম আদমশুমারি রিপোর্ট অনুসারে দেশের জনসংখ্যা ১৪ কোটি ৪০ লাখ ৪৩ হাজার ৬৯৭ জন। জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার হিসেব করে গতকাল ১৬ জুলাই ছিল দেশের জনসংখ্যা ১৫ কোটি ২৫ লাখ ১৮ হাজার ১৫ জন। খুলনা বিভাগে লোকসংখ্যা এক কোটি ৫৬ লাখ ৮৭ হাজার ৭৫৯ জন।

তালায় এক কেজি গাঁজাসহ যুবক আটক

তালা প্রতিনিধি : গতকাল সোমবার সকালে তালা উপজেলার খলিলনগর ইউনিয়নের নতুনহাট বাজার থেকে তালা থানার এএসআই ওলিয়ার রহমান এক কেজি গাঁজাসহ কুদ্দুস নামের এক যুবককে আটক করেছে। সে উত্তর নলতা গ্রামের মনিরুদ্দীন শেখের ছেলে। সে জিজ্ঞাসাবাদে থানায় মাদক ব্যবসা করার কথা স্বীকার করেছে।

এলাকাবাসী জানায়, কুদ্দুস দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদকের রমরমা ব্যবসা করে আসছিল। বেকার-যুবক ছেলেরা তার কাছে ভিড় জমাতো। বিষয়টি মানুষের মাঝে ছড়িয়ে পড়লে এলাকাবাসী তাকে ধরিয়ে দিতে একত্রিত হয়। গতকাল সোমবার বিক্রির উদ্দেশ্যে গাঁজা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয় কুদ্দুস। বিষয়টি জনৈক এক ব্যক্তি পুলিশকে জানায়। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে কুদ্দুসকে গাঁজাসহ আটক করে। তালা থানার ওসি মোঃ রবিউল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চত করে বলেন, তার বিরুদ্ধে মাদকসহ নানাবিধ অভিযোগ রয়েছে।

আশাশুনি ইউনিয়ন পরিষদ ফোরামের কমিটি গঠন: রফিকুল সভাপতি ও শহীদ সম্পাদক

আশাশুনি প্রতিনিধি : বাংলাদেশ ইউনিয়ন পরিষদ ফোরাম আশাশুনি উপজেলা শাখার কমিটি গঠন করা হয়েছে। এসএম রফিকুল ইসলাম সভাপতি, শহিদুল ইসলাম সাধারণ সম্পাদক ও শাহ নেওয়াজ ডালিমকে সাংগঠনিক সম্পাদক করে সোমবার সকালে বুধহাটা ইউনিয়ন পরিষদ মিলনায়তনে আশাশুনি উপজেলা ইউনিয়ন পরিষদ ফোরামের ওই কমিটি গঠন করা হয়।

কুল্যা ইউপি চেয়ারম্যান এসএম রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে এ উপলক্ষ্যে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন ফোরামের জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক এড. শহিদুল ইসলাম পিন্টু। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল হান্নান, শহিদুল ইসলাম, আজিজুল ইসলাম সানা, শাহ নেওয়াজ ডালিম, কাদাকাটি ইউপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ইয়াকুব আলি বেগ, প্রতাপনগর ইউপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বুলি। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, মেম্বর উত্তম কুমার, রুহুল আমিন, সোহরাব হোসেন, অনুপ কুমার, তাসলিমা আক্তার, নাজমা বিশ্বাস, আকলিমা খাতুন, পূর্ণিমা বালা প্রমুখ। সভায় কণ্ঠ ভোটে কুল্যা ইউপি চেয়ারম্যান এসএম রফিকুল ইসলামকে সভাপতি, শোভনালী ইউপি চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলামকে সাধারণ সম্পাদক ও খাজরা ইউপি চেয়ারম্যান শাহ নেওয়াজ ডালিমকে সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়। কমিটির অন্যান্যরা হলেন, সহ-সভাপতি বুধহাটা ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল হান্নান ও বড়দল ইউপি চেয়ারম্যান আজিজুল ইসলাম সানা, যুগ্ম সম্পাদক শ্রীউলা ইউপি চেয়ারম্যান আবু হেনা সাকিল, সহ-সম্পাদক কাদাকাটি ইউপি চেয়ারম্যান মফিজুল হক মোড়ল, মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা আনুলিয়া ইউপি মেম্বর আকলিমা খাতুন, দপ্তর সম্পাদক আশাশুনি ইউপি মেম্বর রুহুল আমিন, প্রচার সম্পাদক দরগাহপুর ইউপি মেম্বর জিএম নজরুল ইসলাম এবং আশাশুনি সদর ইউপি চেয়ারম্যান এড. শহিদুল ইসলাম পিন্টু, দরগাহপুর ইউপি চেয়ারম্যান এএসএম জমির উদ্দীন, প্রতাপনগর ইউপি চেয়ারম্যান শেখ জাকির হোসেন, আনুলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আলমগীর আলম ও প্রতাপনগর ইউপি মহিলা মেম্বার সুফিয়া খাতুন।

 

ছয়ঘরিয়ায় বিজিবির অভিযানে ২শ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার

আলিপুর প্রতিনিধি : সদর উপজেলার ছয়ঘরিয়া সীমান্তে বিজিবির অভিযানে দুইশ বোতল ভারতীয় ফেনসিডিল উদ্ধার হয়েছে। তবে ফেনসিডিল উদ্ধারকালে কোন চোরাকারবারী আটক হয়নি। আটককৃত ফেনসিডিলের মূল্য ৮০ হাজার টাকা।

জানা যায়, সুবেদার গিয়াস উদ্দীনের নেতৃত্বে রবিবার গভীর রাতে ছয়ঘরিয়া গ্রামের একটি পরিত্যক্ত বাড়ি থেকে বিজিবি জওয়ানরা ওই ফেনসিডিল উদ্ধার করে।

কুলিয়ায় ফেনসিডিলসহ এক মাদক ব্যবসায়ী আটক

দেবহাটা প্রতিনিধি : দেবহাটায় ৪০ বোতল ফেনসিডিলসহ  নূরুল আমিন নামের এক মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে পুলিশ। সোমবার রাত ২টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দেবহাটা থানার এসআই মুনির সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে উপজেলার বহেরা গ্রামের বদরউদ্দীন বলাইয়ের পুত্র মাদক সম্রাট নূরুল আমিনের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ৪০ বোতল ফেনসিডিলসহ তাকে আটক করে। এব্যাপারে দেবহাটা থানায় ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে একটি মামলা (নং-৭) হয়েছে।

সীমান্তে বাংলাদেশি গরু রাখালের উপর নির্যাতন: পতাকা বৈঠকে বিএসএফ’র অস্বীকার

নিজস্ব প্রতিনিধি : এক বাংলাদেশি গরু রাখালের উপর  অমানুষিক নির্যাতনের প্রতিবাদে বিজিবি ও বিএসএফ’র মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল সোমবার বিকেল চারটা থেকে ৩০ মিনিটব্যাপী সাতক্ষীরার কালিয়ানি সীমান্তের বিপরীতে ভারতের কৈজুড়িতে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

পতাকা বৈঠকে ভারতের পক্ষে নেতৃত্ব দেন কৈজুড়ি বিএসএফ ক্যাম্পের এসি ডিকে সিং তারকার। বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেন কুশখালি বিজিবি ক্যাম্পের সুবেদার মোঃ গিয়াসউদ্দিন।

কুশখালি বিজিবি ক্যাম্পের সুবেদার গিয়াসউদ্দিন জানান, বৈঠকে তলুইগাছা গ্রামের গরু রাখাল আক্তারুল ইসলামকে রোববার ভোরে ভারতের ধুবলীতে মারপিট করে হাত পা ভেঙে দিয়ে অমানুষিক নির্যাতনের প্রতিবাদ জানানো হয়। বিএসএফ এ অভিযোগ অস্বীকার করে। পরে কোন বাংলাদেশি গরু রাখাল যাতে অবৈধপথে ভারতে প্রবেশ না করে ও ভারত থেকে কোন লোক যাতে অবৈধ পথে বাংলাদেশে প্রবেশ না করে সেজন্য উভয়পক্ষ কড়া নজরদারী করতে সম্মত হয়।

নলতা হাটখোলায় যাত্রী ছাউনী না থাকায় দুর্ভোগ

আহাদুজ্জামান আহাদ, নলতা : নলতা হাটখোলায় যাত্রী ছাউনি না থাকায় জনদুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি হলেও আজও যাত্রী ছাউনীর নির্মাণ না হওয়ায় ভোগান্তির শেষ নেই। যাত্রীদের সবচেয়ে বড় সমস্যায় পড়তে হয় বর্ষা মৌসুমে। জানা গেছে, নলতা থেকে দেশের বিভিন্ন জেলা শহরে বাস চলাচল করলেও যাত্রীদের দাঁড়াবার বা বসার  মতো কোন যাত্রী ছাউনী নেই। ফলে এ পথে চলাচলকারী যাত্রীদের রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে নাজেহাল হয়ে নিদারুণ কষ্ট ভোগ করতে হচ্ছে। বসার জায়গা না থাকায় মহিলা যাত্রীদের সাথে থাকা বাচ্চাদের নিয়ে পড়তে হয় মহাবিপদে। সামান্য বৃষ্টিতেই যাত্রীদের দৌড়ে আশপাশের দোকানে মধ্যে ঢুকে পড়তে হয়। এলাকাবাসী যাত্রী ছাউনী নির্মাণের জন্য দ্রুত উদ্ধতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছে।