অপরাধীদের নিরাপদ স্থান ‘প্রাইভেট সিকিউরিটি সার্ভিস প্রতিষ্ঠান’


প্রকাশিত : জুলাই ১৭, ২০১২ ||

এ কামাল, খুলনা : নিয়মনীতি উপেক্ষা করে সারাদেশে  যত্রতত্র গড়ে উঠছে প্রতারণামূলক প্রাইভেট সিকিউরিটি সার্ভিস প্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠানে চাকুরি দেওয়ার নামে চলছে লক্ষ লক্ষ টাকার অর্থ বাণিজ্য। শিক্ষাগত যোগ্যতা, বয়সসীমা ও সরকারি নিয়ম নীতি উপেক্ষিত হওয়ায় অপরাধীরা প্রশাসনের চোখে ধুলো দিয়ে নির্দিধায় এসব নাম সবর্স প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা প্রহরীর চাকরি করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

অপরদিকে এক শ্রেণির অসাধু লোক কম খরচ, অথচ লাভ বেশি হওয়ায় খুলনা মহানগরীসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ শহরের অলিগলিতে প্রতারণামূলক সিকিউরিটি সার্ভিস প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছে। প্রাপ্ত  তথ্য মতে, এসব প্রতিষ্ঠান জয়েণ্ট স্টক কোম্পানির অনুমোদনে ব্যবসা শুরু করে। পাশাপাশি ঢাকা থেকে পরিচালিত গ্রপ ফোর, এলিট ফোর্স সিকিউরিটি সার্ভিসসহ ৩-৪টি প্রতিষ্ঠান খুলনাসহ সারাদেশে কাজ করছে। সারাদেশে প্রায় শতাধিক বিভিন্ন নামের সিকিউরিটি সার্ভিস নামক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। শুধু খুলনা মহনগরীতে রয়েছে ১২ থেকে ১৫টি প্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠান মহানগরী ও বিভিন্ন জেলার শিল্প প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক, বীমা করপোরেশন ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তার জন্য লোকবল সরবরাহ করে। গুণগত মান ও সরকারি নীতিমালা উপেক্ষা করে এসব প্রতিষ্ঠান চললেও কর্তৃপক্ষে কোন মাথা ব্যাথা নেই।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পত্রিকায় বিভিন্ন চটকদার বিজ্ঞাপন দিয়ে এসব প্রতিষ্ঠানে লোক নিয়োগ করা হয়। বিজ্ঞাপনে নিরাপত্তা প্রহরীদের উৎসব ও উৎসাহ বোনাস, সপ্তাহে দুদিন ছুটি, আকর্ষণীয় ওভারটাইম, মাসে কমপক্ষে ৪ থেকে ৬ হাজার টাকা বেতন প্রভৃতি প্রদান করা হবে বলে উলে¬খ করা হয়। অথচ প্রায় ক্ষেত্রে তাদের সর্বোচ্চ দেড় হাজার থেকে ২ হাজার টাকা বেতন দেয়া হয়। উৎসব ও উৎসাহ বোনাস, ওভারটাইম বা এ ধরনের কোনো পাওনা তাদের দেয়া হয় না। উপরন্ত নিয়োগের সময় জামানত হিসেবে তাদের প্রত্যেকের কাছ থেকে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা নেয়া হয়। নিয়োগের পর এক সপ্তাহ বা দুই সপ্তাহ নামমাত্র প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদের কাজে লাগানো হয়। চাকরির কোনো স্থায়িত্বও নেই। অথচ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে লোকবল সরবরাহ করে জনপ্রতি কমপক্ষে ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা গ্রহণ করে এ প্রতিষ্ঠানগুলো। ব্যবসায়িক স্বার্থে নিরাপত্তা প্রহরীদের বেশ দৃষ্টিনন্দন পোশাক সরবরাহ করা হয়। প্রাইভেট সিকিউরিটির সেবা নিচ্ছে এমন কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে কথা বলে জানা গেছে, নিরাপত্তা প্রহরী জনপ্রতি তারা সাড়ে ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা দিয়ে থাকে। এ টাকা সিকিউরিটি প্রতিষ্ঠানগুলোকে দেয়া হয়। প্রাইভেট ব্যাংক ও বীমা প্রতিষ্ঠানগুলো আরো বেশি টাকা দিয়ে থাকে বলে জানা গেছে। প্রাইভেট সিকিউরিটির কয়েকজন নিরাপত্তা প্রহরী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, নিয়োগের সময় জামানত হিসেবে ১৫ হাজার টাকা দিতে হয়েছে। প্রতি মাসে বেতন দেয়া হয় দেড় থেকে ২ হাজার টাকা। ৮ ঘণ্টার স্থলে তাদের ১২ ঘণ্টা ডিউটি করতে হয়। কোনো ওভারটাইম নেই। ঠিকমতো ছুটি পাওয়া যায় না। মালিক পক্ষের দুর্ব্যবহার নিত্যদিনের ঘটনা। এ ছাড়া কর্তব্য পালনরত অবস্থায় কোনো অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা ঘটলে তার সব আর্থিক দায়দায়িত্ব নিরাপত্তা প্রহরীর ওপর এসে পড়ে। অনেক প্রতিষ্ঠান সরকারি নীতিমালা মানছে না। অনেকে এই সব প্রতিষ্ঠানের দোহাই দিয়ে প্রতিনিয়ত নানাবিধ অপরাধ করছে বলে জানা গেছে। এই সব প্রতিষ্ঠানে কোন সরকারি নিয়মনীতি না থাকায় অপরাধীরা রক্ষা পেতে এইসব প্রতিষ্ঠানে চাকুরী নেয়। আর সিকিউরিটি সার্ভিসে কাজ করায় প্রশাসনও তাদের দিকে নজর দেয় না। ফলে অপরাধীরা এই সব প্রতিষ্ঠানকে তাদের নিরাপদ স্থান বলে মনে করেন।