যশোর জেলা জাতীয় পার্টির কার্যালয়ে জুয়ার আসর!


প্রকাশিত : জুলাই ১৭, ২০১২ ||

নেতাকর্মীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া

যশোর প্রতিনিধি : মহাজোট সরকারের শরীক দল জাতীয় পার্টি (এরশাদ) যশোর জেলা শাখার কার্যালয়ে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত জুয়া খেলার আসর বসছে বলে দলীয় নেতাকর্মীরা অভিযোগ করেছেন। জাতীয় যুব সংহতির এক নেতার নেতৃত্বে এ আসর চলছে বলে সাধারণ নেতাকর্মীরা কোন কিছুই বলতে পারছে না। জুয়ার আসর থেকে উপর্জিত অর্থ থেকে জেলা শাখার নেতৃবৃন্দ ভাগ পাচ্ছেন এবং দলের একটি অংশের খরচ মেটানো হচ্ছে এমন অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।

সংশ্লি¬ষ্ট সূত্রে জানা গেছে, যশোর শহরের গোহাটা রোডের জাতীয় পার্টির কার্যালয়ে জাতীয় যুব সংহতির জেলা শাখার সম্পাদক নজরুল ইসলামের নেতৃত্বে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত জুয়া খেলা চলছে। এ খেলায় আড্ডা জমায় শহরের চিহিৃত জুয়াড়ী বেজপাড়ার অসিত, বস্তাপট্টির জাহাঙ্গীর, ঝুমঝুমপুরের শামসুর রহমান, ষষ্ঠিতলার শাহিন, বারান্দীপাড়ার মাহুমদ। এছাড়া এদের সহযোগী রয়েছে অনেকেই। যশোরের সাজিয়ালি পুলিশ ক্যাম্পের কনস্টেবল লোকমান’র এই আসরের একজন বড় খেলোয়াড়।

দলের নেতাকর্মীরা বলেছেন, মহাজোট সরকারের শরীক দল হওয়ায় জাপা কোন মিছিল মিটিং সমাবেশ করছে না। বিরোধী দলের কর্মসূচির পরিবর্তে সরকার দলীয় কোন কর্মসূচি তাদের থাকছে না। আওয়ামী লীগ কিছু কর্মসূচি পালন করলেও গত তিন বছরে জাপার তেমন কোন কর্মসূচি নেই। দলীয় কোন্দলের জ্বরে ভুগছে কার্যক্রম। এরমধ্যে নজরুল ইসলাম দলীয় কার্যালয়ে লোকজন সব সময় উপস্থিতি রাখতে জুয়াড়ীদের স্থান দিয়েছেন। অবশ্য এই সব জুয়াড়ীরা জাপার বিভিন্ন অংগসংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ পদের দায়িত্বশীল ব্যক্তি! জুয়াড়ীদের বিরুদ্ধে জুয়া, মাদক, ছিনতাইসহ একাধিক মামলা রয়েছে।

ওই কার্যালয়ে প্রতিদিন ১৪/১৫টি জুয়ার বোর্ড বসে। প্রতিটি বোর্ড থেকে ৫শ টাকা করে পান নজরুল ইসলাম। প্রতিদিন সকালে এসে তিনি অফিস খুলে দিয়ে চলে যান। কোনদিন দুপুরে বা বিকালে আসেন। অনেকদিন আসেন না। রাতে এসেই সে তার পাওনাটা নিয়ে যায়।

স্থানীয় লোকজন বলেছেন, জাপার কার্যালয়ে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলে জুয়া খেলা। এ খেলার মধ্যে মদের মত্তটা চলে সমানে। দলীয় কার্যালয়ের নিচে চা’র দোকানদার আব্দুল মান্নান সোর্স হিসেবে সকল তথ্য জুয়াড়ীদের সরবরাহ করে থাকেন। ওই জুয়া খেলায় কনস্টবেল লোকমান সাহেবের সর্বদা উপস্থিতিতে র্নিভয়ে চলে এ খেলা।

সূত্রে আরও জানা গেছে, জাতীয় পার্টির কার্যালয়ে এই জুয়া খেলার খবর সকল নেতাকর্মী জানেন। সাবেক দায়িত্বশীল কয়েকজন নেতা বলেন, দলের কার্যালয়ে সবসময় জুয়া খেলা হয়। আমরা জেনেই কিছু করতে পারছি না। দলের বর্তমান দায়িত্বশীল নেতাকর্মী এবং সভাপতি ও সম্পাদক এ ব্যাপারে ভূমিকা পালন করবেন। তারা যদি কিছু না করেন তাহলে আমাদের কি করার আছে। এ ব্যাপারে জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আলতাফ হোসেন রাজিবের ০১৯২৩-৯৭০৫৪৮ মোবাইলে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে সেটি বন্ধ ছিল।