তালায় সন্ত্রাসীদের নেপথ্য গডফাদাররা আতংকে


প্রকাশিত : জুলাই ২২, ২০১২ ||

পত্রদূত রিপোর্ট: পুলিশের অভিযানে দুই বাঘা চরমপন্থি আটক হওয়ার পর নেপথ্য গডফাদাররা আতংকে রয়েছে। যদিও তারা এখনো ধরা ছোঁয়ার বাইরে। আটককৃত সন্ত্রাসীদের জামিনে মুক্ত করে এনে গডফাদাররা আবার তুলে দেয় অস্ত্র। অভিযোগ রয়েছে, গডফাদারদের কারনে চরমপন্থী অস্ত্রধারীদের সন্ত্রাসী কর্মকান্ড নির্মূল যাচ্ছে না। এলাকাবাসির অভিযোগ, আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে তারা আত্মগোপন করলেও কয়েকদিন পর এলাকায় ফিরে আবার শুরু করে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড। ফলে জনপদের মানুষের উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা পিছু ছাড়ে না। এছাড়া সন্ত্রাসীদের গডফাদার এবং নেপথ্য নায়করা রয়েছে ধরা-ছোঁয়ার বাইরে। আর রাজনৈতিক নেতাদের সাথে বিভিন্ন চরমপন্থী সংগঠনের কানেকশন থাকায় চরমপন্থী নির্মূল হচ্ছে না বলে সুশীল সমাজের অভিমত।

এলাকাবাসির দাবী, শুধু সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করলে হবে না। এদের তৎপরতা বন্ধ করতে হলে নেপথ্য গডফাদারদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনতে হবে। নইলে বাঘা বাঘা সন্ত্রাসীদের পতন হলেও নতুন সন্ত্রাসী জন্ম দিতে সময় লাগে না তাদের। একই সাথে সন্ত্রাসীদের গডফাদার ও প্রতিপালনের অর্থের উৎস বন্ধ করতে হবে। একই সাথে তাদের অস্ত্র ভান্ডার খুঁজে বের না করলে সন্ত্রাসী আটক হবে গানিতিক হারে আর জন্মাবে জ্যামেতিক হারে।

জানা গেছে, কয়েকটি আন্ডারগ্রাউন্ড কমিউনিষ্ট পার্টির নাম ব্যবহার করে প্রায় শতাধিক সন্ত্রাসী তালা এলাকায় বিচরন করছিল। এরমধ্যে বিদ্যুৎ বাছাড় ও মোজাফ্ফর অন্যতম। এসব সংগঠনের ক্যাডাররা চাঁদবাজি, ডাকাতি, ছিনতাই, বোমা হামলার মতো ঘটনার সাথে যুক্ত। বিগত বিএনপি সরকারের সময়ে র‌্যাপিড এ্যাকশ্যান ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) গঠন এর পর এদের বিরুদ্ধে সাড়াশি অভিযান শুরু হয়। এ অভিযানে এলাকার বাঘা বাঘা সন্ত্রাসী আটক হয়। অনেকে এলাকা ছেড়ে পাশ্ববর্তী দেশ ভারতসহ বিভিন্ন স্থানে পালায়। এতে ক্রমেই আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়।

২০০৭-এ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে আবারও এলাকায় ফিরতে শুরু করে সন্ত্রাসীরা। আবারও শুরু হয় অবৈধ অস্ত্রের ঝনঝনানী। প্রতিদিন  আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতি হতে থাকে। পরে জরুরী অবস্থা জারি হলে পুনরায় সন্ত্রাসীরা এলাকা ছেড়ে পালাতে শুরু করে। পরবর্তীতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে তারা আবার এলাকায় ফিরে। তাদের নানাবিধ অপরাধমূলক কর্মকান্ডে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ক্রমেই অবনতি হয়। একপর্যায়ে থানা পুলিশের ঝটিকা অভিযানে আবারও শান্ত হয়ে যায় সন্ত্রাসীরা। এলাকাও ছাড়ে অনেকে। এদিকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে চরমপন্থীদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মদদ দেয়ার অভিযোগ রয়েছে। এনিয়ে বিভিন্ন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হলেও তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিতে পারেনি প্রশাসন। বরং প্রশাসন এর অনেকের তাদের সঙ্গে দফা-রফা করে নির্বিঘœ থাকার চেষ্টা করে থাকেন।

তালা থানার ওসি মোঃ রবিউল ইসলাম বলেন, সম্প্রতি বাহিনী প্রধান বিদ্যুৎ বাছাড়কে আটক করা হয়েছে এবং অস্ত্র উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। আর একজন মোজাফ্ফরও ধরা পড়েছে। তারা প্রাথমিক জিঞ্জাসাবাদে অনেক বিভ্রান্তিকর তথ্য দিচ্ছে। তাদের নজর দারীতে রাখা হয়েছে।