কলারোয়ায় খাদ্য গুদাম কর্মকর্তার কারসাজি: অচল ও বন্ধ ১৫টি মিলের প্রত্যয়ন মিলেছে


প্রকাশিত : জুলাই ২২, ২০১২ ||

ডেস্ক রিপোর্ট : কলারোয়া খাদ্য গুদাম কর্মকর্তার ভূয়া প্রত্যয়নে তালিকাভুক্ত হয়ে দীর্ঘ দিন অচল ও বন্ধ থাকা মিলগুলো উত্তর বঙ্গ থেকে চাল এনে খাদ্য গুদামে সরবরাহ করে লাখ লাখ টাকা মুনাফা লুটছে। এতে স্থানীয় বাজার থেকে ধান ক্রয় না করায় ধানের মূল্য না পেয়ে ধান চাষীরা মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। স্থানীয় ব্যবসায়ী সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে সরকার চালের সংগ্রহ মূল্য ২৮ টাকা নির্ধারণ করেছে। কিন্তু খোলা বাজারে মোটা চাল বিক্রি হচ্ছে ২৩ টাকা কেজি দরে। অর্থাৎ বাজার মূল্যের চেয়ে সরকারি মূল্য টন প্রতি ৫ হাজার টাকা বেশী। খরচ বাদে টন প্রতি প্রায় ৪ হাজার টাকা মুনাফা হচ্ছে। এতে অচল ও বন্ধ থাকা ১৫ মিল মালিক খাদ্য গুদাম কর্মকর্তাকে সন্তষ্ট করে মিল প্রতি ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা আলী নূর ইসলামের কাছ থেকে মিলগুলো সচল বলে প্রত্যয়ন গ্রহণ করেন। সরকারি নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে খাদ্য বিভাগের পক্ষ থেকে এই অচল ১৫টি রাইচ মিলসহ মোট ২১ মিলের সংগে চাল ক্রয়ের চুক্তি সম্পাদন করা হয়। স্থানীয় বাজার থেকে ধান ক্রয় করে নিজস্ব বয়লারে সিদ্ধ, চাতালে শুকানো ও ধান মাড়াই করার ক্ষমতা সম্পন্ন মিলগুলোর সংগে নীতিমালা অনুযায়ী সরকারের চাল ক্রয়ের চুক্তি সম্পাদন করা হয়। ধান উৎপাদনকারী চাষীদের ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তিতে সহায়তা করার উদ্দেশ্যে সরকারি এ ক্রয় ব্যবস্থা। সরেজমিনে এলাকাবাসী সরকারের সাথে চাল সরবরাহে চুক্তিবদ্ধ বেশ কিছু খাদ্য গুদামের ১শ গজ পিছনে অবস্থিত বয়লার, চুলাবিহীন হোসেন রাইচ মিলে বর্তমানে চিড়া, তুলসীডাঙ্গার সোহাগ রাইচ মিলে মাছের খাদ্য এবং ঝিকরার ভাঙ্গাচুরা চাতালের স্বর্ণলতা রাইচ মিলে বর্তমানে মুড়ি উৎপাদিত হওয়ার দৃশ্য দেখায়। তুলসীডাঙ্গার হাজি রাইচ মিলের বয়লার ভাঙ্গা দেখা যায়। বামনখালীর ফজলুল করিম রাইচ মিলে কোন চাল উৎপাদন হয় না এবং গাজনার সোনালী রাইচ মিলে বয়লার, চুলা অকেজো বলে জানান স্থানীয় এক প্রভাবশালী নেতা। সীমান্ত ঘেঁষা সোনাই নদীর তীরে অবস্থিত সরদার রাইচ মিলের বয়লার নেই। চাতাল কয়েক বছর যাবৎ স্থানীয় মহিলাদের ধান শুকানোর জন্য ভাড়া দেয়া হয়। এলাকার একাধিক ব্যক্তি জানান, কিভাবে এ রাইচ মিল চাল সরবরাহের প্রত্যয়ন পায় তা তাদের কাছে বিস্ময়ের ব্যাপার। গয়ড়া বাজারের ফজলুল হক রাইচ মিলে প্রায় দেড় বছর চুলা জ্বলে নি বলে জানান চন্দনপুর এলাকাবাসী। একটা চাতালে দু’টি মিলের লাইসেন্স দেয়া হয়েছে। ভাই ভাই এবং রফিক রাইচ মিলের নামে। এভাবে অচল ও বন্ধ থাকা মিল গুলোর নাম তালিকাভুক্ত করে উত্তর বঙ্গ থেকে ২৩ টাকা কেজি দরে চাল এনে সরকারি গুদামে ২৮ টাকা দরে বিক্রি করে দেদারসে মুনাফা লুটছে অসাধু এক শ্রেণির লোকজন। ফলে জনমনে প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে খাদ্য বিভাগের ভূমিকা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেকেই বলেছেন, এ মুনাফার অংশ এক শ্রেণির অসাধু জেলা ও আঞ্চলিক খাদ্য কর্মকর্তা, উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা ও স্থানীয় নেতারা পেয়ে তাঁরা নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছেন। আর মুনাফাখোরী কারবারে জড়িয়ে পড়ায় কলারোয়া খাদ্য গুদামে একদানাও ধান ক্রয় করা হয় নি। সরকারিভাবে ধান ক্রয় হয় নি বলে ধানের স্থানীয় বাজার মূল্য মারাত্মক হ্রাস পেয়েছে। সুযোগ সন্ধানী ব্যবসায়ীরা চাল উৎপাদনের জন্য স্থানীয় বাজার থেকে ধান ক্রয় না করায় চিকন ধানের বাজার মূল্য প্রতিমণ ৫শ’৩০ টাকায় নেমে আসায় উৎপাদক চাষীরা মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন।