সাতক্ষীরা পৌরসভার একটি রাস্তাও আস্ত নেই


প্রকাশিত : জুলাই ১৭, ২০১২ ||

শহীদুল ইসলাম : সাতক্ষীরা পৌরসভার একটি রাস্তাও আস্ত নেই। রাস্তাগুলোর ছাল-চামড়া উঠে গেছে। কোথাও কোথাও খানা-খন্দে পরিণত হয়েছে। দু’একটি রাস্তার সংস্কার হলেও অধিকাংশ রাস্তা সংস্কারের অভাবে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। এতে করে দুর্ভোগ বেড়েছে শহরবাসীর। ছাল-চামড়া ওঠা খানা খন্দে পরিণত এসব রাস্তায় যাতায়াত করতে হচ্ছে শহরবাসীর। গত বছর বন্যায় ধ্বংস প্রাপ্ত হলেও এসব রাস্তা সংস্কারে কোন উদ্যোগ নেয়া হয়নি বলে মনে করেন শহরবাসী। এবারও বর্ষা এসে গেছে। বন্যাও জলাবদ্ধতার আশংকা রয়েছে। গত বারের মতো এবার বন্যা হলে শহরের কোন রাস্তার অস্তিত্ব থাকবে কী না তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন সচেতন মহল।

শহর ঘুরে দেখা গেছে, বাঁকাল শেখ পাড়া মসজিদ হতে বাজুয়ার ডাঙ্গী বলফিল্ড, ইটাগাছা বাঙ্গালের মোড় থেকে খড়িবিলা, রইচপুর, কামালনগর এলাকার একটি রাস্তাও আস্ত নেই। বাটকেখালী গফুর সাহেবের ব্রিজ থেকে মিশন পর্যন্ত রাস্তাটির বেহাল দশা। গড়েরকান্দা ৩ রাস্তার মুখ হতে কুখরালী বল ফিল্ড পর্যন্ত রাস্তাটির ভাগ্যে এখনো পিচ জোটেনি। বাগান বাড়ি এলাকার আব্দুল খালেকের বাড়ি হতে মেহেদী ম্যানশন পর্যন্ত রাস্তাটির ছাল চামড়া নেই। পুরাতন সাতক্ষীরার মদিনা মসজিদ হতে ডাঙ্গীপাড়া রাস্তাটি পরিণত হয়েছে খানা খন্দে। একই চিত্র আলিয়া মাদ্রাসা থেকে ঘোষপাড়া রাস্তার। এবার আসা যাক, পুরাতন সাতক্ষীরা হাটখোলা থেকে সরকারি কলেজ হয়ে পোস্ট অফিস মোড়ে। রাস্তাটি এক প্রকার গলে গেছে। কোথাও কোথাও রাস্তাটি ইটের খোয়া ও ইটের গুড়া দিয়ে গর্ত ভরাট করা হয়েছে। রাজার বাগান সরকারি কলেজ মাঠ থেকে মাছখোলা গামী রাস্তাটি পরিণত হয়েছে মরণ ফাঁদে। সরকার পাড়া চৌধুরী স্যারের বাড়ি থেকে ধোপাপুকুর হয়ে কাটিয়া পর্যন্ত রাস্তাটি সড়কটির ছাল-চামড়া উঠে খানা খন্দে পরিণত হয়েছে। ভালো নেই মুনজিতপুর এলাকার একটি রাস্তাও। পাকা পুল থেকে উত্তরে পলাশপোলের ভিতরে প্রায় সবকটি রাস্তা যাতায়াতের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। প্রাণ সায়ের খালের পূর্বপাশে পাকা পুল থেকে নারকেল তলা পর্যন্ত রাস্তাটির কোথা গর্ত, কোথাও পিচ উঠে গেছে। সামান্য বৃষ্টিতে আবার পানি জমে যায়। জজকোর্টের সামনে পলাশপোলের ভিতরে বৃষ্টি হলে জমে হাটুপানি। নারকেলতলা থেকে থানা ঘাটা গামী রাস্তাটি জন দুর্ভোগের অন্যতম রুট। এভাবে শহরের প্রায় প্রত্যেকটি সড়কই ধ্বংসের দ্বারে পৌঁছে গেছে। ভালো নেই একটি রাস্তাও।

এলাকাবাসীর সাথে কথা বললে জানা যায়, গত বছর ভয়াবহ বন্যায় এসব রাস্তা ধ্বংস স্তুপে পরিণত হলেও তা সংস্কারে সংশি¬ষ্ট কর্তৃপক্ষ উলে¬খযোগ্য ভূমিকা নেয়নি। ফলে শহরের প্রত্যেকটি রাস্তা ধ্বংস প্রাপ্ত হয়েছে। এদিকে সাতক্ষীরা পৌরসভা সূত্র জানায়, পৌর সভার ৪৩টি সড়ক অধিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব সড়কগুলোর বেহাল অবস্থা। সড়কগুলো সংস্কারে ইতোমধ্যে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। সীমিত দরপত্র পদ্ধতির আওতায় জিওবি তহবিল ও পৌরসভার নিজস্ব তহবিল থেকে এসব রাস্তা মেরামত করা হবে। তবে দরপত্রে উলি¬খিত রাস্তাগুলোর সাথে উক্ত রাস্তাগুলোর কোন মিল নেই। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তার সংখ্যা শতাধিক।

এ ব্যাপারে সাতক্ষীরা পৌর মেয়র এমএ জলিল বলেন, গত বছর পৌরসভার মেইন রোডগুলো সংস্কারে তালিকা করা হয়েছে। মানুষ যাতে নিরাপদে নির্বিঘেœ চলাচল করতে পারে সেজন্য পৌরসভা কাজ করে যাচ্ছে। তবে বাজেট সীমিত। সমস্যা অনেক। তাই সীমিত বাজেট নিয়েই অসীম সমস্যা মোকাবেলা করতে  হচ্ছে। তারপরও যে সব প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে তাতে সরকারি বরাদ্দ পেলে এ বছরের মধ্যেই সকল রাস্তা সংস্কার করা যাবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ২০১২-১৩ অর্থ বছরে রাস্তা নির্মাণে পৌরসভার নিজস্ব তহবিল থেকে ৮০ লাখ টাকা বরাদ্দ হয়েছে। যা বিগত ২০১১-১২ অর্থ বছরে ছিলো মাত্র ৩৬ লাখ টাকা। এছাড়া রাস্তা সংস্কার বাবদ চলতি অর্থ বছরে ৬০ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। যা গত অর্থ বছরে ছিলো ৫০ লাখ টাকা। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দ্বিতীয় নগর পরিচালন ও অবকাঠামো উন্নতিকরণ (সেক্টর) প্রকল্পের আওতায় রাস্তা নির্মাণ ও পুনর্বাসন প্রকল্পে ৫ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। যা গত অর্থ বছরে বরাদ্দ ছিলো ১ কোটি ৯৬ লাখ টাকা। সুতরাং বরাদ্দকৃত অর্থের সাথে সরকারি সাহায্য পাওয়া গেলে সাতক্ষীরা শহরকে তিলোত্তমা নগরীতে পরিণত করা যাবে।